February

  • নদীপাঠ

    শামীম হোসেন   আমাদের আড্ডা হয় প্রতিদিন। অমলিন …   ছোট ছোট ঢেউ পৌরাণিক ডানা মেলে – শিখিয়ে দেয় কীভাবে হাতের আঙুল ধরে পাড়ি দিতে হয় জলের পথ। কেননা আমরা – নদীর নিকটে বসি। জল থাকে আরো নিকটে …   যে-বৃক্ষ জলের আলিঙ্গনে ভিজে যায় রোজ আমরা তার নিচে বসি। খোশগল্প করি। গল্পের ভেতর থেকে…

  • ঝুমকা

    তুহিন তৌহিদ   আলোকোজ্জবল ঝাড়বাতি হয়ে ঝুলে আছে সোনালি ঝুমকা ব্রহ্মা–র তাবৎ সুন্দর নিয়ে। চুলের গোছার ছায়া ভেদ করে উঁকি দিচ্ছে, যেন বাঁশের পাতার ফাঁকে চাঁদ। বিচ্ছুরিত আলো হৃদয় অবধি যায় ছুঁয়ে   এমন শ্যামলমুখ, কী দারুণ কারুকার্যময়! তার মধ্যে ফুটন্ত গোলাপ, বিকেলের রোদছটা, ঘোর কাটছে না …

  • নবাবিপনা

    বিশ্বজিৎ মণ্ডল   এক যাও, আজ থেকে আমি অবাধ্য সিরাজ –   অসংযত পর্যটনে নেমে আমি আসন্তাবলে থইথই শহরজুড়ে উড়ছে, কামানদাগার আর্তনাদ ভুলে গেছি – নপুংসক, অন্ধ তীরন্দাজের দল অস্ফুটে সাজিয়ে রেখেছি, রুগ্ণ খাতা, অতিথি ওয়ারড্রব   মীরমদন বাস টার্মিনালে জ্বলে ওঠে, তপ্ত দুপুর … সিরাজপনা ছেড়ে সরে দাঁড়াই বিপ্রতীপে চন্দ্রাহত হয়ে খুঁজতে থাকি, বাইজিমহল…

  • জঙ্গলের গান

    তুষার কবির বিকেলের ঘুঘুডাক শুনে শুনে পৌঁছে যাই সেই সুরের তাঁবুতে। একটু আগেই দেখে এসেছি আমি ঝাপটানো ময়ূরীর ডানা – শুনে এসেছি ঘোড়ার খুরের ধ্বনি আর বনডাহুকির ডাক। কয়েকটি ডুমুরের দানা হাতের মুঠোয় নিয়ে আমি ঢুকে পড়ি সুনসান নিঝুম তাঁবুতে! একটু আগেই দেখে এসেছি আমি পোখরাজ সাপের বাঁকানো লেজ – শুনে এসেছি দোয়েলের সেরেনাদ আর…

  • দুপুরে দেবারতি

    পিয়াস মজিদ   সকালটা শুভ্র শঙ্খ ঘোষ, দুপুরটা রোদে পুড়ে তামা হওয়া কলকাতা। ঝিম মেরে বসে থাকা প্রয়াত কালিদাস রায়ের স্মৃতিমেখলা যাবতীয় স্মৃতির প্রতিবেশী কবি দেবারতি; মুখোমুখি গৌতম ম-ল আর আমি। দেবারতি বসে আছেন হাতের আমন্ত্র¿ণপত্রে ঘুমন্ত মণীন্দ্র, অক্ষয় মালবেরি থেকে আসন্ন সব স্মরণসভার রক্তমাংস ঝরে পড়ছে ঝরে ঝরে নহর বয়ে চলে মুজবৎ পাহাড়ের শোক-হাওয়াতে…

  • পূর্ণিমার চাঁদ

    সব্যসাচী দেব   তখন গাছের ফাঁকে উঁকি মারে পূর্ণিমার ভরা গোল চাঁদ তখন হাওয়ায় থাকে দূর থেকে ভেসে আসা রহস্যের স্বাদ   এখানে নদীর শব্দ আসে না তবুও তার অনাহত সুর তন্ত্রীতে তন্ত্রীতে বাজে, স্পর্শ করি অশ্রম্নতকে, যদিও সুদূর   তবে কি দূরের ধ্বনি কাছে এসে ক্রমাগত গান হয়ে ওঠে যেমন ধ্যানের মধ্যে অশরীরী আলতো…

  • জবানবন্দি

    প্রদীপ আচার্য   কোথায় যাই তা বড় কথা নয় যদি জন্নত ভুলে জাহান্নমেই যাই আমি সেখানেও তো আছি।   কী পাই তা বড় কথা নয় যদি কেউ অঞ্জলিতে আগুন ঢেলে দেয় আমি আগুনপানের শর্ত নিয়েই বাঁচি।   কী নিলাম তা বড় কথা নয় যদি কোনো পদ্মপুকুরে শালুক খুঁজে পাই আমি তুড়ি-আনন্দে নাচি।   কী দিলাম…

  • একটি নতুন আলাপ ও সমারোহণের বাস্তব

    জলধি হালদার কোনো কোনো মানুষ গাছের সঙ্গে কথা বলতে পারেন সেই সমারোহণের শিল্পদৃষ্টি সবুজ পত্রগুচ্ছের ওপর দিয়ে কালসিন্ধু পার করে দ্রাবিড় আসিরীয় মায়া কিংবা মিশরীয় উপলক্ষণে আবার ফিরে আসে এই নদীবাংলায়   তখন গোপন প্রদেশের তলানি ছিন্ন করে প্রকাশিত জীবনের বহুধাশিকড় অনীক অনীক আপনি কড়া পোশাকের সৈনিক আজ নতুন আলাপে বাজুক সূর্যের গিটার

  • প্রতিদিন জীবিত থাকি

    জলধি হালদার আমার জামার বোতামের দূরত্ব কখনো সমান থাকে না ফলে ভেতরের ঘামে-ভেজা স্যান্ডো আমার পইতে নেই এটা দেখা যায়   বুকের কাছে জামাটা টোপলার মতো ঝুলে থাকে সহজেই ঘূর্ণি এলোমেলো হাওয়া ঢোকে   গলার মাপটা কোনোদিন ঠিকঠাক নিতে পারেনি দর্জি খোলা গলায় মুখরভাবে প্রশংসা ও প্রতিবাদ বেরিয়ে আসে এবং প্রতিবাদের জন্য ভেঙে ফেলি আমার…

  • কবি সাযযাদ কাদির স্মরণে

    প্রিয় কবি প্রিয় সময়ের কামলা সাহেব সালাম জানবেন। পর সমাচার এই যে ইদানীং নতুন এক জোড়া জুতো কিনেছি কিন্তু কী আশ্চর্য পায়ে পরতে পারছি না যত্রতত্র ফোসকা কেটে উঠছে প্রতিবেশীরা বলাবলি করছে এই জুতো আমার পরিধানের যোগ্যতা নেই এ-বিষয়ে সংশিস্নষ্ট বিজ্ঞজনের সাথে আলাপ করেছি কেউ কেউ জুতো বদল করে নিতে বলছেন কেউ কেউ বলছেন আর্টিফিশিয়াল…

  • রবীন্দ্র-নজরুল সম্পর্ক এবং তার পরে

    রবীন্দ্র-নজরুল সম্পর্ক এবং তার পরে

    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) মহৎ কবি, বাংলার কবিদের ভেতর তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ, বিশ্বসাহিত্যে গীতিকবিতার ক্ষেত্রে এখনো অপ্রতিদ্বন্দ্বী, তাঁর সঙ্গে কাজী নজরুল ইসলামের (১৮৯৯-১৯৭৬) তুলনার কোনো প্রশ্নই ওঠে না; তবে লক্ষ্য করবার ব্যাপার থাকে যে নজরুলও মহৎ এবং বাংলা কবিতার ইতিহাসে প্রতিভা ও অর্জনের দিক থেকে রবীন্দ্রনাথের পরেই তাঁর স্থান। প্রথম ও দ্বিতীয়র মধ্যে দূরত্ব অবশ্য দুর্লঙ্ঘ্য। কিন্তু…

  • ইতিহাসের নির্মাণ থেকে বিনির্মাণে ফণীশ্বরনাথ ‘রেণু’

    ইতিহাসের নির্মাণ থেকে বিনির্মাণে ফণীশ্বরনাথ ‘রেণু’

    পেস্নটো অনুকরণকে Eikastika ও Phanatastika – এই দুভাগে ভাগ করে সত্য অনুকরণকে নীতির দিক থেকে গ্রহণীয় বলে ঘোষণা করলেন। তিনি শিল্পকে ‘অনুকরণ’ বললেও শিল্পের প্রেরণা অবশ্যই খুঁজেছিলেন দৈব ইচ্ছা বা কৃপার মধ্যে। তাঁর মতে, কবিরা কাব্য রচনা করেন (in a state of divine insanity) দৈব-উন্মাদনায় বা দৈব-প্রেরণায়। মূর্খ কবিরাও যে সুন্দর সুন্দর কাব্য সৃষ্টি করেন…