কবিতা
-
কিশোরীর নাম নুসরাত
যার ছায়ায় দাঁড়িয়ে তুমি বেড়ে ওঠো রোজ, যার অনুপ্রেরণা তোমায় নিশিদিন মোহাচ্ছন্ন করে রাখে, তার কথা একদিন চুপচাপ শুনবার ইচ্ছা খুব। সে তোমার শৈশব করেছে মধুময়, কৈশোরের দুরন্তপনায় মেতে আছো তার স্নেহ নিয়ে। আর তার তারুণ্যের দিনগুলো শুধু স্বপ্ন জোয়ারে ভেসেছো তার মতো হবে বলে। কেউ কি কারো মতো হয়? যে যার মতো হয়। তুমি…
-
কবিতা
রাস্তায় হাঁটছি দুপুর রোদের আঁচে নিভে যাচ্ছে হাসি হয়তো তখনই শীতল ঝর্ণা হয়ে মাথার ভেতরে সে বাজিয়ে দিলো বাঁশি! হয়তো নদীর তীরে বসে আছি একা বর্জ্যরাশি ভাসিয়ে নিয়ে চলেছে ঢেউ কফিন-কাঁধে এগিয়ে আসছে মানুষ; সহসা নূপুর সুরে দৌড়ে এলো কেউ! পুকুরে নেমেছি জলের বদলে ভিজিয়ে দিচ্ছে সানাই বুকের ভেতরে – মাছ নয়, মৎসগন্ধ্যা; সত্যবতী রূপে…
-
সুন্দরের সুষমা
সুন্দরের বিবিধ সুষমা নিয়ে ফুটে আছো – কী উল্লাস নিয়ে লাল শাড়ি তোমার কোমর ধরে আছে কাঁপছে তোমার লাল শাড়ি আততায়ী সুন্দর ছুঁয়ে ছুঁয়ে শস্যের আবহমান ঢেউ তুলে বেণি দুলছে … দুলছে … একটি কালো ক্লিপ মাজরাপোকার খিদে নিয়ে বসে আছে বেণি-বাঁধা চুলের ওপর।
-

হাতুড়ি-হাপর
সাত সকালে আনোয়ার হাজি শম্ভুর বাড়ির সামনে এসে ডাকাডাকি করছেন, ‘কী রে শম্ভু, তুই কই, তোরে আজকাল পাওয়া যায় না ক্যান?’ শম্ভু অবাক না হয়ে পারে না, সে উঠেছে আরো ভোরে, উঠে গাড়িটা ধুয়েমুছে নিচ্ছে। গতকাল বৃষ্টিতে চাকাগুলি একেবারে ময়লা হয়ে গেছে, গাড়ির পেছনের দিকটাও কাদায় ভরে গেছে। ভোরে উঠে গ্যারেজ থেকে গাড়ি বের করে…
-
সন্ধ্যার কুসুম নদী
রাত্রির দুপুরে হাঁটে গল্প ছেঁড়া রোদ দূরে ডাকে কেউ, মন পোড়ে ঝরে পড়া বসন্তের শব্দ অস্তমিত লাল আঙুর গাছের ছায়া বৃষ্টির হরিৎদাহ চোখে ফোটে গোলাপের কাঁটা; ঘুম জানালায় হেসে ওঠে স্বপ্নদীর্ণ জলরং ঠোঁট লাবণ্যের আগুন সিম্ফনি সন্ধ্যার কুসুম নদী অথৈ নৈঃশব্দ্যের গান স্নিগ্ধ শিল্পস্বর উজ্জ্বল ঐশ্বর্যের তুমি ডাউন ট্রেনে ফেরে – না ফেরা উন্মাদ রাত্রি-নিবিড়…
-
মানুষ
মানুষকে আমি এতদিন কবিতা ভেবেছি তোকেও মানুষকে আমি এখন আর কবিতা ভাবতে পারি না তোকেও মানুষ আমার কাছে এখন শুধুই পদ্য ছন্দময় চরণের সাজানো সংসার
-
এসো হে বৈশাখ
এসো হে বৈশাখ এসো এসো চৈত্রের দাবানল ঝেঁটিয়ে স্বাধীনতার পতাকা উড়িয়ে গাঁয়ের ছেলের পাতার বাঁশি বাজিয়ে এসো তুমি বাংলার মাঠে ঘাটে প্রান্তরে স্বপ্ন ছড়িয়ে দাও চূর্ণ করে, দাও ছিন্নভিন্ন করে মনুষ্যত্বহীনতার বিকার বাংলাদেশের মাটিতে কেবলই হোক আবাদ মানবিকতার ফুল পাখি নক্শিকাঁথায় বন-জঙ্গলের কাব্যগাথায় বৈশাখের দুরন্ত সাহসের হোক জয়ধ্বনি মুছে যাক হাজারো না-পাওয়ার গ্লানি নতুন বছরের…
-
বিষাদে লুবাকে
চাঁদ নেমে এসেছিল সেই রাতে সেবিকার পবিত্র অ্যাপ্রনে উন্নত পাহাড়চূড়া আলোর আভাসে স্নিগ্ধ ইশারায় ডাকে বিভাজিকা শান্ত স্নেহে সংকেত পাঠিয়েছিল আচ্ছন্ন আমাকে বাহুতে চাঁদের ছায়া, শিহরণে কেঁপে উঠি শরীরে ও মনে প্রথম বিদেশে যাওয়া, যৌবন প্রবেশদ্বারে সবে নাড়ে কড়া ভাষা তো অজানা ছিল, কথা নয়, শুধু জানা নাম তার লুবা লুবভের অপভ্রংশ, জেনেছি অনেক পরে,…
-
ষড়যন্ত্র
ষড়যন্ত্রের ডালপালা গজিয়েছে পঙ্গপালের মতো। প্রতিহিংসার আগুন জ্বলছে শত্রুর চোখে। যেদিকে তাকাই ফাল্গুনের ধুলোভর্তি মুখ, ঘুমন্ত দেহের ওপর স্মৃতির নির্জনতা। মায়া কই? এতো বহুবিধ শর্তের জাল আর চাঁদের জিকির! সেইসব নাদানেরা ভুল নামতার ঘোরে জেঁকে বসেছে ঝরা পাতার মর্মর হয়ে! যারা মেরুদণ্ড বাঁকা করে লোভনীয় অপরূপ হতে চায় তাদের গঠনতত্ত্ব নিয়ে গবেষণা করে কী ফল…
-
সাইবার-হালিক, উড়ে আসে অঋবের কাছ থেকে
‘অতীত বলে কিছু নাই’ – এই কথা, বলছে সুরে সুরে কাউন ক্ষেতের পাশে দণ্ডায়মান দেবফল গাছের বাবুইপাখি ঠিক পাশেই বসে আছে একটা দোয়েল – জাতীয় ভঙ্গিমায়! সন্ধ্যার পূর্বে পাখি-গোত্র আশ্রয়ের খোঁজে ভুলে যায় ভেদাভেদ নীড়ের সন্ধানে ছোটে অতীতের বুকে, যদিও ভিন্ন কথা বলছে বাবুই, আজ, এই মাঠের ধারের ডালে বসে অতীত নিজের জন্য রচিত হয়…
-
আড়ালের গল্প
ভেসে যায় সাদা মেঘ ছেঁড়া ছেঁড়া স্মৃতি সন্ধ্যার আকাশে ওড়ে কবিতা-উদ্ধৃতি বন্ধনের রজ্জুরাশি যদি যায় ছিঁড়ে পথহারা পাখিমন নীড়ে আর ফিরে? শরতের কাশফুল মৃত্যুলেখা আঁকে নদীর উজানে চোখ শেয়ালেরা হাঁকে! ঝিরিঝিরি ওঠে ঢেউ চাঁদের আলোয় মন যদি তরি বায় ভালোয় ভালোয় গুণ টানে স্মৃতিরাশি পেছনের দিকে যতই এগোতে চাই পথ ভারি ফিকে আড়ালের গল্প যদি …
-
জীবনের কবিতা
যারা হাসিখুশি ছবি দিয়ে বলছিল – ‘বেশ ভালো আছি’ আদপে তারা যে ভালো নেই, সময় খেলছে কানামাছি। চন্দনে আছে সুগন্ধ ঘটা করে সে তা জানায় কি! নদী যে ভরাট তার আভাস পাবো না কানায় কানায় কি? অধুনা চেকনচাকন ত্বক। ভিতরে থাকুক পোকার ঘর লাল টকটকে ঠোঁট দুটো ঢেকে রাখে সব ক্ষিপ্ত স্বর। কিছু নেই আর…
