September 2013
-
নিসর্গের বিমূর্ত ছন্দ
মোবাশ্বির আলম মজুমদার বাংলার মাটির কোলে বেড়ে উঠেছেন গণেশ হালুই। ভারতবর্ষ আলাদা হলো ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকতা থেকে, সে-সময়ই ময়মনসিংহের জামালপুরের পৈতৃক নিবাস ছেড়ে ভারতের কলকাতায় চলে যান তিনি। কৈশোরে পা দিয়েছেন মাত্র। তাঁর বয়স বাড়ে সংগ্রাম আর উত্তাল সময়ের মাঝে। মস্তিষ্কে দানা বাঁধে সংগ্রাম। শপথ নিলেন, সময়ের কথা বলবেন ক্যানভাসে। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছেন ছবির সঙ্গে।…
-
চিত্রনিভা চৌধুরী কাছে যবে ছিল পাশে হল না যাওয়া
নিসার হোসেন শিল্পী চিত্রনিভা চৌধুরী জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৭ নভেম্বর অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলার জিয়াগঞ্জে। জিয়াগঞ্জেই ছিল তার মা শরৎকুমারী দেবীর পৈতৃক নিবাস। তবে তাঁর পিতা রেল বিভাগের ডাক্তার ভগবানচন্দ্র বসু ছিলেন চাঁদপুরনিবাসী এবং তাঁর কর্মক্ষেত্র ছিল বিহারের গোমেতে (বর্তমান ঝাড়খন্ডে?)। ১৯২৭ সালে নোয়াখালি জেলার লামচর অঞ্চলের প্রখ্যাত জমিদার ঈশ্বরচন্দ্র চৌধুরীর পুত্র নিরঞ্জন চৌধুরীর…
-
নদী কারো নয়
\ ২৭ \ মকবুল হোসেনের ঘুম ভেঙে যায়। রাত এখন কত? নির্ণয় তার নাই। কোথায় সে আছে তারও কোনো নির্ণয় নাই। প্রথমে সে মনে করে চাটগাঁয়ে বোধহয় আছে, সার্কিট হাউসের কামরায়, চাটগাঁয় সে এসেছে একটা সাহিত্যসভায় যোগ দিতে। পরমুহূর্তেই ঘোরটা ভেঙে যায় – এই চাটগাঁ থেকে ফিরেই তো সে বুয়ার কাছে জানতে পেয়েছিলো তার…
-
চশমার উত্তরাধিকার
হারিসুল হক আমার চশমাটা নিয়ে আয় হারু, খুব সাবধান পড়ে না যেন… আববার আয়েশি ফরমান। ইজি চেয়ারে শোয়া পিতা হাতে ধরা খবরের কাগজ স্বচ্ছ কাচের ভেতর নেচে ওঠা সংবাদমাছ – থেকে থেকে গম্ভীর হয়ে ওঠা। এখন আমার বিকেল বাইফোকাল লেন্সে সেঁটে থাকা সমুদয় দেখা। দিগরাল রেখা বেয়ে উঠে আসা দুর্বার লতানো জিভ কানের পেছন…
-
কেউ কেউ যখন চলে যায়
ইকবাল আজিজ কেউ কেউ যখন চলে যায়, মিথ্যেবাদীদের জগৎ তখন আলস্যে ঘুমায় অবিকল চারিদিক আচ্ছন্ন করে বৃষ্টি নামে এ-শহরে বংশাল রোডে সদরঘাটে ফরাশগঞ্জে গেন্ডারিয়ায় ঝিরিঝিরি বৃষ্টি কিংবা বজ্র-বিদ্যুৎসহ বৃষ্টি মহাখালী উত্তরায় কেউ কেউ চলে যায়, কেউ পথ হাঁটে অবিকল আগের মতো এ-জীবনে জয়ী কে? পরাজিত কারা? কারা স্বপ্নাচ্ছন্ন? বহুকাল ধরে পথগুলি যেন পথের মতো…
-
অপার্থিব সেই রাত
মারুফ রায়হান নদীতীর বারান্দায় মধ্যরাত চুম্বনে চুম্বনে আশ্চর্য বিহবল – চাঁদ নেই তবু জোছনা অপার রচিত হয়েছে এইখানে অভিনব অভিসার দুটি নরনারী জানে এই রাত স্বপ্নমূল্যে পাওয়া হয়তোবা ভোরে এ-সৌন্দর্য মিলাবে ধুলায়, তবু যতক্ষণ জীবন্ত এ-রাত ততক্ষণই স্বর্গসুখ ওঁৎ পেতে থাকে যদি দোজখ তো থাক – অধরের অনিঃশেষ তৃষ্ণা নিয়ে অন্ধকার আরো ঘন হোক…
-
নদী বা নারী
বিশ্বজিৎ চৌধুরী নদী শাসনের নামে কী হাল করেছো! মানি, বালিকা দুরন্ত ছিলো সীমানা ভাসিয়ে দিতো জলে যারা সীমানা সীমানা বলে পাড়া মাতিয়েছো ভাবো নাই বিদ্যুতের জন্ম হতো প্রবাহ-চঞ্চলে। আজ নিয়ন্ত্রিত স্রোত দেখে বুক ভেঙে যায়… সেই দুঃখ ছড়িয়ে পড়েছে কিছু নদীলগ্ন গৃহস্থ বাড়িতে, কিছুবা দীর্ঘশ্বাস সূর্যাস্তে গাছের পাতায়। হিজাবের কালো…
-
দুটি কবিতা
মারুফুল ইসলাম পথ অমৃতের অন্বেষণে যাই আলো আর অন্ধকারের অরণ্যে দেহতত্ত্বে মুক্তি খুঁজি পাইনি কূল ওখানে নৌকোর মাস্ত্তলে নিঃসঙ্গ লণ্ঠন সারারাত জ্বলে জ্বলে অবসিত ভয় নেই চলায় পথ অচেনা বটে, তবে আমিও নাছোড় পথিক তুমি কোন উদ্যানে সুশোভন করতে চাও নিজেকে প্রশ্ন করে জেনে নাও এই বেলা কেননা পাথেয় ফুরিয়ে যায় কিন্তু ফুরায়…
-
শূন্যতায় শিল্প অবগাহন
কাইয়ুম চৌধুরী সবুজ পটভূমিতে উথাল-পাথাল সর্পিল সাদা ওয়াকওয়ে মনে হয় যেন বহমান নদী ওপরে উদার আসমান ছুঁয়ে। গাঢ় নীল সমুদ্রে নৃত্যরত সূর্যরশ্মি আকাশ অরণ্য সেরো সাগরে নেই জলযান নৌকো সাম্পান কী বিশাল অবকাশ অন্তর-মাঝারে। পাহাড়ে সবুজ ঢালে ধানের আবাদ ভূমিতে একফোঁটা জলের পতন মুক্তো আধারসম প্রার্থনাগৃহ ধ্যানরত মানুষের বিশাল সৃজন। ডিম্বাকৃতি…
-
দুটি কবিতা
মিনার মনসুর আমি শুধু তাহাদের যাওয়া-আসা দেখি মুখোমুখি বসে আছি। যেন কতো কাছে। শরতের সপ্রতিভ মেঘের মতো ওরা আসে। আপনমনে হাসে কদাচিৎ। ফের ভেসে যায়। তার অবাধ্য চুল এসে ডাকাতের মতো হামলে পড়ে কামরাঙা ঠোঁটে। চলে খুনসুটি। আমার ভারি ঈর্ষা হয়। একদা যার পদভারে প্রকম্পিত হতো বিশ্ববেহায়ার বুক – তাকেও হেঁটে যেতে দেখি টলোমলো পায়ে।…
-
একটু দেখার কথামালা
রবীন্দ্র গোপ কেমন আছ কবিতা? চোখের তলায় বিষাদ নদী? আছি কেমন, জান সবি-তা। কাঁদুক নদী কাঁদুক তবু বলি, চলার পথে ভাঙছো যে পার আষাঢ় নদী বাঁধ মানে না, হার মানে না, তাইতো ভাঙে পাড়। বুকে তোমার জোয়ার-ভাটা কখন আসে যায়? চোখের দেখা নয় সে শুধু মনের দেখা চায় মন কাঁদে বন কাঁদে কাঁদে প্রিয়…
-
পদ্য-গদ্য
রাতুল দেববর্মণ একটি পালক উড়ে এসে পড়ল পায়ের কাছে পায়ের তলায় হলুদ ঘাসে দগ্ধ পোড়া দাগ কে জ্বাললো কে জ্বেলেছে রাখবে খবর কে পালক কী তার দায় নিয়েছে দাগ সে দেবে মুছে পদ্মের পাতা ওড়ে না কখনো পদ্যের পাতা ওড়ে কীসের জোর দু-চার লাইনের শেকড়হীন দোলে জল ভাঙলেও জল সরে না শব্দ ভাঙলে…
