অনুবাদ গল্প
-

ছিনতাই
অনুবাদ : মেহবুব আহমেদ মেয়েটি দেখছিল একটি ছেলে গানের সুরে শিস দিতে দিতে এগিয়ে আসছে। একসময় সামনে এসে ছেলেটি দাঁড়িয়ে গেল, বিনীত ভঙ্গিতে জানতে চাইল, পপি স্ট্রিট কোন দিকে। প্রশ্নটির উত্তর দিতে মেয়েটি একটু দেরি করছিল, কিন্তু এটুকু সময়ে মধ্যেই যে ছেলেটি ওর গলার হার ছিনিয়ে নিয়ে দৌড় দেবে সে তা ভাবতে পারেনি। চিন্তামগ্ন মেয়েটি…
-

ফুল বলে, ধন্য আমি …
অনুবাদ : ভার্গব বন্দ্যোপাধ্যায় ফার্ন হিল, দ্য ওকস্, হান্টারস্ লজ, দ্য পার্সোনেজ, দ্য পাইনস, ডাম্বারনি, ম্যাকিন্নন্স হল এবং উইন্ডারমেয়ার। ভারতের কোনো একটা পাহাড়ি শহরের চারপাশের অতিপ্রাচীন কয়েকটা বাড়ির নাম এগুলো। এগুলোর বেশির ভাগই ভেঙেচুরে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বাড়িগুলো অনেক পুরনো, একশ বছরেরও আগে তৈরি। সমতলের অসহ্য গরমের হাত থেকে রক্ষা পেতে ব্রিটিশরাই তৈরি করেছিল বাড়িগুলো।…
-

হারিয়ে যাওয়া রাস্তা
অনুবাদ : নাজনীন সুলতানা নীতি মার্ক জিরনডিন এতোদিন ধরে শহরের প্রকৌশল বিভাগের নথিপত্র শাখায় কাজ করছিলেন যে, এই শহরের প্রতিটি জায়গার অবস্থান, নাম, সড়ক বিভাজন থেকে শুরু করে সরু গলি, কানা গলি, সংকীর্ণ ঘুরতি পথের সবকিছু তার মন-মস্তিষ্কে একেবারে মানচিত্রের মতো আঁকা হয়ে গিয়েছিল। পুরো মন্ট্রিয়লে এতো জানাশোনার অধিকারী কেউ ছিল না; এমনকি একডজন পুলিশ…
-

খাঁচা
মূল : আবদুলরাজাক গুরনাহ অনুবাদ : এলহাম হোসেন হামিদের একসময় মনে হতো, এই দোকানই ওর ঘরবাড়ি আর ওর জীবনটা বোধহয় এখানেই শেষ হয়ে যাবে। একসময় ওর আর খারাপ লাগে না। গভীর রাতে বিড়বিড় করতে থাকা কথাও আর ওর কানে বাজে না। অথচ আগে এমন কথা শুনে ওর অন্তরাত্মা শুকিয়ে যেত। এখন ও জানে, ওরা মৌসুমি…
-

এমে
অনুবাদ : আনিসুজ জামান খুব দ্রুত মাতাল হয়ে গেছে। খুব কমই পান করত সে, তাই তার সহ্য করার সীমা যে কতটুকু সে-সম্পর্কে সঠিকভাবে জানা ছিল না। তার ফেটে পড়ার মতো চরিত্র ছিল এবং এমনভাবে দেখাত যেন তার প্রয়োজনের অধিক জীবনীশক্তি ছিল। তারপরও সে-রাতের মতো এত সুখী সে কখনোই ছিল না, এবং পরদিন যে তার ভীষণ…
-

পিয়ানো শিক্ষকের ছাত্র
অনুবাদ : মেহবুব আহমেদ শিক্ষক বললেন : ‘ব্রামস১? আমরা কি ব্রামস চেষ্টা করে দেখব?’ মিস নাইটিংগেলের কাছে এই প্রথম অনুশীলন ছেলেটির, কিছু বলল না ও, নীরব মেট্রোনোমের২ দিকে তাকিয়ে একটুখানি হাসল, যেন মৌনতাই ওর ভালো লাগছিল! তারপর পিয়ানোর চাবি স্পর্শ করে সুর তুলতেই মিস নাইটিংগেল বুঝলেন এ-বালক প্রতিভাবান। পাতলা গড়নের, শান্ত সৌন্দর্যে উদ্ভাসিত, মৃদুভাষী মিস…
-

উদ্যান-মিলন
অনুবাদ : সুমনা লতিফ সর্বোপরি আদর্শ আবহাওয়া বিরাজ করছিল। তারা যদি ফরমাশ না করত তাহলে উদ্যান-মিলনের এমন সুন্দর দিন তারা আর পেত না। আবহাওয়া ছিল বাতাসহীন, উষ্ণ এবং আকাশে এক টুকরো মেঘও ছিল না। গ্রীষ্মের প্রথমদিকে মাঝে মাঝে যেমন নীল আকাশ হালকা সোনালি রঙের আবছায়ায় আবৃত থাকে আকাশের অবস্থা ঠিক তেমনটিই দেখাচ্ছিল। মালি প্রত্যুষে উঠেছেন,…
-

ক্রিম
অনুবাদ : মিলটন রহমান আমার এক তরুণ বন্ধুকে অতীত জীবনে ঘটে যাওয়া একটি অদ্ভুত ঘটনা সম্পর্কে বলছিলাম। তখন আমার বয়েস ছিল আঠারো। ঠিক মনে করতে পারছি না কেন তাকে সে-ঘটনা বলতে শুরু করেছিলাম। কথা প্রসঙ্গেই ঘটনাটি উঠে এসেছিল। অনেক আগের সেই ঘটনা। বলা চলে প্রাচীন। যদিও ওই ঘটনার কোনো উপসংহারে আমি পৌঁছুতে পারিনি। ‘সবে মাত্র…
-

প্রত্যাবর্তন
দীর্ঘ পথ। সামনে পা ফেলতেই পেছনে বেয়াড়া ধুলো কুণ্ডলী পাকিয়ে উড়ছিল, কিছুক্ষণ পর আবার ধীরে ধীরে তা থিতিয়ে পড়ছিল। কিন্তু তারপরও ধোঁয়ার মতো একচিলতে ধুলো বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছিল। ধুলো এবং পায়ের নিচের পথের কথা মাথায় না এনে সে হেঁটে চলল। যদিও প্রতি পদক্ষেপে সে বন্ধুর পথের বৈরিতা হাড়ে-হাড়ে টের পাচ্ছিল। এমন নয় যে সে নিচের…
-

গৃহবাসী সন্ন্যাসিনী
অনুবাদ : মেহবুব আহমেদ তখন শেষ বিকেল, আলোয় দিনান্তের রূপ। বদলে গেছে উঠোনের গাছের ছায়া। দূরে কোথাও গরু ডাকছে, টুংটাং শব্দে বেজে উঠছে গলার ছোট্ট ঘণ্টা। মেঠোপথে ফসলবোঝাই খামারের গাড়ি হেলতে-দুলতে চলেছে। নীল শার্ট গায়ে শাবল কাঁধে শ্রমিকরা চলেছে ক্লান্ত, ভারী পায়ে। মৃদু বাতাসে মাছির ঝাঁক নেচে বেড়াচ্ছে কখনো বা মানুষের মুখের ওপর, কখনো নিচে।…
-

কৃষকের নাম মারে
ভাষান্তর : অংকুর সাহা অনুবাদকের কথা ২০২১ সালে মহান লেখক ফিওদর দস্তয়েভস্কির জন্মের দ্বিশতবার্ষিকী। তাঁর অন্তিম জীবনের একটি অপ্রচলিত ছোটগল্পের বাংলা অনুবাদের মাধ্যমে লেখকের প্রতি এই আমার শ্রদ্ধার্ঘ্য। গল্পটি আত্মজৈবনিক; এতে লেখকের সাইবেরিয়ার ওমস্ক কারাগারে বন্দিজীবনের বর্ণনা রয়েছে যেমন, তেমনি রয়েছে ফ্ল্যাশব্যাকে তাঁর অল্পবয়সে গ্রামে বাবার খামারবাড়িতে সময় কাটানোর স্মৃতি। কৃষক মারের ঘটনাটি ঘটেছিল খুব…
-

ডেজিরের শিশু
অনুবাদ : মেহবুব আহমেদ একটি সুন্দর দিনে মাদাম ভ্যালমন্ড ডেজিরে আর শিশুটিকে দেখতে লা’আব্রি গেলেন। ‘ডেজিরের শিশু’ – ভেবে হাসলেন তিনি। এই তো মাত্র সেদিন ডেজিরে নিজেই শিশুর চেয়ে সামান্য বড় ছিল। ভ্যালমন্ডের প্রধান দরোজা দিয়ে ঢুকছিলেন অশ্বারোহী মঁসিয়ে ভ্যালমন্ড, দেখলেন দরোজার প্রস্তর থামের ছায়ায় একটি বাচ্চা শুয়ে ঘুমিয়ে আছে। বাচ্চাটি তার কোলে জেগে উঠে…
