অসমাপ্ত গল্পের জীবন : সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম স্মরণীয়েষু

পূর্ণ হলো না পাত্র। সত্য হলো দীর্ঘশ্বাস।

অসময়ে অকালেই নিভে গেল দীপ।

এম্ফিথিয়েটারে শুধু প্রতিধ্বনি শূন্যতা-রোদন।

হাহাকার বেজে ওঠে, বীণা হয় হৃদয়বন্দিশ।

হৃদয়তন্ত্রীতে গাঙে গহিনে বিষাদ-সুর।

ছিলেন ব্যাখ্যাতা তিনি নন্দনতত্ত্বের, সৌম্য সুধী

প্রজ্ঞা পুণ্যে ভারানত, কী করে ভুলবো তাঁকে!

স্থিতধী মেধাবী সত্তা, স্মৃতিপটে প্রফুল্ল জাগর।

আকস্মিক ছিঁড়ে গেছে তার। অবেলায়, দুঃসময়ে।

গল্পের বুনট আর পূর্ণতার গাঁথুনি পেল না

হাহাকার কতুটুকু দিতে পারে গুরুর দক্ষিণা

এই প্রশ্ন খরতপ্ত নিদাঘের সাক্ষী হয়ে রয়

এমন অকালমৃত্যু আমাদের পিপাসার্ত প্রজন্মকে

আরো বেশি ঋণগ্রস্ত ভারাতুর নিঃস্ব করে দেয়

সুরমা গাঙের পাড়ে স্বপ্নিল যে কিশোরের ডানা

যৌবনে যে উড়ে উড়ে গিয়েছিল দূরদেশ কানাডায়

বিদ্যার্জন শেষে ফেরা, প্রলোভন কখনো টানেনি তাঁকে

মৃত্তিকার সোঁদাঘ্রাণ অনিবার্য ফিরিয়ে এনেছে ঠিক

লাল সবুজের দীপ্র সোঁদামাটি সনাতন এই বাংলায়

নৈরাশাকে তুড়ি মেরে তুচ্ছতায় উড়িয়ে দেওয়ার

নিঃশব্দ গভীর কোনো ধীশক্তি ছিল যে তাঁর, মনের গহনে

বয়ে যেতো ঝিরিঝিরি ফল্গুধারা, সম্প্রীতির সুধারসে

সিঞ্চিত হয়েছে কতো বিদ্যার্থী ও মনস্ক পাঠক

স্মৃতি ক্রমে ধূসর ঝাপসা হবে, সেটাই তো জগৎ-নিয়ম

তাঁর কাজ থেকে যাবে মননের প্রেরণা আধেয় হয়ে

প্রীত সেই বাতিঘর, মননের পথরেখা দেখিয়েই যাবে

শুদ্ধতাও সুস্থিতির স্বপ্নকুঁড়ি ছড়াবে সৌরভ জেনো

প্রজন্মের অগণন অনুরক্ত মানুষের মনের নিভৃতে।