February

  • রোকেয়া সুলতানার অদৃশ্য শহর

    মূল : অদিতি গানীভ সাংওয়ান অনুবাদ : আদনান মনোয়ার হুসাইন সৃজনশীল অনুপ্রেরণায় ঋদ্ধ একজন শিল্পীই কেবল তাঁর সৃষ্টির নিত্য তাড়নার মধ্য দিয়ে কল্পনার কথা বলতে পারেন। চিত্রকর্ম তো কল্পনা, সৃষ্টি ও ছন্দের সম্মিলন, ভিন্ন-ভিন্ন মাধ্যমে নন্দনতাত্ত্বিক অভিজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ। সৃষ্টিশীলতার সার্বক্ষণিক তাড়নার সঙ্গে অপরিমেয়কে পরিমাপের প্যাশনের মিলন ঘটলেই তা মহৎ শিল্পের উৎস হয়ে ওঠে। রোকেয়া সুলতানার…

  • শিল্পের মহোৎসব

    মোবাশ্বির আলম মজুমদার বিশ্বশিল্পকলার সঙ্গে বাংলাদেশের শিল্পকলার যোগসূত্র স্থাপনের ইতিহাস রচিত হয় বেশ আগেই। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের হাতে আবহমান বাংলার শিল্পকলার প্রাচুর্যপূর্ণ ভাণ্ডার বিশ্বশিল্পকলার সঙ্গে যুক্ত হতে থাকে। কারণ শিল্পাচার্য মনে করতেন, একটি মানবগোষ্ঠীর জীবনপ্রবাহ, আশা-আকাঙক্ষা, সভ্যতার ধারা ওই দেশের শিল্পকলার স্বকীয়তার মাঝে প্রতিফলিত হয়, পৃথিবীর তাবৎ শিল্পকর্মে এভাবেই নানান জনগোষ্ঠীর জীবনপ্রবাহ, আশা-আকাঙক্ষা, সমাজ, পরিবেশ,…

  • কুমকুম ভালো আছে

    জাহিদা হিনা অনুবাদ : বুলবুল আহমেদ   আমার আদরের দাদিমা। নমস্কার! আজ কয়েক সপ্তাহ পরে কাবুলে ফিরেছি, দেখছি তোমার লেখা চিঠি আমার জন্য অপেক্ষায় রয়েছে। তোমারটা ছাড়াও বাড়ি থেকে অনেকের চিঠি এসেছে : মা, ভাই, উমাদিদি এবং সুস্মিতা সকলের। কিন্তু তার মধ্যে, মধুরতম চিঠিটা তো তোমারই। আর এই চিঠিতে তুমি বেশ একটা বকুনি দিয়েছ আমাকে…

  • ওক্তাবিও পাসের কবিতা ‘অন্তরের বৃক্ষ’

    অনুবাদ : বিকাশ গণ চৌধুরী অন্তরের বৃক্ষ। এ-নামেই সূচিত ওক্তাবিও পাসের, যাঁর শেষ অধ্যায়ের জন্য তিনি ব্যবহার করেন সেই একই নাম, এক সম্পৃক্ত বুননের নিদর্শন হিসেবে। অন্তরের বৃক্ষ, ইস্পানি ভাষায় যা, Arbol adentro, ওক্তাবিও পাস তা রচনা করেন ১৯৭৬ থেকে ১৯৮৭ সালের মধ্যবর্তী সময়ে এবং তা পুস্তকাকারে প্রকাশ পায় ১৯৮৭ সালে। এখানে প্রকাশিত পাঁচটি কবিতা…

  • জলিধান

    মাসুদ পথিক   আগাছার বিপরীতে যে হারানো শস্যের বিহবল মুখ তার নাম জলি, জলি চাষার মেজো মেয়ে   আমি চুপিচুপি দেখেছি তার মনোলোভা বুক পুষেছি তার গোপন অসুখ   ওগো ধান, ওরে জলি তুই মাঠের শেষ গান তবে কে আঙিনা মাড়িয়ে নিয়ে যায় তোর সোনা রূপ   আমি আজ মূক, আমি নয়তো মাঠের বিষণ্ণ মুখ

  • হয়তো

    পার্থ রায়   একদিন – পৃথিবীর সব ঘড়িগুলো থেমে যাবে, সব কোলাহল থমকে থাকবে নিথর দিশেহারায়; জেনে নিও – সমাজের কানুনি কিতাব খেই হারিয়ে গ্রন্থাগারের নীরবতাকে মেনে নেবে; তখন – তুমি মাথা রেখ আমার প্রাচীন কাঁধে, হয়তো – নিশুতি শীতের রাতে ঝরা পাতাদের সাথে একটা ছেঁড়া কবিতার পাতা দূত হবে ভালোবাসার বার্তা নিয়ে।

  • ভুবন বেদেনির পাড়া

    আহমেদ বাসার   এখনো নেভেনি আলো – আরো কিছুদূর হেঁটে যাও ভুবন বেদেনির পাড়া হতে কিছুটা পশ্চিমে হেলে যে-পথ চলে গেছে জীবন-মাঝির কুটির ঘেঁষে তার শেষপ্রান্তে ঝুলে আছে আদিম হারিকেন যদিও নিভুনিভু – হাতে তুলে নিয়ে কিছুটা উসকে দাও আলো, চড়া দামের কেরোসিন যদি সম্ভব হয় কিছুটা কিনে নিও প্রগতির দোকান থেকে সভ্যতার সমস্ত বাতি…

  • ওমরান দাকশিনের জন্য

    জোবায়ের মিলন   অবনত হও পৃথিবী দাম্ভিক অহমিকা থেকে নেমে এসে মিশে যাও পায়ের স্যান্ডেলে, ঝরা পাতার ধূলিকণায়, নগণ্য ভাগাড়ে। প্যাগোডা, গির্জা, মসজিদ, মন্দিরে মানায় না তোমায়। শিশুরক্তে রঞ্জিত তোমার হাত, দাঁত, লালসান্বিত চোখ।   ‘ভদ্র বিশ্ব’ বলে যাকে তুমি দাও সন্তান স্বীকৃতি তোমার সে-সন্তান বিকৃত লোভে বিনষ্ট বীজ তার থেকে জন্ম নিচ্ছে অযুত নিযুত…

  • অজ্ঞেয়

    সাবিনা ইয়াসমিন   কে জানত শুকিয়ে যাবে এইসব বিসত্মীর্ণ নদী মরে যাবে লাল চাঁদ এমনকি টইভুইজুড়ে জ্বলদর্চির মতো জ্যোৎস্নায় অপেক্ষারত অনড় অহল্যার শরীরে জন্ম নেবে দীঘল শষ্প আর, শীতঘুম ভেঙে কোনো এক ঘোরলাগা ভোরে কবি ফিরবেন বলে ওমে চোখ মেলবে আদুরী রোদ?   এও কি জ্ঞেয় ছিল ভালোবাসার চেয়েও বেশি কিছু জঙ্গম আছে সঞ্চারণশীল, প্রাণ…

  • তাহলে আয়েশা, তোমাকে

    আলোময় বিশ্বাস   যে রাতে হাঁসগুলি গ্রাম ছেড়ে চলে গেছে সেই আঁধারেই পাখা মেলেছে আলোকসুন্দর পাখিরা। শোনা কথায় ঢুকে পড়েছে সৌভাগ্যের কপাল আর ঝাঁপি খুলে ধরেছে পঞ্চতন্ত্র হ্যাঁ একেই বলে ত্রাসের যজ্ঞ। সে-রাতে সব কাক একসাথে ডেকে উঠেছিল সে-আঁধারে নক্ষত্র জ্বলে উঠেছিল বনবাদাড়ে কালো ছায়ায় বট শেওড়ার আড়ালে লুকিয়ে কাঁপছিল বাড়ির বেড়াল-কুকুর ঘটিবাটি গলে যখন…

  • তিনটি কবিতা

    জিনাত জাহান খান দ্বিধা   আসমান থেকে নেমে আসা মেঘ-সিঁড়ি দ্বিধা ভারাতুর পায়ে, সে কী ভেঙেছিল?   দিঘির শালুকে একা কাঁপছে সময় – কাঁপছে ক্ষনেক জল, চোখের পাতায়।   মনে নেই, হাতে হাত রেখেছিল কিনা রেখেছিল কিনা মন মনের ভেতরে।     হুইসেল   অদ্ভুত সুন্দর এক শাদা কাগজ! পৃষ্ঠা জুড়ে আঁকা অসংখ্য চুল্লি­, প্যারেড…

  • আরো গভীরে আরো ভিতরে

    শিউল মনজুর এখানেই শেষ নয়। সামনে রয়েছে আরো অসংখ্য রহস্যময় পথের বাঁক। রয়েছে সোনালি পথের ধূলি। বাঁকে বাঁকে শালিক, টিয়া, ময়না ও নানা রং পাখিদের মুখ রয়েছে লুকিয়ে। আর মনে রেখো পথের ধূলিতে উড়ছে দশকে দশকে হারানো ডাক পিয়নের চিঠি অথবা মার্বেল খেলার দিন। অথবা কোথাও কোথাও দাঁড়িয়ে আছে নক্ষত্র বেদনার পাঠশালা। এখানেই শেষ নয়।…