সাদা প্রজাপতি

নদীর ধারের অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে থাকা নলখাগড়ার বনের ভেতর সে অনেকগুলো সাদা প্রজাপতিকে আবিস্কার করেছিল এক সন্ধ্যায়। লম্বা সবুজ কঞ্চিগুলো বাতাসে দুলে-দুলে তখন যেন নদীর সঙ্গে গোপনে কী কথা বলছিল। আর তখনই হালকা বাতাসে তাদের পাতাগুলোর সরসর শব্দ একসঙ্গে জলের ধারে বেজে উঠেছিল এক অদৃশ্য সংগীত হয়ে।

 নীলুফারের যখনই মন খারাপ হয়, তখনই সে এদিকে নদীর ধারে আসে। বিকেলের নরম রোদ পড়ে নলখাগড়ার মাথায়, আর তার নিচে ধীরে ধীরে বয়ে যায় নদীর জল। মাঝে মাঝে জলের ঢেউ এসে কেমন করে গাছের গোড়ায় আলতো আদর বুলিয়ে যায় তা সে নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে দেখে। পুলক লাগে শরীরে। গরিবের মেয়ে সে। যথেষ্ট খাবার-দাবারের অভাব সত্ত্বেও সে দেখতে খুবই বলিষ্ঠ ও সুন্দরী। বয়সের তুলনায় অনেকটাই বাড়বাড়ন্ত। নদীর খুব কাছেই এই বস্তির এলাকাটি। বস্তির অন্ধকার ঘর থেকে বেরিয়ে নদীর কিনারা ছাড়া আর কোথাও যেতে তার ইচ্ছেই করে না। বাজারে না, সিনেমায় না, এমনকি কোনো বান্ধবীর বাড়িতেও না। আধপেটা খেয়ে থাকলেও নদীর বাতাস পেয়ে সে ভুলে যায় দেহবোধ। প্রায়ই সন্ধ্যার অন্ধকার নামার আগে পর্যন্ত জলের কিনারায় বসে বসে সে নদীটিকে উপভোগ করে।

 বাবা সবজি-বিক্রেতা। তার মায়ের যেহেতু চারটি সন্তানই মেয়ে, আর সে সবচেয়ে ছোট, তাই বাবা তাকে জন্মের পর একদিনও পারতপক্ষে আদর দিয়ে ছুঁয়ে দেখেনি। মায়ের মুখে সারাজীবন সেই একই বুলি, ‘তোরে লবণ খাওয়াইয়া মারমু।’ লবণ খেলে সত্যিই মারা যায় কি না তা পরীক্ষা করে দেখার ব্যবস্থা অবশ্য করেছিল তার চেয়ে তিন বছরের বড় পিঠাপিঠি বোনটি। তার চার বছর বয়সে সত্যিই একদিন প্রচুর, প্রায় এক কেজি লবণ খাইয়েছিল তাকে। মা তখন তাকে বোনের কাছে রেখে ঠিকা কাজ করতে গিয়েছিল। লবণ খাওয়ার পর এক সপ্তাহ ভয়ানক অসুস্থ হওয়ার পরও যখন সে মরে নাই, তার বাবা সেদিনই বলেছিল, ‘এই মাইয়ার মরণ নাই। আমার হাড্ডি-মাংস জ্বালাইয়া না খাইয়া সে মরবো না।’ কিন্তু একটা দারুণ ব্যাপার ঘটে গিয়েছিল এই ঘটনার পরপরই। যে-বোনটি তাকে লবণ খাইয়েছিল তার সেই অপরাধবোধ ক্রমেই পরিণত হয়েছিল অপার স্নেহে। যে-স্নেহ তাকে তার মা-বাবা বা অন্য কেউ দেয়নি, তা যেন এই বোনটিই তাকে পুষিয়ে দিয়েছিল। বড় দুবোনের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর ওরা দুজন চাকরি করত চটের ব্যাগ তৈরি করার ফ্যাক্টরিতে। মজুরি সপ্তাহে পাঁচশো টাকা। মজুরির কিছু টাকা সংসারে দিত, আর বাকিটা দিয়ে সাজগোজের জিনিসপত্র কিনত দুজনেই। বাবা-মায়ের প্রচণ্ড অবহেলায় ছোটবেলা থেকেই সে হয়ে উঠেছিল ভেতরে ভেতরে দুরন্ত, ডাকসাইটে আর ক্ষীপ্র। তার ওপর দেখতে অপূর্ব লাবণ্যময়ী হওয়ায় কারো বিশ্বাসই হতো না যে, সে বস্তির মেয়ে। পুরো বস্তিতে সে ছিল রূপের রানি। বোনটি তাকে আদর করে ডাকত নীলু। যদিও বস্তির লোক তাকে ডাকে নীলা সুন্দরী। বোন তার জমানো টাকা থেকে কিনে দিত সুন্দর সুন্দর সালোয়ার-কামিজ। বোনটি তাকে লেখাপড়া করানোর চেষ্টাও করিয়েছিল; কিন্তু তারই ভালো লাগলো না। তাছাড়া বস্তির পরিবেশ থেকে স্কুলে যাওয়াটা যেন তার ঠিক মনমতো নয়। সেখানে সবার সফেদ সাদা জামা, কড়কড়ে শুভ্রতার স্পর্শ আর তার বস্তির জীবন যেন এক লজ্জিত জন্মের কলঙ্কের কালো। সীমানা টেনে দেওয়া এই দেয়ালটাকে সে খুব ছোটবেলা থেকেই গভীরভাবে টের পেত। তাই কোনো রকমে ক্লাস থ্রি পর্যন্ত পড়ার পর আর সেদিক এগোয়নি সে।

দুই

নলখাগড়ার বন আর নীলুফারের নদীর পারের তীব্র ভালোবাসার কথা একজন লোক নদীতে নৌকা বাইতে বাইতে প্রায়ই টের পেত। নীলুফারের বাবার বয়সী লোকটি নদীর ভেতরে ঢুকে যতদূর চোখ যায়, নীলুফারকে দেখত। এই দেখার মধ্যে কী ছিল তা সে নিজেও জানে না। লোকটি ছিল স্ত্রী-পুত্রহীন, বড় একা। নৌকায় লোক পারাপার করাই তার একমাত্র আনন্দের কাজ ও পেশা ছিল। নীলুফারের যেমন ভালো লাগত নদীর পাড়, সেই মাঝিরও ভালো লাগত নীলুফারের তারুণ্য আর আনন্দ। নৌকার সেই মাঝির নাম আলতাফ মিঞা। মধ্যবয়সী আলতাফ মিঞা বস্তির লোকেদের এপার-ওপার করত সকাল-সন্ধ্যা। একদিন সে দেখল, সেই নলখাগড়ার ঝোপের ভেতর, শুধুই একজন নীলুফার নয়, তার সঙ্গে আরেকটি ছেলেও আছে। ছেলেটিকে মাঝি চিনতে পারল না। তবে শাড়ি পরা নীলুফার যে ওই ছেলেটির সঙ্গে হাত ধরাধরি করে ঝোপের ভেতর বসে ছিল, এই দৃশ্য মাঝির চোখ এড়াল না। নদী আর নলখাগড়ার বনটি এতটাই নীরব ছিল যে, মাঝিও যেন এই দৃশ্য দেখে অবশিত হয়ে ছিল।

বনের ভেতর দিয়ে হাঁটছিল নীলুফার ওরফে নীলা সুন্দরী। বিকেলের আলো তার লাল শাড়িতে। সে হাঁটছে আর মাঝে মাঝে ছেলেটির হাত ধরে কথা বলছে। নদীর বাতাসে উড়ছিল তার খোলাচুল। হঠাৎ বাতাসের সঙ্গে কোথা থেকে যেন উড়ে এলো একরাশ সাদা প্রজাপতি। নীলুফার হেসে উঠেছিল আনন্দে, সে যেন চাইছিল প্রজাপতিগুলোর পেছন পেছন ছুটতে। নৌকার মাঝি আলতাফ মিঞা পুরো বিষয়টা দেখল, আর গম্ভীর হয়ে ভাবল কী যেন। তবে শুধু সেদিনই নয়। আলতাফ মিঞা এই ব্যাপারটা নিজের চোখে দেখল আরো কয়েকদিন। সঙ্গের ছেলেটিকে চেনার চেষ্টা করল। নিশ্চিত হলো যে, ছেলেটি তাদের এলাকার নয়।

বেশ কিছুদিন পর একদিন সন্ধ্যায় নদীতে হালকা কুয়াশা ঘিরে ছিল। আলতাফ মিঞা বসে বসে ঠিক করছিল নৌকার বৈঠা। সকাল থেকে বেশ কয়েকবার লোক পারাপার করে ক্লান্ত হয়ে বসে সন্ধ্যার আগে আগে বৈঠাটা ঠিক করছিল। নীলুফার ঠিক তখনই ঘাটে এসে দাঁড়ায়। আলতাফ মিঞাকে বলল, সে ওপারে যাবে। সাদা সফেদ শিউলি ফুলের প্রিন্টের শাড়িতে তাকে অপূর্ব লাগছিল। ফিরতে ফিরতে যে রাত হয়ে যাবে সে-কথাটি সে মেয়েটিকে বলতে গিয়েও থেমে গেল। কারণ তার চেহারায় ও সাজপোশাকে এমন এক সম্মোহনী ভাব ছিল যে, আলতাফ মিঞা যেন কোনো কথাই বলে উঠতে পারলো না। নৌকা ছেড়ে দিলো। আকাশটা এমন অদ্ভুত নিস্তব্ধ যে, নদীর ঢেউয়ের শব্দটা যেন জোরে জোরে ছলাৎ ছলাৎ করে কানে বাজতে থাকল। অনেক দূরের আলো জলের ওপর হালকাভাবে ছড়িয়ে পড়েছে তখন। মাথা নিচু করে বৈঠা চালাতে চালাতে আলতাফ মিঞা ভাবছিল, যত তাড়াতাড়ি বৈঠা চালিয়ে নদী পার হওয়া যায়। নদীর মাঝখানে জলের গভীরে এসে তাকে গ্রাস করল যেন আচমকা একটা ভয়। কীসের ভয়! এতদিন ধরে নৌকা চালায় সে!

নৌকাটা এগোচ্ছিল ধীরে ধীরে নদীর মাঝখান দিয়ে। চারপাশে শুধু জল আর ক্রমশ ঘন হয়ে ওঠা অন্ধকার। হঠাৎ দূরে আরেকটি নৌকার ছায়া যেন ক্রমশ ওদের নৌকাটির কাছে আসতে লাগল। খুব অদ্ভুত দ্রততার সঙ্গে নৌকাটা এসে ধাক্কা খেল আলতাফ মাঝির নৌকার সঙ্গে। মাঝির হাত থেমে গেল বৈঠার ওপর। 

নৌকাটা কাছে আসতেই কয়েকটা ছায়ামূর্তি স্পষ্ট হয়ে উঠল। তাদের মধ্যে নীলুফার যে-ছেলেটির হাত ধরে হেঁটেছিল তাকেও দেখা গেল। অস্পষ্ট কিন্তু শার্ট ও উচ্চতা দেখে মাঝি ওই ছেলেটাকে ঠিকই চিহ্নিত করল। ছায়ামূর্তিগুলি খুব দ্রুতই ঘিরে ফেলল নৌকায় থাকা নীলুফারকে। নদীর স্রোতের শব্দের সঙ্গে মিশে যাচ্ছিল ভেতর থেকে ধেয়ে আসা নীলুফারের তীব্র গোঙানির শব্দ। ছায়ামূর্তিগুলো নৌকা থামিয়ে রাখতে বলেছিল। আলতাফ মাঝির সাহস হলো না নৌকাটা চালিয়ে নিতে। কারণ ছেলেগুলোর হাতে ছিল ছুরি আর কিরিচ। সে নীরবে দমবন্ধ করা অনুভূতি নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকল নীরবে।  

 অস্পষ্ট ছায়ামূর্তির মতো ছেলেগুলো নীলুফারকে নিয়ে মাঝনদীতে প্রায় তিন ঘণ্টা ফুর্তি করল। তারপর ওদের কাজ শেষ হওয়ার পর একে একে নেমে গেল মাঝনদীতে থামিয়ে রাখা পাশের নৌকাটিতে। এসব ঘটনায় বিহ্বল মাঝি কোনো প্রতিবাদ করল না। মাঝি যেন কিছু বলতে চায়, কিন্তু তার মুখে কথা খেলে না। বিমূঢ় হয়ে অন্ধকারে সে নৌকার বৈঠায় হাত বোলাতে থাকে। নদীর জল নৌকার গায়ে ধাক্কা দেয় – টুপ-টুপ। অনেকক্ষণ পর, মাঝি নীরবতার মধ্যে বলে উঠল – ‘সবাই গেলগা। বাড়ি চলেন।’

এরপর সে সাহস করে কোনো প্রত্যুত্তরের আশা না করে নৌকাটাকে নিয়ে বস্তির দিকে যাত্রা করাল। পুরো পথ নীরব। শুধু জলের শব্দ আর থেকে থেকে নৌকার গলুইয়ের ভেতর থেকে, নীলুফারের বিধ্বস্ত শরীরের ভেতর থেকে, কুকুরের কান্নার মতো কুঁই-কুঁই কান্নার বিলাপ নদীর জলে ছড়িয়ে যেতে থাকল। তারপর কান্নাটা একসময় স্তব্ধ আর ভারী হয়ে আসে। তীব্র যন্ত্রণায় মেয়েটি কুঁকড়ে যাচ্ছিল। কণ্ঠে আর স্বর নেই। দূরের আলোটা সেই আগের মতোই জলের ওপর দুলছিল। কিন্তু নৌকার ভেতরের নীরবতার ভার যেন একটা পাহাড়ের মতো। মাঝির চোখ একবার নদীর দিকে, আরেকবার গলুইয়ের দিকে। ভয় পাচ্ছিল সে। নদী আর নদীর মাঝি সবই দেখেছিল, চুপ করে।

নৌকা ঘাটে ভেড়ানোর পর সে নীলুফারকে খুব আস্তে করে নৌকা থেকে নামায়। তার সাদা শাড়ি রক্তে ভেজা। মাঝি তার কাঁধের গামছা খুলে তাকে মুড়িয়ে দেয়। নৌকায় রাখা আরেকটি ময়লা গামছা নদীর পানিতে ধুয়ে নীলুফারের শরীরের ওপরে ঢেকে ধীরে-ধীরে তাকে তার বাড়িতে পৌঁছে দেয়। তার শরীর যেন নৌকা থেকে নামার মতো শক্তি পাচ্ছিল না। পা কাঁপছিল অনবরত। মাঝি তার হাত স্পর্শ করলে, সে ভয়ে আর সন্দেহে যেন একবার আঁতকে উঠল।

মাঝির মনে হলো, মেয়েটিকে স্বাভাবিক করতে হবে। সে এবার কথা বলার চেষ্টা করল। বলল, ‘বাড়িতে যাইতে পারবা তো!’

নীলুফার কোনো উত্তর করে না। নদীর পাড়ে চুপ করে বসে থাকে। তারপর মাঝিই আবার বলে, ‘কাউরে কিছু কওয়ার দরকার নাই। তুমি ঘরে যাও।’ তারপর নীলুফার উঠে ঘরের দিকে যাওয়া পর্যন্ত আলতাফ মাঝি ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে।

তিন

পরদিন সকালে আলতাফ মাঝি আবার ঘাটে এলো। কিন্তু তার কিছুই ভালো লাগছিল না। চুপ করে বসে সে নদীর দিকে তাকিয়ে থাকল কিছুক্ষণ। তারপর হঠাৎ উঠে বস্তির দিকে হাঁটতে থাকল। সরু সরু গলি পেরিয়ে সে নীরবে এসে দাঁড়াল নীলুফারদের ঘরের সামনে। নিস্তব্ধ! ভেতর থেকে কোনো সাড়া নেই। দরজার সামনে সে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকল কিছুক্ষণ। তারপর দরজার কাছেই নামিয়ে রাখল তার হাতের থলিটা, যেখানে কিছু ব্যথার ওষুধ আর প্লাস্টিকের বাক্সে ভাত-তরকারি। তার ইচ্ছে হলো একবার দরজার কড়া নাড়তে। কিন্তু এই মুহূর্তে কড়া নাড়া মানেই সেই রাতটিকে নীলুফারের চোখের সামনে আবার তুলে আনা। নিঃশব্দে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে সে ভাবল, এই সামান্য ওষুধ, এই ভাত-তরকারি কিছুই কি পারবে সেই দহন আর যন্ত্রণাকে শান্ত করতে! তবু সে আরেকটু সময় দাঁড়িয়ে থাকে। নীলুফারের বোনটি কি বাসায় আছে! কেউ নেই বাড়িতে! সবাই কাজে!

তারপরেও পরপর বেশ কিছুদিন কোনো এক দায় থেকে কিছু খাবার আর ফলমূল সে প্রতিদিনই নিয়ে আসা শুরু করল। একসময় লোকজনের মুখে জানতে পারল, নীলুফার কিছুটা সুস্থ হয়েছে।

যদিও এখন বস্তির দিকে তাকাতেই তার কষ্ট হয়। আর সেই নদীর পাশের নলখাগড়ার বন! নদীর দিকে চলতে গেলে তার পাগুলো যেন আড়ষ্ঠ হয়ে আসে।

সেই রাতের পর তার চোখে আর ঘুম আসে না। বুকের ভেতর এক অদৃশ্য ক্ষত থেকে রক্ত ঝরে অবিরাম। নদীতে নামলেই তার হাত কেঁপে ওঠে। বৈঠার দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে মনে করে, সেই রাতে এই বৈঠা দিয়ে সে কেন কিছুই করতে পারেনি! তার হাত-পা বেঁধেছিল কে! এক সর্বগ্রাসী ভয়! চোখ বন্ধ করলেই তার চোখে অন্ধকার সেই রাত বারবার ভেসে ওঠে। নদীর জলের দিকে তাকিয়ে সে শিউরে আবার নিজের দিকে তাকায়। ওই জলের নিচে যেন চাপা পড়ে আছে, সেই রাতের ব্যর্থতা, নীরবতা আর তার ভয়। নীলুফারের ইজ্জত সে বাঁচাতে পারল না! সেই সুন্দর সাদা প্রজাপতির মতো মেয়েটাকে! মেয়েটা সেই ঘটনার পর একেবারে স্তব্ধ হয়ে গেছে। ঘর থেকে মাঝে মাঝে বের হয় ঠিকই, কিন্তু কারো সঙ্গেই কথা বলে না।

লোকমুখে এসব কথা শুনে আলতাফ মিঞা ভাবে, এই নদী কি তাকে ক্ষমা করবে! বস্তির লোকেরা প্রায়ই সুনাম করে বলে, আলতাফ মিঞার নদীর পথঘাট সবচাইতে ভালো জানে। এই তার জানা! গভীর অন্ধকারে সে যে মানুষ পথটাই হারিয়ে ফেলেছিল!