October

  • নদী কারো নয়

    সৈয়দ শামসুল হক \ ২৮ \   নদী কেঁদে চলেছে, একটানা তার সিঁ সিঁ কান্নার শব্দ মকবুল হোসেনকে বধির করে দিতে থাকে। সে নির্ণয় করতে চেষ্টা করে, কেন নদী কাঁদছে। তার মনে হয় তার বাবা মইনুল হোসেন মোক্তারের জন্যে কাঁদছে। আধকোশার পানিতে ডুবে মৃত্যু হয় তাঁর। কেন তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন আধকোশার উন্মত্ত খলখল পানিতে? এই…

  • ঢাকা : স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী

    মুনতাসীর মামুন প্রায় দুদশক আগে ঢাকা : স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী লেখা শুরু করি। দৈনিক সংবাদের তৎকালীন সাহিত্য-সম্পাদক আবুল হাসনাত যত্ন করে ধারাবাহিকভাবে তা দীর্ঘদিন প্রকাশ করেন। ঢাকা : স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী সুবিন্যস্ত নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে রচনা নয়। ঢাকার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কিছু ভুক্তির সমষ্টি, গ্রন্থে যা আভিধানিকভাবে বিন্যাস করা হয়েছে। স্মৃতি-বিস্মৃতি বলা যেতে পারে কোষগ্রন্থ।…

  • পরিশীলিত জলের আখ্যান

    দ্রাবিড় সৈকত ‘এই পদ্মা এই মেঘনা এই যমুনা সুরমা নদীতটে আমার রাখাল মন গান গেয়ে যায়…’ এমন সুরলহরীর অবারিত ধারা যেন  কুলকুল ধ্বনি-সহযোগে ছুটে এলো কাঠখোট্টা শহরের একেবারে প্রাণকেন্দ্রে; ভুলিয়ে-ভালিয়ে এই স্রোতস্বিনীদের         পাষাণ মহলে  নিয়ে আসার কুশীলব শিল্পী আনিসুজ্জামান। হ্যামিলনের বাঁশিওলার মতো মাতাল নদীগুলোকে মায়ার জালে বন্দি করে হাজির করেছেন দর্শকের  সামনে। উত্তাল ঊর্মিমুখর জলতরঙ্গ…

  • ‘কোন পুরাতন প্রাণের টানে’

    সুশীল সাহা আজ থেকে ঠিক একশ পঁচিশ বছর আগে বর্ধমান জেলার মন্তেশ্বর থানার কুসুমগ্রামে জন্মেছিলেন মুনশি মহম্মদ কাশেম ওরফে সেকালের বিখ্যাত সংগীতশিল্পী কে. মলি�ক। গত শতাব্দীর গোড়ার দিকে রেকর্ড সংগীতের উদ্ভবকালে কে. মলি�কের জনপ্রিয়তা ছিল উত্তুঙ্গ। ১৮৭৭ সালে টমাস আলভা এডিসনের ফোনোগ্রাফ যন্ত্র আবিষ্কারের অনতিকালের মধ্যেই বঙ্গজ ‘কলের গানের’ জনপ্রিয়তা শুরু হয়। ১৯০১ সালে কলকাতায়…

  • মধ্যযামে আসেন তিনি কাঁদেন চুপিচুপি

    রণজিৎ বিশ্বাস সারাটা রাত তুমি আমার সঙ্গে দুশমনি করেছো। কোনো কঠিন দুশমনও এমন দুশমনি করে না। : ঘাড়ে আমার মাথা কয়টা আছে যে তোমার সঙ্গে দুশমনি করবো! তাও আবার সারারাত! তাও আবার পার পেয়ে যাবো আমি! এতো ভাগ্য আমার! : এমন ফুউল স্পিডে ফ্যান ছেড়েছো যে আমার পিঠব্যথা শুরু হয়েছে। : ফ্যানের সঙ্গে পিঠব্যথার কী…

  • নিঃসঙ্গতার টিলা

    অসীমকুমার বসু নিঃসঙ্গতার সঙ্গে প্রায়ই মিশে থাকে অভিমান ও অহংকার, সে কারণেই নির্জন টিলাটির উদাসী সৌন্দর্য আমাকে টানে। বৈশাখে মনে হয় রুদ্র তাপস বর্ষায় ভিজে যাওয়া ত্যক্ত পুরুষ নির্জনতার লোভে জঙ্গল নদীতীর থেকে এতো দূরে একা আকাশের নিচে মেখে নিচ্ছে রোদ্দুর, ভোরের বাতাস। কোথাও যাওয়ার নেই, ব্যস্ততা নেই কোনো কেবল নিজস্ব ভাবনা নিয়ে, অহংকার নিয়ে…

  • কোথায় থাকি আমি

    আহমেদ মুনির   সকলে যখন ফিরে আসে কাজ শেষে দিনের তাঁবু থেকে রাতের তাঁবুতে যায় বউকে জড়িয়ে ধরে ঠান্ডা হয় বেলের শরবত কিংবা চা খায় রাতের সংবাদ শোনে তখন কোথায় থাকি আমি?   বউকে জড়িয়ে ধরা লোকজনের ভিড়ে শরবতের দোকানে, চায়ের আড্ডায় কিংবা টেলিভিশনের সামনে সর্বত্রই লোকে আমাকে দেখেছে আমিও দেখেছি তাদের ভাত খেতে বসে…

  • তিনটি কবিতা

    মোস্তাক আহমাদ দীন   নৈরাজ্য   শিঙের বিকার দেখে বালক বিস্মিত আর, আড়ালে, মাথা নত হয়েছে আমার বনবালিকারা দেখে-বুঝে নেয় চর্যা ছাড়াই আমি কোন ধর্মে বনপালয়িতা কারো পোড়া ঠোঁটে আর কোনোদিন বাজবে না বাঁশি হরিণের পাল ধায় – কেন ধায়? – সেই বাঘ-পথরেখা ধরে শিঙের তাৎপর্যে আজ পাতা-ঢাকা, লতা-ঢাকা, বর্ম-ঢাকা হয়েছে হৃদয়   বিলগাছ  …

  • প্রতিপক্ষ

    শঙ্খশুভ্র দেববর্মণ অস্তিত্ব জুড়ে শুধু অসময়ের বৃষ্টি রুপোলি পর্দায় স্বস্তির নীল পাহাড় অবেলা মেঘ বইল কত বেলা পাখালি বুকে অলিখিত রোদ্দুর দীর্ঘ ছায়ায় হাতছানি দেয় তবু সন্ধ্যা   উত্তাপ ভরা মসৃণ মোমদেহ আসঙ্গ কামনায় ক্রমে নির্মোহ মন ভিড় থেকে সরে যায় মুখ মুখোশ মানসে দলিত জনপদ তারপর একদিন সুদূর বক্ররেখা   পরাভূত চোখে তখন স্বপ্নের…

  • অমিতের জন্যে

    সৌভিক রেজা   পাতাঝরা বয়স; এই বালক-বয়সেই হারিয়েছে সে পরনের হাফ-প্যান্ট; চাঁদ থেকে পাওয়া স্ক্রু-ড্রাইভার – হারিয়েছে তা-ও; ভাঙা ক্যালকুলেটরে বয়সের কোনো হিসাব কি পাওয়া যায়, যায় নাকি? তার দুহাতে চুম্বক – এই যে এতসব মানুষকে একই জায়গায় টেনে নিয়ে আসা – সোজা কথা! কে কোথায় এখন… নিজের-নিজের নির্বাসনে… দেখি, একটু দাঁড়ান তো! ধরিত্রীর নীবিবন্ধে…

  • নির্ভার

    রজতকান্তি সিংহচৌধুরী   নিজের দুঃখের   স্কন্ধে ভর করে বটের পীত পাতা          ঝরে যায় তেমনি নির্ভার   মানুষ ঝরে যাবে জীবনবৃত্তের   কিনারায়? স্তব্ধ গোধূলিতে   গাছেরা প্রশ্বাস রুদ্ধ করে কোন   ইশারায় সেভাবে ভূমিজল   প্রাণকে ফিরে নেবে শ্মশানযাত্রা কি জানাজায়?

  • উঁকি দিচ্ছে আলোর অ্যান্টেনা

    শামসুল ফয়েজ অনেকদিন তো ছিলাম প্রগাঢ় অন্ধকারের জিম্মি। পাঁজর ফাটিয়ে ফুটছে আলোর কমল পাপড়ি তার অমলিন-নিদাগ-অমল। বুকের চাতালে নাচছে যেন ‘আন’ সিনেমার নৃত্যপরা নিম্মী।   খুলির ভিতরে তিমির কর্দমে উঁকি দিচ্ছে আলোর অ্যান্টেনা। করোটির আঙিনায় ভরা পূর্ণিমায় ফুটছে সুগন্ধি ল্যান্টানা।