শফিক ইমতিয়াজ
-
চূর্ণ কবিতা
১. অদ্ভুত দাঁতকপাটি ভেতরে সজাগ জিভ, কিছু বলতে চায়, পারছে না! ২. এখানে আলোয় ভরা লতা গুল্ম গাছ ও আগাছা তথাপি মানুষ কুয়াশাপ্রেমিক! ৩. কলমের ভারবহনে অক্ষম আঙুলগুলোই সহসা বাচাল হয়ে ওঠে – ভাড়া খাটে যত্রতত্র। ৪. কবিতার সংবর্ধনা বোঝে যে যাপন সেখানে বাগান জুড়ে সারারাত শিশিরের গান।
-
সুচ
মানুষ একটি জাদুকরী সুতীক্ষè সুচের শক্তিসৌন্দর্য নিয়েই পৃথিবীতে আসে যা যে-কোনো কঠিন বস্তুকে ভেদ করে যায় – ওই সুচের ডগায় কোন হাইপার মারণাস্ত্রের আয়ু কয়েক মুহূর্ত! এই সুচের সংবাদ জানাটাই মানুষের দ্বিতীয় সৌভাগ্য যা নিশ্চিত করে মনুষ্য অভিধা! অসংখ্য জন্মের স্রোতে তাই মানুষ সংখ্যকমাত্র!
-
বঙ্গনারী
শ্যামল শোভার নদী একে একে মেশে এসে যে সমুদ্রে শোভিত সে-সমুদ্রও অপলক দ্যাখে যার রূপের উদ্ভাস সে অতুল বঙ্গনারী, সবুজ কাঁটার ঝাড়ে গ্রীবাউঁচু ফুল। যদিও সৃজনীপ্রভা তার উপেক্ষিত স্বীকৃতির প্রতিবন্ধী চোখে জীবনের খরপথে অবিরাম হেঁটে হেঁটে বিক্ষত পা প্রকৃতিপ্রেম ও শিল্পচেতনার নিভৃত আকর সে জ্বলে প্রেমের মোতি প্রেমিকের চোখে সে তার আপন চোখে ছেঁড়ে তবু…
-
অন্ধচেতন ও মানুষ
যে তুমি অন্ধচেতন মায়াবী চাদরে যাবতীয় মনন ও মেধা আপাদমস্তক ঘিরে রাখো, আমি তার বাদ সাধি। জানি আমি, তোমার শৈত্যের চেয়ে বড় কোনো থাবা নেই মানবসংসারে দৃশ্যত তোমার চেয়ে উঁচু আর কোনো চূড়াও নেই বোবাভূমিতে তোমার বরফে তৈরি যে হিমশীতল পর্বত আমি তার কঠিন গাত্রে দিনরাত কুঠার চালাই পা রাখার খাঁজ তৈরি করে উঠে যেতে…
