বিজ্ঞান

  • বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার ২০১৪

    কানন পুরকায়স্থ ২০১৪ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞান বা শারীরবৃত্ত, পদার্থবিজ্ঞান এবং রসায়নবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হয় যথাক্রমে ৬, ৭ এবং ৮ অক্টোবর ২০১৪ এবং পুরস্কার প্রদান করা হয় সুইডেনের স্টকহোম কনসার্ট হলে ১০ ডিসেম্বর ২০১৪। রসায়নবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয় যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়ার্ড হিউজ মেডিক্যাল স্কুলের এরিক বেটজিগ্ (Eric Betzig) জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউটের স্টিফেন ডব্লিউ…

  • অদৃশ্যজগতেরসন্ধানে

    আকাশের দিকে তাকানোর ব্যাপারটি আমরা প্রায় ভুলেই গিয়েছি। নগর-জীবনে ‘আকাশ’ শব্দটি ধীরে ধীরে অর্থহীন হয়ে যাচ্ছে। অল্পজায়গায় অনেক মানুষকে জায়গা দেওয়ার জন্যে উঁচু উঁচু বিল্ডিং মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে। সেগুলো ধীরে ধীরে আকাশকে আড়াল করে দিচ্ছে। তারপরও কেউ যদি আকাশের দিকে তাকায় দেখবে সেটি সৌন্দর্যহীন বিবর্ণ। শহরের ধুলোবালিতে ধূসর। রাতের বেলা সেই আকাশ আমাদের চোখে পড়ে না, শহরের লাখ লাখ আলোর বিচ্ছুরণে আকাশ ঢাকা পড়ে থাকে। আকাশে গোপনে প্রায় অপরাধীর মতো চাঁদ উঠে একসময় বড় হতে হতে পূর্ণিমা হয়, আবার ছোট হতে হতে অমাবস্যার অন্ধকারে ঢেকে যায়। শহরের মানুষ কি কখনো সেটি দেখেছে? অনুভব করেছে? আকাশের মতো এত চমৎকার একটি জিনিস আমাদের কাছ থেকে দূরে চলে যাচ্ছে – তার চেয়ে দুঃখের ব্যাপার আর কী হতে পারে? আমাদের কৃত্রিম-জীবনে আকাশকে নির্বাসন দিয়েছি, কিন্তু তবু সেটি আছে। কেউ যদি কখনো শহর থেকে দূরে প্রকৃতির কাছাকাছি কোনো গ্রামে, বিদ্যুৎহীন কোনো বনে-বাদাড়ে, নদীতে, খোলা প্রান্তরে রাতের বেলা এসে হাজির হয়, এখনো সেই আকাশকে দেখতে পাবে। যদি আকাশে চাঁদ থাকে, সেটি আমাদের দৃষ্টির অনেকখানি দখল করে রাখবে। যদি চাঁদ না থাকে তাহলে আমরা আকাশের নক্ষত্র দেখে মুগ্ধ হবো। পরিষ্কার আকাশে ঝকঝকে নক্ষত্রের মতো অপূর্ব দৃশ্য আর কী আছে? কোনো নক্ষত্র উজ্জ্বল, কোনো নক্ষত্র অনুজ্জ্বল, কোনোটি মিটমিট করে জ্বলছে আর কোনোটি স্থির। কোনো কোনো নক্ষত্রের আলোতে হালকা কোনো একটি রঙের স্পর্শ। বছরের কোন সময়ে দেখছি তার ওপর নির্ভর করে আমরা আবিষ্কার করতে পারি আকাশজোড়া ছায়াপথ! সেই সৃষ্টির আদিকাল থেকে মানুষ আকাশের দিকে তাকিয়ে এই নক্ষত্ররাজিকে দেখে আসছে, দৃশ্যটির খুব পরিবর্তন হয়নি। আকাশের সেই নক্ষত্রকে দেখে প্রাচীনকালের গুহাবাসী মানুষের মনে যে-অনুভূতি হতো এখনো সেই অনুভূতিই হয়। পার্থক্য শুধু এক জায়গায়, এখন আমরা এই রহস্যের খানিকটা বুঝতে পারি। হ্যাঁ, খানিকটা। রাতের বেলা পরিষ্কার আকাশে আমরা কয়েক হাজার নক্ষত্র দেখতে পাই। মোটামুটি একটি বাইনোকুলার চোখে দিলে তার সংখ্যা আরো কয়েকগুণ বেড়ে যায়। আবছা ধোঁয়ার মতো নক্ষত্ররাজি স্পষ্ট হয়ে ওঠে, বছরের ঠিক সময় ঠিক জায়গায় তাকাতে পারলে অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সিটিও দেখা যায়। বাইনোকুলার ব্যবহার না-করে ভালো টেলিস্কোপ ব্যবহার করলে হঠাৎ চোখের সামনে অসংখ্য নতুন নক্ষত্রের সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন গ্যালাক্সি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এরপর আর কোনো শেষ নেই। মহাকাশের যত গভীরে দৃষ্টি দেওয়া যায় সেখানে তত নতুন নতুন গ্যালাক্সি, তত নক্ষত্রপুঞ্জ নেবুলা কোয়াজার। আমরা এই নক্ষত্ররাজির কথা জানি, গ্যালাক্সির কথা জানি, কারণ আমরা সেগুলো দেখতে পাই। মানুষের চোখ নামে অপূর্ব একজোড়া সম্পদ রয়েছে, দেখা নামক অভূতপূর্ব এক ধরনের প্রক্রিয়া রয়েছে। সেই চোখ আলোকে দেখতে পায় আর সেই আলো থেকে আমরা এই নক্ষত্ররাজি, এই গ্যালাক্সির কথা জানি। যদি নক্ষত্র থেকে আলো বের না হতো তাহলে আমরা এই নক্ষত্রদের দেখতে পেতাম না, হয়তো তাদের কথা এত সহজে জানতে পারতাম না। বিজ্ঞানীরা এই নক্ষত্ররাজি এবং গ্যালাক্সিমণ্ডলীকে দেখে অনুমান করার চেষ্টা করেছেন এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের আকার কত বড়। বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সকল গ্রহ-নক্ষত্র-গ্যালাক্সি সবকিছু মিলিয়ে তার ভর কত? সেটি করতে গিয়েই তারা আবিষ্কার করলেন যে, তাদের হিসাব মিলছে না। আমরা আমাদের চোখে যে-নক্ষত্ররাজি, যে-গ্যালাক্সি দেখছি, সেটুকু যথেষ্ট নয়। তার বাইরেও আরো বিশাল কিছু থাকতে হবে, যেগুলো আমরা দেখতে পাই না। যেটি দেখতে পাই না সেটি আছে কিংবা নেই – সেই প্রশ্নটিই আমরা করি কী করে? একটি সহজ উদাহরণ দিয়ে আমরা বোঝাতে পারি, আমরা চাঁদের কথা ধরি। ধরা যাক, কোনো একটি কারণে চাঁদ আমাদের কাছে অদৃশ্য, আমরা চাঁদকে দেখতে পাই না। তাহলে পৃথিবীর মানুষ কি চাঁদের কথা জানতে পারত না? নিশ্চয়ই পারত এবং সেটি জানতে পারত নদী এবং সমুদ্রের পানিতে জোয়ারভাটা দেখে। একটি নির্দিষ্ট সময় পরে পরে কেন সমুদ্রের পানিতে জোয়ার এবং ভাটা হয়, তার ব্যাখ্যা খুঁজতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা অনুমান করতেন পৃথিবীর কাছাকাছি নিশ্চয়ই কোনো একটি উপগ্রহ রয়েছে, সেই উপগ্রহের আকর্ষণে সমুদ্রের পানি ফুলে ফেঁপে উঠে জোয়ারভাটার জন্ম দিচ্ছে। হিসাবপত্র করে তারা এই উপগ্রহের আকার-আকৃতি বের করে ফেলতে পারতেন, পৃথিবীটাকে কতদিন পরপর প্রদক্ষিণ করছে সেটিও অনুমান করে ফেলতে পারতেন। ঠিক সে-রকম মহাজগতে নানা নক্ষত্র, নক্ষত্রপুঞ্জের গতি দেখে তারা অনুমান করার চেষ্টা করেন তাদের আশেপাশে যেসব মহাজাগতিক বস্তু আছে তাদের ভর কত? গত কয়েক দশকে তারা আবিষ্কার করেছেন যে, তাদের অনুমান মিলছে না। নক্ষত্র বা নক্ষত্রপুঞ্জ বা মহাজাগতিক গ্যাসের গতিবিধি দেখে আশেপাশে যে-ভর থাকা উচিত বলে অনুমান করা হচ্ছে, প্রকৃত ভর তার থেকে অনেক কম। তাদের মনে হচ্ছে, অদৃশ্য কোনো ভর লুকিয়ে আছে যেটি তারা দেখতে পাচ্ছেন না।  আমাদের চোখ যে-আলোকে দেখতে পায় তার বাইরেও কিন্তু আলো রয়েছে। আলো হচ্ছে বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ। এই তরঙ্গের দৈর্ঘ্য যখন একটি নির্দিষ্ট সীমার ভেতরে থাকে শুধুমাত্র তখন সেটি আমরা দেখতে পাই, তার বাইরে চলে গেলে আমরা সেটি দেখতে পাই না। বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গের বিশাল ব্যাপ্তির মাঝে আমরা যেটুকু দেখতে পাই সেটি খুবই ছোট,…

  • আমরা কি একা?

    এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে মানুষ ছাড়াও অন্য কোনো বুদ্ধিমান প্রাণী আছে কিনা – এই বিষয়টি থেকে অনেক অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে নিউট্রিনোর ভর আছে কিনা এবং যদি থেকে থকে সেটি কত। কিন্তু আমি বাজি ধরে বলতে পারি, নিউট্রিনোর ভর-বিষয়ক আলোচনা হলে সাধারণ মানুষ হাই তুলে অন্য একটি বিষয়ে চলে যাবেন, কিন্তু এই সৃষ্টিজগতে মানুষ ছাড়া অন্য…

  • কোয়ান্টাম মেকানিক্স

    একটি কাল্পনিক পরীক্ষা করা যাক। ধরা যাক, আমি একটি ঘরে বসে আছি এবং এই ঘরের আলো আস্তে আস্তে কমিয়ে আনা হচ্ছে, তাহলে শেষ পর্যন্ত কী হবে? উত্তরটি খুব সহজ, আমাদের চোখ কতটুকু আলো দেখতে পারে তার একটি হিসাব আছে, যখন ঘরের আলো তার থেকে কমে আসবে তখন আমি আর কিছু দেখতে পারব না। মনে হবে,…

  • নক্ষত্রের সন্তান

    নক্ষত্রের সন্তান

    মানুষের শরীরের বেশির ভাগই পানি, যদি পানিটুকু আলাদা করা যেত তাহলে দেখা যেত পায়ের তলা থেকে বুক পর্যন্ত পুরোটুকুই পানি। পানিকে আমরা পানি হিসেবেই দেখে অভ্যস্ত, যদিও আসলে সেটি হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন পরমাণু দিয়ে তৈরি। পরমাণুর সংখ্যা দিয়ে হিসাব করলে মানুষের শরীরে সবচেয়ে বেশি রয়েছে হাইড্রোজেনের পরমাণু, কিন্তু হাইড্রোজেন যেহেতু সবচেয়ে হালকা পরমাণু তাই সংখ্যায়…

  • ফাইবার অপটিকস

    ‘ফা ইবার অপটিকস’ বিষয়টি কী তা ভালোভাবে না জানলেও আমাদের দেশের মানুষ ‘ফাইবার অপটিকস’ কথাটির সঙ্গে খুব ভালোভাবে পরিচিত। পৃথিবীর প্রায় সব দেশই ফাইবার অপটিক ক্যাবল দিয়ে আন্তর্জাতিক তথ্যপ্রবাহের মূলধারার সঙ্গে যোগাযোগ করে ফেলেছে, সাবমেরিন ক্যাবল ব্যবহার করে আমরা এখনো সেই যোগাযোগটি করতে পারিনি। যখন বিষয়টি খুব সহজ ছিল তখন সরকারি নির্বুদ্ধিতার কারণে সেটি নেওয়া…

  • তথ্যপ্রযুক্তি

    তথ্যপ্রযুক্তি

    ছয়-সাত বছর আগের কথা। আমি যুক্তরাষ্ট্রের বেল কমিউনিকেশান্স রিসার্চে একটি সার্কিট ডিজাইন করছি। সেখানে একটি আই.সি ব্যবহার করব, তাই আই.সি.টির কোন পিন কোন কাজ করে জানা দরকার হয়ে পড়ল। আই.সি-র সেই তথ্যগুলো যে মোটা বইটিতে আছে সেটি আমার ঘরে শেলফের উপরের র‌্যাকে। আমি দাঁড়িয়ে বইটি শেলফ থেকে নামিয়ে সেটি খুলে আই.সি.টির তথ্যগুলো পেয়ে যেতে পারি,…

  • বিজ্ঞান এবং বিজ্ঞানের ভাষা – গণিত

    বিজ্ঞান এবং বিজ্ঞানের ভাষা – গণিত

    ধরা যাক একজন মানুষ কাজ করে প্রথম দিন এক টাকা উপার্জন করে এনেছে (আমরা জানি টাকার পরিমাণটা বেশি নয়; কিন্তু যে ব্যাপারটা আলোচনা করতে যাচ্ছি সেখানে টাকার পরিমাণটা গুরুত্বপূর্ণ নয়)। সেই মানুষটা দ্বিতীয় দিনে এনেছে ২ [১] টাকা, তৃতীয় দিনে ৩ টাকা। এভাবে চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম দিনে এনেছে যথাক্রমে ৪, ৫, ৬ ও…

  • বিজ্ঞান বনাম প্রযুক্তি

    মা এবং সন্তানের মাঝে তুলনা করতে গিয়ে একটা খুব সুন্দর কথা বলা হয়, কথাটা হচ্ছে : ‘কুপুত্র যদি বা হয়, কুমাতা কখনো নয়।’ সন্তানের জন্যে মায়ের ভালোবাসা দিয়েই একটা জীবন শুরু হয় তাই মায়ের উপর এতো বড় একটা বিশ্বাস থাকবে বিচিত্র কী? কুপুত্র এবং কুমাতা নিয়ে এই কথাটা একটু পরিবর্তন করে আমরা বিজ্ঞান আর প্রযুক্তির…

  • বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানচর্চা

    বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানচর্চা

    মানুষ আজকাল যে ধরনের বিজ্ঞানচর্চায় অভ্যস্ত হয়ে গেছে সেটি কিন্তু তুলনামূলকভাবে বেশ নতুন। আগে খুব গুরুত্বপূর্ণ একজন মানুষ কিছু একটা বলতেন, সবাই সেটাকেই মেনে নিত। এরিস্টটল তাঁর সময়ে খুব গুরুত্বপূর্ণ একজন জ্ঞানী মানুষ ছিলেন। তিনি বলেছিলেন ভারি জিনিস হালকা জিনিস থেকে তাড়াতাড়ি নিচে পড়ে । কেউ কোনো রকম আপত্তি না করে সেটা মেনে নিয়েছিল। দুই…