শিরোনামহীন

আমিনুল ইসলাম এদেশের প্রথম প্রজন্মের শীর্ষ শিল্পী এবং আধুনিক শিল্প-আন্দোলনের অন্যতম প্রধান পুরুষ। ১৯৪৮ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত আর্ট স্কুলে যে-কজন হাতে-গোনা শিল্পী ভর্তি হন তিনি তাঁদের অন্যতম। ছাত্রজীবন থেকে তিনি অগণিত শিল্প-শিক্ষার্থীকে চিত্রসৃজনে নানাভাবে উৎসাহিত করেন।

সামাজিক দায়বদ্ধতা ও অঙ্গীকারের চেতনা দ্বারা তাঁর শিল্পীসত্তা চালিত হয়েছিল। সেজন্য তাঁর পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের কাজে এদেশের মানুষের দুঃখকষ্ট, মর্মযাতনা, অন্তর্দহন ও সংকটকে তিনি মর্যাদার সঙ্গে অঙ্কন করেছেন।

১৯৫৩ সালে আর্ট ইনস্টিটিউট থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভের পর ইতালি সরকারের বৃত্তি নিয়ে ফ্লোরেন্সের আকাদেমিয়া দ্য বেল আর্তিতে তিনি উচ্চতর শিক্ষার সুযোগ পান। এই সময় থেকেই তিনি নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় মগ্ন হন ও বিমূর্তধারায় অবগাহন করেন। এদেশের চিত্রকলা মেধা, মনন ও নিত্যনব উদ্ভাবনী কৌশল দিয়ে তিনি নবমাত্রা সঞ্চার করেন। তেল ও জলরং ছাড়াও মোজাইক, ম্যুরাল, কোলাজ ও অন্যান্য মাধ্যমেও তিনি সিদ্ধি অর্জন করেন।

ফ্লোরেন্স থেকে ফিরে আসার পর পাশ্চাত্যের নানা নিরীক্ষার ছাপ তাঁর ছবিতে পড়লেও বিমূর্ত শিল্পের নন্দনবিশ্ব খুব সহজেই তাঁর করায়ত্ত হয়। ক্রমে নিজস্ব চরিত্রসৃষ্টির গুণে, বৈশিষ্ট্যে ও প্রকাশে তাঁর ছবি হয়ে ওঠে বাংলাদেশের কলারসিকদের কাছে আধুনিক শিল্পের বিস্ময়কর প্রকাশের অভিব্যক্তি। বিমূর্তরীতিতে তিনি আচ্ছন্ন হলেও সামাজিক দায়বদ্ধতার বোধ তাঁর সবসময়ে ছিল এবং শিল্পে তার প্রকাশ ঘটেছে।

১৯৫৬ সালে আমিনুল ইসলাম চারুকলা ইনস্টিটিউটে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন এবং দীর্ঘ তিরিশ বছর শিক্ষকতার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। চিত্রসৃজন ও শিক্ষকতাই তাঁর জীবনের ব্রত ছিল।

১৯৩১ সালের ৭ নভেম্বর তিনি জন্মগ্রহণ করেন। ২০১১ সালের ৮ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন।

প্রচ্ছদে ব্যবহৃত ছবিটি ১৯৫৪ সালে কাগজে পোস্টার কালার মাধ্যমে আঁকা।

ছবিটির সংগ্রাহক আবুল খায়ের।