পারভেজ আহসান
-
বাড়ি
‘ম্যাঁয় আন্দলিব্-এ গুলশান-এ না আফরিদা হুঁ’ – মির্জা গালিব তুলট মেঘেরা ওড়ে কখনো উত্তরে কখনো পশ্চিমে জলহাওয়া ভাঙে পাহাড়ি পাথর নেমে আসে ঝরনাতলায় – নদীজলে সে হাঁটে আঁধার ঢাকা গাঁয়ে ।
-
জন্মান্ধ সুন্দর
ছায়ার ভেতর বাগান সেখানে বৃক্ষর পরিচর্যা নেই আগাছায় ঢাকা গোলাপগাছেরা ভুলে গেছে ফুল ফোটানোর বৃত্তান্ত বকুলগাছের পাতা ঝরে লতা-গুল্মের সর্পিলতা চারদিক তালগাছের কা- ছোঁয়ার স্বপ্ন নিয়ে বামন গাছটি উঁচু হয়ে দাঁড়ায় লোকটি দেখেনি হৃৎকমলের গোপন সুন্দর – পাতার বিন্যাস সে ভুলে গেছে জন্মান্ধ হোমার উপাখ্যান।
-
সুলতানের নারীগণ
নারীগণ হঠাৎ ক্যানভাস থেকে বেরিয়ে ছুটে যায় মাঠে-গেরস্থালিতে পোড়া মাটির শরীর থেকে তেজোময় দ্যুতি ঠিকরে বেরোয় তাদের স্মৃতিতে নেই সুবিন্যস্ত পোশাক – নাকে নক্ষত্রফুল তারা কি অনার্য নারী? আত্মপরিচয়ের ইতিহাস খুঁজি ঠিক তখনই কড়া নাড়ার শব্দে ঘুম ভাঙে চেয়ে দেখি স্কুল ড্রেস পরা আমার আত্মজা একজন সুলতানের নারী।
-
দেহঘড়ি
মেঘের জামা পরে বিষণ্ন রোদ আসে পুবের জানালা খুলে করুণ ভায়োলিন বাতাসের মৌনতা ভাঙে শ্রাবণ রোদ্দুরে পথের দুধারে ঝুলে থাকা পাটের মতো শুভ্র চুলগুলো কাঁপে বাতাসের সংগীতে শেষ ট্রেনে বাড়ি যাবে জেনে মুহূর্তগুলো কাটে ভয় ও উৎকণ্ঠায় কেন নিঃশব্দে শূন্যতা বেড়ে ওঠে অপ্রাপ্তির শেকড় বিস্তৃত হয় সমস্ত সত্তা জুড়ে? তোমার উদ্যানে আজ বৃক্ষ শত-শত ফুল…
-
দ্যুতিময় অক্ষর
বৃক্ষ একদিন চৌকাঠ হয় ছায়া হয় মানুষের পলিকণা গড়ে সবুজ চর নীল জলের মাঝে প্রবালেরা হয় জলপাই দ্বীপ মানুষরা হেঁটে যায় দিগন্তরেখা ছিঁড়ে ভাঙে স্বপ্নঘর ক্ষয় হয় সোনার মোহর কেবল অক্ষরগুলো দ্যুতি ছড়ায় প্রাণের ভেতর।
-
পৃষ্ঠার ধূলি এখন হীরক দানা
এখন তুমি ছেঁড়া পৃষ্ঠার উজ্জ্বল অক্ষর উঠোনে রোদের ছায়া গ্যালারিতে সাঁটানো নীল কাপড় ঘরের দেয়ালে ঝুলে থাকা ভাঙা ভায়োলিন অন্ধকারে গাছের তলায় তুমি দেখেছিলে একখণ্ড হেম ভুল তর্জমায় গল্পের পৃষ্ঠায় ধূলি মেখে স্বপ্নিল নৌকোয় উঠে খুঁজে নিলে আকাশ ও জলের সীমানা অতঃপর হঠাৎ একদিন দেখি তুমি বসে আছ শূন্যতায় ঘেরা ভাঙা নৌকোর গলুইয়ে কোনো…
