January
-
চাঁদের তিনচাকা রথ
জলধি হালদার অতিকায় তিমিরা যেখানে লেজ উলটে দেয় হাঙর ও হারিকেনের খতরনাক কামড় ওত পেতে থাকে নেকড়ের ক্ষিপ্রতায় ঘোরাফেরা করে জলদস্যুরা… বাঁ-কাঁধে ঝুলছে ওয়াকিটকি, ডান হাতে টর্চ, সুনসান রাতে এপি ওয়াচের সামুদ্রিক নৈঃশব্দ্যে ঢেউয়ের মাথায় ভেসে ওঠে কবেকার হারিয়ে যাওয়া কলম্বাসের টুপি। গ্রহ-নক্ষত্রের ছায়াগুলি রাতের থমথমে জলে ভাঙা অক্ষরে কী যেন লেখে,…
-
সপ্তম আশ্চর্য হিসেবে সুন্দরবনকে ভোট না করা
শামসুল আরেফিন তোমার দৌড়ে পালানোর দৃশ্য হরিণের বিচলিত চাহনির কথা আমাকে মনে করিয়ে দেয় শিকারির তাক করা বন্দুকের গুলি কিংবা রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সন্তর্পণে ঝাঁপিয়ে পড়ার যৌথ আক্রমণের ভয় এসব কিছুই তোমার দরখাস্তে সংযুক্ত ছিল না প্রতিদ্বন্দ্বীহীন তুমি তোমার কোনো প্রতিযোগিতার উল্লেখ হাদিস শরিফে নেই তোমার নিরন্তর পালানোর দৌড় আমাকে মর্মাহত করে এভাবে…
-
কোনো এক হেমন্তের দিনে
সুহিতা সুলতানা কোনো এক হেমন্তের দিনে তোমার বিবেক মানে শারদ প্রভাতে আমার কাছে না থাকা? তোমার বিবেক মানে চুপিচুপি অন্য আরেকটি পরকীয়া করা? এই তো তোমার বিবেক আর অনুভূতির রং? দ্যাখো ঘন কাশফুলে ছেয়ে গ্যাছে বন রেলগাড়ি চলে ঝমঝম, হৃদয় ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায় নদীর ধারের কাশবন শরতের এমন দিনে মরে গ্যাছে স্মৃতির আহ্লাদ তোমার অভিবাসী…
-
জলের জাদুঘর
রবীন্দ্র গোপ রাত গভীর থমথমে কবিতার ঈশ্বর বসেন ধ্যানের প্রতিমা খুলে দেয় ত্রিকোণ জলের জাদুঘর বহু ঐশ্বর্যের গর্বিত মানবেরা কেটেছে সাঁতার রাত্রিভর ডুবেছে ভেসেছে, আবার কূলহারা নিমজ্জিত। বসন্তে কেউ বেসেছে ভালো মুছে শীতে কালো সাজিয়েছে জীবননদীর ঢেউয়ের ফুলে ফুলে থইথই জল ছলছল স্পর্শের আনন্দে উত্তাল তার ঘাম মিশেছে ওর ঘামে তারপর শান্তি, জলের শরীর।…
-
প্রার্থনা
শিহাব সরকার করি নিগূঢ় প্রার্থনা: ফেটো ওগো পাতালের ফুল দল মেলো অদৃশ্য নারী ও পরীরা বাগানে ফুটে গেছে সব কলি, বাগানের মৌমাছি সব মত্ত-মাতাল আমি বাঞ্ছা করি নিশ্চেতন নিদ্রা ওই ঘুমে স্বপ্নেরা জঞ্জাল, স্বপ্নে শুধু ভূত আসে। আশ্বিনের হঠাৎ বৃষ্টিতে ভিজে একাকার শহরের প্রিয় রাস্তায় রিকশা নেই মধ্যরাতে গলির মুখে অন্ধকারে-মেশা কালো গাড়ি মৃত্যুর শৃঙ্গার…
-
দুটি কবিতা
সাযযাদ কাদির তবু মণিমালা জানে সে আমার মণিমালা। তবুও মণিমালা যেন মণিমালা নয় – এইভাবে মণিমালা থাকে মণিমালা হয়ে। অবশেষে – সব শেষে তবু আমি চিনেছি তাকে – জেনেছি তাকে আমার মণিমালা। তবু সে দেখে না আমাকে – দেখে না আমার কিছু, বলে না কোনো কথা। তাহলে কাকে দেখে মণিমালা? কাকে বলে কথা? এত কথা?…
-
নদী কারো নয়
সৈয়দ শামসুল হক \ ১৫ \ অন্ধকারে চ্ছলচ্ছল করে চলেছে আধকোশা। কন্ট্রাক্টর সাইদুর রহমান কী জানবেন, যখন তিনি মকবুল হোসেনের সঙ্গে গল্প করছেন, কী তাঁর – জননন্দিত ঔপন্যাসিক মকবুল হোসেনের মনের মধ্যে তুফান তুলছে। আর ওদিকে ড্রাইভার মেহেরুল্লারই বা কী! মকবুল হোসেন নদীর অন্ধকার বুকে চোখ পেতে আছে। নদীর মতো নারী। শুধু নারী কেন? নর-নারী…
-
রশীদ করীমের চলে যাওয়ার দিন
হামিদ কায়সার তারা দুজনই তখন গৃহ-অভ্যন্তরে একরকম বানপ্রস্থীয় জীবন বেছে নিয়েছেন – একজন স্বেচ্ছায়, আরেকজন প্রকৃতির হেয়ালিতে; রশীদ করীম পক্ষাঘাতগ্রস্তে আক্রান্ত হওয়ার পর হারিয়েছেন লেখার ক্ষমতা আর মাহমুদুল হক লেখালেখি ছেড়ে স্পর্শ করেছেন অন্য এক অলৌকিকতাকে। কাকতালীয়ভাবে আমি দুজনের সঙ্গেই তাঁদের জীবনের এ-কালপর্বে জড়িয়ে পড়েছিলাম, পৌঁছেছিলাম তাঁদের নৈকট্যে এবং লাভ করেছিলাম গভীর সান্নিধ্য। আরো কাকতালীয়…
-
আমার দেখা রশীদ করীম
সুস্মিতা ইসলাম শেষ পর্যন্ত রশীদ করীম চলেই গেল; কিন্তু বড্ড নীরবে গেল, কদিন ধরে ঘুরেফিরে এই কথাটাই খুব মনে লাগছে। কিছুদিন আগে কলকাতার কোনো একজন লেখক সাম্প্রতিককালের উপন্যাস ও ঔপন্যাসিকদের সম্পর্কে আলোচনায় রশীদ করীমকে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, বিভূতিভূষণ, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ও অপর আরেকজন ঔপন্যাসিকের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন, এই মুহূর্তে তাঁর নামটা ঠিক মনে পড়ছে না; যিনি…
-
উত্তম পুরুষ
রফিক কায়সার প্রস্ত্ততি এবং সময় নিয়ে রশীদ করীম তাঁর প্রথম উপন্যাস উত্তম পুরুষ প্রকাশ করেন। সাহিত্যচর্চা শুরু করেন চল্লিশের দশকে, চল্লিশের শেষ ভাগ থেকে সাহিত্যচর্চায় স্বেচ্ছাকৃতভাবে বিরতি দেন। ছোটগল্প দিয়ে সাহিত্যজগতে প্রবেশ। পরে ঔপন্যাসিক হিসেবেই তিনি প্রতিষ্ঠা পান। সমালোচনা সাহিত্যেও তাঁর অবদান রয়েছে। সমসাময়িক লেখকদের নিয়ে লিখেছেন, প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ লেখকদের কোনো রচনা মনে ধরলে প্রশংসায়…
-
মৃত্যুতেও তিনি মহীয়ান
রামেন্দু মজুমদার ভেরর সাড়ে তিনটার দিকে তিনি ঘুম থেকে জেগে গেলেন। উঠে বাথরুমে গেলেন। পানি খেলেন। পরিচারিকা কাছেই ছিল, টের পেয়ে জিজ্ঞেস করল কিছু লাগবে কিনা, শরীর খারাপ লাগছে কিনা। তিনি সব ঠিক আছে জানিয়ে ওকে শুতে বললেন। নিজেও আবার ঘুুমিয়ে পড়লেন। সেই ঘুম থেকে তিনি আর জাগলেন না। ভোর ছটায় পরিচারিকা তাঁকে ওষুধ খাওয়াতে…
-
কবীর চৌধুরী
আনিসুজ্জামান ৮৮ বছর বয়সে, নিজে কষ্ট না পেয়ে এবং অন্য কাউকে কষ্ট না দিয়ে, মহাপ্রস্থান করলেন অধ্যাপক কবীর চৌধুরী। আমাদের সংস্কৃতিক্ষেত্রে এবং সামাজিক জীবনে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় করে রেখে গেলেন। পিতা খান বাহাদুর আবদুল হালিম চৌধুরী ছিলেন ব্রিটিশ আমলের বেঙ্গল সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তা। তাঁর তখনকার কর্মক্ষেত্র ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কবীর চৌধুরীর জন্ম হয় ১৯২৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারিতে।…
