May 2016

  • বাংলা সংগীতজগতের ত্রয়ী প্রতিভা

    শান্তি সিংহ রবীন্দ্র-প্রতিভার দীপ্তি সহস্রাংশুর কিরণমালা। তাঁর সমকালীন কিছু অনুজ কবি রবীন্দ্র-অনুরাগী। যথা – করুণানিধান বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৭৭-১৯৫৫), সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত (১৮৮২-১৯২২), যতীন্দ্রমোহন বাগচী (১৮৭৮-১৯৪৮), কুমুদরঞ্জন মলিস্নক (১৮৮২-১৯৭১) প্রমুখ। কবি দ্বিজেন্দ্রলাল রায় (১৮৬৩-১৯১৩) একদা শ্রদ্ধান্বিতচিত্তে তাঁর বিরহ প্রহসনটি (১৮৯৭) রবীন্দ্রনাথকে উৎসর্গ করেন। বইটিতে কবি উলেস্নখ করেন, ‘সব বিষয়ের দুটি দিক আছে। একটি সজীব, অপরটি লঘু। বিরহেও তাহা…

  • সৌন্দর্যপুরাণ

    নাওমি উলফ অনুবাদ : সাঈদ সানী [এই সময়ের একজন প্রখ্যাত নারীবাদী লেখক নাওমি আর উলফ (জন্ম ১৯৬২)। সামাজিক বিষয়াবলির একজন বস্ত্তনিষ্ঠ সমালোচক এবং রাজনৈতিক কর্মী হিসেবেও খ্যাতিমান। দ্য বিউটি মিথ (১৯৯১) গ্রন্থের প্রকাশনার মাধ্যমে আমত্মর্জাতিকভাবে তিনি পাদপ্রদীপের আলোয় চলে আসেন এবং নারীবাদী আন্দোলনের তৃতীয় ধারার পুরোধা প্রবক্তা হিসেবে বিবেচিত হতে থাকেন। এই বইটিতে তিনি দেখিয়েছেন…

  • প্রসঙ্গ : কেনজাবুরো ওয়ে

    সরকার মাসুদ   আধুনিক বিশ্বকথাসাহিত্যের একটি শ্রদ্ধেয় নাম কেনজাবুরো ওয়ে (Kenzaburo Oe)। লেখক হিসেবে যদিও তাঁর উত্থান বিংশ শতাব্দীর ষাটের দশকে, কিন্তু জাপানি সাহিত্যে তিনিই প্রথম মানুষের অমত্মর্লীন চিন্তা-ভাবনাকে প্রাসঙ্গিকতা দিয়েছেন। মানবমনে যে-চিন্তাস্রোত অস্তিত্বশীল তা প্রায়ই স্বাভাবিকভাবে উচ্চারণের মাধ্যমে প্রকাশিত হয় না। ভার্জিনিয়া উল্ফ, জেমস জয়েস, সৈয়দ ওয়ালীউলস্নাহ্ প্রমুখ লেখক সেই মনোস্রোতধারাকে বাণীরূপ দেওয়ার চেষ্টা…

  • গুলজারের কবিতা

    ভাষামত্মর ও কবি-পরিচিতি : সাবেরা তাবাসসুম   সম্পূরণ সিং কালরা। পৃথিবী তাঁকে গুলজার নামে চেনে। শিখ-পরিবারে জন্মেছেন ১৯৩৬, মতামত্মরে ১৯৩৪ সালের ১৮ আগস্ট দিনায় (ব্রিটিশ ভারতের ঝিলম জেলা, বর্তমানে যেটা পাকিস্তানে অবস্থিত)। দেশত্যাগ নামক প্রলয়ের আঘাতে তাঁর পরিবারকে স্থানামত্মরিত হয়ে চলে আসতে হয় দিলিস্নর রওশন আরা বাগে। সেখানে ইউনাইটেড ক্রিশ্চিয়ান স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন শেষ করেন…

  • সূর্যজন্মের দিকে

    অলোক সেন   এখন, সূর্যজন্মের আগে চাপচাপ অন্ধকার ঢেকে বসেছে টবের গাছে, বারান্দায়।   নক্ষত্রসভার সদস্য হতে চায় – এই আবেদনপত্রসহ একাকী অমলিন মৃত্যুর দরজায় কড়া নাড়ে আর হাই তোলে।   জীবনের বাড়ি যাবে শরবত খেতে তোমাকে তা কি করে বলে, এবার ভূত ও ভবিষ্যতে কড়া নাড় কবি।   বিদায়, সূর্যজন্মের দিকে – সে বলেছে…

  • ১৯৮০

    দেবজ্যোতি মুখোপাধ্যায়   উনিশশো আশি সাল আমাকে এমন দুঃখ দেয় কী যে দুঃখ দিয়ে গেল উনিশশো আশি তাকাতে পারি না আমি তার দিকে – তাকালেই জল আসে চোখে। এত দুঃখ – তখনো তো জন্মাইনি যে আমি জন্মানোর আগে আমি কী কষ্ট পেলাম দেরি ছিল, পাঁচ-পাঁচ বছর তখনো দেরি ছিল – আমার জন্মের   জন্মের আগেই…

  • সমুন্নত দুঃখগুলি

    আলোময় বিশ্বাস   সমুন্নত দুঃখগুলিই আমার চিত্রকলা। আমার সংগীত আর জঙ্গম-ঘূর্ণি আবেগ আমি তৈরি করি কিছু অনাকাঙিক্ষত ব্যথার সংশ্রবে।   জীবনের সন্ধি-লগ্ন অসত্মগামী সূর্যের মতো ঝুলে আছে লাল সাগরের উপর, আমি কিছু অভিশাপ খুঁজে বেড়াচ্ছি দেখি আর কী নির্মাণ করতে পারি?   এই সময়ে সুরধুনীর জল আর পারুলের গন্ধ নিয়ে কে আসে?

  • রূপকথা

    সেলিম মাহমুদ   ভুল ডুবোচর গ্রামে হঠাৎ কে থামে? কার দরকার ও-দিককার সংস্কার ভুল মনে ভুল পর্যটনে যদিওবা শতভাগ টানে!   এক প্রাণে এক টানে গল্প থাকে সবখানে গল্প থাকে ফুলের রুমালে পরি থাকে না রাত পোহালে।

  • সব কিছু ঠিক আছে?

    নূহ-উল-আলম লেনিন   সব কিছু বদলে যাবে, বদলে যাবে স্বপ্নালু পৃথিবীর সাবেকি স্বরূপ যারা ছিল নিচে, তারা আচম্বিতে উঠে যাবে সপ্তম আসমানে শাস্ত্রে সেসব কথা লেখা আছে স্বর্ণের অক্ষরে সব কিছু ঠিক ছিল, কেবল হতচ্ছাড়া ‘গর্বাচেভ’ (?) উল্টে দিলো পাশা।   সব কিছু বদলে গেল, সমাজতন্ত্র মার্কসবাদ-লেনিনবাদ মাও চিন্তাধারা লাল চত্বরে ও শামিত্মর উদ্যানে লেনিন…

  • অফ দ্য রেকর্ড

    টোকন ঠাকুর   দুঃখকে বিড়াল বলে মনে হয়। কারণ, বস্তাবন্দি করে বিড়ালটিকে নদীর ওপারে রেখে আসার পরদিন সন্ধ্যায় দেখি, উঠোনের নিমগাছটা পেরিয়ে দুঃখবিড়াল ফের ঘরে উঠে পড়ছে। দুঃখকে আশ্রিত-আত্মীয়ার মতো লাগে। তার হয়তো যাওয়ার জায়গাই নেই! কে দায়িত্ব নেবে? সারাদিন, তার হয়তো কথা বলার লোকও নেই। এই অবস্থায় দূরাগত আত্মীয়া যাবেই বা কোথায়? কার কাছে…

  • ছায়ালোক-৩

    সৌভিক রেজা   বেগুনি জারম্নল; এবার আর জারম্নলের কোনো গল্প নেই। যেন এক বরফযুগ। আর আমাদের নদীগুলো দুঃখ-অভিমুখী। কথাগুলো শুধু হেনাদিকেই বলি। বলি যে চারদিকে অন্ধকার। সবার হাত-চোখ-মুখ অন্ধকারে অন্ধকার হয়ে ওঠে। শুকনো ডালপালায় আগুন আর আগুন থেকে যে ধোঁয়া, তাতে নিজের ছায়াও ক্রমে-ক্রমে অন্ধকারে হারিয়ে যায়।

  • ভ্রামণিক

    রাতুল দেব বর্মণ   ভ্রমণবন্দনা যখন দরজায় এসে নাড়া দেয় শুদ্ধস্বরে ভ্রামণিক একা একা গান গেয়ে ওঠে, ভিতরে সাগরের উতাল সমত্মরণ পাহাড়ের হাতছানি ঝরনার গায়ে দেখে মেঘবতী হিমালয় নারী, কোথাও জঙ্গলপাঠ শেষে মহুয়াবনের নিচে একা হয়ে পান করে মহুয়া মাদল পানি,   যেতে যেতে একদল ভ্রামণিক গেছে আজ তৃষ্ণাবনে যদি দেখা মেলে সবুজের ভিতর বসমত্মনারী,…