কবিতা

  • কোনো এক হেমন্তের দিনে

    সুহিতা সুলতানা কোনো এক হেমন্তের দিনে তোমার বিবেক মানে শারদ প্রভাতে আমার কাছে না থাকা? তোমার বিবেক মানে চুপিচুপি অন্য আরেকটি পরকীয়া করা? এই তো তোমার বিবেক আর অনুভূতির রং? দ্যাখো ঘন কাশফুলে ছেয়ে গ্যাছে বন রেলগাড়ি চলে ঝমঝম, হৃদয় ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায় নদীর ধারের কাশবন শরতের এমন দিনে মরে গ্যাছে স্মৃতির আহ্লাদ তোমার অভিবাসী…

  • জলের জাদুঘর

    রবীন্দ্র গোপ   রাত গভীর থমথমে কবিতার ঈশ্বর বসেন ধ্যানের প্রতিমা খুলে দেয় ত্রিকোণ জলের জাদুঘর বহু ঐশ্বর্যের গর্বিত মানবেরা কেটেছে সাঁতার রাত্রিভর ডুবেছে ভেসেছে, আবার কূলহারা নিমজ্জিত। বসন্তে কেউ বেসেছে ভালো মুছে শীতে কালো সাজিয়েছে জীবননদীর ঢেউয়ের ফুলে ফুলে  থইথই জল ছলছল স্পর্শের আনন্দে উত্তাল তার ঘাম মিশেছে ওর ঘামে তারপর শান্তি, জলের শরীর।…

  • প্রার্থনা

    শিহাব সরকার করি নিগূঢ় প্রার্থনা: ফেটো ওগো পাতালের ফুল দল মেলো অদৃশ্য নারী ও পরীরা বাগানে ফুটে গেছে সব কলি, বাগানের মৌমাছি সব মত্ত-মাতাল আমি বাঞ্ছা করি নিশ্চেতন নিদ্রা ওই ঘুমে স্বপ্নেরা জঞ্জাল, স্বপ্নে শুধু ভূত আসে। আশ্বিনের হঠাৎ বৃষ্টিতে ভিজে একাকার শহরের প্রিয় রাস্তায় রিকশা নেই মধ্যরাতে গলির মুখে অন্ধকারে-মেশা কালো গাড়ি মৃত্যুর শৃঙ্গার…

  • দুটি কবিতা

    সাযযাদ কাদির তবু মণিমালা জানে সে আমার মণিমালা। তবুও মণিমালা যেন মণিমালা নয় – এইভাবে মণিমালা থাকে মণিমালা হয়ে। অবশেষে – সব শেষে তবু আমি চিনেছি তাকে – জেনেছি তাকে আমার মণিমালা। তবু সে দেখে না আমাকে – দেখে না আমার কিছু, বলে না কোনো কথা। তাহলে কাকে দেখে মণিমালা? কাকে বলে কথা? এত কথা?…

  • দুটি প্রেমের কবিতা

    কাইয়ুম চৌধুরী এক  অবেলায় তুমি এলে যখন জানালে আমার চেতনায় তখনো সূর্যের আভা। নদীজলে ঝিকিমিকি স্নান পাখিদের ঘরে ফেরা সোনালি আলোতে তখনো বাতাসে ইমনের তান করুণা জাগায় হৃদয়তন্ত্রীতে। তবু কেন বেলা-অবেলায় সোনালি সবুজ বিছিয়ে দিয়েছ তোমার গ্রীবায় – তুমি তো দ্যাখোনি বিপুল সবুজ চেনা আঙিনায়। তুমি তো জানো না তার পরিমাপ সবুজেই হারাবে তোমার সহস্র…

  • যেসব ভোরের জন্য

    দুলাল সরকার যেসব ভোরের জন্য প্রকৃতির সম্মিলিত প্রয়াস যে সমন্বিত প্রস্ত্ততি – বাতাস ও আকাশের স্বাগতিক উচ্চারণে কচি আমন চারার দুহাত তুলে নাচের মুদ্রা, বহমান নদীর পাড়ে পাড়ে বোহেমিয়া পাখিদের নীল ব্যবহার ঘরোয়া আলাপ সেরে বয়ে চলা নদীর সংলাপ; শাপলা ফোটা প্রসারিত জলাশয়ে পাটভাঙা নীলিমার লালাভ অাঁচল ছুঁইয়ে এক মহিমান্বিত উদয়ের পালা, এক হিরণ্ময় স্তব্ধতার…

  • ছয়টি কবিতা

    টোকন ঠাকুর ঘামসূত্র কামসূত্র লিখেছে কে? জানি না। চিনি না তাকে পড়তে পড়তেই করি পর্যটন, ঘুরিফিরি, নানানাসনের বাঁকে এরই মধ্যে আমি ঘেমে উঠি, দৃশ্যত আমি ঘেমে যাই চলন্ত ট্রেনের বগি থেকে লাফ দিয়ে প্লাটফর্মে নেমে যাই …কেবলই ফুটতে থাকে ঘাম, শরীর ঝরিয়ে ঝরে ঘাম… ঘামের আগুন, মিহি নুন – এই বাক্যের অন্তর্মিলে থাকবে কাম কামসূত্র…

  • আপেল শাখা

    ঝর্না রহমান উঠে এসো তবে চিতাভস্মের ভেতর থেকে তরতর করে বেড়ে ওঠো তুমি সোনালি আপেল গাছ আফ্রোদিতিরা মরে গেছে কবে – ভূত হয়ে নাচে প্রেমিক যুবক একা অলিম্পাসের কুটিল চূড়ায় খেয়োখেয়ি করে লেজুড়ে দেবতা  পরমাত্মার পোশাক পরেছে জীবাত্মাদের স্বর্গশোভন সং নেমে এসো তুমি সোনালি আপেল লুকোনো শাখাটি যেখানে এখনো তাজা মেয়েদের বুকে আপেল ফলে না…

  • আজ ভোরে রবীন্দ্রনাথ

    খোরশেদ বাহার   সেদিন প্রিয় বন্ধুর ই-মেইল পেলাম, তাতে লেখা ছিল স্থান জোড়াসাঁকো, ২৫শে বৈশাখ, ১৪১৭ বঙ্গাব্দ। এই এখানে সেই সেখানে করতে করতে অবশেষে ঠাকুরবাড়ির উঠোনে পা রাখা গেল বাইরে ছোটখাটো অনুষ্ঠান আয়োজনের তোড়জোড় দেখা গেল। কিছু দূরে ফটিকের বন্ধুরা ছোট্ট একটি বল নিয়ে ইচ্ছেমতো পেটাচ্ছিল, আর ছে-ছে বলে চেঁচাচ্ছিল। দেয়ালের গায়ে পাথরে খোদাই করে…

  • আমার শহর

    (কবি, শহীদ কাদরীকে) শামস আল মমীন   এ শহর কোনোদিন আখক্ষেত দেখে নাই আখক্ষেতও দেখে নাই শহরের লোক; এ শহর লোহার সিন্দুকে লুকানো স্বর্ণমুদ্রার মতো                                     ঈর্ষার শহর।   স্বর্ণ থালা হাতে,                  রৌপ্যকৌটা কাঁধে বোষ্টমি ও সন্ন্যাসী বাড়ি বাড়ি কড়া নাড়ে; এ শহর নদী ও নক্ষত্রের মতো ছন্দময়, ভীষণ স্পর্শকাতর তবু স্কুলে স্কুলে…

  • প্রতি, রক্তজবা

    আসমা বীথি   রক্তজবা, তোমাকেই কেন বলি এত কথা ঘুমের ভেতর অনিঃশেষ কাঙ্ক্ষার ঝড় সেইসব বিরল বিষণ্ণতা, গুড়ি পিঁপড়ার বিছানা সীমানার কাছাকাছি গ্রাম দূর থেকে দেখা ছোট ছোট ঘর ছোট ছোট শ্বাস হয়ে যেন আজ নিঃশ্বাসে ছড়িয়ে পড়ে বিলুপ্ত হাওয়া রক্তজবা তোমাকেই বলি শুধু আমাদের কেউ নেই তাতে বিস্ময়ের কী, তবু ক্লান্তি ও কাতরতার অধিক…

  • পূর্ণতার দিকে

    আনন্দ ঘোষ হাজরা   তিমিরাভিষেক থেকে আলোকযাত্রায় যেতে যেতে আমরা কেবল ভাসি শূন্যতার অসীম সাগরে অথচ চতুর্দিকে শুধু দেখি পূর্ণতা-পরিধি ক্রমশই বড় হয়, বড় হতে থাকে। তাহলে যা দেখি শুধু ভ্রম নাকি আমাদেরই খেলা আমরা খেলছি তবু অনুভূতিহীন অন্য এক সময়প্রবাহ থেকে বের হয়ে এসে পূর্ণতার দিকে যেতে যেতে                            কিছুক্ষণ শূন্যতায় ভাসা?