অনুবাদ কবিতা
-
শব্দের পিপাসা
ভাষান্তর : মঈনুস সুলতান সে তাকে থামিয়ে দিতে চেয়েছিলো একদিন রাজপথের ঠিক মাঝখানে – পদচারী, হরেক রকমের যানবাহন চলমান, উপেক্ষা করে সমস্ত কিছু বলতে চেয়েছিলো কথা একটি প্রশ্নও ছিলো তার মনে ভাঙাতে চেয়েছিলো তার অভিমান। দেখা যখন হয়েই গেলো চলার পথে তার সাথে বর্মের মতো দুহাত তুলে মেয়েটির অবাক হওয়া চোখে তেড়ছা হয়ে পড়া রোদ…
-
অভিসার
ভাষান্তর : মঈনুস সুলতান দুপুর বেলা তার কামরায় তুমি দাঁড়িয়ে আছো অনাহূত অবাক হতে হতে তোমার দুহাত পাথর হয়ে গেছে দ্রুত, দরোজায় দাঁড়িয়ে টিপে টিপে বাড়িয়েছো এক পা – চোখেমুখে দ্বিধা, পড়ে আছে তার বালিশ, বইগুলো ছড়ানো – কিছু ছবি জলরং হাতে লেখা ছত্র কয়েকের কসিদা, টিপয়ে খুলে রাখা কোমরের রূপালি বেল্ট – বাঁকানো ধাতব…
-
আহত চোরাচালানি
ভাষান্তর : মঈনুস সুলতান নিশিরাতের হে ঘোড়সওয়ার – আমার নিবাস এখানে, বালুচরে ছোট্ট ঘর নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে আছি বুকে নিয়ে তৃষ্ণা অপার। শুধু একবার – এখানে এসে কড়া নাড়ো, মৃদু স্বরে দাও শিস, নরোম সবুজ স্বপ্ন রেখে যাও আমার হৃদয়ে তোমার প্রতীক্ষায় জেগে আছি অহর্নিশ। অপেক্ষায় একাকী দাঁড়িয়ে আছি আমি দরোজার পেছনে মথিত যদি…
-
হামদানে রাত্রি
সাদি ইউসেফে ভাষান্তর : মঈনুস সুলতান হামদানে প্রচলিত আছে একটি কথা – জানে তা কমবেশি সকলে, যখন ঘুমিয়ে পড়বে খেজুরগাছ তখন ঘুমাতে যেও তুমি – শরীর জড়িয়ে পশমি কম্বলে। নক্ষত্রের সোনালি গমের শীষে ভরে উঠবে হামদানের আকাশ নিভে যাবে কুটিরগুলোর মিটিমিটি কুপি, মৃদুস্বরে খেজুরের পাতা ছুঁয়ে বইবে বাতাস। নীরব নিথর পুরনো সব ঘরবাড়ি…
-
সাদি ইউসেফের কয়েকটি কবিতা
ভাষান্তর : মঈনুস সুলতান ভূমিকা ও কবি-পরিচিতি সাদি ইউসেফের জন্ম ১৯৩৪ সালে দক্ষিণ ইরাকে – বসরার কাছাকাছি আবুল খাসিবে। এ অবধি রচনা করেছেন পঁয়তাল্লিশটি কবিতা ও সাতটি গদ্যগ্রন্থ। বাগদাদে তাঁর পড়াশোনার বিষয়বস্ত্ত ছিল আরবিসাহিত্যে। প্রথম জীবনে শিক্ষকতা করেন কিছুকাল। পরে পেশাগতভাবে তিনি সাংবাদিক ও প্রকাশক হিসেবে কাজ করেন। রাজনৈতিক অ্যাক্টিভিস্ট হিসেবেও তাঁর অবদান গুরুত্বপূর্ণ। তরুণ…
-
ল্যাটিন আমেরিকার একগুচ্ছ কবিতা
ভূমিকা ও অনুবাদ : সুরেশ রঞ্জন বসাক আজ থেকে বিশ হাজার বছর আগে মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভূত যে-জনগোষ্ঠী সাইবেরিয়া থেকে আলাস্কা, উত্তর ও মধ্য আমেরিকা, পরে পানামা যোজক হয়ে দক্ষিণ আমেরিকা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল তারাই আজকের ল্যাটিন আমেরিকানদের পূর্বপুরুষ। বিশেষজ্ঞদের ধারণামতে, তারা দক্ষিণ আমেরিকার শেষ অবধি পৌঁছায় আজ থেকে প্রায় চার-পাঁচ হাজার বছর আগে। আর ১৪৯২-১৫০৩ খ্রিষ্টাব্দের…
-
ক্যারল অ্যান ডাফির কবিতা
তিতাশ চৌধুরী ক্যারল অ্যান ডাফি এক ভিন্ন মেজাজের কবি। তাঁর অধিকাংশ কবিতাই সহজ, কিন্তু হৃদয়ঙ্গম কঠিন। অনেক ক্ষেত্রে ই ই কামিংস অপেক্ষাও জটিল ও দুরূহ মনে হয়। আসলে তাঁর কবিতা উপলব্ধি কিংবা অনুভূতিজাত; ব্যাখ্যা করে বোঝানো যায় না। ডাফির কবিতার একটি আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি আছে, যা তাঁর সমসাময়িক কবি থেকে তাঁকে পৃথক করেছে। তিনি মূলত আলাদা…
-
সেই নারী : এই শিল্পী মাইকেল এঞ্জেলো
বাংলা রূপান্তর : সৈয়দ শামসুল হক তুমি যদি পাথরেই গড়া তবে আমার বিশ্বাস আমার এ-হৃদয়ের আর্তির ছোঁয়ায় তুমি প্রাণ পেয়ে যেতে, পড়তো নিঃশ্বাস, দৌড়ে তুমি এসে যেতে আমার দোলায়। যদি তুমি মৃত তবে ওই ঠোঁটে ভাষাও দিতাম। অথবা এমন যদি – জন্ম অপেক্ষায়! – তবে আমি স্বর্গ থেকে তোমাকে তো নামিয়ে নিতাম অশ্র“পাত করে করে…
-
বর্ষার হাইকু
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান কয়েকশ বছর ধরে জাপানের কবিরা হক্কু বা হাইকু কবিতা মক্স করে আসছে। মূলে এ পাঁচ-পংক্তির কবিতা টান্কা-র প্রথম অংশ ছিল। অনেক সময়ে দুজনে লিখতো, একজন তিন লাইন, অন্য দুজন অন্য দুই লাইন। কালক্রমে স্বয়ংসম্পূর্ণ রীতি হিসেবে হাইকুর বিকাশ ঘটে। হাইকুতে সতেরোটি সিলেবল থাকে, প্রথম ও তৃতীয় লাইনে পাঁচটি এবং দ্বিতীয় লাইনে সাতটি।…
-
জি মেন্ড উয়োর কবিতা
(উৎসর্গ : শিরিণ, কল্যাণীয়াসু) ভূমিকা ও অনুবাদ : তিতাশ চৌধুরী [‘আমি মঙ্গোলিয়ার যাযাবরদের সন্তান। আমরা অতি প্রত্যুষে বেরিয়ে পড়তাম। শৈশবে আমি একটি ডালিতে করে পণ্যবোঝাই উটের গাড়িতে চড়তাম। উটের মন্থরগতির থপ থপ করে চলার ছন্দের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সকালের সূর্যকে স্বাগত জানাতাম। সম্ভবত সে-কালেই আমার ভবিষ্যতের কবিতাগুলোর ছন্দ কেমন হবে – তা অনুভব করতাম।’ এই…
-
নাজিম হিক্মতের রুবাই
ভূমিকা ও অনুবাদ : কাজল বন্দ্যোপাধ্যায় [১৯৪৫-এর ডিসেম্বর মাসে নাজিম হিক্মত তাঁর স্ত্রীর কাছে লিখলেন, ‘প্রাচ্য কিংবা পাশ্চাত্যের সাহিত্যে কখনো যা করা হয়নি, আমি তা-ই করার চেষ্টা করতে যাচ্ছি – রুবাইয়াতের আঙ্গিকে দ্বান্দ্বিক বস্ত্তবাদকে হাজির করা।’ একটি সনাতন আঙ্গিককে নূতন বিষয়বস্ত্তর সঙ্গে মেলানোর শৈলীগত সমস্যা প্রথম থেকেই হিক্মতকে আকৃষ্ট করে রেখেছিল। সৎপুত্র মেমেত্ ফুয়াত্কে লেখা…
