অপ্রকৃত অর্থলীলা

মন বিনিময়ের সোনালি খড়ে একটু একটু করে গড়ে ওঠা

বাতাসে দোদুল্যমান ঘরকম্পিত প্রেমের শিঞ্জন

যেভাবে দূরত্ব অতিক্রমী অন্তর্জালে দেখি আমাদের মুখচ্ছবি

গ্লাসস্ক্রিনে পরস্পর আর মুহুর্মুহু ক্ষুদে বার্তার তরঙ্গ

হৃদয় যোজনা করে আমাদের যেন উদ্ভিন্ন প্রেমের

সিদ্ধান্ত নেবার জন্য যথাযথ এই পরিসর, ভেবে

স্বপ্ন বোনো তুমি আর আমাকেও নিতে চাও সঙ্গী করে তার।

সহজ অর্থাগমের জাদু জেনে গেছ তুমি

ক্রিপ্টোকারেন্সি গ্রাফের নর্তকী মুদ্রায়

কখন যে ধরে ফেলো খপ্ করে সাপের মাথার মণি

আর দ্রুত ভরে ফেলো ঝাঁপিতে তোমার

সেই জাদু আমাকে শেখাতে চাও, ভাবো

এই হবে প্রণয়ের সেরা উপহার!

কল্পনা, বিশ্বাসে গড়া দেবী লক্ষ্মীর প্রতিমা

হাতের কলসে তাঁর অফুরন্ত স্বর্ণমুদ্রা, গৃহস্থের ঘরে ঘরে

পূজা তার প্রতিটি সন্ধ্যায় লক্ষ্মীর পাঁচালি, ব্রতকথা

কোজাগরী পূর্ণিমার রাতে স্বপ্নপূরণ দেবীর বরে কারো কারো ঘরে

এবং বাণিজ্য বহরে হয়ে থাকে বলে আছে লোকশ্রুতি –

যেন নতুন যুগের লক্ষ্মীদেবী তুমি উদিতা আমার ভাগ্যাকাশে

বরদানের ইচ্ছায় আমাকে নিয়েছ বেছে!

সে কেমন অর্থ বলো, অন্তর্জালে যার ওঠানামা

গ্রাফের রেখায় তার পিছনে কি আছে সত্যিকার সোনাদানা?

শ্রমের নিষিক্ত রূপে টাকা, রুপি, ডলার, পাউন্ড অথবা ইউয়ানের পাখা

মসৃণ কাগজে ছাপা, তবু ধরা যায় খসখসে হাতের তেলোয়

প্রতীকী মূল্যের অন্তরালে আছে তার ধরিত্রী সম্পদ  

অবশেষে কাগজও অবলুপ্ত হয়ে জ্বলে প্লাস্টিক কার্ডের বিভা!

কোন সম্পদ ধারণ করে ডিজিটাল সম্পদের মালিকানা

ভার্চুয়াল থেকে রিয়েল ও দর্পিত রিয়েল থেকে ভার্চুয়ালের লীলাময়তা

সেসবে অবুঝ আমি গড়েছি কাব্যালংকার দিয়ে নিজস্ব বসতবাড়ি 

স্বর্ণালংকারের অধিকার পাইনি কখনো তাই শ্রমে ঘামে স্বচ্ছ

জীবন চলেছে বেশি অর্ধশতাব্দীর সহসাই অনেক প্রাপ্তির স্বপ্নে

দ্বিধান্বিত মন যাচাই যে করে নিতে চায় দৃষ্টিহীন বাজারের নিয়ম-কানুন

অজ্ঞতাপ্রসূত প্রশ্ন পৌনঃপুনিক চৌচির করে তোমার ধৈর্যপ্রাচীর  

বহুবর্ণ সুগন্ধি কথার রেশ, রূঢ় একটি শব্দের আঘাতে নিঃশেষ

আঘাতের বিপরীতে জাগে প্রত্যাঘাত, অমৃত উগরে দেয় বিষ

কথার ভেতরে অর্থ খুঁজে ফেরে ভাবের ঘরের কারবারি আর

অর্থের ভেতরে অর্থ যেন মরীচিকা কোনো গুপ্তধনের রহস্য

রয়েছে অধরা বরাবর তাই যত অনর্থ, বিবাদ ভবিতব্য আমাদের।