2014

  • উত্তরের পথ

    সুজন হাজারী   আগুন আছে বাহে, বিড়িটা হামার ধরাও। ট্যাঁকে গোঁজা দেশলাই ঠুকে বিড়ির মুখে আগুন দিয়ে ধুমছে মারে সুখটান। নিকোটিন তৃষ্ণায় ভিজে সুহৃদের মন-স্বজনপ্রীতিতে প্যারালাল বন্ধু দুজন।   গ্রামের আবাল কাঁচা সড়ক অভিজাত হাইওয়ের পিঠে চড়ে জাহাজ কোম্পানির মোড়ে উঠে যায়। ধুলো-কাদামাখা নাবালক রাখাল গরুপাল লয়ে যায় মাঠে, সরু পুলের হাত ধরে নদীপার, হাঁপাতে-হাঁপাতে…

  • বঞ্চিতদের দলে

    শ্যামসুন্দর কুন্ডু   কাল যে আকাশ ছিল আকাশের মতো। কাল যে রাত ছিল রাতের মতো। গৃহদ্বারে ছিল সাজসজ্জা অভ্যন্তরে অভিজাত অতিথি। আলোকসজ্জা আর খাবারের সমারোহ প্রাচুর্যের অতিশয়োক্তি ছিল সবখানে। কোথাও কোনোখানে ছিল না ঘাটতি।   শেষ রক্ষা হলো ঠিক তবু কারা যেন জেনে গেল সব। গোল বাধল বাইরে। বাতাসে বাতাসে ছড়িয়ে এসব কিছু অতিথিদের গায়ের…

  • মানুষের মুখ

    তমিজ উদদীন লোদী আমাকে মানুষের মুখ অাঁকতে বলা হয়েছিল। কিন্তু আমি অাঁকতে গিয়ে টের পাই পৃথিবীর অন্যতম কঠিন একটি কাজে আমার অজান্তেই আমি হাত দিয়ে ফেলেছি। বরং শৈত্যপ্রবাহের ভেতরে বরফ কুড়ানো কিংবা মরুভূর তপ্ত বালির ওপর হাঁটা ঢের ঢের সহজ কাজ। কপোল, চোখ ও থুঁতনি অাঁকতে গিয় টের পাই এদের নানা ভঙ্গি ও অভিব্যক্তি –…

  • গাছির গান

    সায়ীদ আবুবকর   জিড়ন রসের মতো তোমার যৌবন, যূথীমালা; তোমার খেজুরগাছে আজ আমি দিনান্তের গাছি, কাটবো পৌরুষ দিয়ে তোমার দুচোখে যত জ্বালা, তারপর রস দিও, বসতে দেবো না কোনো মাছি   ছ-কুড়োর মাঠে আজো ছোলার কি-চমৎকার চাষ, সেই ছোলাগাছ তুলে পোড়াবো উঠানে মাঝরাতে; তারপর তোমার ঘরে হালাকুর চলবে সন্ত্রাস, পৌষের পবন আর স্তব্ধ রাত্রি কেঁপে…

  • পসরা

    অর্পিতা বন্দ্যোপাধ্যায়   আমার ভিতরে বাজার বসে রোজ জমজমাট কেনা-বেচার ভিড় অনেক কিছুর সঙ্গে বিক্রি হতে থাকি আমিও একটু একটু রোজ প্রচলিত বেঁচে থাকা ব্রণ-ওঠা আধখানা মুখ বিক্রি হয়েছে কোন কালে! কবে কোন ফুটের দোকান থেকে কেনা হলো ছেঁড়া পাতা রবিঠাকুরের গান দোকানি মূল্য নিল অকীক পাথর তারপর কত কাল কত ফুটপাত আমার ভিতরে আমি…

  • বৃষ্টিস্নানে বসুন্ধরা

    শামসুল ফয়েজ   সড়কদ্বীপের ঘাসের দঙ্গল, পথের পাশের তরুবীথি, ছাদবাগানের টগরবেলির পুষ্পকলি; লোহার রেলিং জাপটে-ধরা কুঞ্জলতা হঠাৎ সুখের বৃষ্টিস্নানে আত্মহারা।   লাউয়ের জাংলায় উন্মথিত তানপুরাটায় খুশির দোলে বিপুল সাড়া। ঝর্ণাজলে আনন্দিত ঝুলবারান্দা, দালানকোঠা, ধুলার বহর, ধুঁকতে থাকা গরম শহর, পিপাসার্ত বসুন্ধরা।   জলের ফোঁটায় হয় কুপোকাত কণ্ঠনালি রুদ্ধ করা রুদ্র খরা। মুখ খুলে খায়, হৃদয়…

  • বানরের পিঠেভাগ

    মোহাম্মদ আবদুল মাননান   বানরের পিঠেভাগ গল্পের এক জাদুবাস্তবতায় মুখোমুখি বসে আছি। কেউ কেউ পিঠার খন্ডিতাংশ খেতে নিরন্তর ব্যস্ত। ডারউনের বিবর্তনতত্ত্ব মানছি কিংবা মানছি না – এসব বিতর্ক ছাড়াই আমরা বানরপ্রিয় পিঠে ভাগাভাগি প্রায় মুখস্ত করে চলেছি।   বিজয় দিবসে মাঠের অনুষ্ঠান থেকে বলছি, এখানে কেউ আছেন, কেউ নাই। যারা আছেন – তাদের অনেককে গত…

  • নয়ন-পরম্পরা

    দিলারা হাফিজ   তোমার মধ্যে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব নিত্য চরাচর; চোখের ভেতর এতোটা জল নয়ন পরম্পর   ঋষির মতন জীবন কাটে শূন্য চারণভূমি তুল্যমূল্য-জ্ঞানের প্রদীপ সবচেয়ে আজ দামি;   প্রতীক্ষাতে নেই তো মানা অশ্বত্থ বটমূলে নদীর কাছে নদের গল্প উভয় কূলে, কূলে;   নিজের ভেতর অধরা এক; নিজেকে না চেনে; বিষাদগুলো যেমন তেমন হৃদয় মস্ত বেনে;  …

  • ভালোবাসা ও শিল্প এক, উল্লেখ নেই নন্দনশাস্ত্রে

    রবিউল হুসাইন   বিবরে দৃশ্যমান তীব্র প্রহর বরফের স্পর্শ-ছোঁয়ায় মোম-সরোবর চারিদিকে স্পষ্ট হিমেল প্রভাত আজো কি ঘটবে সেই অগ্ন্যুৎপাত   সুদূর সাক্ষাতে কেন মনে পড়াপড়ি এখনো সচল সেই অচল ঘড়ি আয়ত গবাক্ষের গরাদ ধরে অন্যের অশ্রুতে চোখটি ভরে   উদাস নয়নে নিঃশূন্য দাঁড়িয়ে মনের ভাবনাগুলি গিয়েছে ছাড়িয়ে আমিই একমাত্র ভাগ্যবান চাষি আজো কেউ বলেনি আমি…

  • নদী কারো নয়

    সৈয়দ শামসুল হক \ ৩৬ \ গোপালের মা সর্পদংশনে তার গোপালের মৃত্যুটাকেই মনে রেখেছে, সর্পের কথা তার স্মৃতিতে নাই। সন্তানের মৃত্যুটাই কেবল জননীর কাছে সন্তাপ ও সত্যের, কীভাবে তার মৃত্যু জননী ভুলে যায় অচিরে। হাওয়ার ভেতরে তখন কেবল হাহাকার ভেসে থাকে – নাই, নাই, নাই। মানুষের এই আসা আর যাওয়া! জন্মের অনন্য একটিই মাত্র দরোজা,…

  • দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের গান

    দীপা বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের জীবন, সাহিত্য, সংগীত বিষয়ে আমাদের জানা-বোঝার সীমা এত সংকীর্ণ যে, সেই সীমাবদ্ধতা থেকে আজো আমরা মুক্ত হতে পারিনি। সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের দেশে পঞ্চকবি, পঞ্চভাস্করের গান শিরোনামে গানের অনুষ্ঠান হচ্ছে। পঞ্চকবির মামুলি পরিচয়ে পরিচিত হন দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, পাঁচজনের মধ্যে সম্ভবত সব থেকে কম মনোযোগ আকর্ষণ করেন তিনি। দ্বিজেন্দ্রগীতির নিয়মিত শিল্পী আমাদের নেই…

  • অনন্যা মোহরদি

    রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা বিখ্যাত রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন আমার গুরু। আমরা তাঁকে মোহরদি হিসেবেই চিনি। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর নাম রেখেছিলেন ‘কণিকা’। মোহরদি যেমন গান গাইতেন, তেমনই ছিল তাঁর গায়নভঙ্গি, পোশাক-পরিচ্ছদ; নিমিষে সকল ভক্ত-শ্রোতার মন জয় করে নিতেন। এ নিয়ে অনেকেই অনেক লেখা লিখেছেন। চমৎকার সব বর্ণনা এসেছে। তাঁর শোভন সুন্দর গায়কির কথা ও নানা…