January

  • সাপ

    আলোক সরকার   সবকটা অন্ধকার সাজিয়ে যাকে ভালোবেসেছি তার দিকে অভিশাপ আজো বিবাস হলো না।   অবিরাম দীনতা, অযোগ্যতা, দীনাতিদীন মৃত্যুপ্রহর।   তাজা পুষ্পচয়ন তাকেও রুগ্ণ ছেঁড়াখোঁড়া করা।   মাটি থেকে শিশিরসিঞ্চিত দূর্বাদল মন্ত্রপূত করে অঞ্জলি রচনা করা। পদতল কোথায়! দেখি ভীত সাপ কলবল করে পালাচ্ছে।

  • আকাশপ্রদীপ

    কালীকৃষ্ণ গুহ   অন্ধের সাহস নিয়ে রাস্তায় বেরোই। হিম পড়ে। অনিঃশেষ হেমন্তকাল। কতকালের আকাশ মাথায় নিয়ে প্রতিদিনের ভ্রমণ!   শূন্যতার ওপারে ঈশ্বর আছেন ভাবতে পারলে আনন্দ হতো। কিন্তু তা হবার নয়। আনন্দের উৎসগুলি খুঁজতে হবে গাছপালার মধ্যে পশুপাখির মধ্যে পোকামাকড়ের মধ্যে সমুদ্র আর অরণ্যপর্বতের নৈঃশব্দ্যের বিস্তারের মধ্যে আশায় বুক বেঁধে উঠে দাঁড়ানো মানুষের মধ্যে।  …

  • কতদূর? আর কতদূর?

    কতদূর? আর কতদূর?

    ঐশী আলমারি খুলল। বিয়ের নীল বেনারসিটার দিকে চোখ গেল। না। বিয়ের কোনো স্মৃতিই সঙ্গে নিয়ে লাভ নেই। ২৩ বছরের খুঁটিনাটি স্মৃতি যদি বইবেই তবে আর মুক্তি কিসে? অবশ্য – ঐশী নিজেই জানে না মুক্তি কাকে বলে। এই ২৩ বছরের মধ্যে আঠারো বছর ধরেই এই দিনটার অপেক্ষায় থেকেছে ঐশী। মুন্নির তখন পাঁচ বছর। তখন থেকেই ঐশী…

  • মমতাজ মহল

    মমতাজ মহল

    মহুয়ার সঙ্গে আমার দাম্পত্য কলহের অন্তত আশি ভাগ জুড়ে রয়েছে মমতাজ মহল। এক বা দুদিনের কলহের আশি ভাগ নয়। একত্রিশ বছর ধরে যত কলহ হয়েছে তার আশি ভাগ। ঝগড়াটা যেভাবেই শুরু হোক, এর উপসংহারে মমতাজ মহল থাকতেই হবে। আমাদের বিয়ের দ্বিতীয় বছরের শুরুতে এক রাতে খাওয়ার সময় হেঁচকি ওঠে। মহুয়া হেঁচকিটাকে খুব সিরিয়াসলি নেয়। আমি…

  • সাঁঝে-সকালের ঝিঙা ফুল

    সাঁঝে-সকালের ঝিঙা ফুল

    বাইরের উঠোনে সাইকেলের প্যাডেলে পা রেখে হরিহর হাঁক দিলো, ‘এসো!’ ঘরের ভেতর ভ্যানিটি ব্যাগে এটা-ওটা, মায় নিজের মোবাইল ফোনটা গুছিয়ে নিতে নিতে অণিতা উত্তর করল, ‘হ্যাঁ, যাই।’   সকালবেলা। ঝলমলে রোদ উঠেছে। বাঁশঝাড়ে নিম-চল্লার গাছে কাক-কুইরি যেমন ডাকে, ডাকছে। বেগুনঝাড়ের বেড়ায় লতিয়ে-ওঠা কাবাগুড়ি ফল পেকে এখন টকটকে লাল! হরিহর সাইকেলের বেলটায় আলতো চাপ দিয়ে ‘ট্রি-নি-টি’…

  • কানাই

    কানাই

    শ্রীকৃষ্ণের নামে নাম রেখেছিলেন ঠাকুরমা – কানাইলাল বিশ্বাস। হাটে-মাঠে মানুষ অবশ্য ওকে শুধু কানাই বলেই চিনত। তবে কেন জানি এলাকায় তেমন একটা সুনাম ছিল না কানাইয়ের। জন্মের পরপরই মা মারা গিয়েছিল কানাইয়ের। আর বয়োপ্রাপ্ত হওয়ার আগেই কলেরায় ভুগে দুদিনের ব্যবধানে মারা যায় বাবা রসিকলাল বিশ্বাস ও দিদি মালতী। সেই থেকে কানাই একা। মানুষ বৃদ্ধ ঠাকুরমার…

  • ছায়াবাজি

    ছায়াবাজি

    বলা নেই কওয়া নেই দুম করে অনন্তপ্রসাদ মরে গেল। ভোরবেলায় একে নিয়ে হাওয়া খেতে বেরোয় শিবু। খোলা হাওয়া পেলে বেশ তাগড়া দেখতে অনন্তপ্রসাদ দুরন্ত ঘোড়ার মতো ছুটে চলতে চায়। পিছু ধাওয়া করতে গিয়ে শিবু ক্লান্ত হয়ে পড়ে। হাঁপ ধরে যায় রীতিমতো; তবু কোনোদিন নিয়মের ব্যত্যয় হয় না ওর। যদিও এর বাহারি নাম অনন্তপ্রসাদ, আদতে এটি…

  • অমিয়ভূষণ : এক অনন্ত বিস্ময়

    অমিয়ভূষণ : এক অনন্ত বিস্ময়

    ভাষাশিল্পী অমিয়ভূষণ মজুমদারের জন্মশতবর্ষে তাঁর বর্ণময় সাহিত্য যাপনকে ফিরে দেখার একরকম অর্থ, এক রহস্যজনক ট্রমায় প্রবেশ করা। সুতরাং সেই ঘোর থেকে পরিত্রাণের পথ অনুসন্ধান করতে করতে আমাদের যা প্রাপ্তি হবে তা কি আদৌ তৃপ্ত করবে আমাদের! দেখব। কথাগুলোকে কোনো পাঠক নেতিবাচক মন্তব্য ভেবে নেবেন না, এই কারণে যে, স্বয়ং অমিয়ভূষণ এরকম ইঙ্গিত দিয়ে গিয়েছিলেন বহুবার।…

  • জীবনানন্দ দাশের তিনটি উপন্যাস : পরিবেশ ও প্রকৃতি

    জীবনানন্দ দাশের তিনটি উপন্যাস : পরিবেশ ও প্রকৃতি

    জীবনানন্দ দাশ (১৮৯৯-১৯৫৪) কবি, কিন্তু ধীরে ধীরে তাঁর কথাসাহিত্যের যে বিপুল সম্ভার আবিষ্কৃত হয়েছে তা সকলের কাছেই বিস্ময়কর। কেননা এসব উপন্যাস তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত। এ পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত উপন্যাসের তথ্য বিবেচনায় নিয়ে বলা যায়, মূলত দুটি পর্বে জীবনানন্দ দাশ উপন্যাস রচনা করেন। ত্রিশের দশকে তাঁর প্রথম পর্ব এবং দ্বিতীয় পর্ব চলিস্নশের দশকে রচিত উপন্যাসসমূহ।…

  • অদ্বৈত মল্লবর্মণের মননবিশ্ব

    অদ্বৈত মল্লবর্মণের মননবিশ্ব

    বাংলা সাহিত্যে অদ্বৈত মল্লবর্মণের অবদান কী এবং কেনই-বা আমরা তাঁকে স্মরণ করব, এমন প্রশ্ন যে-কারো মনে জাগা স্বাভাবিক। তিনটি উপন্যাস, চারটি ছোটগল্প, একটি উপন্যাসের অনুবাদ, কয়েকটা কবিতা-প্রবন্ধ-নিবন্ধ ও লোকসাংস্কৃতিক সংগ্রহ এবং সর্বশেষ-আবিষ্কৃত অগ্রন্থিত একটি পুস্তকের লেখাপত্র নিয়ে অদ্বৈত মল্লবর্মণের (১৯১৪-৫১) সাহিত্যিক জীবন। এই অল্প রচনায় কতটুকু গুরুত্বের দাবি রাখতে পারেন অদ্বৈত? আমাদের ধারণা, শুধু অদ্বৈতই…

  • ক্যামেরার কবি আনোয়ার হোসেন

    ক্যামেরার কবি আনোয়ার হোসেন

    তাঁর মৃত্যুর খবরটা দিয়েছিলেন শর্টফিল্ম আন্দোলন ও শুদ্ধ চলচ্চিত্রের অন্যতম পথিকৃৎ ঢাকার সমত্মান হাশেম সুফীভাই। মৃত্যুর পরপর সুফীভাই তাঁর ফেসবুকে স্ট্যাটাস না দিলে আমরা অনেকেই আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফটোগ্রাফার আনোয়ার হোসেনের মৃত্যুসংবাদ জানতে পারতাম না। দীর্ঘদিন ধরে তিনি শরীয়তপুর এবং ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। মাঝখানে কিছুদিন ফ্রান্সে তাঁর ফরাসি স্ত্রীর কাছে গিয়েছিলেন। কিছুদিন পর এক সমত্মানকে নিয়ে…

  • আনোয়ার হোসেনের চিত্রধারণরীতি প্রসঙ্গে

    আনোয়ার হোসেনের চিত্রধারণরীতি প্রসঙ্গে

    কে বানাল এমন রংমহলখানা বাউলতত্ত্বে মানবশরীরকে নৌকা, অধরচাঁদ, রংমহল ইত্যাদি অভিধায় রূপকার্থে চিহ্নিত করা হয়। মানবকে যিনিই বানাক,  জগৎ-সংসারে প্রাত্যহিক নানা কাজের জন্য মানব নিজেকে নিজেই উপযুক্ত করে তৈরি করেন তথা বানান। আনোয়ার হোসেনও (৬ অক্টোবর ১৯৪৮-১ ডিসেম্বর ২০১৮) তাঁর মর্জিমাফিক কাজের জন্য নিজেকে নিজেই বানিয়ে নিয়েছিলেন। নিজেকে শুধু চিত্রধারক বানাননি, মেধাবী ছাত্র, চলচ্চিত্রবিদ্যার শিক্ষক,…