কবিতা
-
এসব গোপাল ঠাকুর
মাইকের নাগাল পেলেই খুব ভালো কথা বলে এই যে যখন-তখন যেখানে-সেখানে রকমারি সব লোক এ, ও, সে তারা কেমন আসলে, খুব ভালো লোক নাকি সব ছদ্মবেশী চেলা সব নষ্টভ্রষ্ট সব পিশাচের, শয়তানের প্রকাশ্যে ঘটছে তাদের মুহূর্তে মুহূর্তে রঙচঙে বিচিত্র উদ্ভব সুযোগটা নিচ্ছে তারা অসাবধানী শ্রোতাদের-দর্শকদের একটি দুটি এমন সহজ-সরল ছোটখাটো প্রশ্নে ক্ষতবিক্ষত মন নিয়ে কেবলি…
-
জঘন্য দেয়াল
তোমার যা আছে তোমারই থাক আমি তোমার উদ্বৃত্তটুকু চাই কপালের জোর আছে পেয়েছিও তাই আর কেউ পাক বা না পাকজরুরি এ কথাটুকু জানাতে চেয়েছি কতোদিন মনে মনে কতোকথা সাজিয়েছি সুরেলা রঙিন বলাতো হয়নি দেখি উত্তমর্ণে অধমর্ণে একি না পারার এতো উঁচু জঘন্য দেয়াল তুমিও কী এদিকটা করেছো খেয়াল।
-
তাই তো চলে চলছে বেশ
একটি দাগ একটি ফোঁটা একটি লাঠি একটি লোটা ব্যস্ আর কি! বলার কথা হয়েছে শেষ দুঃখ অযথা তুচ্ছতা বটে, কাহিনী বড়ো সন্ন্যাসী সেজে করেছে জড়ো কেউ না কেউ কথাটা জানা কাহিনী শোনা কাহিনী মানা তাই তো চলে চলছে বেশ লোটা লাঠিতে দেশটা শেষ ঈশ্বর ধরে মানুষ খায় সাধু সন্ন্যাসী থাকে গুহায়-
-
এই বেলা
তাড়া নেই কোথাও যাওয়ার, অপেক্ষায়ও ব’সে নেই কেউ – বিছানায় রোদের ধমক নির্বিকার পর্দা জানালার। সাদা-কালো ফটো ঝাপসা বড়ো – কালো চুল। বিস্মিত নয়নে শুধু ওড়ে শুভ্র কেশদাম। কাজ নেই, অবসরও নেই বইপত্র নাড়াচাড়া করি, সময়ের ধুলোর আলপনা মুছে রাখি, ফেরে না সময়। মন চায় যেতে যে আড্ডায় হায় নেই শরীরের সায়। চমকে উঠি রিকশায়…
-
নাটক সাহিত্য নয়!
মাউসট্রাপে মানুষ ধরা পড়বে না, তবে তা যখন নাটক তখন তা চলতেই পারে বছরের পর বছর, নানারকম ঝাল-মিষ্টি-টক বিতরণ করতে পারে বিগবেন ঘড়ি – শহরের হর্ষদর্শকদের! কিসে যে নাটক হয়, অথবা হবে না, অতীততাড়িত নিয়মের দৃশ্যসজ্জা দেখে, সংলাপ শুনে কেউ পারবে বলে দিতে! সবিনয়ে বলি- আজ তারিখ ১. ১০. ২০০১ স্ট্রাডফোর্ড-অন-অ্যাভনে শেক্সপিয়ারের জন্মবাড়ির বাগানে পাথরলজ্জিত…
-
বর্ণপরিচয়
কিছু লিপি নষ্ট হয়েছে, মানবজন্মে তো এ-রকমই হবার কথা! এই সুবিস্তৃত ইহলোক, রাধিকারমণ, হাত-বাড়ানো শিশু চরাচরব্যাপ্ত কথকতা সব কিছুর অনুলিপি হবে না! সমতল মানুষই আকাশ দ্যাখে, আকাশ তো মানুষকে দ্যাখে না, এখনো এ পৃথিবী মেঘে রৌদ্রে আকাশপুতুল, প্রতিটি দিবসই তার সদ্যোজাত ব্যথা! কিছু লিপি ভ্রষ্ট হয়েছে এ জন্মে তো এ-রকমই হবার কথা! যদি বলি হে…
-
তিন মাথার মোড়
১.ওয়াশিংটন দুরন্তকে বাগে এনেছ বিদ্রোহীকে আপোস কিন্তু তোমার হাত ফস্কে শোল পালালো সেটাই আপসোস আমার সেটাই আপসোস! ২. চমস্কি আপনি কারো চাকর নন আপনি কারো মাতব্বর নন ভিক্ষে দেননি, ভিক্ষে নেননি পৃথিবী জুড়ে তবু আপনার ভক্ত অগণন। গোলাপ খেয়ে গোলাপ বমি করে মরার কথা ছিল না যাদের তারাও গেছে মরে। ওরা যখন গায়ের জোরে, বোমার…
-
পুরাকালের কথা
একদিন ছিল- যখন ঘটনাটা ঘটেছিল সে কোন্ প্রাচীনকালে, পুরাযজ্ঞে, পবিত্র কোনো স্তোত্রের উচ্চারণে- হাতের উপর হাত পড়েছিল মায়াময়, অথচ নির্বিকার চোখের ভেতরে জমানো অশ্রু পাথর হয়ে গেল- ঝরল না- ইচ্ছেগুলো মেলাতে চেয়েছিলাম বৃষ্টির ফোঁটার মতো- মিলল না- বড় দ্রুত কেটে গেল সকাল দুপুর সন্ধ্যা আমার হাঁটুর উপর তোমার চোখের জল পড়েছিল, মুখমণ্ডল বড় কাতর ছিল…
-
সম্ভাবনা
আচ্ছা ভাবো আমি আজ উন্মাদ হয়ে গেলে কী পড়ে থাকবে আমার ভেতর? ব্যথাবোধ, খিদে, কাঙালপনা এইসব, যাকে সম্ভাবনাও বলা যায় আর ধরো, সেই উন্মাদ আমি সোজা ঠেলে উঠেছি তোমার বারান্দায়- দেখে যদিও বুঝতেই পারবে না আমি পাগল, হাতে শুধু কুষ্ঠরোগীর ঝুমঝুমি তুমি তাড়াতাড়ি দরজা বন্ধ করে জানালা দিয়ে ছুড়ে দিলে একটা টাকা অথচ, কী বলব,…
-
পর্ণমোচী
পুরনো সম্পর্কগুলি তাকে বলা হয়ে গেলে পরে সে আমাকে নিয়ে এল অন্য এক নতুন শহরে সেখানে প্রত্যেকটি মোড়ে সবুজ হলুদ পতাকায় ঝরে যাওয়া পুরুষের অঙ্গ ও প্রত্যঙ্গ শোভা পায় আমি তাকে প্রশ্ন করি : বলো আরও কী কী জানতে চাও! গোপন করিনি আমি গোপনীয়তম যন্ত্রণাও সে আমাকে হাসিমুখে বলে : দ্যাখো চিনতে পারো নাকি –…
-
উপদ্রব মেনে নিয়ে
চাটগাঁ থেকে আসছি ঢাকায়, চাটগাঁ স্টেশনে যারা আমার সঙ্গে ছিলেন তাদের অনেকেই আমাকে দেখলেন খুটে, খুটে। সেই শ্রাবণ সন্ধ্যায় তারা আমাকে উপদ্রব মেনে নিয়ে দ্রুতলয়ে নামলেন ট্রেন থেকে। সেই কামরার, কালো কোট পরিহিত একজন লোক প্রচণ্ড ধিক্কার দিয়ে বললেন নিজে, নিধনের খেলা চারিদিক তার মাঝে এভাবে যাত্রা নিরাপদ নয়, গত সন্ধ্যায় এই দ্রুতযানে দুইজন চলে…
-
সভ্যতা কার কতো
তোমার মহল তোমার দিকেই নত- কুর্নিশরত। তাতেই সে উন্নত? তারই সুখ্যাতি যতো? পিঁপড়েপ্রতিম যারা, ক্ষুদে আর ছেঁড়াখোড়া, তারা ঠিক মাপকাঠি, প্রবল-বেহুঁশ কল ছেড়ে দিয়ে বেসিনে ভাসাও অহেতুক শত-শত পিঁপড়েকে স্নিগ্ধ বিহানবেলা, তারা ঠিক মাপকাঠি সভ্যতা কার কতো বর্বরতার রূপ! তবে, তারও কি মিলবে পার? হেলাফেলা করে কারও কি মিলেছে ভেলা?
