2021
-

কৃষকের নাম মারে
ভাষান্তর : অংকুর সাহা অনুবাদকের কথা ২০২১ সালে মহান লেখক ফিওদর দস্তয়েভস্কির জন্মের দ্বিশতবার্ষিকী। তাঁর অন্তিম জীবনের একটি অপ্রচলিত ছোটগল্পের বাংলা অনুবাদের মাধ্যমে লেখকের প্রতি এই আমার শ্রদ্ধার্ঘ্য। গল্পটি আত্মজৈবনিক; এতে লেখকের সাইবেরিয়ার ওমস্ক কারাগারে বন্দিজীবনের বর্ণনা রয়েছে যেমন, তেমনি রয়েছে ফ্ল্যাশব্যাকে তাঁর অল্পবয়সে গ্রামে বাবার খামারবাড়িতে সময় কাটানোর স্মৃতি। কৃষক মারের ঘটনাটি ঘটেছিল খুব…
-

-

জলময় মধ্যবঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যাত্রাপথ শত বৎসর পরে অনুসরণ
(দ্বিতীয় পর্ব) নৌকা যখন পতিসর ঘাট ছাড়ল শীতের বেলা তখন প্রায় দুটো। শান্ত সমাহিত জলময় ও তার দু-পারের প্রায় জনহীন প্রান্তর পেছনে ফেলে নৌকো এগিয়ে চললো – ঢেউ ভেঙে ভেঙে সঙ্গে একমাত্র সঙ্গী নৌকার যান্ত্রিক শব্দ। মন তখনো পতিসরের টাটকা ফেলে আসা স্মৃতিতে মগ্ন। এভাবেই চলে ঘণ্টাখানেক পরে নৌকা ভিড়লো সামসাপাড়ার ঘাটে। এবার নৌকা বিদায়…
-

পাত্রিজিয়া কাভাল্লির চারটি কবিতা
অনুবাদ : আলম খোরশেদ সুখী মানুষেরা প্রায়শই অশ্লীল হয়ে থাকে সুখী মানুষেরা প্রায়শই অশ্লীল হয়ে থাকে; সুখের এক নিজস্ব ধরন আছে চিন্তার যা খুব দ্রুতগতিসম্পন্ন, যার তাকানোর কোনো সময় নেই যা কেবল ছুটতেই থাকে, পরিপাটি ও প্রাণপণ মৃতপ্রায় মানুষের প্রতি চলন্ত ঘৃণা ছুড়ে দিয়ে : কী হলো ওঠো, তৈরি হও, জীবনকে যাপন করো। ব্যথায় স্থবির…
-
ঘ্রাণ
এখানে গন্ধম ছিটাবেন না যুবতীর আসা-যাওয়া হয় রঙের জমিনে সভ্যতার হামাগুড়ি যতিন মাঝির ঘরে নয় সন্তান অতঃপর মন্দিরা হাঁটে হাজার ইতিহাস তুলে রাখে শিকায় আমি মাতাল হই ফাগুনের ঘ্রাণে প্রাণে জাগে কথা, একটু একটু ব্যথা সে ছাড়া কেমন লাগে? দূরে গাছগাছালি, ভাটিয়ালি গানে হাওয়া অচেনা সুর বয় স্মৃতির পাতায় তবুও…
-
কয়েকটি; অণুকবিতা
গোপন পিপাসা চাই না বলেই নিরীহ কবিতায় বারবার ছুঁয়ে ছুঁয়ে আসা এক নিপুণ দক্ষতায় জিইয়ে রাখি আমার গোপন পিপাসা যান্ত্রিক বিবমিষা একটু আকাশ চাই, সবুজ হাওয়া আর পায়ের তলায় মাটি এক খণ্ড গ্রাম দাও, ভোরের আলপথ ধরে খালি পায়ে হাঁটি বুকের মধ্যে সন্ধেতারা বুকের মধ্যে সন্ধে নামে, দেয়াল ঘড়ি দুঃখ মাপে একটা-দুটো সন্ধেতারা জ্বলতে থাকে…
-
বোধ
আনন্দনিকেতনে ভীষণ ব্যস্ত সবাই ঘর গোছাতে আর ভোজনবিলাসে কেউ বিশ্বাস করে না জীবন ঠুনকো আমোদ-আহ্লাদ আর ফ্যাশনে মশগুল। ভুলে যায় আপন পর ভুলে যায় ঈশ্বর। নির্বিবাদে রক্ত ঝরায় রক্তের সম্পর্কে মন কি বলে সে খোঁজ রাখে না কোনোদিন বিত্তবৈভবে নিজেকে শক্তিশালী করে। অস্ত্রের ঝনঝনানিতে অবারিত উল্লাস পৃথিবী কত সহ্য করবে আর অপলক নয়নে পলক পড়ল…
-
আমার কথাগুলো
জানি, তোমরা কেউ আমার কথাগুলো পৌঁছে দেবে না বজ্রবিদ্যুৎভরা মেঘেদের কানে – একটি ফণাতোলা গোখরার কাছে কতটা প্রার্থিত ছিল মধু অথবা ফণিমনসার কাছে চেয়েছিলাম তরতাজা রক্তগোলাপ – সবই অনুক্ত থেকে যাবে – আমি তাই আমার কথাগুলো রেখে যাব পাখিদের ঠোঁটে – নদীটারও কথা ছিল – রোদ্দুর ছড়ানো দিনে উগরে দিয়েছিল তাই কথার বুদবুদ – ধুলোর…
-
কথা হবে আশি-আটাত্তরে
জেগে থেকো, শুধুমাত্র পলক ফেলার অনুমতি দিলাম, হেসে নাও, শেষ কথা পরে হবে, একেবারে শেষে – হতে পারে সংলাপের শেষে অথবা কবিতার, হতে পারে দিনের শেষে নয়তোবা জীবনের, বিগত চল্লিশ প্রহরে আত্মার যারা আত্মীয়, রাজসাক্ষী তারা, এছাড়া গোটা পরিচিত আয়তনে জানিয়ে দেবো – মাটির পথ, চৌচালা ঘর, যত্নহীন বেড়ে-ওঠা তালচাড়া, পুকুরের পাড়, হিন্দুবাড়ি, মসজিদের মাঠ,…
-
ফ্যাসিজম
কুয়াশায় বেরিয়ে যায় মিলিটারি ট্রাক পড়ে থাকে ডাইনোসর পড়ে থাকে নৌকোর হাড় অদূরে ঘণ্টা বাজে নতুন ইশকুলে কিন্তু দূরে অনেক দূরে তেজদৃপ্ত ষাঁড়টির শিং কামানো হচ্ছে
-
গরিবিয়ানা
অনুপম মুখোপাধ্যায় গরিবের নাকি অতীত থাকতে নেই গরিবের নেই স্মৃতির অধিকার এমন কোনো নদীও বোধহয় নেই পুরনো দিন ঘর বাঁধে যার চরে একতলা থেকে খোলা জানালার হাওয়া দোতলায় এসে দরজা ধাক্কা দেয় গরিবের নাকি দোতলা থাকতে নেই মাটির হলেও বাড়ি হবে একতলা
-
মেয়ে ভারতবর্ষ
মেয়ে ভারতবর্ষ জানে আগুনের কোনো দোষ নেই ওদের কয়লাজন্ম পিঠে সারি সারি শলাকায় বয়ে নিয়ে বেড়ায় আগুন মেয়েভারতের গুহাপথ ইন্ডিয়ান রেলওয়ে মালগাড়ি, লোকাল, এক্সপ্রেস সবার অবাধ যাতায়াত যোনিদেশ ছিঁড়ে গেলেও রক্ত ঝরে না মুষলধারে ঝরতে থাকে অন্ধকার মেয়ে ভারতবর্ষের কয়লাজন্ম আগুনের কোনো দোষ থাকতে পারে না।
