দিলীপ কির্ত্তুনিয়া

  • শেষ কথা

    যাকে আনন্দের মাধ্যমে এতদূর নিয়ে এলাম তাকে ছেড়ে দিতে হবে দুঃখের মাধ্যমে কষ্টের নিয়মে। যে গাছ নিজ অঙ্গে ফোটালো ফুল উৎসাহের আলোক বরণে তাকেই দেখতে হলো দিনবেলা শেষে ফুলের অমোঘ মৃত্যু – সকরুণ রঙে। পথ শেষ হয়। রং শেষ হয়। সুখের নদীতে নামে ভাটা। একই জল দেহের উল্টো দিকে ফেরা। ফেরায় বোনা সন্ধ্যা ফেরায় বোনা…

  • আমি চলে যাচ্ছি

    অনাগত কবিতাগুলির কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি তাদের লিখতে পারলাম না বলে। না-দেখা স্বপ্নগুলির কাছে আমার দুঃখ প্রকাশ এই ভাবে তাদের দেখতে পারলাম না আমি। তারা থাক গোলাপ কলির কাছে মেঠোপথের সুরের বাঁকে পাখিদের ঝাঁকে ঝাঁকে চাঁদ সূর্যের বুনে যাওয়া কিরণ কলমের আঁকে। এখনো অনেক পথ ছিল যাওয়ার ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি পথগুলির কাছে যেতে পারলাম না…

  • তোমার জন্যে একটি কবিতা 

    একদিন না-দেখার মর্মার্থ বুঝেছি  তুমি কতো প্রিয় হয়ে ওঠো!  একদিন অভ্যাসের কাঠগড়া থেকে  বেরিয়ে এসে দেখেছি তুমি কতো সুন্দর  অনন্য তোমার রূপ।  আমারই জল যখন মেঘ হয়ে ঘরে ফিরে আসে  বৃষ্টির জল হয়ে  তার বহুগুণ শক্তি।  ওই যে আকাশের দূর ওই যে বহুদূর তার মধ্যে নতুন লুকানো    তার মধ্যে অনেক অমিয়।  তুমি দূরে গেলে…

  • আমার পক্ষ

    আমি ফিলিস্তিনের পাশে আছি। ফিলিস্তিনের মাঠে যেসব ঘাস যেসব শিশুর খেলা আর স্কুলের পড়াশুনা আমি তার পাশে আছি। আমি সেই জানালাটার পাশে আছি যে জানালায় কবিতা লেখা হয় আকাশ দেখা হয় আর জোছনা এসে পড়ে ঝরে। আমি সেই হাটবাজারের পক্ষে আছি যেখানে মানুষের উত্তাপে উত্তাপে ওঠে জমে। মানুষ আনন্দমুখর হয় কোলাহল করে। আমি কোনো নির্জনতার…

  • ভিক্ষা

    খেলার মাঠ নেই – তাই যেখানে যেটুকু খোলা চত্বর পাচ্ছে সেখানেই ফুটবল নিয়ে নেমে পড়ছে ছেলেমেয়ের দল। হরতালের দিন ফাঁকা রাস্তায় নামছে ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ের টিলায় উঠছে ছাদ-বারান্দাও তাদের নতুন টার্গেট একটি স্বর্গীয় মাঠ হয়ে উঠেছে। ফুটবল আর ক্রিকেটের ব্যাট নিয়ে ওরা শুধু ছুটছে আর ছুটছে। কিন্তু বাড়ি গাড়ি কারখানার জটিল পথ অতিক্রম করে যেতে…

  • স্মরণ করি

    মেঘের জন্ম আকাশে ঝরে গেছ বর্ষণ ধারে। গাছের পাতা সবুজে ঝরে গেছ মাটিরও ’পরে। পৃথিবী ছেড়ে পৃথিবীর ওপারে। তোমাকে অভিষিক্ত করে স্মরণসুধায় বারংবার নমস্কারে

  • কী ভাঙবে

    দিলীপ কির্ত্তুনিয়া কী ভাঙবে আমরা জানি না হয়তোবা পাথর ভাঙবে। কী হুড়মুড় করে ভেঙে যেতে পারে নদীতে – নদী পাড় হয়তোবা হবে। এই তো ভেঙেছে চিরকাল পাখির বাসা-গাছের ডাল। কোনো কোনো সময় দেয়াল। কিন্তু এসব ছাড়াও খেলাঘর ভাঙে। সংসার ভাঙে। মনও ভাঙে। ভাঙে বুক। ভাঙে কথা। ভাঙে অবিরল। অশীতিপর সময়েও ভাঙে। ভালোবাসা ভাঙে। শব্দ খুঁজতে…

  • এই প্রবল শীতে

    এই প্রবল শীতে শীত নিবারণের কাপড় থাকলেই মুখে ভাষা ফিরে আসে। কষ্টকর সময়ের কাছে সব ভাষাই পাথর। ফ্লাইওভারের নিচে একঝাঁক উদ্বাস্তু কিশোর খড়কুটো জ্বেলে ভাষায় ছবি এঁকেছে। একটু আতিপতি করে খুঁজে দেখলেই এই প্রবল শীতে অনেকের মুখে ভাষা নেই শীত, ক্ষুধা।

  • আসলে আমরা

    দিলীপ কির্ত্তুনিয়া   কাপড়কে না খুলে আসলে আমরা শরীরকেই খুলে রাখি কাপড় থেকে। স্কুলে গিয়ে দেখলাম – স্কুলে আমি যাইনি স্কুলই হেঁটে এসেছে আমার কাছে। বাজার থেকে আনাজপাতি ঘরে হেঁটে চলে আসে হুটহাট। টিউবওয়েল উপুড় হয়ে নামে কলসিতে টুপটাপ। এইসব অনেকদিন থেকে ঘটছে – অথচ সারাজীবন আমরা উলটোটা দেখলাম – উলটো বললাম। নিজের দোষ না…

  • পাথর আলাপ

    দিলীপ কির্ত্তুনিয়া পাথরও একটা কারণ অনেক কিছুর। পাথরও নিস্তব্ধ বুকের উদাহরণ – অনেক সময়ে। পাথর আমাদের লাগে কাজে অনেক কাজে। পাথর কাজে লাগে ব্যবহৃত হলে কথা বলা শুরু করে। যে পাহাড়ের পাথর সেই পাহাড় আড়মোড়া ভাঙে আর চলতে শুরু করে। পাথর আলো জ্বালে ঘরবাড়ির পাথর জ্বালায় শিখা রাস্তাঘাটের পাথরের বুকে ঝরনার গান নামে। পাথরের বুকে…

  • সবুজ কথা

    দিলীপ কির্ত্তুনিয়া   তুমি সবুজ না দেখে পারবে না। তুমি সবুজ না থেকেও পারবে না। সবুজ তোমাকে দেখতেই হবে এত গাছপালার সামনে। সবুজ তোমাকে থাকতেও হবে তাই বুঝি! এরপরেও কথা থেকে যায় অনেক – এত সবুজ সামনে সমুদ্রের মতো সবুজকে দেখি না তবু। বিষাদের কালো ছায়া মনটাকে গেলে। মাতাল চাতাল সবুজ হারিয়ে যায় কিছু সময়ের…

  • ভুল হয়ে যাচ্ছে

    দিলীপ কির্ত্তুনিয়া   খুব সহজে কাছে পাওয়াটাই ভুল। যন্ত্রণা, চেষ্টা এসব যদি না থাকে তো ভুল। ভুল অ-কষ্টের ভেতর – বিনা শ্রমে পাওয়ার ভেতর ভুল পাথরসমান – ছোট-বড় ভুল।   কামনা আর কাম্য বস্ত্ততে দূরত্ব স্বাভাবিক দুইটি দিবসের মধ্যে রাতের পারাপার এক পারে আমি – অন্য পারে তুমি মাঝখানে নদীর সাঁতার।   অথচ এখন হয়েছে…