June 2013
-
মোহাম্মদ রফিকের একগুচ্ছ কবিতা
পাওয়া না-পাওয়া বহুকিছু ছেড়েছি জীবনে এমনকি তোমাকেও, অথচ তুমিই করে গেলে দান অন্ধকূপে প্রায় অন্ধ যাত্রা তুমি শুধু রয়ে গেলে আলোর বর্তিকা দিগ্বিদিক শূন্য পথে-পথে কখন ছড়িয়ে গেলে মণিমুক্তাসম মাঝে মাঝে মুমূর্ষু শ্বাসের মতো নুড়িবালুপাথরের শব্দ চিত্রকল্প পঙ্ক্তির সংঘাত দ্বিখন্ডিত মস্তকে দিকভ্রান্ত আশীর্বাদ পারাপারহীন ওপারের আদিগন্ত রেখা হাতছানি কোনো এক অক্ষয় ছায়ায় তুমি তবু দিনরাত্রি…
-
দুটি কবিতা
উৎপলকুমার বসু উপ্ত বীজ উপ্ত বীজ, তাকে আমি পারি না বোঝাতে বেশ আছো অন্ধকারে, মাটির গভীরে – বাইরের উষ্ণতার খোঁজে, সামান্য জলের জন্য, রোদের জন্য তাকে ফুটে উঠতে দেখি, ভোরের পাখির ডাকে সাড়া দেয়, খাদ্য হিসেবে নিজেকেই মেলে ধরে – না-লেখা কবিতা যেন – নিজেকে নিজেই বোঝে না, মানে না। নিরুদ্দিষ্টের প্রতি …
-
অচেনা মানুষ, একটি বৃক্ষ ও দুটি শালিক
সাইফুর রহমান আজেবাজে নেশার কোনোটিই আজ পর্যন্ত শাহেদকে গ্রাস করতে পারেনি। গ্রাস তো অনেক দূরের কথা, এসব বাজে নেশা তাকে স্পর্শ পর্যন্ত করতে পারেনি এখনো। তার একটিই নেশা, সেটাকে অবশ্য বাজে কিংবা ভালো কোনটি ভাববে সেটা কিছুতেই বুঝে উঠতে পারে না সে। ঘণ্টায় ঘণ্টায় চা না খেলে শাহেদের জীবনাত্মা যেন শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে চায়।…
-
এখানে কবিতা লেখা শেখানো হয়
মাহবুব তালুকদার প্রায় দুবছর বেকার জীবনযাপনের পর সে যখন হতাশার শেষ প্রান্তে উপনীত, ঠিক তখনই ঘটল সে-ঘটনা। তবে শুধু ঘটনা বললে তা যথার্থ বলা হয় না, অলৌকিক ঘটনা বলাই যুক্তিসঙ্গত। তার এককালীন সহপাঠী মোল্যা জালালাবাদীর সঙ্গে তার দেখা হয়ে গেল। পুরনো বন্ধুরা আজকাল সামনে পড়ে গেলে মুখ ব্যাজার করে যে যার পথে চলে যায়। কিন্তু…
-
রূপকথা নয়
অশোককুমার মুখোপাধ্যায় ডাক্তারবাবু -। মুখ তুলতেই, শিউলি। চুড়িদার কুর্তা। ঝকঝকে। শক্ত-সমর্থ। আঠারো-উনিশ। জানান না দিয়ে কেউ ঢুকে এলে আকস্মিকতার ধাক্কা লাগে। ফলে, বিরক্তি। রাগ। পরিচিত লোকের মুখোমুখি হবার আগে মন তার উপযোগী ওষুধ ভেবে নেয়। অপরিচিতকে অবিচ্ছিন্ন একাগ্রতায় বুঝতে চেষ্টা করে প্রথম সাড়ে পাঁচ মিনিট। ডাক্তারি করতে গিয়ে ভেতরে এমনই কোনো সূত্র তৈরি হয়ে গেছে।…
-
নানির কবর
বুলবন ওসমান এসপ্লানেডে সিটিসির বাস ধরার জন্যে বেশ কিছুক্ষণ লাইনে দাঁড়াতে হলো ষাটোর্ধ্ব দুই মাসতুতো ভাই জাহান আর ফজলকে। ফজল জাহানের চেয়ে বেশ কিছুটা বড়। জাহান কলকাতা পুলিশের অফিসার হিসেবে বছরখানেক হলো অবসর নিয়েছে। কলেজশিক্ষক ফজল ঢাকা থেকে গেছে হাওড়া জেলায় অবস্থিত মামাবাড়ি ঝামটিয়া যাবে বলে। জাহানদের বাড়ি ঝামটিয়ার পাশের গ্রাম। ওরা উঠবে খাজুরদহে। তারপর…
-
হাইকুর নান্দনিকতা
হাসনাত আবদুল হাই হাইকু পৃথিবীর সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত কাব্যরূপ। তিনটি সংক্ষিপ্ত লাইনে ১৭টি সিলেবল নিয়ে এর গঠন। প্রথম লাইনে পাঁচটি, দ্বিতীয় লাইনে সাতটি আর শেষের লাইনে আটটি সিলেবল দিয়ে তৈরি হাইকুর অবয়ব। শব্দগত এই শৃঙ্খলা কেবল জাপানিতেই নিশ্চিত করা সম্ভব, যার জন্য ইংরেজি কিংবা অন্য ভাষায় হাইকু তিন লাইনে লেখা হলেও ১৭ সিলেবলের শর্ত প্রায় ক্ষেত্রেই…
-
আবদুল মান্নান সৈয়দ তাঁর দশ প্রবন্ধের দশদিক
শাহাবুদ্দীন নাগরী ‘কবি’ হিসেবেই থেকে যেতে পারতেন আমৃত্যু, কিন্তু যাঁর স্বভাব সব দরোজা-জানালা খুলে খুলে দেখা, তিনি কি শুধু কবিতার ঘোরের ভেতরেই মগ্ন থাকতে পারেন? অথবা এমনও হতে পারে তাঁর ভেতরে ‘কবি’ হিসেবে বেঁচে থাকবার আতমবিশ্বাস ক্রমেই খর্ব হয়ে যাচ্ছিল! জীবনানন্দ দাশ (১৮৯৯-১৯৫৪) সম্পর্কিত অনুসন্ধান করতে গিয়ে এমন একজন বিশিষ্ট কবির শেষ জীবনের রাশি রাশি…
-
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের হাসির গান ও প্রেমের গান
শান্তি সিংহ দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের (১৮৬৩-১৯১৩) হাসির গান ও প্রেমের গান আলোচনা করতে হলে, কবি-প্রতিভার মূলসুরটি ধরতে হবে এবং তা হলো : কবির প্রেমচেতনা কবির যৌবনে যা কৌতুকরসদীপ্ত ও রোমান্টিক। ২৪ বছরের দ্বিজেন্দ্রলাল বিলেতফেরত নব্যযুবা। চাকরি-সুবাদে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট। ১৮৮৭ সালে পরমাসুন্দরী সুরবালার সঙ্গে বিয়ে। নতুন প্রেমের আবেগে তিনি লেখেন – প্রথম যখন বিয়ে হল ভাবলাম বাহা…
-
দ্বিজেন্দ্রলালের সাজাহান একটি ব্যক্তিগত পাঠ
সত্যজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় নাট্যকার দ্বিজেন্দ্রলাল রায় (১৮৬৩-১৯১৩) পঞ্চাশ বছরের আয়ুষ্কালের মধ্যে তাঁর রচনায় বিস্ময়কর বৈচিত্র্য সৃষ্টি করেছিলেন। ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর জন্মের ১৫০ বছর ও প্রয়াণের ১০০ বছর পূর্ণ হচ্ছে। এই সময়ে দাঁড়িয়ে আমরা নিজেকে ও নিজেদের জিজ্ঞাসা করতেই পারি যে, আমরা এখন কেন দ্বিজেন্দ্রলালের লেখা পড়ব? তিনি ভালো ছাত্র হিসেবে বিলাত গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি পাশ্চাত্য নাট্যসাহিত্য…
-
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের সাহিত্যচিন্তা : কয়েকটি পুরনো প্রসঙ্গ
সৌভিক রেজা বলা যায়, খুবই নিরীহ-ধরনে প্রবন্ধটি লিখেছিলেন অজিত চক্রবর্তী; প্রবন্ধের শিরোনাম ছিল – ‘কাব্যের প্রকাশ’; তাও আবার বেরিয়েছিল বঙ্গদর্শনে; শ্রাবণ ১৩১৩ বঙ্গাব্দে। খ্রিষ্টাব্দের হিসাবে দাঁড়ায় : ১৯০৬। কী বক্তব্য ছিল সেখানে? এই যে সাধারণ মানুষ, বলা উচিত পাঠক-পাঠিকা কবিতা সম্বন্ধে যে একধরনের অস্পষ্টতার অভিযোগ করেন, সে-বিষয়টি নিয়েই একটি আলোচনা করার চেষ্টা করেছিলেন অজিত চক্রবর্তী। …
-
দ্বিজেন্দ্রলাল রায় : সার্ধশতবর্ষের শ্রদ্ধাঞ্জলি
খালেদ হোসাইন বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে যে-সম্মানের জায়গাটি এখন দখল করে নিয়েছে, এতে সমস্ত বাঙালি জাতির অংশগ্রহণ ও অবদান রয়েছে। তবে সংস্কৃতির মুখাবয়বের সঙ্গে তুলনীয় বলে সাহিত্যিকদের অবদান বিশেষভাবেই অগ্রগণ্য। লোকসাহিত্য-স্রষ্টাদের কথা মাথায় রেখেও চর্যাপদ থেকে বাংলা সাহিত্যের যে-পর্যাবৃত্ত তাতে মুখ্য হয়ে ওঠে অনেক মুখ। তাঁদের মধ্যে দ্বিজেন্দ্রলাল রায় প্রতিনিধিত্বশীল। বহুমাত্রিক সাহিত্যকেন্দ্রিক রচনাপুঞ্জের…
