February

  • শেষ বিকেলের আলো

    শেষ বিকেলের আলো

    অশোককুমার মুখোপাধ্যায় ওই যে, নীল শার্ট কালো ট্রাউজার। ছ-ফুট দু-ইঞ্চি, চওড়া ছাতি – পঁয়তাল্লিশ ইঞ্চি নিশ্চয়। জিমে পাকানো শরীর। পরিষ্কার দাড়ি-গোঁফ কামানো। গাল নীলাভ, পঁচিশ-ছাবিবশ। প্রিন্স রহিমুদ্দিন লেন থেকে বেরিয়ে দুপাশ ভালো করে দেখে, লেফট-রাইট করে রাস্তা পেরিয়ে, তিনটি ঝুরি নামানো বটগাছের তলায়। পাঁচ মিনিট চুপচাপ দাঁড়িয়ে, টালিগঞ্জ থানার সামনে ফুটপাথে বসা জুতো পালিশওয়ালার দিকে…

  • বিশ্বায়নের কালপরিধিতে  দৃশ্যকলার রূপভাবনা

    বিশ্বায়নের কালপরিধিতে দৃশ্যকলার রূপভাবনা

    আবুল মনসুর প্রযুক্তির অবিশ্বাস্য উলস্নম্ফন আজকে আমাদের জীবনের সকল পরিপ্রেক্ষিতকে পালটে দিয়েছে। এর যত নেতিবাচক পরিণতির কথাই বলি না কেন, এটি স্বীকার করতে হবে, প্রযুক্তির কল্যাণেই গোটা পৃথিবীটা আজ চলে এসেছে আমাদের হাতের মুঠোয়। বিশেষ করে সময়ের বিবেচনায় এ-প্রবণতা বিগত একশ বছরে অভূতপূর্ব – সেটি তথ্যের আদান-প্রদান, যাতায়াত থেকে শুরু করে পণ্য, পেশা, ব্যবসা, পর্যটন,…

  • প্রাকজন্মশতবার্ষিক শ্রদ্ধাঞ্জলি  সুধীরলাল চক্রবর্তী  রজনী গো যেও না চলে

    প্রাকজন্মশতবার্ষিক শ্রদ্ধাঞ্জলি সুধীরলাল চক্রবর্তী রজনী গো যেও না চলে

    উনিশশো বিশে জন্ম, উনিশশো বাহান্নোতে বিদায় – মোটে বত্রিশ বছরের জীবন। এই সংক্ষিপ্ত আয়ুর কারণেই হয়তো গানের নেশায় মজেছিলেন শৈশবে – সংগীতে হাতেখড়ি হয়েছিল মাত্র এগারো-বারো বছর বয়সে। এই সীমিত আয়ুরেখার ভেতরেই তাই একটি অসমাপ্ত জীবন যেন একধরনের পূর্ণতা পেয়েছিল। সুরের ভুবনে যে অসামান্য অর্জন সম্ভব হয়েছিল দুই দশকেরও কম সময়ে, তাতে আশ্চর্য হতে হয়।…

  • সৈয়দ শামসুল হক-অনূদিত অগ্রন্থিত কবিতা ফিলিস্তিনি প্রেমিকের গান

    মাহমুদ দারবিশ ভূমিকা : আনোয়ারা সৈয়দ হক কবি-সব্যসাচী সৈয়দ শামসুল হক বিভিন্ন ভাষার বিপুল পরিমাণ কবিতা অনুবাদ করেছেন, যা তাঁর বিম্বিত কবিতাগুলো এবং অনুবাদ কবিতাসমগ্র বইয়ে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তবে সম্প্রতি এর বাইরেও তাঁর কিছু অনুবাদ-কবিতার সন্ধান পাওয়া গেছে, যা এখন পর্যন্ত অগ্রন্থিত। বর্তমান কবিতাটি আবুল হাসনাত ও মফিদুল হক-সম্পাদিত হৃদয়ে আমার প্যালেস্টাইন সংকলন থেকে সংগৃহীত।…

  • সিঁড়ি

    সুশীল মণ্ডল   প্রতিদিন একটি সিঁড়ি খুঁজি, সিঁড়ি বেয়ে পৌঁছতে চাই সম্পর্কের শেষ ধাপে।   পৃথিবীতে সম্পর্কের মধুমাস এখন শেষ হয়ে আসে।

  • ফাঁদ

    নাইমুল করিম   এক বহুতল ভবনের ছাদে রোজ বিকেলে দু-চারটা রক্তগোলাপ ফোটে   সুদৃশ্য গোলাপদৃশ্যে মুগ্ধ পাঁচ-সাত বাউন্ডুলে   আহা, কুমারী বাহারি বশীকৃত অনিন্দ্য গোলাপের ঐকমত্য ফুর্তি চাউনি   আমার বাউল ধ্যান-জ্ঞান কাড়ে ফাঁদে পা দিই।

  • পাতাঝরার অর্কেস্ট্রা

    সৌম্য সালেক   নৈঃশব্দ্যের চেয়ে কিছু বেশি খসে পড়ে হিম অনুপাতে ইথারের সুমধুর তানে ছড়ায় মাধুরী – ঘাসে ঘাসে, জল ও মাটির কিনারে মনোহর …   এসব পাখি শুনেছে আগে মধুমাসে ভ্রমর শুনেছে তারপর মেঘেরা বয়ে নিয়ে গেছে হিমাদ্রি-বাতাসে উত্তর সাগরপারে তাই এতো রাগের হিলেস্নাল   এসো উপবনে বিজন মধুস্বর – পাশে ঘুমায় ফুলেরা এমন…

  • জৈবচারী

    সাহিনা মিতা যতটা সময় নিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক পাপড়িগুলো নিস্তেজ ও বিবর্ণ হয়ে ঝরে পড়ে আপন শিকড়ে ততটা সময় ধরে প্রসাধনের আড়ালে চলে যাও চিনতে পারো কি না বুঝি না! বুঝি আমাকে বাড়িয়ে তুলতেই বাড়িয়েছো পা!   যখন ফিরে আসো তখনো অন্ধকার, শিশির ঝরাতে এতোটা কঠিনও কি হতে হয়? স্পর্শকাতর একফোঁটা জল বইকি! এতটা দলে গেলে ভেঙে…

  • বিষণ্ণ মুহূর্তের গল্প

    চাণক্য বাড়ৈ কারা আসছে নিষিদ্ধ ভায়োলিন বাজিয়ে – তাদের কাছে গিয়ে বলি, উজ্জ্বল হও, বের হয়ে এসো এই ঘোরগ্রস্ততা থেকে – এতদিন তীরবিদ্ধ ছিলে, এখন পান করো এই সুর – কথার নির্যাস – কবরের পাশ দিয়ে হেঁটে যেতে যেতে তোমরা শুনতে চাও মৃত মানুষের গান – অথচ, মাথার ওপর যুদ্ধবিমান উড়িয়ে দিয়ে সারাক্ষণ বিরক্ত করো…

  • নীলপরি

    সজীব সাহা   পরিটার নীল জামা তার নাকি তিন মামা।   সারাদিন খায় না ইশকুলে যায় না।   শুধু খায় বিস্কুট আর খায় কোক বাইরের খাবারেতে শুধু তার ঝোঁক   পরি খুব বোকা না দেখতেও রোগা না। তারপরও দাদি বলে বেশি করে খা, মা বলে, বাবা বলে ইশকুলে যা।   কিন্তু সে-পরিটার মনটা তা বোঝে…

  • ফাগুনসরণি

    অথির চক্রবর্তী   একেকটি ঝরাপাতা ফুলগাছের ডায়েরির পৃষ্ঠা। ইষ্টিকুটুম পাখি জানে ফুলের বনে আগুন লাগলে কত দ্রম্নত ছড়িয়ে যায়, ফুলবন অনেক বেশি স্পর্শকাতর। ফুলের ছাই চিনেছি আমি, দুঃখঅন্ধ? কানাগলির কানু? ছাই থেকে আবার আস্ত একটি গোলাপ ভাবতে না পারলে কেউ কখনো কাউকে ভালোবাসে না।   ইষ্টিকুটুম পাখির রক্তের সিম্ফনি বুকে আমি মুখস্থযাপন থেকে চাইছি ছুটি…

  • ব্রহ্মপুত্রের কালীবাড়িতে

    সেলিম মাহমুদ   চাঁদ গলে গলে মোমচাঁচ হয়ে গেছে। দাসপাড়ার শুঁটকিপল্লি ছেড়ে চাঁদ গমন করেছে ব্রহ্মপুত্রের কালীবাড়িতে; যাই, দেখি, ধুয়ে নিই মুখ, দেখি জেলেদের জোছনাপালন। লোকনাথ আশ্রমের ঠিক নিচে পিঠাওয়ালি এক দিয়েছে বাতাস সুঘ্রাণের আস্বাদন এনে দিতে। ব্রহ্মপুত্রের পানিতে ধীবরকুলের কেহ জাল হাতে ধরি মাছ ছুঁই পানি মন নিয়ে, মাছ নিয়ে ফিরে আসে চন্দ্রমুখী তারাপুঞ্জে…