হুমায়ূন মালিক

  • শিল্প ও বাস্তবতা

    মা যখন হাসপাতালে যেত তখনো প্রতিবারই আমাকে বলে যেত অথচ যখন ও একেবারেই গেল তখন আমাকে যে কিছুই বলে গেল না! বলে কী করে – এ-কথা তাকে কী করে বোঝাই ব্যবচ্ছেদে তার বাকযন্ত্র কী করে সামর্থ্য হারায় এরপর ও এও জানতে চায় আমাকে ছাড়া মা একা ওপারে থাকেইবা কী করে! চলো, যে-গর্তে তাকে মাটি চাপা…

  • তীর্থনদ

    ব্রহ্মপুত্রের একান্ত নিজের এক গান আছে তার বিশাল বিশাল চর, চরের কাশবন সরিষার হলদে বান, জলের ভয়াল পাঁকের যে-স্বরলিপি, যে-সুর তা আর কারো নেই তার কাছে এলে আর কোনো গান শোনা যায় না মোসার্ত, ম্যারাডোনা কি মাইকেল থেকে জ্যানেট জ্যাকসন, সাকিরা কি ডায়নার দেহ ও প্রেমের গান, গল্প এখানে কোনো সুর খুঁজে পায় না, হয়তো…

  • নোটেশন

    তোমার নোটেশনগুলো বড় বিপজ্জনক শব্দে-সুরে, রঙে-রসে তার যত স্তুতিই হোক সে কেবল এক সুন্দরের প্রপঞ্চ – ধ্বংসযজ্ঞে আত্মাহুতির প্রণোদনা; তোমার ভ্রুকুটির বিদ্যুচ্চমকে যতবার আমার জগৎ আনন্দে উদ্ভাসিত ততবার আমার মাথায় বাজ পড়ে। বস্তুত তারা বড় প্রোভোকেটিং তোমার ওষ্ঠ, স্তন, ঊরুসন্ধির অতল স্পর্শ আমায় স্বর্গে নেবে এমন নোটেশনে প্রলুব্ধ আমি বারবার খুনোখুনিতে জড়াই – তার পাপে…

  • মায়াবাস্তব

    তুমি নেই, তোমার না-থাকাগুলো আছে তারা আছে কায়ার মায়ায় আমি তাদের পারি না ছাড়াতে, কখনো তার ভার বড় দুর্বহ – আমি জলের অতলে তলিয়ে যেতে                                                যেতে খুঁজি পরিত্রাণ – নেই, কখনো আবার তারা কী                                              নেশায় আমাকে আকাশে ওড়ায়, সাগরে ভাসায় আমাকে ঘিরে তারা এক চলচ্চিত্র অবিরাম – দর্শনে-শ্রবণে-ঘ্রাণে-আশ্লেষে এক মায়াবাস্তব অথচ কী আশ্চর্য…

  • বাঘিনী-সুন্দরী ও সওদাগর ট্র্যাজেডি

    বাঘিনী-সুন্দরী ও সওদাগর ট্র্যাজেডি

    নিজেকে বুদ্ধিমান বিশ্বাসে যতই আমি আত্মবিশ্বাসী হই না কেন আমাকে বোকা বানিয়ে এক বাঘিনীর অবিশ্বাস্য কাণ্ডকীর্তির তথ্যটা আমাকে প্রথম দেয় ঈশানা – বাঘ প্রজাতির বিপন্নতার দিনে এই বাঘিনী শুধু অন্য প্রাণীর রক্ত-মাংস-হাড়গোড় নয়, নিজের গায়ে তেমন কোনো আঁচড় না লাগিয়ে খেয়ে চলছে ঘাস-খড়-কাগজ – কাগজ বলতে দলিলপত্রও। উপকথার বাঘ ঘাস, খড়, দলিলপত্র খেতেই পারে কিন্তু…

  • বনমানুষীর খোঁজে

    বনমানুষীর খোঁজে

    দুই হাজার চৌদ্দোয় পৌঁছে শিকদার হাসান ফেরদৌস উনিশশো একাত্তরে ফিরে এলো। স্ত্রীকে চড়-গুঁতা মেরে, টেনে-ধাক্কিয়ে বাসা থেকে বের করে গলিতে ঠেলে দিতে দিতে চরম উৎকণ্ঠা কিংবা কামজ বিগারে ও চিল্লায় – সহেলি, সহেলি … এমন এক সিনে শিকদার সাহেবকে আশপাশের বাসাবাড়ি-দোকানপাটের লোকজনের ভারি অশোভন ঠেকে, তারা তার এমন জ্বলে ওঠার কারণ যেমন বুঝে উঠতে পারে…

  • সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্র  কাঁদো নদী কাঁদো এবং বাংলা  কথাসাহিত্যে নতুন ধারা   

    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্র কাঁদো নদী কাঁদো এবং বাংলা কথাসাহিত্যে নতুন ধারা   

    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ এমন এক প্রতিভাবান কথাশিল্পী যিনি যুগপৎ বিষয় ও আঙ্গিকে তাঁর সমকালীন তথা প্রচলিত বৈশিষ্ট্যকে অতিক্রম করে এমন এক শিল্পরীতি ও দৃষ্টিভঙ্গি সমৃদ্ধ মাত্রার সংযোজন করেছেন যা অভিনব ও স্বতন্ত্র, সর্বোপরি তা বাংলা কথাসাহিত্যে নতুন ধারা হিসেবে গৃহীত এবং বলিষ্ঠ ধারায় বহমান। দীর্ঘ কুড়ি বছরে তিনি মূলত তিনটি উপন্যাস লিখেছেন (লালসালু ১৯৪৮, চাঁদের অমাবস্যা…

  • কবিতার বিচারে আহসান হাবীব

    কবিতার বিচারে আহসান হাবীব

    হুমায়ূন মালিক এজরা পাউন্ড কবি এবং মহান এক সংগঠক। তিনি তাঁর সমকালীনদের জন্যে ছিলেন গুরুপ্রতিম। সাংগঠনিক যোগ্যতার দিকটি বাদ দিয়ে কেবল তাঁর কবিতার বিষয়টি আলোচনা করে পাউন্ডের যথার্থ এবং পরিপূর্ণ মূল্যায়ন সম্ভব নয়। এজরা পাউন্ড কবি এবং কবি হিসেবে তিনি তাঁর সমকালীনদের প্রভাবিত করেছেন। সমান্তরালভাবে সংগঠক হিসেবে, শিক্ষক হিসেবে অন্য লেখকদের পথিকৃৎ ছিলেন। এ দুটো…

  • দেহ ও দেহাতীত

    হুমায়ূন মালিক ড্রইংরুমে বসে ও বোঝে শোভনা অদ্ভুত এক রাফ ভঙ্গিতে ওয়্যারড্রব খুলছে – তা খোলার শব্দে তার দিকে তাচ্ছিল্য ছুড়ে মর্দানি ফলাচ্ছে। মাহিনকে স্কুলে পাঠিয়েই সে বেরিয়ে যাওয়ার এমন এক প্রস্ত্ততি খেলায় মাতে। এখন ও তার পার্মিশন নেওয়া দূরে গায়ে-গতরে কামত্রুুদ্ধ হুলোবিড়ালের ভঙ্গি নিয়ে তারই সামনে দিয়ে বেরোবে। ঠিক আছে, একটা মেয়ে, তা একটু…

  • অতিদানবের ঈশ্বররসনা

    কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর অতিমানবের ঈশ্বর বাসনা হুমায়ূন মালিক জোনাকী প্রকাশনী ঢাকা, ২০১৩ ১৫০ টাকা অতিমানবের ঈশ্বর বাসনা হুমায়ূন মালিকের চতুর্থ পূর্ণদৈর্ঘ্য উপন্যাস। আমরা গ্রন্থটির পাঠ শুরুতেই বুঝতে পারছি যে, এ-উপন্যাসের ভেতর দিয়ে বহুমাত্রিক জীবনবিন্যাসই শুধু প্রকাশ পায়নি, এর অন্তর্জগতে ভ্রাম্যমাণ আছে সামাজিক-সাংস্কৃতিক বাস্তবতার এক ব্যাপক ইতিবৃত্ত। আমরা উপন্যাসটির শুরুতেই দেখবো উষা নামে জায়গাটি কার্যত এক সাম্রাজ্যবাদী…

  • বিহঙ্গ পুরাণের অন্তিম পরিচ্ছেদ

    হুমায়ূন মালিক দীপ্রর খুব পাখি ধরার সাধ; কিন্তু সে না পারে পাখি ধরতে, না পাখি তারে ধরা দেয়। আসলে ও পাখি ধরতে চায় না পাখির ওড়াউড়ি নাকি ওদের বুনো জীবন! কারণ তার জন্য একটা গাড়ি কিনে আনা হলে প্রথমে সে দেখে চাকা ঘুরে ছুটছে গাড়ি, তারপরই সে একে একে গাড়ির চাকা, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ খুলে খোঁজে কোথায়…