শ্রদ্ধান্জলি
-
মুরশিদ : দিগন্তের সঙ্গে সমান্তরাল
ইমতিয়ার শামীম একাত্তর ছিল খান সারওয়ার মুরশিদের একান্ত বিশ্বাস, যে-‘বিশ্বাস একদিনে আসেনি : তা তৈরি হয়েছে ধীরে ধীরে ব্যক্তিক এবং সামষ্টিক অভিজ্ঞতার চাপে।’ জীবদ্দশায় একটি বই-ই প্রকাশ পেয়েছে তাঁর, কালের কথা নামের সে-বইয়ের সূচনা লেখাটি তিনি শুরু করেছেন সে-বিশ্বাসকে ব্যক্ত করার মধ্যে দিয়ে। যে-ব্যক্তিত্ব মুরশিদের মধ্যে দিয়ে মূর্ত হয়েছে তা মূলত একাত্তর নামক বিশ্বাসের ব্যক্তিত্ব;…
-
রবিশঙ্কর (১৯২০-২০১২)
রবিশঙ্কর (১৯২০-২০১২) গোলাম মুস্তাফা মাত্র দুদিন আগে খবর প্রকাশিত হয়েছিল যে, ২০১৩ সালের গ্রামি পুরস্কারের জন্য রবিশঙ্কর ও তাঁর কন্যা আনুশকা মনোনীতদের তালিকায় আছেন। কে পাবেন এই পুরস্কার? রবিশঙ্কর বললেন, ‘আনুশকারই পাওয়া উচিত’; আর আনুশকার মতে ‘বাবাই পাবেন, এই পুরস্কার।’ পুরস্কারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার আগেই এলো দুঃসংবাদ – পণ্ডিত রবিশঙ্কর আর নেই। ১২ ডিসেম্বর বিরানব্বই…
-
সোহরাব হোসেন
খায়রুল আনাম শাকিল ‘তোমার গানের মধ্যে বেণুর গানের প্রভাব আছে বোঝা যায়। এটা স্বাভাবিক আমরাও জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে কাউকে না কাউকে অনুকরণ এবং অনুসরণ করেছি। তুমি একটা কথা মনে রাখবে। তুমি ধীরে ধীরে নিজের মতন করে নিজের গায়কী দিয়ে গাইবার চেষ্টা করবে। তোমার কণ্ঠ ভালো তবে সেটাই যথেষ্ট নয়। চর্চা করবে আর নিজস্ব…
-
শেষ নমস্কার সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
রাজু আলীম ভালোবাসা, প্রেমের যেমন কোনো জাত হয় না, লেখকেরও কোনো জাত নেই। নেই কোনো দেশ। একজন লেখক, শিল্পী, সৃজনশীল মানুষ বিশ্বব্যাপী বিরাজমান। সে-কারণেই শেক্সপিয়র আমাদের, অ্যারিস্টটল, অ্যালবার্ট আইনস্টাইন, প্লেটো, ও’ হেনরি, জ্যঁ পল সার্ত্রে, মার্কেস, হেমিংওয়ে কিংবা ভ্যান গঘ, পিকাসো – এঁরা সবাই আমাদের। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জীবনানন্দ দাশ, শরৎচন্দ্র কিংবা শামসুর রাহমান, আল মাহমুদ,…
-
সুনীলের জন্যে শোক
আহমেদ মাওলা বাংলা সাহিত্যের সুনীল আকাশ, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় (১৯৩৪-২০১২) আর নেই। চলে গেছেন না-ফেরার দেশে। কিন্তু তিনি ছিলেন এবং আছেন কোটি পাঠকের হৃদয়জুড়ে। শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় থাকবেন চিরকাল আত্মার আত্মীয় হয়ে। আমাদের এই মল্লযুগে রবীন্দ্রনাথ বেঁচে ছিলেন না, আমরা রবীন্দ্রনাথকে দেখিনি। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ছিলেন আমাদের যুগের রবীন্দ্রনাথ। রবীন্দ্রনাথ যেমন ছিলেন বহুমাত্রিক, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ছিলেন বহুলপ্রজ।…
-
যেমন দেখেছি
বীথি চট্টোপাধ্যায় এই লেখা লেখবার আগে কিছুক্ষণ বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলাম। মাঝরাত। সুনীলদা চাঁদ আর চাঁদের আলোকে পাগলের মতো ভালোবাসতেন। বলতেন, ‘মানুষ একদিন চাঁদেও হয়তো বেড়াতে যাবে, সেদিন আমি থাকবো না।’ সুনীলদা হয়তো এখন পৃথিবীতে নেই। কোথাও কি আছেন? গোটা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে কোনো অণু-পরমাণু বা কণামাত্র হয়ে আছে তো? আমি যে বিশ্বসংসারে ঘুরছি-ফিরছি সেখানকার কোনো রূপে-অরূপে যেভাবেই…
-
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় : নির্ধারিত দূরত্ব থেকে
প্রবালকুমার বসু ভাবছিলাম দশ পনেরো বা কুড়ি বছর পরে, যখন আমরা এই সময় থেকে আরো একটু দূরত্বে পৌঁছে যাব, ঘাড় ঘুরিয়ে পিছনে তাকাতে পারব আরো একটু নিস্পৃহভাবে, কীভাবে দেখব সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে? শুধুই একজন লেখক যিনি পাতার পর পাতা অক্লান্ত গদ্য-গল্প-উপন্যাস লিখে গেছেন অথবা একজন কবি যিনি বাংলা কবিতায় এনেছিলেন প্রথম আন্তর্জাতিক ভাষা? অথবা একজন সর্বাঙ্গীণ…
-
সুনীলদার সঙ্গে ’৮৯ সালের এক রাতে
ইমদাদুল হক মিলন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বললেন, ইন্টারভিউ করতে হবে কেন। বানিয়ে লিখে দাও না। তুমি তো আমার সম্পর্কে সবই জানো। বেশ খানিক আগে রাত এগারোটা পেরিয়ে গেছে। আমরা বসে আছি সৈয়দ আল ফারুকের ড্রয়িংরুমে। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, তাঁর পাশে আমি। অন্য পাশে রফিক আজাদ। আমাদের মুখোমুখি পীযূষ ও রেবু আপা। এক পাশে স্বাতী গঙ্গোপাধ্যায়। সুনীলদা-স্বাতীদির সঙ্গে…
-
আমি অর্জুন… আমি মরবো না
ভীষ্মদেব চৌধুরী অর্জুনের প্রথম মৃত্যু তারই পুত্রের হাতে; বভ্রুবাহন সেই পিতৃ-হন্তারক, যে বিমাতা উলুপীর পরামর্শে যুদ্ধে আহ্বান করেছিল পিতাকে। মণিপুর রাজকন্যা চিত্রাঙ্গদার গর্ভজাত ওই পুত্রের হাতে নিহত হলেও অর্জুন তার অপর স্ত্রী নাগকন্যা উলুপীরই দেওয়া সঞ্জীবন মণির শুশ্রƒষায় লাভ করেছিলেন পুনর্জীবন। মিথিক ইতিহাসের এক নির্মম পরিহাস এই যে, লক্ষ্যভেদী সব্যসাচী ও যুগনায়ক যিনি, আত্মজ কিংবা…
-
যেমন দেখেছি
কানাই কুণ্ডু এখন কবিতা লিখি। আমি, সমরেন্দ্র, তারাপদ, শংকর, আবুল কাশেম, দুর্গাদাস প্রমুখ। আড্ডা ছিল শুদ্ধসত্ব বসুর একক পত্রিকা দপ্তরে। মাঝে মাঝে প্রেমেনদা, গোপাল ভৌমিক আসতেন। কবি-সম্মেলন হতো তারাপদর সেন্ট্রাল ক্যালকাটা কলেজে। অথবা সমরেন্দ্রর চারুচন্দ্রে। কিংবা আমার আয়োজনে সুরেন্দ্রনাথের ক্যান্টিনে। এমনই এক কবি-সম্মেলনে এসেছিলেন সুনীল। সেটাই প্রথম আলাপ। এবং কফি হাউসের আড্ডায় আমন্ত্রণ। তখন কৃত্তিবাস…
-
হে অনাদি অসীম সুনীল অকূল সিন্ধু
বেলাল চৌধুরী পূর্ববঙ্গের মানুষ হয়েও আমি কিন্তু প্রথম কলকাতায় নেমেছিলাম হাওড়া স্টেশন দিয়ে। সে একেবারে বাল্যবয়সের কথা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ তখন তুঙ্গে। আমার এক জামাইবাবু সরকারি চাকরিসূত্রে পোস্টিং পেলেন সিভিল সাপ্লাইতে। যদিও তিনি ছিলেন জুডিশিয়ারি সার্ভিসের লোক। অফিস মানকুণ্ডুতে হলেও থাকতেন তিনি চন্দননগরে। একেবারে স্ট্র্যান্ডের কাছাকাছি। নৈহাটি হয়ে গিয়েছিলাম চন্দননগর। চন্দননগর তখনো ফরাসি উপনিবেশ। ডুপলে কনভেন্টে…
