শহীদ ইকবাল

  • গোলাপ তুমি সুন্দর হয়ে উঠলে… 

    গোলাপ তুমি সুন্দর হয়ে উঠলে… 

    যা কিছু সুন্দর আমি তাদের আরো সুন্দর করে তুলতে চাই। পাহাড়, নদী কিংবা পাতা-ঝরার সিম্ফনি আমার কাছে সুন্দর। বুদ্ধদেব বসু খুব তীব্রভাবে বহুকিছু সুন্দর করে তোলেন। বিস্ময়কর তাঁর, কালিদাস-বিবরণী – বিশেষত মেঘদূত। যা হোক, প্লেটো তাঁর ‘অনুকরণ-তত্ত্ব’, সেটি খুব মজার ও উপভোগ্য বলেই শিরোধার্য। নির্বাসিত কবিদের গালাগালি দিয়েও সর্বোচ্চ সুন্দরের তত্ত্ব তিনিই দিতে পেরেছিলেন। ওতে অনেকরকম করে সুন্দরের নিহিতার্থ ব্যাখ্যাত হয়েছে। বলতে ভয় নেই, ‘শিল্পের ন্যায়’ ধারণাটি দিয়ে তিনি সর্বোচ্চ শিল্পের প্রণোদনাটি সাহিত্যে অত্যুচ্চ করে তুলেছিলেন। কীভাবে? একালে এসেও যখন ‘রিপাবলিক’ পড়ি, সেটি ন্যায়, সাম্য, সত্যের সাবলিমিটি বা ‘শিল্পের জন্য শিল্প’ সবটাই সাহিত্যিক সম্বন্ধে নিপুণ – তারই দার্শনিক ধারণার উপলক্ষে, যেখানে সৌন্দর্য ব্যক্তিনিরপেক্ষতা চরমভাবে মূর্তমান। বেনজামিন জয়েট ইংরেজি অনুবাদ করেছেন (কারণ আমার গ্রিক জানা নেই) তাতেই যদি ঠিকরে থাকি, বিস্তর এক সমাপতনের ভাবনা প্রতিশ্রুত হয়। সে ভাবনায় জগৎ-জীবন-দর্শন সবটাই মোড়ানো থাকে সৌন্দর্যের বিদ্যুৎপ্রভায়। যেটি পরবর্তীকালে সেঁধিয়ে রয়, অ্যরিস্টটলের ট্র্যাজেডিতত্ত্বের ভেতরে। জীবনের ক্লাইমেক্স তখন ততোধিক উপভোগ্য – যা সবটাকে প্রবল উল্লাসে পৃথিবীর যা শ্রেষ্ঠ তার মুখোমুখি করায়। এভাবে গোড়ার দিকে নন্দনতত্ত্ব বা সমালোচনার একটি পর্যায়-ধারণার বৃত্ত গড়ে ওঠে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নান্দনিক ধারণাসমূহ পাল্টায়। রুচিবিচারেও তৈরি হয় নতুন দৃষ্টিকোণ। পাশ্চাত্য নন্দনতত্ত্বের অভিমুখসমূহ রচিত হয়, নতুন ধারাপাতে – রেনেসাঁসের ভেতরে। এক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক লক্ষণীয় প্রবণতাসমূহ উল্লেখ করার মতো। অ্যাংলো স্যাংসন প্রিয়ডের শেষে লিওনার্দো চিত্রকর হিসেবে পৃথিবীবাসীকে নতুন মেসেজ দেন। তারপর পুঁজি ও বাণিজ্যের সম্প্রসারণে ক্রমশ পাশ্চাত্য জীবনধারা টেম্পোরাল ও সেক্যুলার অনুসন্ধিৎসায় সম্মুখগামী গতি লাভ করে। সেখানে গতির সৌন্দর্যে অনেক নতুন মনীষার জন্ম হয়। নিয়তি বা দুর্ভোগ অস্বীকার করে পরিশ্রম-কর্তৃক ভাগ্য-বিনির্মাণের বিশ্বাস সৃষ্টি হয়। তখন প্রচলিত মূল্যবোধ বা সামাজিক অনুশাসনের আচরণসমূহ বাতিল করে সভ্যতানির্ভর অভিপ্রায় গড়ে ওঠে। দূরে কোনো এক স্থলে উপনিবেশ গড়ে ওঠে। তিনভাগ জলের বিপরীতে একভাগ স্থল অনুসন্ধানের চেষ্টা চলে। যে একভাগের ভেতরে খনি-ধনরত্ন-মণিমুক্ত বেশি সেখানে ব্যবসায়ীর চোখ আকৃষ্ট হয়। এ আকর্ষণ সম্পদের। পুঁজির। সামন্তসমাজ ক্রমশ ভেঙে পড়ে। ক্লাসিক যুগের অবসান ঘটতে শুরু করে। বিপরীতে রোমান্টিকতার উত্থান। রোমান্টিক উত্থানের তাৎপর্যেও ভেতরে ব্যক্তির বিকাশ, পুঁজির সঞ্চলন, দ্বন্দ্ব ও অধিকারের আকাঙ্ক্ষা সামনে আসে। অ্যাডভেঞ্চার, সাহস, রোমান্সরসে ভেসে যায় অনেককিছু। ব্যক্তির আনন্দ ও জয়োল্লাসের মধ্য দিয়ে কেনাবেচা, বিনিময়, সম্পদের অধিকার ও বণ্টননীতি চালু হয়। ম্যাকায়েভেলি, লক, বার্কলে, হিউম, কান্ট, স্পিনাজো, লাইবোনিজ, হেগেল তাদের দার্শনিক ভিত্তিতে মানুষের চাহিদা আকাঙ্ক্ষার মধ্যে স্বপ্ন, মনুষ্যত্ব, সৌন্দর্যবোধের দর্শন তৈরি হয়। এসব মনীষী সময়েরই সৃষ্টি। ফলে সাহিত্য-শিল্পে মূল্যবোধসমূহ নতুন অভিধা পায়। শিল্পের মর্মকথা আগের মতো আর থাকে না। তার বাস্তবতা, সার্বিকতা, অধিকারভেদ, বৈরাগ্য বা আনন্দ পাল্টায়। শিল্প ও আনন্দ, শিল্প ও কল্পনা ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিকোণে প্রসারতা পায় এবং গৃহীত হয়।  বলছিলাম, পাশ্চাত্য রেনেসাঁসের উত্তরাধিকার রোমান্টিক দর্শনচিন্তার কথা। সেখানে শেলি, কিটস, ওয়ার্ডসওয়ার্থ বায়রন স্ত্রোত্র রচনা করে গোলাপের সৌন্দর্য বিচার করলেন। ‘নেগেটিভ ক্যাপাবিলিটি’র ভেতরে আত্মমুগ্ধতায় ব্যক্তির বিলোপনীতির এসেন্স তৈরি হলো। এই আত্মমুগ্ধতা কী? রবীন্দ্রনাথ বলেন ‘আমারই চেতনার রঙে পান্না হলো সবুজ’, চেতনার রংটুকু সৌন্দর্যের অভিপ্রেত রূপ। তার ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য রস, উপলব্ধির আনুগত্য, অনুভবের গভীরতা বোধের সূক্ষ্মতায় নতুন অবভাসে উন্মোচিত হলো। এই উন্মোচন এক গভীর আনন্দপ্রয়াস। প্রথমে তা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য, ভাবের আনুকূল্যে অনুভাব্য, বিস্মমুগ্ধতার প্রলাপে জড়ানো, ক্রমশ তা চিত্তে প্রসারিত হয়ে, এক পুলকানন্দে ঘোর সত্যরূপে উদ্ভাসিত হলো। সকলেই তা গ্রহণ করল। অভিযানে নামল, সুন্দর তার সৌন্দর্যের পেখম মেলিয়ে ধরল। এই আনন্দ উপভোগের মাত্রা এক একরকম। কবিরা তার রূপ নির্ণয় করেছেন মনের মাধুরী মিশিয়ে। সে-আনন্দে পশ্চিমা বাতাস কিংবা সমুদ্রের কল্লোল, কিংবা উঁচু পাহাড় তার চিত্তে ধরা দিয়েছে বিরল প্রলাপনে। মনের মানুষরূপে তা ইন্দ্রিয়ের গোচরে এসেছে। ইন্দ্রিয়াতীত উপলভ্যতায় সম্পূর্ণ সত্য হয়ে সারার্থ খুঁজেছে। টেনিসনের লেখায় রবীন্দ্রনাথ অধ্যাত্মরসের আখররূপে প্রকৃতির গভীর অনুভবকেই উপলব্ধিতে এনেছেন। ষোড়শ শতকে মিল্টনের কবিতা, শেক্সপিয়রের সনেটগুচ্ছ সর্বদা প্রকৃতির ও নিয়তির অনুভাবে বিমূর্ত রহস্যময়তার অমোঘ আহ্বানকে সান্নিধ্য করেছে। শুধু চিত্রকলায় বা পেইন্টিংয়ের জগতে নয়,…

  • মকবুলা মনজুরের জীবনকালের মন্দিরা

    মকবুলা মনজুরের জীবনকালের মন্দিরা

    মকবুলা মনজুর (১৯৩৮-২০২০) আমাদের কথাসাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ লেখক। শক্তিশালী লেখক হয়েও তিনি এ-সময়ে তেমন পাদপ্রদীপের আলোয় আসেননি। কোনোদিন প্রচারও চাননি। প্রচারবিমুখ এ-লেখক গল্প-উপন্যাস মিলে একটা সময়ধারায় নিছক কম লেখেননি। তাঁর লেখালেখির কিছু উদাহরণ : আর এক জীবন (১৯৬৮), জলরং ছবি (১৯৮৪), অবসন্ন গান (১৯৮২), বৈশাখে শীর্ণ নদী (১৯৮৩), আত্মজ ও আমরা (১৯৮৮), অচেনা নক্ষত্র (১৯৯০), পতিতা…

  • বিদ্যাসাগরের প্রশ্নে

    বিদ্যাসাগরের প্রশ্নে

    শহীদ ইকবাল তখন আর এখনকার কাল এক নয়। দুশো বছর পেরুল। বিদ্যাসাগরের দ্বিশতজন্মবর্ষ, কাল গুনলে দিবস-রজনীর মাপে খুব বেশি সময় নয় হয়তো। কিন্তু মানবজীবনের হিসাবে তা নেহায়েত কম বলি কী করে! তবে প্রশ্ন, এতদিন পর কেন বিদ্যাসাগর? তাঁকে কী শ্রেষ্ঠ মানুষ ভেবে, একপ্রকার বিশাল দেবমূর্তি বানিয়ে, ভক্তির ভাবে প্রতিষ্ঠার জন্য – নাকি তাঁর কর্মপরিধি, কর্মের…

  • রিজিয়া রহমানের ঔপন্যাসিক দৃষ্টিকোণ

    রিজিয়া রহমানের ঔপন্যাসিক দৃষ্টিকোণ

    আমাদের পূর্ব-বাংলায় সাতচল্লিশের আগেই উপন্যাস লেখা শুরু হয়; প্রায় চল্লিশ থেকেই। রিজিয়া রহমান (১৯৩৯-২০১৯) তার একটু পরে। মূলত বাংলাদেশের উপন্যাসের যে-বুনিয়াদ গড়ে তোলেন শওকত ওসমান, আবু রুশ্দ, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্, আবু জাফর শামসুদ্দীন, শামসুদ্দীন আবুল কালাম প্রমুখ, সে-ধারাতেই এই স্বাধীন বাংলাদেশে রিজিয়া রহমানের লেখালেখি শুরু। যদিও তাঁর প্রথম উপন্যাস ঘর ভাঙা ঘর লেখা শুরু হয় ১৯৬৭-৬৮-র…

  • বিষাদ-সিন্ধুর মানস-পরিচর্যা : এ-সময়ের চোখে

    বিষাদ-সিন্ধুর মানস-পরিচর্যা : এ-সময়ের চোখে

    ছোট্টবেলার কিছু স্মৃতি, আত্মভঞ্জন শর্তে, পাঠকদের বলতে চাই। প্রসঙ্গ বিষাদ-সিন্ধুর গল্প। রাত্রির লণ্ঠনের আলোয় তখন – সুর করে পিতা পাঠ করছেন হাসান-হোসেন বা মাসহাব কাক্কার গল্প। মা ও তাঁর সন্তানরা অশ্রু ও ভয় নিয়ে তা শুনে চলেছেন। বুঝি সত্যিই আঁধার-ঘনানো অন্ধকারে দুলদুল ঘোড়ায় আসীন হোসেন খুব বিপদগ্রস্ত। অন্ধকারে হেঁটে আসছেন বুঝি তিনি! এমনটা চলছিল প্রায়…

  • নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের উপন্যাস :  সমাজ ও ইতিহাস-চেতনার অনুষঙ্গ

    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের উপন্যাস : সমাজ ও ইতিহাস-চেতনার অনুষঙ্গ

    এ -বছর কথাশিল্পী নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের (১৩২৫-৭৭) জন্মশতবর্ষ। বাংলা কথাসাহিত্যের তিনি অনন্য ও বিশিষ্ট লেখক। প্রতিভাসম্পন্ন ও প্রজ্ঞাদীপ্তও বটে। মিত্র ও ঘোষ থেকে প্রকাশিত তাঁর বারো খণ্ডের রচনাবলিতে যে গল্প ও উপন্যাস সন্নিবিষ্ট হয়েছে, তাতে জীবনদর্শনের নতুন অভিপ্রায় চিহ্নিত। ইতিহাস, রাজনীতি, আর্থ-সমাজ আখ্যানবদ্ধ হয়েছে নতুন অর্থে, নতুন প্রত্যয়ে। নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় সমসাময়িকদের থেকে আলাদা, নিছক গল্প লেখার…

  • ঠাকুরমার ঝুলি : পুনর্পাঠের ইঙ্গিতে

    ঠাকুরমার ঝুলি : পুনর্পাঠের ইঙ্গিতে

    শহীদ ইকবাল ঠাকুরমার ঝুলি (১৯০৭) বাঙালির সাহিত্য, শাশ্বত বাংলার রচনা। লেখক দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার (১৮৭৭-১৯৫৬)। সকলের পাঠ্য। কেননা মাটি ও মানুষের ঐতিহ্যিক চেতন মনকে তিনি এতে পরিস্ফুট করেছেন। এগুলো এত নিপুণ – যেখানে দক্ষিণারঞ্জন মিত্র যেন ‘রসের রাজা’ হয়ে বসে আছেন। তাঁর আগ্রহ, ধৈর্য, পরিবেশনরীতি, দায়িত্বশীলতা সবকিছু নতুনভাবে গড়ে উঠেছে আর ঠাকুরমার ঝুলি তাতে হয়ে…

  • বাংলাদেশের লিটলম্যাগ : রচনাদর্শ ও গতিপ্রকৃতি

    শহীদ ইকবাল লিটলম্যাগ সম্পর্কে বুদ্ধদেব বসুর সংজ্ঞার্থসূচক উদ্ধৃতিটি এরকম : ‘কৃতিত্ব যেটুকুই হোক, অন্ততপক্ষে নজর যাদের উঁচুর দিকে, তাদের জন্য নতুন একটি নাম বেরিয়েছে মার্কিন দেশে : চলতি কালের ইংরেজি বুলিতে এদের বলা হয়ে থাকে লিটল ম্যাগাজিন। লিটল কেন? আকারে ছোট বলে? নাকি বেশিদিন বাঁচে না বলে? সব কটাই সত্য, কিন্তু এগুলোই সব কথা নয়;…

  • শওকত ওসমানের উপন্যাস চতুষ্টয় : প্রসঙ্গ মুক্তিযুদ্ধ

    শহীদ ইকবাল আমাদের মুক্তিযুদ্ধটি ছিল নিশানা; মুক্তিযুদ্ধ সংঘটনের পূর্বে ও পরেও। দেখা যায়, স্বায়ত্তশাসন থেকে স্বাধীনতার পথে আমাদের গুচ্ছ গুচ্ছ ক্রিয়াশীল সময় তৈরি হয়েছে। সময়ের লেখকগণ তা একপ্রকার চেতনায়ও গেঁথে নিয়েছেন। সরদার জয়েনউদ্দীন, সত্যেন সেন, শহীদুল্লা কায়সার, শওকত ওসমান, শওকত আলী, জহির রায়হান তপ্ত চেতনায় মুক্তিযুদ্ধ-পূর্বকালেই বিচিত্র বিষয়কে আত্তীকৃত করেন। বায়ান্ন থেকে একাত্তর-প্রতিরোধী সংগ্রামের সঙ্গে…

  • কামাল চৌধুরী : কাব্যপাঠের সূত্র

    শহীদ ইকবাল নান্দনিক ঐশ্বর্যে চকিত পড়ে নিই, কবি কামাল চৌধুরীকে। জন্ম ১৯৫৭। ‘Pure Experience’-এ ভরা তাঁর এনিকডৌট। সেই বেশ আগে, মিছিলের সমান বয়সী পড়ে তাঁকে জড়িয়ে ফেলি সিনেসথেসিক-প্রবাহে। বোধ, ইন্দ্রিয়জ কারুকর্ম যা প্রকৃতির পলাতকা ছায়ায় পালটায়, গড়ে ওঠে; কিংবা এক অনুরাগে সন্ত বশীভূত না হয়ে অন্যতে পৌঁছায়, দোলা লাগায় কিংবা অনুভব থেকে গন্ধানুরাগে স্ফটিকস্বচ্ছতা পায়,…

  • পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় : অব্যর্থ বীজভূমির সংজ্ঞা ও নির্মিতি

    শহীদ ইকবাল সব্যসাচী সৈয়দ শামসুল হক মারা গেলেন। বাংলাদেশের সাহিত্যে তিনি সব্যসাচী লেখক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেলেও তাঁর কাব্যনাট্য সংগ্রহ তাঁকে অন্যমাত্রায় প্রতিষ্ঠা দিয়েছিল – সফল আঙ্গিক নিরীক্ষা এবং ব্যক্তি-বাস্তবতার ইঙ্গিতকে আধুনিক সমুন্নতিতে প্রকাশের গুণে। কাব্যনাট্য আধুনিক সাহিত্য-আঙ্গিকের পর্যায়ভুক্ত; বিশেষত বাংলাদেশের সাহিত্যের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিক্রিয়াশীল পুঁজিবাদী সমাজবাস্তবতায় ব্যক্তির বিনাশ ও ক্ষয় নিরূপিত করণকৌশল এতে প্রযোজ্য। যে জটিল…

  • শহীদ কাদরীর কবিতার সীবনগুচ্ছ

    শহীদ ইকবাল লেখার সংখ্যা সামান্য হলেও কবিতায় বাঙ্ময় জীবনদর্শন অসামান্য এবং সম্পূর্ণ, দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট ও নিঃসংশয়, পর্যবেক্ষণ তীক্ষন ও সূক্ষ্ম, প্রকাশ অনবদ্য ও মেদহীন। তাঁর কবিতার অমত্মর্গত যাবতীয় বোধ দেশকালের সীমানাকে ডিঙিয়ে আধুনিকতার নির্মাল্য হয়ে উঠেছে’ – পঞ্চাশোত্তর কবিতায় আধুনিকতা ও নাগরিক জীবনবোধের সংযোগ ঘটিয়ে এমন শহীদ কাদরীর (১৯৪২-২০১৬) আত্মপ্রকাশ। ভিন্ন পরিপ্রেক্ষে প্রকৃষ্টরূপে প্রাঞ্জল তাঁর…