হুন্দাস্মৃতি

হুন্দাপাড়ে বসতের চিহ্ন আর খুঁজেও পাবে না।
তেমন দলিল নেই, তিরোহিত পাথুরে প্রমাণ,
প্রাচীরের প্রাচীন সীমানা যেন পুরাস্মৃতি প্রায়।
রেনেলের সূক্ষ্ম চোখ এড়িয়ে গিয়েছে এঁকে দিতে
ভূমির শরীর। আমার দাদুর কণ্ঠে হুন্দা নাম
স্মৃতিচারী শৈশবের সমবেত সুখের ফোয়রা।
জ্বলন্ত স্বাক্ষীরা নেই, দাদুর নিশ্বাসধ্বনি আজো
গেঁথে আছে মর্মমূলে, যেন উপকথা-রূপকথা!

ফল্গু নামে নদীটিকে কোথাও দেখি না আজকাল
কেবল পুরাণগ্রন্থে স্রোতস্বিনী হয়ে ফুটে আছে
ঢাকার বুকের পাশে রামগঙ্গা আর নারায়ণী
ক্রমশ তাদের স্থান ইতিহাসে অনুজ্জ্বলরূপে
হুন্দা কি তেমন কেউ? নাকি অবিশ্রুত পুরাবৃত্ত!

দিদিমার মুখে শোনা কথকতা! তবু স্বপ্ন আঁকি।
অদৃশ্য আলোয় খুঁজি মৃত্তিকার গোপন আহ্বানে
সময়-স্মৃতির তলে জেগে থাকা রাগাশ্রয়ী সুরে
যদিবা কখনো আমি পেয়ে যাই পাথুরে খড়ম-
বুঝে নেব হুন্দা আছে জাগরূক শ্রুতিসংহিতায়।