March
-
পাথর ও রক্তের বিবাদ
কি আছে অনাস্বাদিত? ঠোঁট রেখে কঠিন শিলায় পাথরের গন্ধ শুঁকি পেতে চাই সৃষ্টির লবণ। গ্রানিটে জিহ্বা লাগে, আলজিহ্বে শ্যাওলার স্বাদ স্বাদ নয়, এ কেবল পাথর ও রক্তের বিবাদ। অভুক্ত কবির মুখে, আলজিহ্বে জমেছে যে পানি এ দিয়ে নরম হয় জগতের প্রকৃতিনিচয়, কেবল অনম্য তুমি। পাথরের চেয়েও পাথর। হাসো বাসো নাশ করো মানুষের সব বরাভয়। ২…
-
টোকিও থেকে জাপান দর্পণ
বার্ধক্যের ভালোবাসা ভালোবাসার প্রচলিত ধারণা অনুসরণ করে ভাবনা-চিন্তা করলে স্বাভাবিক যে-সিদ্ধান্তে সহজেই উপনীত হওয়া যায় তা হলো, বার্ধক্য ভালোবাসায় চির ধরায়। তারুণ্যের উদ্দীপনায় যে তরুণ-তরুণী এক সময়ে মুহূর্তের জন্যেও একে অন্যের থেকে দূরে সরে থাকতে নারাজ, তাদেরকেই হয়তো বিবাহিত জীবনের প্রান্তে এসে পরিণত বয়সে দেখা যায় নিজেদের মধ্যে আগ বাড়িয়ে কিছুটা দূরত্ব তৈরি করে নিতে।…
-
বিজ্ঞান বনাম প্রযুক্তি
মা এবং সন্তানের মাঝে তুলনা করতে গিয়ে একটা খুব সুন্দর কথা বলা হয়, কথাটা হচ্ছে : ‘কুপুত্র যদি বা হয়, কুমাতা কখনো নয়।’ সন্তানের জন্যে মায়ের ভালোবাসা দিয়েই একটা জীবন শুরু হয় তাই মায়ের উপর এতো বড় একটা বিশ্বাস থাকবে বিচিত্র কী? কুপুত্র এবং কুমাতা নিয়ে এই কথাটা একটু পরিবর্তন করে আমরা বিজ্ঞান আর প্রযুক্তির…
-
নিবেদন
বাংলাদেশের পাঠকদের সঙ্গে আমার আত্মীয়তা শুরু হয়েছিল প্রায় কুড়ি বছর আগে, যখন কালবেলা বের হয়েছিল বই হিসেবে। তখন ঢাকায় অসৎ প্রকাশকরা সক্রিয় ছিলেন না, তাই আমার বই পাইরেট হতো না। কলকাতা থেকে যেসব বই যেত তা থাকত ঠিকঠাক। পরে যখন পাইরেসি প্রায় মুড়ি-মিছরির মতো ছড়িয়ে পড়ল, আমাদের অনুমতি ছাড়াই বইগুলো ওখানে ছাপা হতে থাকল তখন…
-

‘ঘরেরও নয় পারেরও নয়’ : এডওয়ার্ড সাঈদের আউট অফ প্লেস
যারা এডওয়ার্ড সাঈদের ওরিয়েন্টালিজম (১৯৭৮) গ্রন্থটি পড়েছেন এবং যারা তাঁর উত্তর-উপনিবেশী নানা চিন্তা-ভাবনাকে অনুসরণ করেন, প্যালেস্টাইন সম্বন্ধে তাঁর লেখালেখি ও তাঁর মানবতাবাদী বিশ্বাসের সঙ্গে যাদের পরিচয় রয়েছে এবং যারা তাঁর গৃহহীনতার বেদনাকে বুঝতে চান, তাদের জন্য আউট অফ প্লেস অবশ্যপাঠ্য। এ বইটি সাঈদ লিখতে শুরু করেন ১৯৯৪ সাল থেকে – এর মাত্র তিন বছর আগে…
-

এডওয়ার্ড সাঈদের প্রাচ্যভাবনা
এডওয়ার্ড সাঈদ চলে গেলেন। কিছুটা আকস্মিক হলেও তাঁর মৃত্যুর জন্যে অনেকেই প্রস্তুতই ছিলেন। তাঁর দেহে দীর্ঘদিন থেকে কর্কট রোগ বাসা বেঁধেছিল। ১৯৭৮ সালে বেরিয়েছিল তাঁর সেই সাড়া জাগানো, দুনিয়া কাঁপানো গ্রন্থ ওরিয়েন্টালিজম। সেই থেকে ২০০৩ সাল-এই পঁচিশ বছরে আমাদের চিন্তার ভুবনে তিনি মহীরুহের ছায়া বিলিয়ে গেছেন। প্রাচ্যকে তিনি যে অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে দেখেছেন, তা-ই যে একেবারে…
-

আমাদের জাতীয় জীবনের মহান দুটি ঘটনাই শিল্পচর্চায় আমার প্রেরণার মূল উৎস বলে আমি মনে করি : রিজিয়া রহমান
সাক্ষাৎকার গ্রহণ : হামিদ কায়সার এমএ পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগে আগে হঠাৎ মাথায় একটা উপন্যাস লেখার প্লট ভর করলো তাঁর। যদিও তিনি খুব মনোযোগী ছাত্র, ভালো ফল করে একটা ভালো ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন তখন, কিন্তু উপন্যাস লেখার ভেতরকার আমন্ত্রণকে কিছুতেই উপেক্ষা করতে পারলেন না। শুরু হয়ে গেল লেখা। মাঝখানে পরীক্ষাটা দিয়ে, পুরো উপন্যাসটিই সমাপ্ত করে…
-

গল্পের গোলকধাঁধা
বছর পাঁচেক আগে শরাবনের বয়স যখন পঁচিশ, রবার্ট তুহিন রোজারিওর মুখে প্রভুভক্ত আর পরোপকারী কুকুরের গল্প শুনে শুনে তার মনে হয়েছিল, জীবনের একটি সম্ভাবনার বুঝি অকালমৃত্যু ঘটেছে। আর সেটি হচ্ছে বৃদ্ধ বয়সে নাতি-নাতনি পরিবেষ্টিত অবস্থায় উঁচু বালিশে হেলান দিয়ে মৃত্যুবরণ করার, যা টিভি নাটকের দাদি-নানির বেলায় হামেশাই ঘটে থাকে। বিবাহিত রবার্ট তুহিন রোজারিও বনস্পতি বৃক্ষের…
-

চব্বিশ ঘণ্টা
ঠিক এই সময়টাতেই ওরা আসেন। কেমন যেন বাঁধাধরা নিয়মের মতো দাঁড়িয়ে গিয়েছে ব্যাপারটা। রোজা শুরু হবার কদিন পর থেকেই এমনটি হচ্ছে। ঠিক বলে কয়ে নয়। অলিখিত, অকথিত একটা প্যাটার্নের মতো। রোজ সন্ধ্যাবেলা ওঁরা এসে উপস্থিত হচ্ছেন সুশীলের দোকান ‘সংযোগ’-এ। বাবার বয়সী সব লোকজন। এঁদের কেউই আগন্তুক নয়। সবাই পরিচিত। প্রত্যেকেই এর আগেও দু-একবার এসেছেন এ…
-

অপবাহন
ওপারের কণ্ঠ থেমে গেলেও রিসিভার হাতে বসে থাকে জীবক। বুকের মধ্যে খুশির তুফান সত্ত্বেও যেন বিশ্বাস হচ্ছে না। ভুল শুনেছে বা ভুল বুঝেছে এমনও মনে করার কোনো সুযোগ নেই। অপালা একাধিকবার বলেছে। বলার মধ্যে আন্তরিকতা তো ছিলই; আরো কিছু বেশিও যেন ছিল। আবেদন? নাকি অনুনয়? সেজন্যেই প্রশ্ন জাগছে মনে। এত বছর হাজার বলেও যা হয়নি…
-

হরিপ্রভা তাকেদার খোঁজে
আজ থেকে ১০০ বছর আগে, ঢাকার এক ব্রাক্ষ্মকন্যা হরিপ্রভার, উয়েমন তাকেদা নামে এক জাপানি যুবককে বিয়ে করা এবং তাঁর সঙ্গে জাপানযাত্রা ও ফিরে এসে বঙ্গমহিলার জাপান যাত্রা নামে একটি বই লেখা আমার কাছে অসম্ভব বা রূপকথার মতো মনে হয়েছে। দুশ্দশক আগে পূর্ববঙ্গ ও ঢাকা সম্পর্কে গবেষণার সময়ে বঙ্গমহিলার জাপান যাত্রা বইটি আমি প্রথম দেখেছিলাম। গবেষণায়…
-

প্রামিদ্য অনন্ত তোয়ের: বিশ্বসাহিত্যের ইন্দোনেশীয় তারকা
১৯৯৭ সালে যখন প্রথম ইন্দোনেশিয়ায় যাই তখন প্রামিদ্য অনন্ত তোয়ের (Prameodya Annanta Toer) আমার নিকট একেবারে অপরিচিত নন। কিন্ত্ত তখনো পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সুপরিচিত সংবাদ সাময়িকী ঝভলন-এ প্রকাশিত দু-একটি নিবন্ধ ছাড়া তাঁর আর কোনো লেখা পড়িনি, যদিও ঐ সাময়িকীরই পূর্ববর্তী দু-একটি সংখ্যার কল্যাণে তাঁর প্রধান লেখা ও বিশ্ব-সাহিত্যে তাঁর গুরুত্ব সম্বন্ধে পূর্বেই অবহিত ছিলাম। আমি জানতাম…
