কবিতা

  • জীবন থেকে সুসময় চলে যায় বারবার

    ইকবাল আজিজ   আমার জীবন থেকে সুসময় চলে যায় বারবার সরল রোদেলা দিন নিমিষেই দুর্যোগের ঘনঘটা আকাশে বিজলি চমকায় – ঝলসায় উত্তর দক্ষিণ পূর্ব পশ্চিম; চারপাশে দাউদাউ অগ্নিশিখা। জীবনের সুসময় চলে যায় – চলে যায় দূরে আলোকিত উজ্জ্বলতা থেকে স্যাঁতসেঁতে অাঁধার অচিনপুরে; জীবনের সুসময় চলে যায় – চলে যায় দূরে।   সুসময়ে নদীজুড়ে জোয়ারের জল…

  • অমৃতের শিস

    দিলওয়ার ভূমিকা ও সংগ্রহ : শ্যামল চন্দ্র নাথ [গত ১০ অক্টোবর কবি দিলওয়ার মারা যান। তিনি গণমানুষের কবি হিসেবে খ্যাত ছিলেন। তাঁর সঙ্গে আমার যোগাযোগ ও হৃদ্যতা গত আট মাসের। এর ভেতর তিনি আমাকে পরম আপন করে নেন, যা ছিল সত্যি বিস্ময়ের। কবি দিলওয়ারের কবিতার সঙ্গে আমার পরিচয় বেশিদিনের নয়। কিন্তু তাঁর কবিতার ভাষা এবং বলার…

  • স্মৃতি ও কল্পনা

    আহমদ আজিজ একদিন এই দেহেমনে কতটুকু প্রেম ছিল, সম্পর্কের ভিতর কতটা আত্মজ্ঞান ছিল, কতটুকুই-বা ছিল আত্মার ক্রন্দনধ্বনি – সেইসব ভাবনাসমূহ আজ ভাঁজ করে পাশে রাখি পুরনো বস্ত্রের মতো; এখনো কালের বিস্তার আছে, কঠোর সাধনা আছে, আছে শ্রম, নব-নব আবিষ্কার; সেই হেতু আত্মক্রীড় ভাবনাসমূহ একদিন ভাবা যাবে ডুবে-আসা সূর্যপাড়ে বসে। আজ খোলা চোখ মেলে দেখি ক্ষুধাতুর…

  • মৃত্যুর আগে

    শ্যামল চন্দ্র নাথ বোবা সন্ধ্যায় আমি ফিরে যেতে চাই, মরে যাব তাই – নিজের বাড়ি ফিরে যাব ভাবতেই কেমন লাগে! কত যুবক-যুবতীর ভিড়ে ব্যর্থ দিনের শেষ প্রহরে দেখেছি প্রেমের বিক্ষিপ্ত উপহার! আর কি চাই? অন্ধকার গলির ভিতর হেঁটে যাওয়া স্মৃতির ব্যঙ্গ সান্ত্বনা নাকি তীব্র যন্ত্রণা; ওই বেদনার চোখে বিজয়ের হার দেয়নি কেউ তুলে; তবু আমার…

  • অনেকদিন পাইনি

    সিজন নাহিয়ান অনেকদিন পাইনি সেই ঘ্রাণ – অমরত্ব কিংবা অম্লান হয়ে যাওয়া একাকিত্বে; শুভেচ্ছা দূতের সঞ্চারিত হৃদস্পন্দনে; অন্তর্দ্বন্দ্বে বুকের সবটুকু ভালোবাসাতে…   অনেকদিন পাইনি সেই ঘ্রাণ – মিলনের এক একটি দিনের মৃত্যুর পর; ব্যর্থ প্রচেষ্টার অনুভবের টানে; হাতড়ে বেড়ানো প্রশ্নে – ‘কোথায় আমি। কোথায় আমার হারিয়ে যাওয়া বিকেল?

  • কবিতা ২০১৩

    আসাদ চৌধুরী এক তুমি তো চুম্বক নও আমিও যে মরচে-পড়া লোহা।   দুই আমার দিগন্ত শেষ অব্দি ঘরের দেওয়াল?   তিন বিকলাঙ্গ দীর্ঘশ্বাসগুলো জন্ম নিতে থাকে, মারা যায়। তবু মাতাল বাতাস মিছিমিছি কড়া নাড়ে কেন?

  • সৃষ্টির আনন্দে

    চঞ্চল শাহরিয়ার সৃষ্টির আনন্দে মেতে থাকি পুরোবৃষ্টির বিকেল গরম কফির কাপে ধোঁয়া ওড়ে কবিতার মতো। জীবনের দুর্বল মুহূর্তগুলোর ছুটি দিয়ে দিই অনুগতচিত্তে রংধনু আনে দুরন্ত প্রহর।   ভাঙনের পর নতুন জীবন আর দেখি নাই কতোকাল হলো সফলতা থেকে ছিটকে পড়েছি। সাধারণে মিশে আরো সাধারণ হয়ে গেছি কবে চাঁদের আলোর মতো স্নিগ্ধ দিন ভুলে গেছে তিথি।…

  • সব সন্ধ্যাই রাতের তলপেট নয়

    দ্রাবিড় সৈকত   এই বাতিকের কোনো উত্তর নেই রূপচাঁদা সময়ের পেট থেকে পিছলানো জমাট হীরক যাকে তুমি জেলি ভেবে দাঁত এবং চিবুক বসাও বিষুবরেখার প্ররোচনায় জানোই তো, পরিপাকে বেঁচে থাকে মাছের নিয়ম এই পরিপাক ধরে তোমার চলার পথে যারা হয়েছে উড়াল সড়ক তাদের ডানায় বসে আছে ঠিকাদার ঠিকুজি ঘুরিয়ে দেখার অবসরে তিনি অংক করেন তোমাদের…

  • দুটি কবিতা

    জাহিদ হায়দার ঘুমের কোনো ভবিষ্যৎ নেই কিছু নেই, ঘুমের উজ্জ্বল বর্তমানে জেগে আছ তুমি; জাগরণে তোমার ভেতর কবেকার এক স্বপ্নভোর পাখির ডানায় উড়ছে। ঘুমাবার জন্যে ফিরছো বাসায়। একটি চেনা মাধবীলতা শীতের বাতাসে অন্য কার্নিশে দুলছে, তুমি তার সঙ্গ খুঁজে রৌদ্রতে চঞ্চল, বৃষ্টিতে ছিলে অধিক নীল; মনে করা যাক, আকাশের সাবলীল থেকে ফিরে পাখিটার ঘুম পাচ্ছে।…

  • ঈর্ষা

    চাণক্য বাড়ৈ আমার প্রেমিকা, তবু রোজ সে ঘুমোতে যায় রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে, আমি ভাবি পরের জনমে তবে জমিদারই হবো। বনবাসে ধ্যানে যাই, তাতেও জন্মে না বিশ্বাস ধুলো পরিমাণ ‘জন্মান্তরবাদে’। সামান্য বালির কণা, তার কাছে হিমালয় খুব ক্ষুদ্র মনে হয়। উদয়াস্ত সমর্পিত রবীন্দ্রনাথে। তানপুরা কোলে নিলে পৃথিবীতে পাই না তাকে আর। ভাবি, পরের জনমে তবে অর্ফিয়াসই হবো। তবু…

  • শ্রাবণের পদাবলি

    কামরুল ইসলাম কখনো মনও ডুবে যায় শ্রাবণের সামন্ত জলে তখন তালগাছের মাথা বেয়ে নেমে আসে সন্ধ্যা নির্জন অাঁধারে ডুবে যায় পাঠশালা আর কাঁঠালপাতারা রাতভর পড়তে থাকে জলের নামতা এ-সময়ে কোনো সোনাব্যাঙের জলকেলির দিকে মুখস্থ ফুলেরা ফুটতেই পারে –   দুই জানালায় ঝুলে থাকা দুঃখগুলো লতিয়ে ওঠে মেঘের জাংলায় ভোরের অদূরে শববাহী মানুষেরা যেন সব কুয়াশা-পথিক…

  • প্রেমিক ও পতঙ্গ

    আহমেদ বাসার                                                               পোড়ার আগে পতঙ্গ শুধু আগুনের রূপই দেখে ফণা-তোলা লেলিহান অগ্নির নৃত্য-মুগ্ধ পতঙ্গ বহুদূর থেকে ছুটে আসে প্রাণপণ আত্মাহুতির আনন্দ যতক্ষণ না ভস্ম…