2011

  • যেসব ভোরের জন্য

    দুলাল সরকার যেসব ভোরের জন্য প্রকৃতির সম্মিলিত প্রয়াস যে সমন্বিত প্রস্ত্ততি – বাতাস ও আকাশের স্বাগতিক উচ্চারণে কচি আমন চারার দুহাত তুলে নাচের মুদ্রা, বহমান নদীর পাড়ে পাড়ে বোহেমিয়া পাখিদের নীল ব্যবহার ঘরোয়া আলাপ সেরে বয়ে চলা নদীর সংলাপ; শাপলা ফোটা প্রসারিত জলাশয়ে পাটভাঙা নীলিমার লালাভ অাঁচল ছুঁইয়ে এক মহিমান্বিত উদয়ের পালা, এক হিরণ্ময় স্তব্ধতার…

  • ছয়টি কবিতা

    টোকন ঠাকুর ঘামসূত্র কামসূত্র লিখেছে কে? জানি না। চিনি না তাকে পড়তে পড়তেই করি পর্যটন, ঘুরিফিরি, নানানাসনের বাঁকে এরই মধ্যে আমি ঘেমে উঠি, দৃশ্যত আমি ঘেমে যাই চলন্ত ট্রেনের বগি থেকে লাফ দিয়ে প্লাটফর্মে নেমে যাই …কেবলই ফুটতে থাকে ঘাম, শরীর ঝরিয়ে ঝরে ঘাম… ঘামের আগুন, মিহি নুন – এই বাক্যের অন্তর্মিলে থাকবে কাম কামসূত্র…

  • আপেল শাখা

    ঝর্না রহমান উঠে এসো তবে চিতাভস্মের ভেতর থেকে তরতর করে বেড়ে ওঠো তুমি সোনালি আপেল গাছ আফ্রোদিতিরা মরে গেছে কবে – ভূত হয়ে নাচে প্রেমিক যুবক একা অলিম্পাসের কুটিল চূড়ায় খেয়োখেয়ি করে লেজুড়ে দেবতা  পরমাত্মার পোশাক পরেছে জীবাত্মাদের স্বর্গশোভন সং নেমে এসো তুমি সোনালি আপেল লুকোনো শাখাটি যেখানে এখনো তাজা মেয়েদের বুকে আপেল ফলে না…

  • আজ ভোরে রবীন্দ্রনাথ

    খোরশেদ বাহার   সেদিন প্রিয় বন্ধুর ই-মেইল পেলাম, তাতে লেখা ছিল স্থান জোড়াসাঁকো, ২৫শে বৈশাখ, ১৪১৭ বঙ্গাব্দ। এই এখানে সেই সেখানে করতে করতে অবশেষে ঠাকুরবাড়ির উঠোনে পা রাখা গেল বাইরে ছোটখাটো অনুষ্ঠান আয়োজনের তোড়জোড় দেখা গেল। কিছু দূরে ফটিকের বন্ধুরা ছোট্ট একটি বল নিয়ে ইচ্ছেমতো পেটাচ্ছিল, আর ছে-ছে বলে চেঁচাচ্ছিল। দেয়ালের গায়ে পাথরে খোদাই করে…

  • আমার শহর

    (কবি, শহীদ কাদরীকে) শামস আল মমীন   এ শহর কোনোদিন আখক্ষেত দেখে নাই আখক্ষেতও দেখে নাই শহরের লোক; এ শহর লোহার সিন্দুকে লুকানো স্বর্ণমুদ্রার মতো                                     ঈর্ষার শহর।   স্বর্ণ থালা হাতে,                  রৌপ্যকৌটা কাঁধে বোষ্টমি ও সন্ন্যাসী বাড়ি বাড়ি কড়া নাড়ে; এ শহর নদী ও নক্ষত্রের মতো ছন্দময়, ভীষণ স্পর্শকাতর তবু স্কুলে স্কুলে…

  • প্রতি, রক্তজবা

    আসমা বীথি   রক্তজবা, তোমাকেই কেন বলি এত কথা ঘুমের ভেতর অনিঃশেষ কাঙ্ক্ষার ঝড় সেইসব বিরল বিষণ্ণতা, গুড়ি পিঁপড়ার বিছানা সীমানার কাছাকাছি গ্রাম দূর থেকে দেখা ছোট ছোট ঘর ছোট ছোট শ্বাস হয়ে যেন আজ নিঃশ্বাসে ছড়িয়ে পড়ে বিলুপ্ত হাওয়া রক্তজবা তোমাকেই বলি শুধু আমাদের কেউ নেই তাতে বিস্ময়ের কী, তবু ক্লান্তি ও কাতরতার অধিক…

  • পূর্ণতার দিকে

    আনন্দ ঘোষ হাজরা   তিমিরাভিষেক থেকে আলোকযাত্রায় যেতে যেতে আমরা কেবল ভাসি শূন্যতার অসীম সাগরে অথচ চতুর্দিকে শুধু দেখি পূর্ণতা-পরিধি ক্রমশই বড় হয়, বড় হতে থাকে। তাহলে যা দেখি শুধু ভ্রম নাকি আমাদেরই খেলা আমরা খেলছি তবু অনুভূতিহীন অন্য এক সময়প্রবাহ থেকে বের হয়ে এসে পূর্ণতার দিকে যেতে যেতে                            কিছুক্ষণ শূন্যতায় ভাসা?

  • চেতন-রোদে শূন্যতা চাষ

    হাসান হাফিজ রঙের দোলা গোলাপ-দোলা আত্মভোলা অাঁধার নাই জোনাকি চাঁদের আলো পথের দিশা ভুলতে পারাই নিয়ম স্বাভাবিক তোমার রঙে মন রাঙিয়ে অভিমানের আড় ভাঙিয়ে ভরিয়ে তুলি বিহবলতায় শান্ত এবং সরল চতুর্দিক পাপড়িকুঁড়ির স্বপ্নচুরি মনমহলার নিরল পুরী সকালসন্ধ্যা ওড়ায় ঘুড়ি, মেঘলোকে মন করতে চুরি নাই কোনো তার তুলনা-ছাঁদ কিংবা                     সমান জুড়ি শস্যবিফল বন্ধ্যা ঊষর…

  • কঠিন কোমল হ’য়ে ওঠে

    হাবীবুল্লাহ সিরাজী   কঠিন কোমল হ’য়ে ওঠে। আগুনের তেজ পেলে কঠিনও কোমল হ’তে জানে হাপরের হাওয়া দেয় পাঁজরের ভাঁজে – সম্মুখে বসেন পঞ্চানন। সিসে গলে, নৃত্যের ভঙ্গিতে ছাঁচে-ছাঁচে নদী জাগে, জাগে বর্ণমালা ব্যঞ্জনের দুই পার্শ্বে অবিভক্ত স্বর ভাষার অন্তর … কঠিন কোমল হ’য়ে ওঠে স্রোত ভাঙে পাতালের নতুন পাথর অমাবস্যা ভেঙে চাঁদ শস্য বিলি করে…

  • কলকাতা এক ঝলক

    অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত  খেলাচ্ছলেঁ হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে সত্তর দশকের শুরুর দিকেও প্রত্ন ভারততত্ত্বের দাপট ছিল অব্যাহত। কে না জানে নাৎসি ফুরারের ব্যক্তিগত অভীপ্সায় গোটা জার্মানিজুড়ে তেরোটি – বলা বাহুল্য একটি অমাঙ্গলিক সংখ্যা – চেয়ারে অধিষ্ঠিত ছিলেন ইন্ডোলজির বাঘা-বাঘা দিগ্গজ পন্ডিত যাঁরা পরস্পরের সঙ্গে সংস্কৃতেই সংলাপ চালাতেন। এই ভয়াবহ আবহ এক ঝটকায় সরিয়ে দেওয়ার মন্দ্রণায় যখন আমরা দুই…

  • নতুন অনুবাদে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    মোহীত উল আলম  ফকরুল আলম এবং রাধা চক্রবর্তী রবীন্দ্র-সাহিত্য নতুনভাবে বিশ্বব্যাপী পরিচিত করার জন্য একটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় কাজ করেছেন। তাঁরা দ্য এসেনশিয়াল টেগোর শিরোনামে আটশো উনিশ পৃষ্ঠার কলেবরে এক খন্ডে সমাপ্ত রবীন্দ্রনাথের বিভিন্নধর্মী রচনার ইংরেজি অনুবাদ সম্পাদনা করেছেন। শক্ত মলাটে বাঁধাই এ অমনিবাস খন্ডটি প্রকাশ করেছে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসের পক্ষে বেলন্যাপ প্রেস। প্রকাশকাল ২০১১। গ্রন্থটির…

  • বাংলাদেশের উপন্যাস : একটি সরল পাঠ

    মোস্তফা তারিকুল আহসান উপন্যাস প্রত্যয়টির সঙ্গে পরিচিত সবাই জানেন, ইউরোপে শিল্প-বিপ্লবের পর, ব্যক্তি মানুষ যখন জেগে ওঠে অর্থাৎ ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদের জন্মের পর উপন্যাসের আবির্ভাব হয়।  সময়টা অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি। মহাকাব্যের বিশাল পটভূমিতে ব্যক্তিজীবনের অনুভূতি-ক্লেদ পাঠক ঠিকমতো খুঁজে পেত না। মহাকাব্যের যুগ শেষ হওয়ার পরই সে-কারণে উপন্যাসের যুগ বোধহয় শুরু হয়। অসম্ভব এক সম্ভাবনাকে মানুষের সামনে প্রতিভাত…