অশরীরী ঈগলের ছায়া

শুধু তোমাকে আঁকড়ে ধরে ধীর পায়ে হাঁটবো ভেবেছিলাম

ঝঞ্ঝাক্ষুব্ধ, প্রাণঘাতী অথচ মায়াবী এই সমুদ্রসৈকতে;

এখন হাঁটছি একা একা তোমার স্মৃতির হিম অন্ধকার হাত ধরে;

বালুরা বসাচ্ছে বিষদাঁত পায়ে; সমুদ্র রাঙাচ্ছে তার লবণাক্ত চোখ;

মাথার উপরে ক্রমে দীর্ঘতর হচ্ছে অশরীরী এক ঈগলের ছায়া।

আমাদের নাম ধরে ডাকে পেছনের ফেলে আসা পথ, কিছু

বাদামের খোসা আর অগণিত উপেক্ষিত চায়ের পেয়ালা;

 বড়ো মর্মস্পর্শী সেই ডাক – অস্তিত্ব বিদীর্ণ হয়;

প্রাণের শিকড়ে পড়ে টান। দুই দুর্লঙ্ঘ্য পাহাড় প্রাণপণে

আমাকে থামাতে চায় – অর্বাচীন অবোধ বালক যেন আমি!

সারিবদ্ধ পাহাড়ের প্রাচীর ডিঙিয়ে তবু আমি ছুটে যাই;

মুহুর্মুহু ধ্বংসের ভেতর খুঁজি আমাদের দুনিয়া কাঁপানো

যুগল স্বপ্নের কিছু হাড়গোড় আর সাইবেরিয়ার হংসের মতন

 ধবধবে সাদা সেইসব প্রতিশ্রুতির ফসিল ।

বিলুপ্ত নগর এক ঠা ঠা শব্দে হাসে!

সভ্যতার সারি সারি মৃতদেহ ঠেলে আমাকে এগোতে হয়।

নগর বিলুপ্ত বটে -শ্বাপদেরা নয়; গুপ্ত ঘাতকের মতো

আমাকে ধাওয়া করে শ্বাপদের হিমকালো ঘ্রাণ; আমি তার

নিশ্বাসের লেলিহান গন্ধ পাই অস্তিত্বের শাখা-প্রশাখায়;

শুধু বিশ্বচরাচর খুঁজে পাই না তোমাকে ।

শ্বাপদসঙ্কুল এই জীবনের বহুরূপী সমুদ্রসৈকতে

মৃত ইলিশের মতো তোমার স্মৃতির হিমায়িত হাত ধরে

আমি কি আমৃত্যু বলো হাঁটবো একাকী!