March 2019

  • নীরেনকাকা

    নীরেনকাকা

    কী –আশ্চর্য! দু-মাস হয়ে গেল নীরেনকাকা আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন (নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর মৃত্যু ২৫ ডিসেম্বর ২০১৮), অথচ এখনো হঠাৎ হঠাৎ ওঁর গলায় আমার নাম ধরে ডাকটা যেন আমি শুনতে পাই। মনে হয় একতলা থেকে সিঁড়ির মুখে দাঁড়িয়ে নীরেনকাকা ‘মিলু, মিলু’ বলে ডাকছেন। সিঁড়িতে গিয়ে দাঁড়ালেই বলবেন, ‘লিখতে লিখতে আটকে গেছি, বলো তো এই লাইনটার পরের…

  • তল্লাটের সবাইকে চিনি

    গোলাম কিবরিয়া পিনু   এই তল্লাটের সবাইকে আমি চিনি এর অলিগলি এর বাসাবাড়ি আমি চিনি! এইখানে কটি আমগাছ আছে কটি লেবুগাছ – তাও আমি জানি!   কে থাকে পাকাবাড়িতে – কে থাকে চালাঘরে? মহল্লায় কে নতুন ডেরা তুললো? তাও জানা আছে! আমাকে কী বলবে? এখানকার লোকজন কেমন? সবাইকে চিনি! বলতে এসো না!   কে ঘোড়ায়…

  • পথকানা

    বিমল গুহ   হাঁটতে হাঁটতে এত পথ এসেও রাস্তা ও পথের ঠিক পার্থক্য বুঝি না, রাস্তাকে বরাবর দুরতিক্রম্য মনে হয় পথ বলি – কল্পঝোপ ঘরের আঙিনা!   পাখিরা যে-পথে ওড়ে সে-পথেই খুঁজে পায় নীড়, অর্জুনের ছায়া ধরে ঝিমোয় শকুন চেনাপথ বলে তার কিছু জানা নেই রৌদ্র যেই তেতে ওঠে ভরবেলা পাতার আড়াল ভাঙে পালকের ওম।…

  • সোনার হরিণ

    দেবজ্যোতি রায়   গল্পের আশ্চর্য পস্নটে তুমি সোনার হরিণ অনুসরণের মধ্যে তোমাকে পেয়েছি খুঁজে বাস্তবতা থেকে দূরে, অধরা ডালিম। অপ্রাকৃত আলো জ্বলে ত্বকে, দীর্ঘশ্বাসে গীতবিতানের পাতা উড়ে আসে মেঘখ- থেকে পরা ও অপরাগতি লতাগুল্মে জড়িয়ে পড়েছে নম্র খুর ছুটে যেতে চায় নক্ষত্রঅসীমে   সমুদ্রের বালি ও লবণে তোমার পায়ের ছাপ কখনো রাতুল, দিব্য, মাংসগন্ধহীন। সৈকতে…

  • বসন্তদিন

    সমরেশ চৌধুরী   কথা দিয়েছিলে তুমি আসবে! ফাগুন হাওয়ার সাথে, পলাশ-বিছানো লাল পথে। আগমনী সুরে কোকিলকণ্ঠ, এ-বসন্ত তোমার জন্য।   কথা দিয়েছিলে তুমি আসবে! অসময়ের বৃষ্টিতে। ভিজেছি আমি, শুকিয়েছি নীরবতায়। কিছু ফোঁটা তোমাকে স্পর্শ করে, কিছুটা আমায়।   কথা দিয়েছিলে তুমি আসবে ফিরে! ভুবনডাঙার তীরে বসন্ত পূর্ণিমায়। লাল রঙে রাঙিয়ে দেবে মন, আবিরে কপাল। লাজুকতা…

  • চিতই পিঠার নৃত্য

    শামসুল ফয়েজ   সাদা চাল গুঁড়া মাটির ডহির ভিতরের ফুটন্ত পানির তাপে জমে তৈরি হলো কবোষ্ণ চিতই পিঠা। মালগুদামের বস্তির উদাম মেয়েটি চিতই পিঠাটি দুই হাতে ধরে মাথার উপরে তুলে দারুণ খুশিতে নাচে। ভরতনাট্যম-কথাকলি-মণিপুরি কোনো ছকে মেয়েটির নাচটি পড়ে না। যেন চাটাই-বিছানো ধান শুকানোর লেপাপোছা রোদ-ছড়ানো উঠানে নাচে উৎফুলস্ন খঞ্জনা। যেন ‘কমলায় নৃত্য করে ঠমকিয়া…

  • শিরোনামহীন

    জরিনা আখতার আকাশের খ- খ- কালো মেঘ থোকা থোকা কালো আঙুরের মতো ঝুলে আছে পৃথিবীর দিকে মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে – কোথাও অন্ধকার নেই ঝড়ো হাওয়ায় অশান্ত হয়ে উঠছে না গাছেদের হৃদয়, ময়ূরের নেচে ওঠার কথা নয় – তবু বেগুনি ময়ূরেরা নাচে গুপ্ত গুহার কালো ময়ূরের ডাকে, বর্ষা নয় – তবু কানের ঝুমকোর মতো কদম ফুলগুলো…

  • জেলখানার নয়া চিঠি

    মারুফুল ইসলাম   ভোরের বাতাসে ভেজা গন্ধ কারাগারের মসজিদ থেকে ভেসে আসছে ফজরের আজান কিন্তু কোন আহবানে সাড়া দেবে ছাবিবশ বসন্তের পারস্য গোলাপ রেহানে জাবারি ওদিকে যে ওকে ডাকছে মৃত্যু ফাঁসির রজ্জু   তুমি তো জানতে, মা আমি মরতে যাচ্ছি তবু ফাঁসির রায় শোনানোর পর কেন তোমার আর বাবার হাতে আমাকে চুমু খেতে দাওনি, মা…

  • প্রতিবিম্ব

    রেজাউদ্দিন স্টালিন   জীবন এক পুড়ে যাওয়া প্রতিবিম্ব   আর মৃত্যু চা-পাতার ঘোড়া টগবগ করছে দরোজার ডেকচিতে   প্রেম – এক প্রযুক্তি যা উৎপাদন করে অদৃশ্য জানালা   স্মৃতি – অদ্ভুত পাঠাগার যার বই পড়ে দীর্ঘশ্বাস   স্বপ্ন-ফেলে আসা জাদুঘর যেখানে হাওয়ার হামলায় লুকিয়ে থাকে বর্ষাতি   আশারা-ময়ূর পালকে স্থাপিত আর্গাসের শত শত – চোখ…

  • একবার কে লেখে একবার কে মুছে যায়

    মাহবুব বারী   সারারাত বৃষ্টিপাত সারারাত বজ্রপাত বজ্রপাত।   বৃষ্টিপাত আর বজ্রপাত মিলে এমন হুলস্থুল ঘটে যাচ্ছে চতুর্দিকে, কে কোন দিকে সে কোন দিকে উত্তর দক্ষিণ পূর্ব পশ্চিম কোন দিকে, কোনদিকে লোকালয়, কোনদিকে বনজঙ্গল, পাহাড়-পর্বত, নদী-সমুদ্র আগুনে পোড়া বৃষ্টিতে ধোয়া – এমন দিনে ঘুম নেই স্বপ্ন নেই স্মৃতি সব ভূলুণ্ঠিত; ল-ভ- হয়ে ছিতরে পড়ে দিগ্বিদিক…

  • ফকরের বলি

    ফকরের বলি

    জবা আমার বয়সী হইবো। আমার মার লেগা দাওয়াই আনবার গেছিলাম আজিমপুর ডাক্তরখানায়। জবারে আমি চিনবার পারি নাই। দেখি একটা মাইয়া দাওয়াইআলার হাত-পাও ধরতাছে, বাকিতে নেশার সুই দিবার কয়। কান্দন শুরু করলো। চাইরো দিকের মানুষ দেখতাছে আর হাসি-মশকরা করতাছে। কেউ আঁচল ধইরা টানে, কেউ পানির ছিটা দেয়। মাইয়াটা যেই না ঘুরছে, দেইখা আমি তো থম মাইরা…

  • আমি আসছি ব্রহ্মময়ী

    আমি আসছি ব্রহ্মময়ী

    যন্ত্রণাকাতর স্ত্রীর পাশে শুয়ে গিরিশচন্দ্রও সারারাত ঘুমাতে পারেননি। রাত ত্রিপ্রহর থেকে অস্থির অপেক্ষায় ছিলেন কখন সূর্যের আভাস দেখা যায়। বাইরে কোনোরকমে আলো ফুটে উঠলে তিনি ধুতির ওপর পাতলা নীল ফতুয়া চাপিয়ে পথে বেরিয়ে পড়লেন, বিলম্ব করার কোনো মানে নেই। দু-তিন মিনিট হাঁটতে হাঁটতে দিবালোক আরো স্পষ্ট হয়ে ওঠে। গ্রীষ্মের আলোকোজ্জ্বল প্রভাতে চারিদিকে শালিক, চড়ুই, শ্যামা,…