(বনানীর গোরস্তানে আফতাব শেষ ঘুমে চলে গেলে)
আপনাকে কবরে শুইয়ে দেওয়ার পর আপনাকে নিয়ে কবিতা লেখার কোনো মানেই হয় না।
আজ রাত থেকে আপনার কোনো বন্ধু নেই, পরিবার নেই, দায় নেই, দয়া ও মমতা আপনার চারপাশ ঘুরঘুর করলেও আর স্পর্শ করতে পারবে না কিছুতেই।
হ্যাঁ মশাই, আপনাকে।
আপনার স্পর্শ পাওয়া ল্যাপটপ, কিন্ডেল, সেলফোন, আইপ্যাড –
ভেতরের অজস্র জমানো বই, গানগুলো –
ওরা অপেক্ষায় থাকবে অনন্তকাল।
ধুলো জমে জমে বইগুলো আরো কালো হয়ে উঠবে।
বুঝি, এই মনে হবে তাদের সবার,
নিশ্চিন্তে সিগারেট ধরিয়ে আপনি তাদের কাউকে স্পর্শ করে ডুব দেবেন প্রকৃত ট্র্যাজিক হিরোর সন্ধানে।
(গত ৪০ বছরের সন্ধান কিছুতেই ব্যর্থ হতে পারে না।)
কিন্তু, তারা আর কোনোদিন আপনার সিগারেটপোড়া আঙুলগুলোর চুম্বন-স্পর্শ পাবে না।
আলোকিত বন্ধুদের সমস্ত আলো জড়ো হলেও আপনার মাটিচাপাদেওয়া ভয়ংকর, জীবিতদের অনাস্বাদিত অন্ধকার দূর করতে তা একান্ত অক্ষম।
এই গহ্বরিত অন্ধকারে নিশ্চিন্তে ঘুমানো সম্ভব?
৫০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঝলসানো আলোও কি আপনার এই ঘুম ভাঙাতে সক্ষম?

Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.