অনুবাদ গল্প

  • মাটির গিলে ফেলা একদল সৈন্য

    মূল : এবাল্ড মুরার অনুবাদ : কামাল রাহমান একটা মৃত্যুকূপের সমান ছোট কোনো জায়গায় শুয়ে থাকা একেবারে অসহনীয় হয়ে ওঠে। যদিও-বা এমন হতো যে, আমি একাই রয়েছি ওখানে, সীমিত পরিসরের ওই বাতাসটুকুর ভেতর, তাহলে আরো বেশি কিছু সময় টিকে থাকার আশা অন্তত রাখা যেত। ওখানে ছিলাম আমরা পাঁচজন এবং দরোজাটা, চৌকো একটা বোর্ডের টুকরোকে যদি…

  • ঘরে ফেরা

    মিলি জাফতা অনুবাদ : মেহবুব আহমেদ   বাস থামতেই যাত্রীরা সব হুড়মুড়িয়ে নেমে পড়ল। সেদিন শুক্রবার, সপ্তাহের শেষ, মাসের শেষ, বছরেরও শেষ, আর উইন্ডহিক থেকে উত্তরের এই অফুরন্ত পথে কি গরম! এবার আমি আগের মতো তাড়াহুড়ো করলাম না, বাস খালি না হওয়া পর্যন্ত বসেই রইলাম। তারপর মালপত্র গুছিয়ে নিয়ে দরজার দিকে এগোলাম। জানালা দিয়ে চোখে…

  • জাতীয় পক্ষপাত ফাতু দিয়ম

     অনুবাদ : মেহবুব আহমেদ মিস্টার বডার্সকে ধন্যবাদ – একেবারে নিঃশব্দে বদলে গেছে আইন : একজন ফরাসি নাগরিককে বিয়ে করে দুবছর টিকে থাকতে পারলে পাওয়া যাবে পুরনো পরিচয় মুছে ফেলার কাগজ এবং সঙ্গে ফ্রান্সের সৌরভ। আর আফ্রিকীয় মেয়েদের ক্ষেত্রে প্রজনন ক্ষমতা নাগরিকতা অর্জনে বাড়তি সুযোগ করে দিতে পারে, অবশ্য জাতীয় পক্ষপাতের কথা ফরাসি ভ্রূণের কিছুই জানা…

  • গৃহবধূ

    ইসমত চুঘতাই অনুবাদ : আন্দালিব রাশদী যেদিন মির্যার নতুন কাজের মেয়েটি ধীরগতিতে তার বাড়িতে ঢুকল, প্রতিবেশীদের মধ্যে সাড়া পড়ে গেল। যে-সুইপার বরাবর কাজ ফাঁকি দিতে অভ্যস্ত, সে রয়ে গেল এবং গায়ের শক্তি খাটিয়ে ঘষে-ঘষে মেঝেটা পরিষ্কার করল। যে-গোয়ালা দুধে ভেজাল দেওয়ার জন্য কুখ্যাত, সেও নিয়ে এলো মাখন-ভাসা দুধ। কে তার নাম দিয়েছে লাজো – লাজুক…

  • দুটি গল্প

    মূল : এলিজাবেথ গুন্টার অনুবাদ : পঙ্কজ চট্টোপাধ্যায় জন্ম সরযূ দেয়ালের ধারে পড়ে থাকা ছোট্ট শরীরটা কদিন আগেই লক্ষ করেছিল; কিন্তু বিশেষ আমল দেয়নি। যদিও এ-অবস্থায় তার পক্ষে কেনাকাটা করা ক্রমশ কষ্টকর হয়ে পড়ছিল, তবু সে প্রতিবেশীদের বন্ধুত্বপূর্ণ সাহায্যের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। মা-বাবার মৃত্যুশোক তার মনে এখনো ভীষণ তাজা হয়ে আছে। সে-কারণেই ওঁদের ফ্ল্যাটবাড়িতে থাকা…

  • জায়গিরদার ও তার কুকুর পান্নালাল প্যাটেল

    অনুবাদ : আন্দালিব রাশদী ইংল্যান্ড থেকে ফেরার পর জায়গিরদার এই প্রথম আমাদের গ্রামে আসছেন। সবাই তার আগমনের প্রতীক্ষায়। গায়ের তালাতি (হিসাবরক্ষক) সপ্তাহ ধরে দুধের ভাণ্ড ঠিক রাখছে। কে জানে, কখন বাপুজির অভ্যুদয় ঘটবে। চারপেয়ে চৌকি এবং কাঁথা স্তূপ করা হয়েছে। মুখির (গ্রামের মাতবর) ওপর হুকুম জারি হয়েছে এসময় তার গ্রাম ছেড়ে যাওয়া চলবে না। মুচি,…

  • ডুরারের এচিংয়ে এক সারমেয়

    অনুবাদ : জি এইচ হাবীব এতো আমাদের সবারই জানা যে, নাইট যুদ্ধ-প্রত্যাগত, সাত বছরের যুদ্ধ, তিরিশ বছরের যুদ্ধ, গোলাপের যুদ্ধ, তিন হেনরির যুদ্ধ, কোনো রাজবংশীয় বা ধর্মযুদ্ধ, অথবা কোনো মহতী যুদ্ধ, হতে পারে তা ফিলিস্তিনে, নেদারল্যান্ডে, বোহেমিয়ায়, হোক না যে-কোনো জায়গায়, সব যুদ্ধই তো একটি যুদ্ধেরই ভগ্নাংশমাত্র, সব যুদ্ধ মিলেই তৈরি হয় নামহীন যুদ্ধ, স্রেফ…

  • শোক

    অনুবাদ : সুব্রত বড়ুয়া মায়ের মৃত্যুর ব্যাপারটা খুব আবছাভাবে মনে পড়ে ওর। প্রথমেই মনে আসে তার বার্টা খালার চেহারাটা। কাটা-কাটা কথাগুলো বলতে বলতে তিনি তাঁর শোকের পোশাকটি বাছাই করেছিলেন আর তাঁর নিরুত্তাপ ঠান্ডা চাহনিটা সবখানেই চোখে পড়ছিল। মা-র মৃত্যুর আগে বার্টা খালার কথাটা বেবীর কখনো মনেও আসেনি : একেবারে ক্ষীণকায় এক মহিলা, কথা বলতেন খুবই…

  • খাঁচারটিয়া

    অনুবাদ : জাফর আলম [ভারতে ইংরেজি উপন্যাসরচনার পথিকৃৎ মুল্ক রাজ আনন্দ্ ৯৯ বছর বয়সে মুম্বাইতে মৃত্যুবরণ করলেন গত ২৮ সেপ্টেম্বরে। তাঁর জন্ম হয় ১৯০৫ সালে, পেশোয়ারে। শিক্ষাজীবন অতিবাহিত হয় পাঞ্জাব, কেমব্রিজ ও লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিছুকাল জেনেভার লিগ অফ নেশনস ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনার পর তিনি নানাধরনের কাজ করেন ভারতে ও ইংল্যান্ডে। ১৯৪৬ সালে স্থায়ীভাবে দেশে ফিরে এসে…

  • চামড়া

    চামড়া

    অনুবাদ : সালেহা চৌধুরী ১৯৪৬ সালে দীর্ঘদিন শীত ছিল। এপ্রিল মাসে বড় রাস্তায় হিম ঝড়ো বাতাস বয়ে গেল। বাতাস বইলো প্রবল ও কঠিন গতিতে। বরফের মেঘ মাথার উপর। ইতস্তত বিক্ষিপ্ত। ড্রিওলি নামের একজন মানুষ আস্তে আস্তে রুডি বিভলির রাস্তা ধরে এগিয়ে আসছে। করুণ শীতার্ত  অস্তিত্ব¡। শজারুর মতো লাগছে তার লম্বা কোট। কলার তোলা কোটের ফাঁকে…

  • মাতৃত্বের স্বজ্ঞা

    মাতৃত্বের স্বজ্ঞা

    অনুবাদ : পরাগ চৌধুরী আমার ধারণা লোরা বোধহয় বিশ্বরেকর্ডধারী। লোরার কাচ্চা-বাচ্চা মোট আটজন। এতে অবাক হবার কী আছে? এই আটটা বাচ্চার বাবা সাতজন। বুঝুন এবার! লোরার কাছেই আমার বায়োলজির প্রথম পাঠ। সে থাকত আমাদের পাশের বাসায়। আর আমি তাকে খুব গভীরভাবে লক্ষ করতাম। আমি দেখতাম মাসের পর মাস তার ভুঁড়িটা কেবল ঠেলে উঁচু হয়ে উঠছে।…

  • উদ্যান লণ্ঠন

    উদ্যান লণ্ঠন

    অনুবাদ : শাহীন কবির আমি যত বেশি বলি তত লোকজন আমাকে কম বিশ্বাস করে। যত লোকের সাথে আমার দেখা হয় তারা প্রত্যেকেই আমাকে দেখে কেমন সতর্ক হয়ে যায়। আমি যখন কারো বাসায় বেড়াতে যাই, শুধুমাত্র আরেকটি কোনো মানুষের মুখ দেখার জন্য, আমাকে দেখে ওদের চোখেমুখে ফুটে ওঠে, ‘কী, কেন এসেছ’ এমন একটা ভাব। এসব কথা…