March
-

সুকুমার বড়ুয়া : জীবন ও সৃষ্টি
আধুনিক বাংলা ছড়াসাহিত্যের এক অনন্য সাধক সুকুমার বড়ুয়া (১৯৩৮-২০২৬)। প্রায় পঁয়ষট্টি বছর ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে ছড়াসাহিত্যকে সমৃদ্ধ করে গেছেন তিনি। বাংলাদেশে এত দীর্ঘকাল নিবিষ্ট ছড়াসাহিত্যচর্চা আর কেউ করেননি। তবে তাঁর ছড়ার সংখ্যা বিপুল-বেশুমার নয়। সাকল্যে হাজার দুয়েকের মতো ছড়া লিখেছেন তিনি। চর্চার ব্যাপ্তিকাল বিবেচনা করলে রচনার এই পরিমাণ অনেকের তুলনায় হয়তো কম। কিন্তু তাঁর পাঠকপ্রিয়তা ঈর্ষণীয়।…
-

পৃথিবীর তাঁতঘর
ইন্ডাস্ট্রি শব্দটার ‘শিল্প’ ছাড়া আর কোনো ভালো বাংলা জানা আছে কি আমাদের? ইংরেজিতে I Ndustry বলতে যা বোঝায়, Art বলতে তো তা বোঝায় না। তবে বাংলায় এই দুটোকেই ‘শিল্প’ শব্দটি দ্বারা প্রকাশ করা হয় বলে আমাদের জাতিগতভাবে কতগুলো দ্বিধার জায়গা তৈরি হয় – আমার কথা নয়। আমি তুলে ধরছি টাঙ্গাইল তাঁতশিল্পের দেড়শো বছরের ঐতিহ্যকে ধরে…
-

প্রকৃতির স্বর্ণরেণুর খোঁজে বালিদ্বীপে
ভ্রমণে মানুষের জিজ্ঞাসার জট খোলে। অজানাকে জানা যায়। প্রশান্তি তো আছেই। প্রকৃতির কোন উপকরণ ভ্রমণপিপাসুকে বেশি টানে – সে-বিষয়টি ভ্রমণের স্থান নির্ধারণের নির্ণায়ক শক্তি। অনেক সময় দ্বিধাতেও জড়াতে হয় স্থান নির্ধারণে। তবে বোধকরি অসীমের প্রাণে চলা জলরাশির সমুদ্র ভ্রমণ মানুষকে টানে বেশি। সেই সমুদ্র যদি হয় মহাসমুদ্রের সৈকত, তবে কে না চাইবে তার সারথি হতে!…
-

বিবাহযোগ
এক পুত্র বিবাহযোগ্য। তাকে কি আর দামড়া হয়ে ঘুরতে-ফিরতে দেওয়া যায়? নাসিমের ক্ষেত্রেও তার অন্যথা হয়নি। মাতার এই ইচ্ছাটাই প্রবলভাবে সংক্রমিত হয় দাদির মধ্যে। তবে তার চেয়েও বোধ হয় বেশি ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েছিল ঘটককুল। তাদের এই আক্রমণের প্রথম লক্ষ্যবস্তু ছিল নাসিম নিজে। – কোন কন্যা ফর্সা। – কোন কন্যা সুন্দরী। – কোন কন্যা সুলক্ষণা। –…
-

কসমস : পৃথিবী দর্শনের আলোকবর্তিকা
বিংশ শতাব্দীতে এসে প্রথম মানুষ অনুভব করল, এত অর্জন আর সমৃদ্ধি সবকিছু জলাঞ্জলি হতে পারে মহাবিশ্ব বিকাশের সঙ্গে নিজেকে সংশ্লিষ্ট করতে ব্যর্থ হলে এবং মানবসমাজে নিজেরা পরস্পরকে বুঝতে অসমর্থ হলে।এ-অবস্থান থেকেই কার্ল সাগান তাঁর অসাধারণ গ্রন্থ কসমস লিখলেন। কসমস-এ তিনি বললেন, বিশ্বের শুধু বিকাশোন্মুখ সৌন্দর্য রয়েছে বা এটি মানুষের পক্ষে শুধু অনুধাবন করাই সম্ভব নয়,…
-

মমতাজউদদীন আহমদ : কালের দগ্ধীভূত উত্তপ্ত কথাকার
বাংলাদেশের নাট্য-আন্দোলনকে যারা গতিশীল করেছেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম মমতাজউদদীন আহমদ (১৯৩৫-২০১৯)। তিনি একাধারে অভিনেতা, নাট্যকার, নির্দেশক, প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক। মঞ্চের জন্য মৌলিক ও রূপান্তর মিলিয়ে ৩০টির মতো এবং বেতার-টেলিভিশনের জন্য ৩৭টির বেশি নাটক লিখেছেন তিনি। শতাধিক নাটক-সিনেমায় অভিনয় করেছেন। তাঁর রচিত নাটকগুলো মঞ্চ, বেতার ও টেলিভিশনে যেমন ব্যাপক সমাদৃত হয়েছে, তেমনি বাংলা সাহিত্যেও গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন…
-

-

আহমদ রফিক : সংগ্রামে-সৃজনে এক ভাষাসংগ্রামী
(আহমদ রফিক : জন্ম ১৯২৯ সালের ১২ই সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর গ্রামে) স্বদেশ এখন মানচিত্রে আঁকা সুশ্রী রঙিন পতাকায় লেখা, তবু খুঁজে ফিরি সবার স্বদেশ জানি না সে চাওয়া কবে হবে শেষ। – আহমদ রফিক কবিতায় প্রতিফলিত চেতনা ধারণ করেই আহমদ রফিক জীবনজুড়ে নিজের সৃজনপ্রতিভাকে সক্রিয় রেখেছেন মননশীল ধারায়। সৃজনশীল মানুষেরা আবশ্যিকভাবেই…
-

আলোকশিখা হয়ে ওঠা একজন সন্জীদা খাতুন
বিভূতিভূষণের ‘কিন্নর দল’ গল্পটি আমরা অনেকেই পড়েছি। গ্রামের সবচাইতে সচ্ছল পরিবারের বড় ছেলে শ্রীপতি বৌ নিয়ে আসেন কলকাতা শহর থেকে। সে-বৌ এসে পড়েন এক জীর্ণ গ্রামে, যেখানে লোকে খেতে পায় না। অভাবে পড়ে যা হয় আর কি, কারো সামান্য উন্নতিও যেন সহজে অন্যের সহ্য হয় না। গ্রামের বৃদ্ধা, বৌ, মেয়ে একে অপরকে হিংসা করে আর…
-

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর অন্তহীন অন্বেষণ
আধুনিক বাংলা সাহিত্যে সৃজনশীল রচনার যে সম্ভাবনা ও বিকাশ দেখা যায়, মননশীল রচনার ক্ষেত্রে তা কিছুটা অনুপস্থিত। চিন্তাশীল রচনা তথা মননশীল সাহিত্য বাংলা সাহিত্যের অন্যান্য শাখার তুলনায় অনগ্রসর। ইংরেজি, ফরাসি, জার্মান বা স্প্যানিশ ভাষার সাহিত্য সৃজনশীলতা ও মননশীলতা উভয়ক্ষেত্রে সমৃদ্ধ। এসব পাশ্চাত্য ভাষায় বিজ্ঞান, দর্শন, ইতিহাস, সমাজতত্ত¡, সংস্কৃতি, রাজনীতি, অর্থনীতি নিয়ে এমনসব বই ও প্রবন্ধ…
-

যতীন সরকার : সত্যনিষ্ঠ সাধক
এই লেখাটির একটি উপশিরোনাম হতে পারে, ‘যতীন সরকারকে কেন দরকার’। বস্তুত এই শিরোনামটি আমি দিতে বলেছিলাম তাঁর ৬০তম জন্মবার্ষিকীতে তাঁর সম্পর্কে কয়েকজন লেখক-সাহিত্যিকের মন্তব্য নিয়ে করা সংবাদ পত্রিকার এক সাংবাদিকের প্রতিবেদনের। তিনি অবশ্য তাঁর মতো করেই একটা শিরোনাম দিয়েছিলেন, প্রতিবেদনটিও ছিল সংক্ষিপ্ত। কিন্তু ওই শিরোনাম প্রস্তাব করার পেছনে আমার একটা কারণ ছিল, এবং তা ছিল…
-

হায়াৎ মামুদ : সদাহাস্য পেলব লেখক
নানা কারণেই নিশ্চয় – হামীম কামরুল হক আমাকে হায়াৎ মামুদ সম্পর্কে তাঁর সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যে বললেন যে, হায়াৎ মামুদ ছাত্রছাত্রীকে ব্যতিক্রমহীনভাবে যে-কথাটি বলতেন তা হচ্ছে, বাংলা গদ্য এবং পদ্য শেখার জন্য তারা যেন বঙ্কিম এবং মধুসূদন পড়ে, জানে। সম্প্রতি আমি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু তুলনামূল্য সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটে অনিয়মিতভাবে দুটো কোর্স পড়াই। সেখানে হামীম কামরুল…
