সংগীতালোকের পথে
সাইম রানা ষ কথাপ্রকাশ
ঢাকা, ২০২৬ ষ ৪০০ টাকা
সংগীতকে কেবল নন্দনতত্ত্ব বা পরিবেশনা-কলার গণ্ডিতে না রেখে ইতিহাস, সমাজ, সংস্কৃতি, নৃতত্ত্ব, শিক্ষা ও রাজনীতির বিস্তৃত প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ করে এমন গ্রন্থ বাংলাদেশে কম। এই প্রেক্ষাপটে কবি, সংগীত পরিচালক, গবেষক সাইম রানার সংগীতালোকের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।
এ-গ্রন্থে সংগীতবিষয়ক দশটি প্রবন্ধ সংকলিত হয়েছে। গ্রন্থের ভূমিকায় লেখক বলেছেন, সংগীতের শিক্ষার্থী ও সংগীতানুরাগী তরুণদের জন্য এই গ্রন্থভুক্ত প্রবন্ধসমূহ রচিত হয়েছে। তবে বিষয়বস্তুর গভীরতা বিবেচনায় বইটি গবেষক, শিক্ষক, সংস্কৃতিকর্মী এবং সংগীতচিন্তায় আগ্রহী সাধারণ পাঠকের কাছেও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করি।
গ্রন্থটিতে সংগীতকে বিচ্ছিন্ন শিল্পরূপ হিসেবে দেখা হয়নি; বরং মানুষের সামাজিক জীবন,
সাংস্কৃতিক বিকাশ, শিক্ষা, রাষ্ট্র, ধর্ম, চলচ্চিত্র, নৃতত্ত্ব এবং জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে বহুমাত্রিক সম্পর্ক অনুসন্ধানের চেষ্টা করা হয়েছে। ফলে এটি শুধু প্রবন্ধসংকলন থাকেনি, সংগীতকে ঘিরে সমকালীন চিন্তার একটি সুসংগঠিত পরিসর নির্মাণের প্রক্রিয়া ধারণ করতে সমর্থ হয়েছে।
প্রথম প্রবন্ধে লেখক সংগীতশিক্ষার ধারণা, ইতিহাস এবং পদ্ধতিগত বিবর্তন নিয়ে আলোচনা করেছেন। বাংলার গুরুমুখী শিক্ষাপদ্ধতির ঐতিহ্য তুলে ধরার পাশাপাশি তিনি আধুনিক কাঠামোগত সংগীতশিক্ষার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেছেন। ডালক্রোজ, কোডালি, কার্ল অরফ ও সুজুকি প্রবর্তিত শিক্ষাপদ্ধতি আলোচনার মধ্য দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন, কীভাবে সংগীতশিক্ষা কেবল কণ্ঠ বা বাদ্যযন্ত্রের দক্ষতা অর্জনের বিষয় নয়; সৃজনশীলতা, অনুভূতি ও ব্যক্তিত্ব বিকাশেরও একটি কার্যকর মাধ্যম।
লেখক ইউরোপ ও আমেরিকার সংগীতশিক্ষা পদ্ধতির বিবর্তনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাস্তবতার তুলনা করেছেন এবং প্রযুক্তিনির্ভর সংগীতশিক্ষার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। যদিও কোনো কোনো ক্ষেত্রে তিনি পাশ্চাত্যের লিখিত ও নোটেশনভিত্তিক শিক্ষাকে তুলনামূলকভাবে বেশি কার্যকর বলে বিবেচনা করেছেন, তবু ভারতীয় উপমহাদেশের গুরুমুখী শিক্ষার গভীরতা ও শিল্পীসত্তা নির্মাণের ঐতিহ্যও অস্বীকার করেননি।
বাংলাদেশের সংগীতশিক্ষার বাস্তবতায় গুরুমুখী ও প্রাতিষ্ঠানিক – দুই ধারাই সমান গুরুত্বপূর্ণ। গুরুমুখী শিক্ষায় দীর্ঘ অনুশীলন, গুরু-শিষ্য সম্পর্ক এবং শিল্পভাবনার উত্তরাধিকার প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম পরম্পরায় সঞ্চারিত হওয়ার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। অন্যদিকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় সংগীততত্ত্ব, ইতিহাস, গবেষণা ও নোটেশন সম্পর্কে বিস্তৃত জ্ঞান অর্জনের সুযোগ তৈরি হয়। এই দুই পদ্ধতির সমন্বয়েই একজন সংগীতশিল্পীর পূর্ণাঙ্গ বিকাশ – সম্ভবত গ্রন্থটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোক-নির্দেশক এখানেই।
গুরুমুখী শিক্ষা ভারত উপমহাদেশীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের প্রাচীন পন্থা। ঐতিহ্যবাহী লোকসংগীত, বিশেষ করে বাউল গান, ফকিরি গান, কবি গান, পালা ও বৈচিত্র্যময় ভাবসংগীত শিক্ষার ক্ষেত্রেও একই পন্থা প্রচলিত। এ-পন্থায় শিষ্য দীর্ঘ সময় গুরু-সান্নিধ্যে সংগীত সাধনা করে। ঐতিহ্যগতভাবে লিখিত নোটের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় শোনা, অনুসরণ করা এবং নিয়মিত রেওয়াজের ওপর। মনে রাখতে হবে, এক্ষেত্রে শুধু গান শেখানো হয় না, সংগীতশিল্পীর মন, চিন্তা, শৃঙ্খলা ও জীবনবোধও গড়ে ওঠে। এভাবে গুরু পরম্পরায় ক্রমসঞ্চারমান থাকে সংগীতের বিশিষ্ট স্থানীয় ধারা। অন্যদিকে, বিদ্যালয়, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্দিষ্ট সিলেবাস অনুযায়ী তত্ত্ব ও ব্যবহারিক শিক্ষাপদ্ধতিকে সাম্প্রতিকই বলা চলে। শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাস করে, পরীক্ষা দেয় এবং সফলভাবে কোর্স শেষ করলে সনদ বা ডিগ্রি অর্জন করে। প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক যথেষ্ট সময়াবদ্ধ।
গুরুমুখী সংগীতশিক্ষায় দক্ষতা অর্জনের জন্য তপস্যায় নিমগ্ন হয়ে সুর-বৈচিত্র্য, অলংকার, গায়কি ও পরিবেশনার সূক্ষ্ম দিকগুলো আয়ত্ত করা সম্ভব হয়। সবার জন্য উন্মুক্ত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় সংগীতের ইতিহাস, তত্ত্ব, গবেষণা ও নোটেশন সম্পর্কে বিস্তৃত ধারণালাভের পাশাপাশি সংগীতের লিখিত ভাষার দক্ষতা অর্জনের মধ্য দিয়ে যে-কোনো সংগীত যে-কোনো ভাষাভাষির সংগীতপ্রিয় মানুষ পরিবেশন করা শিখতে পারে। তবে অনেক সময় নিরন্তর নির্দেশনার ঘাটতির ফলে ব্যবহারিক দক্ষতা এবং শিল্পীসত্তার বিকাশ সীমিত হতে পারে। সুতরাং, এই দুই পদ্ধতির সমন্বয়ই সংগীতশিক্ষায় অনুসরণ করা যেতে পারে। গুরুমুখী শিক্ষার গভীর অনুশীলন ও শিল্পবোধের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার তাত্ত্বিক জ্ঞান যুক্ত হলে একজন শিল্পী পরিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারেন।
দ্বিতীয় প্রবন্ধ ‘প্রায়োগিক নৃ-সংগীতবিদ্যা ও ফোকলোর বিতর্ক’-এ সাইম রানা সংগীত নৃবিজ্ঞানের তাত্ত্বিক ভিত্তি, প্রয়োগ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করেছেন। প্রবন্ধটিতে প্রাইজ, স্টিল, স্প্র্যাডলি, ম্যাককার্ডি, টিটন, পেটানসহ বিভিন্ন গবেষকের মতামত উদ্ধৃত করে লেখক দেখিয়েছেন, সংগীত শুধু নন্দনচর্চার বিষয় নয়; এটি মানুষের জীবনযাপন, পরিচয়, রাজনীতি এবং সাংস্কৃতিক পরিবর্তনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক।
প্রবন্ধকার আর্নেস্ট ফিশারের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রায়োগিক সংগীত নৃবিজ্ঞানের কর্মপদ্ধতি সংক্ষেপে তুলে ধরেছেন। আমেরিকার দ্য সোসাইটি ফর এথনোমিউজিকোলজির সংগীত নৃবিজ্ঞানী
সেমের দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে শিক্ষা উন্নয়ন, সংস্কৃতির রাজনৈতিক অবস্থান-দ্বন্দ্বের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে টিটন ও পেটানের দি অক্সফোর্ড হ্যান্ডবুকের রেফারেন্স দিয়েছেন। একইসঙ্গে, ২০০৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল ফর ট্র্যাডিশন অফ মিউজিক অ্যান্ড ড্যান্সের অ্যাপ্লায়েড এথনোমিউজিকোলজি নামের স্টাডি গ্রুপের ৩৯তম আন্তর্জাতিক সম্মেলনে আলোচিত ‘সামাজিক দায়বদ্ধতা’কে সামনে রেখে গভীর জ্ঞানচর্চায় প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্য ও সমস্যা সমাধানের চেষ্টাকে মুখ্য বিবেচনা করার উদাহরণ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘ফোকলোর গবেষকরা প্রধানত মনে করেন সংস্কৃতির অনেকগুলো উপাদানের মধ্যে সংগীত একটি, যা পল্লিজীবনে অবহেলিত এবং গুরুত্বহীন অবস্থায় পড়ে আছে। তা মূলত উদ্ধার করা এবং সংরক্ষণ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়।’
বিশ শতকের শেষার্ধেই এমন ধারণার অবসান ঘটেছে, বিশেষ করে আমেরিকান ফোকলোর তাত্ত্বিক অ্যালেন ডান্ডেসের ইন্টারপ্রেটিং ফোকলোর প্রকাশিত হওয়ার পরপরই। ডান্ডেস স্পষ্ট দেখিয়েছেন যে, ‘ফোক’ অর্থাৎ মানুষের জীবনাচারই ফোকলোর অধ্যয়নের লক্ষ্য। এর সঙ্গে পল্লি বা নগর এরকম ভৌত পরিসরের প্রকৃতপক্ষে কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি সংগীতসহ ফোকলোরের প্রতিটি উপাদানকে সময়, ভৌগোলিক পরিবর্তন, ভাঙাগড়া, বিভাজন কিংবা একীভবন, রাজনৈতিক পট পরিবর্তন, ধর্ম, জলবায়ু পরিবর্তন, নতুন নতুন প্রযুক্তি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারি, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, শিক্ষাব্যবস্থা, যুদ্ধ, শান্তি প্রচেষ্টা ইত্যাদির সাপেক্ষে পরিবর্তনশীল ও চিরায়ত সাংস্কৃতিক উপাদান হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি বলেছেন, সংগীত ছাড়া মানুষ হয় না। ইউনেস্কোর ইনট্যানজিবল কালচারার হেরিটেজ বিষয়ক কনভেশনেও এ-কথা স্বীকার করা হয়েছে। সুতরাং বাংলাদেশের সংগীতশিক্ষাধারা স্পষ্ট করতে ফোকলোরের সমসাময়িক সংজ্ঞায়ন প্রজন্মের সংগীত গবেষক বা শিক্ষার্থীদের সহায়ক হবে।
ক্যাটলিন ভ্যান বিউরেন এথনোমিউজিকোলজিস্টদের যে-পরামর্শ প্রদান করেছেন বলে সাইম রানা উল্লেখ করেছেন, টিমথি রাইস তাঁর এথনোমিউজিকোলজি অ্যা ভেরি শর্ট ইন্ট্রোডাকশন গ্রন্থে তা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেছেন। সাইম রানার প্রবন্ধে যে বিষয়গুলো উঠে এসেছে তা মিউজিকোলজি এবং কালচারার স্টাডিজের সঙ্গে অধিক ঘনিষ্ঠ বলে মনে হয়।
যে-দেশে মধ্যযুগীয় নাথগীতি, বৈষ্ণব পদাবলি, এমনকি সমকালীন বাউল গান, কবিগান, পালানাট্য, বৌদ্ধ চর্যাগীতিসহ অজস্র সংগীত উপাদান জাতিগত আত্মপরিচয় চিহ্ন হিসেবে টিকে আছে, সে-দেশে প্রায়োগিক সংগীত নৃবিদ্যার প্রাতিষ্ঠানিক অধ্যয়ন অবশ্যই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়া উচিত। ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং আফ্রো-এশীয় গবেষকেরা নৃতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে শুধু নিজেদের সংগীত ঐতিহ্য নিয়েই কাজ করছেন না, তাঁদের অনেকেই বাংলাদেশের সংগীত ঐতিহ্য নিয়ে গভীর গবেষণা করছেন; কিন্তু স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এই জ্ঞানচর্চায় পিছিয়ে আছে।
তৃতীয় প্রবন্ধ ‘ধর্মরাষ্ট্রে সংগীত’ গ্রন্থটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রচনা। এখানে ধর্ম ও সংগীতের সম্পর্ককে লেখক কোনো একরৈখিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিচার করেননি; বরং ইতিহাস, সমাজ ও সংস্কৃতির দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে বিষয়টিকে বিশ্লেষণ করেছেন। তাঁর মতে, ধর্মীয় অবস্থান থেকে সংগীতকে যেমন গ্রহণ করা হয়েছে, তেমনি বিভিন্ন সময়ে ধর্মীয় ব্যাখ্যার আশ্রয়ে সংগীতকে নিষিদ্ধ বা সন্দেহের চোখেও দেখা হয়েছে। এই দ্বৈত বাস্তবতার ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি ভারতীয় উপমহাদেশ, বাংলাদেশ, ইউরোপীয় রেনেসাঁস এবং বিভিন্ন সময়ের ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের উদাহরণ তুলে ধরেছেন। লেখক দেখিয়েছেন, সংগীত কখনো ধর্মীয় অনুশীলনের বাহন, কখনো প্রতিবাদের ভাষা, আবার কখনো মানবমুক্তির আকাক্সক্ষার শিল্পিত প্রকাশ। তাঁর পর্যবেক্ষণ ‘সংগীত কখনো ধর্মের প্রচারবাহক হয়েছে, আবার কখনো ধর্মের অবদমনের প্রতিরোধে ফুঁসে উঠেছে’ শুধু একটি ঐতিহাসিক সত্যই নয়, সমকালীন সমাজবাস্তবতারও একটি গভীর অবলোকন। বিশেষ করে রাজনৈতিক স্বার্থে ধর্ম ও সংস্কৃতিকে পরস্পরের মুখোমুখি দাঁড় করানোর প্রবণতা সম্পর্কে তাঁর বিশ্লেষণ পাঠককে নতুন করে ভাবাবে। প্রবন্ধটি পাঠককে স্মরণ করিয়ে দেয়, সংগীতের প্রকৃত শক্তি বিভাজনে নয়; মানুষের অভিন্ন মানবিক অভিজ্ঞতাকে প্রকাশ করার মধ্যেই তার সার্থকতা।
গ্রন্থের ‘সংগীতের শক্তি ও ক্ষমতায়নের সমাজমনস্কতা’ শীর্ষক প্রবন্ধে সংগীতকে সামাজিক পরিবর্তনের এক কার্যকর শক্তি হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সংগীত মানুষের ব্যক্তিগত অনুভূতির প্রকাশমাত্র নয়; এটি প্রতিবাদ, প্রতিরোধ, ঐক্য, আত্মপরিচয় এবং রাজনৈতিক চেতনা নির্মাণেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। ইতিহাসের নানা সামাজিক আন্দোলন, মুক্তির সংগ্রাম কিংবা মানবাধিকারের প্রশ্নে সংগীত যে মানুষের মনোজগৎকে সংগঠিত করেছে, লেখক তার দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছেন। সংগীতের এই সামাজিক ক্ষমতাকে তিনি আবেগের বিষয় হিসেবে নয়, সমাজবিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয় হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন।
গ্রন্থের আরেকটি উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ ‘সিনেমার ধ্বনিচিত্রায়ন : কল্পরাজ্যের বিস্ময় ও তাত্ত্বিক বাস্তবতা’। চলচ্চিত্রে সংগীতের ব্যবহার নিয়ে বাংলা ভাষায় তাত্ত্বিক আলোচনা খুব বেশি দেখা যায় না। সেই অভাব অনেকাংশে পূরণ করেছে এই প্রবন্ধ। কাছেই সমানভাবে মূল্যবান বলে বিবেচিত হতে পারে।
‘লুপ্তপ্রায় দেশি বাদ্য’ প্রবন্ধটি গ্রন্থের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। আধুনিক প্রযুক্তি ও বিশ্বায়নের প্রবল প্রভাবে বাংলার বহু ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র আজ বিস্মৃতির পথে। লেখক সেই বাদ্যযন্ত্রগুলোর পরিচয়, ব্যবহার, সাংস্কৃতিক তাৎপর্য এবং ক্রমশ হারিয়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিত তুলে ধরেছেন। সাইম রানা স্বয়ং সংগীতজ্ঞ; তাঁর সংগীতালোকের পথে সংগীতের সর্বব্যাপ্তি সম্পর্কে আগ্রহী পাঠকের দৃষ্টিভঙ্গি প্রশস্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.