2020

  • সন্ধেবেলা

    গৌতম হাজরা বর্ষাস্নাত মেয়েটির নাম সন্ধেবেলা। সে রোজ সাইকেলে চেপে আমার বাড়ির সামনে দিয়ে যায় আমি বারান্দায় দাঁড়িয়ে দেখি সে যেন এক বিদ্যুৎশিখা সামনের বাড়ির বাগানে অমনি আলোড়ন ওঠে। সেই আলোড়নের দু-একটা ঢেউ ওঠে মোড়ের চায়ের দোকানে শূন্যবেলার নামতায় গুনগুন শোনা যায় রোজ। শুনেছি মেয়েটির কোনো আত্মীয়স্বজন নেই। সে নাকি একা একা কবিতাও লেখে জোনাকির…

  • না-লেখা কবিতা

    মোস্তফা তারিকুল আহসান স্বীকার করি আমার না লেখা কবিতার সংখ্যা লেখা কবিতার চেয়ে অনেকগুণ বেশি আর আমার না লেখা কবিতাই বেশি সাবলীল – নতুনত্বের গন্ধে ভরপুর তবু আমার কিছু লেখা কবিতা নিয়েই তোমার যত দস্যিপনা বালিশে মাথা দিলেই ঘুম আর সুসুপ্তির মাঝে আমি খুব ভালো কবি হয়ে উঠি কিংবা বেরিয়ে পড়া সকালে একাকী বাসে ট্রেনে…

  • অবিশ্বস্ত হলদে গোলাপ

    সুহিতা সুলতানা সফলতা নিয়ে আমার কখনো কোনো ভাবনা ছিল না আজো নেই। মানুষের ভেতরে এত লোভের হাঁকডাক বেসামাল পথভ্রষ্ট হয়ে চূড়ায় উঠে যেতে চায়। হিম হিম অন্ধকারে ডুবে ডুবে জল খায় নব্য রাজাকার। সূর্যগ্রহণ জলভর্তি থালায় নেমে এলে অর্ধেক পৃথিবী কার হবে কে জানে? এই যে তুমি এখন খণ্ড খণ্ড সফলতার মোহে ঋষি হতে চাও…

  • শব্দদূষণ, বায়ুদূষণ

    শব্দদূষণ আমাকে ভীষণ ক্লান্ত করে তোলে আমি ভীত হয়ে পড়ি আমার মগজের ওপর দিয়ে রোলার চালায় ওই শব্দদূষণ আর আমি তখন খুঁজে ফিরি নৈঃশব্দ্যের প্রসাদ যে-শব্দ ভাষা নয় শুধুই কোলাহল আমি তার পৃষ্ঠাগুলো উলটিয়ে রেখে দিই দ্রুত আর চলে যাই সেইদিকে যেদিকে অরণ্যের সুখণ্ডদুঃখ পাতার অস্পষ্ট মর্মরের নিচে লুক্কায়িত বায়ুদূষণ আমাকে অস্থির করে তোলে আমি…

  • ধানের বয়ান

    গরিবের বাসস্থানে গোলাঘর খুব বেমানান সেই গোলাঘরে ফসল দেখলে সন্দিহান হয় পড়শীরা দৃষ্টি বাঁকা হয়ে আসে সহসা তাদের গরিবের গোলাভরা ধানকে সবাই চিটা ভাবে চিটা ভেবে আনন্দিত হয়। তুমি গো দয়াল, সোনার বরণ হৃষ্টপুষ্ট ধান আদর করিয়া দান করিয়াছো – এই অভাজনে। আরেকটু অধিক সহায় হও, স্বপ্নময় ফসলের সাথে ছিটেফোঁটা মান মাগিতেছি। গরিবের দেউড়িতে কাঁটাঝোপ…

  • হঠাৎ বৃষ্টি

    ইকবাল হাসানরাতগুলো সব চমকে ওঠে বজ্র ও বিদ্যুতে দিনগুলোতে তুমুল কোলাহল শব্দদূষণ, রক্তশোষণ চলছে নিরন্তর আজ অবধি বৃক্ষ কোনো দিলো না আশ্রয় যে প্রশ্রয়ে ক্ষণিককাল জিরিয়ে নেয়া যায় হঠাৎ করে বৃষ্টি এসে ভিজিয়ে দিলো মাটি ধুলো ঝেড়ে খাঁটি হ’ল ছাদবাগানের টব উঠলো জেগে স্মৃতির কণা, চিন্তা-অনুভব।

  • কাছে থাকা, না-থাকা

    ইকবাল হাসান যতক্ষণ কাছাকাছি থাকি শুধু ছাইভস্ম, দুপুরের কাক ক্রমাগত উপেক্ষা দেখাও যতক্ষণ কাছাকাছি থাকি ধূলিকণা, গোধূলির শেষ আভা ক্রমাগত উপেক্ষা দেখাও নিজেই বুঝি না আমি – এই আমি সেই আমি কিনা কখনো কুকুর ভেবে ভাতের ফ্যানের মতো ছুড়ে দাও ঘৃণা যতক্ষণ কাছাকাছি থাকি তোমার বোধের কাছে যেন অর্বাচীন নিষ্পত্র বৃক্ষ এক, তুচ্ছ ডাস্টবিন যতক্ষণ…

  • হতে পারতাম

    সুব্রত বড়ুয়া হতে পারতাম অন্য মানুষ, অন্য জীবন, অন্য ছায়া, অন্য ভুবন, অন্য কুসুম, অন্য কোনো ঘরের ছায়ায় টলোমলো ছোট্ট শিশু, অন্য পাখি, অন্য নদী, অন্য মাটি, অন্য জীবন; হতে পারতাম অন্য গল্প, অন্য পুুুরুষ অন্যরকম মনের ছায়া, অন্য স্বভাব, অন্য শরীর, অন্য প্রেমিক, অন্য ভাবুক, অন্য হাওয়া। হতে পারতাম অন্য কিছু গাছের পাতা, ফুলের…

  • অপরিচিতা

    অপরিচিতা

    অনুবাদ : মহেবুব আহমদে রাস্তার পাশের হাঁটাপথের ধারে দাঁড়ানো মানুষগুলো মুহূর্তের জন্য জমে স্তব্ধ হয়ে গেল। তারপরই একজন রাস্তায় নেমে দু-হাত তুলে চলমান যানবাহন থামতে বাধ্য করল। সবুজে হলুদে মেশানো যে-ভ্যানটি নাটকীয়ভাবে ব্রেক কষে রাস্তার পাশে সরে যাচ্ছিল তার চালকের দিকের দরজাটা খুলে গেল। একজন অ্যাম্বুলেন্স ডাকল, আরেকজন বলল, সেন্ট উইসটন স্ট্রিট। চলতে ইশারা করা…

  • যুদ্ধ

    যুদ্ধ

    প্রথমে তো ভেবেছিলাম পত্রিকায় গল্প লিখেই সময় কাটিয়ে দেবো। ঘরে ঢোকার বেশ অনেকক্ষণ পর এই কথাটা বললেন। এতক্ষণ মনোযোগ দিয়ে ‘দিদি নাম্বার ওয়ান’ দেখছিলেন। কত সাহস দ্যাখো মেয়েগুলোর! কতটা প্রতিকূল পরিবেশ পার হতে পেরেছে। যতদূর জানি আপনাকেও এরকম প্রতিকূলতা পাড়ি দিতে হয়েছিল। আমি মুখ খুললাম। আমার আর এদের মধ্যে তো অনেক তফাৎ। কেন? আমার একটা…

  • প্রতীক্ষা

    প্রতীক্ষা

    পাপিয়ার বিয়ের দিন শুকদেবের শরীরটা বিশেষ ভালো ছিল না, কিন্তু যার বিয়ের জন্য ও এত দৌড়ঝাঁপ করল তার বিয়েতে উপস্থিত থাকতে না পারুক অন্তত কাছ থেকে বিয়ের আয়োজন, ধুমধাম একটু না দেখে থাকতে পারল না ও। আর সেজন্যই অঞ্জলি শেষ পর্যন্ত ওদের দেবনগরের বাড়ির ঠিক উলটোদিকের বাড়ির চিলেকোঠায় শুকদেবের জায়গা করে দিলো একদিন-একরাতের জন্য। এ-ব্যবস্থা…

  • কাদম্বিনী বেঁচে আছে

    কাদম্বিনী বেঁচে আছে

    কাদম্বিনী ঘুরে বেড়াচ্ছে এঘর-ওঘরে। দৃষ্টি উদ্ভ্রান্ত। চলন এলোমেলো; বুঝতেই পারছে না, হঠাৎ এমন কী ঘটল যে ঘরজুড়ে গিজগিজ করছে এত মানুষ। কোথাও ঠাঁই নেই দাঁড়াবার। চারপাশজুড়ে থমথমে পরিবেশ, কারো মুখে ছিটেফোঁটা হাসি পর্যন্ত নেই। পুরুষদের চোখ ছলছল, নারীরা আঁচলচাপা দিয়ে কান্না লুকাচ্ছে। সর্বত্রই একটা বিষণœ সুর, ইনিয়ে-বিনিয়ে ভারি করে তুলছে পরিবেশ। প্রাথমিক বিস্ময় কাটিয়ে কাদম্বিনীর…