May 2017

  • সমাজসচেতন শিল্পী চিত্তপ্রসাদ

    শরীফ আতিক-উজ-জামান   চিত্তপ্রসাদ (১৯১৫-৭৮) বাংলাদেশের চট্টগ্রামের মানুষ, জন্মেছিলেন ১৯১৫ সালে নৈহাটিতে। ব্রাহ্মণের ছেলে, কিন্তু কখনো নামের সঙ্গে ভট্টাচার্য উপাধি ব্যবহার করেননি। কোনো পৈতেও পরতেন না। জাতিপ্রথার বিরুদ্ধে এ ছিল তাঁর নিজস্ব ও নীরব এক প্রতিবাদ। প্রবল ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য নিয়ে তিনি সারাজীবন পথ চলেছেন। ১৯৩২ সালে চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করে চট্টগ্রাম সরকারি কলেজে…

  • কবিতা-অন্ত:প্রাণ সাযযাদ কাদির

    মোমিন মেহেদী সাযযাদ কাদিরের কবিতায় আমাদের রাজনীতি উঠে এসেছে, উঠে এসেছে ছলাৎ নদীর তানময় অনবদ্য দেশপ্রেম, মননশীল প্রকৃতির নানান কথা। তিনি নিজের মতো করে অবিরত তৈরি করেছেন নিজস্ব কাব্যজগৎ, যেখানে তিনি ছিলেন রাজাধিরাজ। বাংলাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী দশক হিসেবে ব্যাপক আলোচিত ষাটের দশকে কাব্যজ জীবন গড়তে তৈরি হয়েছেন নিরলস পরিশ্রম, মেধা আর অভিজ্ঞতার আলোকে। তাঁর কবিতা…

  • স্বচ্ছ মননের হাওয়া

    সৌভিক রেজা প্রদ্যুম্ন ভট্টাচার্যের (১৯৩২-২০১৬) কথা ভাবতে গেলেই কপিল ভট্টাচার্যের (১৯০৪-৮৯) কথা মনে না-পড়ে যায় না। এমন তো নয় যে, পিতার সূত্রেই পুত্রের পরিচয়টা বড় হয়ে আমাদের সামনে দাঁড়ায়, কিংবা, পুত্রের সূত্রে পিতার পরিচয়টা বড় হয়ে ওঠে। না, তা নয়। বরং, বলা যায় যে, পিতা-পুত্র দুজনেই নিজের নিজের মতো করে যার-যার কাজের ওপরে দাঁড়িয়ে আছেন।…

  • ঘর

    মাহফুজ পারভেজ   শরীর গড়িয়ে নামছে নিশীথ ছায়ামাখা বয়সের বলিরেখা অন্ধকার ক্রমাগত প্রদোষের দরোজায় আমি দেখি, আমার তাপিত ঘর আলো ও আঁধারে ঘুরপাক খাচ্ছে একটি একাকী তারার নিয়তি নিয়ে অতলান্ত নিঃসীমে। তথাপি আগলে রেখেছি যে-ঘর সে-ঘর আমাকে নয়, খোঁজে অন্য কোনো ঘর যার ঠিক-ঠিকানা লেখা নেই পাঠ ও পুস্তকে।   হৃদয়ের মাঝখানে মাঝে মাঝে উছলায়…

  • সাবেক প্রেমিকার প্রতি

    সৈয়দ নাফিস কামাল   আরাত্রিকা, তোমার চুলে পাক ধরেছে- সময় কি আর তোমার তরে থাকছে বসে? তুমিও এখন সময় কাটাও, আরাত্রিকা ‘কী-চেয়েছি-কী-পেয়েছি’র হিসাব কষে!   ভুলের খেলায় ভুল না করে ভুল করেছ- এই বাজারে ভুলের মাশুল বড্ড চড়া, এখন কি আর সেদিন আছে – মন চাইলেই দরজা খুলে যেদিক ইচ্ছে বেরিয়ে পড়া!   এখনো কি…

  • মাতাল সমুদ্র-০০১

    সাকিরা পারভীন   কত লোক আসে কত কিছু ফেলে যায় বুকের ভেতরে ছুড়ে মারে, ঘুরে মারে, দূরে মারে, কাছেও   একদিন একটা লোক আসে লোকটা আমার ভেতরে কিছুই ফেলে না বরঞ্চ পাড়ের সমস্ত ঘুঁটে-গোবর কুড়িয়ে ভরিয়ে তোলে কাঁধের খালুই   তারপর একদিন লোকটা নিজেকে ডোবায় সুযোগ পেয়ে আমি টেনে নিই ওর দীর্ঘনিশ্বাস   লোকটা শান্তি…

  • হয়তো

    পার্থ রায়   একদিন – পৃথিবীর সব ঘড়ি থেমে যাবে, সব কোলাহল থমকে থাকবে নিথর দিশেহারায়; জেনে নিও – সমাজের কানুনি কিতাব খেই হারিয়ে গ্রন্থাগারের নীরবতাকে মেনে নেবে; তখন – তুমি মাথা রেখো আমার প্রাচীন কাঁধে, হয়তো – নিশুতি শীতের রাতে ঝরাপাতাদের সাথে একটা ছেঁড়া কবিতার পাতা দূত হবে ভালোবাসার বার্তা নিয়ে

  • জল পড়ে পাতা নড়ে

    ইমরোজ সোহেল   ‘জল পড়ে পাতা নড়ে’… আমি তো নড়ি না পাতার মতন আমি পেতে আছি পাটি তুমি জল হয়ে পড়ো আমার ঘাঁটিতে আমি নড়ে নড়ে খাঁটি হয়ে যাই!   খাঁটি হওয়া এতই সহজ? সবকিছু ভরে আছে খাদে, সোনা-দানা তাও সত্যের ভেতর খাদ খাদভর্তি হাড়ে গড়া মিথ্যার পাও দুঃখ এক কোণে পুষে রাখে জলজ্যান্ত খাদ…

  • এক বৃষ্টির বিকেলে

    সুহিতা সুলতানা   এক বৃষ্টির বিকেলে পর্যাপ্ত শীতও ছিল চারপাশে সৌন্দর্যের বরফকুচি ক্রমশ ঢেকে দিচ্ছিল রাতের পূর্ণ চাঁদকে! তৃষ্ণার্ত কবি জ্যোৎসণাহীন সমুদ্রের নির্জনতায় একটু একটু করে নিঃসঙ্গ হয়ে ওঠে। দূরে বহুদূরে আগলে রাখে পথের আল। ভিন্ন চোখে যা দেখা যায় অসংখ্য বালুরাশি জীবনকে হাতছানি দিয়ে ডাকে। আনন্দহীন অদ্ভুত অতীত গ্রামে প্রতিশ্রুতির কোনো মূল্য নেই সে…

  • দুটি কবিতা

    অমিতাভ মৈত্র   প্রজাপতিদের শান্ত করে দাও   সারাজীবন দৌড়ে ঘড়িকে পরাভূত করে শেষ পর্যন্ত মোট এগারো দিনের মতো সময়টুকুই টেনেটুনে বাঁচাতে পারবে হয়তো।   কিন্তু এতগুলো বছর একবারও হাওয়া আর ঘাসদের না শুনে প্রজাপতিদের শান্ত না করে এই পরিত্যক্ত অসহায় আর নির্জন এগারোটা দিন তোমার কোনো কাজে আসবে হেনরি!   একটি হাতের অন্যায়  …

  • সময়ের আয়নায় ১৭-কে আমি ৭১ দেখি

    তারিক সুজাত   রাষ্ট্র যখন প্রতিদ্বন্দ্বী কী আর করা! তসবির দানার বদলে যারা আমার পূর্বপুরুষের খুলি দিয়ে জপমালা গেঁথেছিলো তাদের দাড়ি আর আলখালস্নায় আকাশ কালো করে এ-বৈশাখে ফের ঝড় ওঠে! রুগ্ণ সংবিধানটিকে যেদিন ধর্মের পোশাক পরানো হলো সেই মুহূর্তেই নগ্ন হলো মাতৃ-প্রতিভূ শহিদমিনার, ’৫২-র উৎসভূমি থেকে প্রতিধ্বনি হয়ে ফিরে ফিরে আসে প্রতিবাদী বর্ণমালা!   সময়ের…

  • দাগি

    শামীম আজাদ   দ-প্রাপ্ত দাগির মতো ভিন দেশে ভিন্ন সিথানে শুয়েও চমকে থমকে উঠছি বাংলাদেশের বিবিধ সময়ে।   দারুণ এক অভ্যাসের দায়ে জন্মদাগে বারংবার অশ্রুত গান্ধারে স্পৃষ্ট হচ্ছি আঘাতে আঘাতে কেঁপে  উঠছি নিরন্তর।   কান থেকে গহনা ছুড়ে ফেলেছি নির্ধারিত সেইসব ক্ষণ, সময় ও তারিখে সুস্পষ্ট শুনছি ওই দূরের রক্তচাবুকের শব্দ আর ছলকে উঠছি পরিযায়ী…