কীর্তিমান ও সৃষ্টিশীল স্থপতি সিজার পেল্লি

লেখক: রবিউল হুসাইন

গত ১৯ জুলাই, ২০১৯-এ ৯৩ বছর বয়সে সাম্প্রতিককালের একজন প্রতিভাবান ও সৃষ্টিশীল স্থপতি সিজার পেল্লি আমেরিকার কানেকটিকাটের নিউ হ্যাভেনে তাঁর বাড়িতে গত হয়েছেন। তিনি মূলত বহুতল ভবনের নকশায় তাঁর স্থাপত্যশিল্পের সৃজনশীলতার প্রকাশ ঘটিয়েছেন। তিনি আর্জেন্টিনার সান মিগুয়েল দে টুকুমেনে ১৯২৬ সালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। স্থাপত্যে লেখাপড়া করেছেন ইউনিভার্সিটিজড ন্যাশনাল দে টুকুমানে এবং ১৯৪৯ সালে স্নাতকপ্রাপ্ত হন। প্রথমদিকে স্বল্পমূল্যের বাসগৃহ নকশায় নিয়োজিত হন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্কুল অব আর্কিটেকচার থেকে স্থাপত্যে উচ্চশিক্ষা গ্রহণশেষে ১৯৫৪ সালে স্নাতকোত্তর সম্মান লাভ করেন ও তখন থেকেই তাঁর স্ত্রী ডায়ানা বালমোরিসহ আমেরিকার নাগরিকত্ব পেয়ে সেখানেই বসবাস শুরু করেন।
এই সময়ে মিশিগানের বস্নুমফিল্ড হিলসে অবস্থিত স্থপতি এরো সারিনেনের অফিসে যোগ দেন এবং সেখানে ১০ বছর অতিবাহিত করেন। তাঁর সঙ্গে পেল্লি জন এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের সুবিখ্যাত টিডবিস্নউএ টার্মিনাল নকশায় যুক্ত ছিলেন এবং ইয়েল ইউনিভার্সিটির দি মর্সে অ্যান্ড স্টিলস কলেজেসের স্থাপত্য নকশার সঙ্গেও।
এরপর লস অ্যাঞ্জেলেসে স্থাপিত স্থাপত্য-আপিস ড্যানিয়েল, মান, জনসন অ্যান্ড মেনডেনহলের ডিরেক্টর অব ডিজাইন হিসেবে যোগ দেন ১৯৬৪ সালে। তখন একটি প্রকল্পের নকশা করেন এবং সেটা ছিল সানসেট মাউনটেন পার্ক আরবান নিউক্লিয়াস নামে যদিও তা বাস্তবে নির্মিত হতে পারেনি। পরবর্তী সময়ে, ১৯৬৮ সালে গ্রম্নয়েন অ্যাসোসিয়েটের ডিজাইন পার্টনার হয়ে কাজ শুরু করেন এবং ১৯৬৯-এ মেরিল্যান্ডের ক্লার্কসবার্গে কমস্যাট রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ল্যাবরেটরিজ প্রকল্পের নকশায় নিয়োজিত হন। তখনই তাঁর স্থপতিজীবনের প্রথম উলেস্নখযোগ্য ও গুরুত্ববহনকারী প্রকল্প ক্যালিফোর্নিয়ার প্যাসিফিক ডিজাইন সেন্টার, যেটি ওয়েস্ট হলিউডে নির্মিত হয় ১৯৭৫ সালে, এই বিখ্যাত ভবনের বিশালত্ব এবং নীল রঙের জন্য এলাকার মানুষজনের কাছে ‘নীল তিমি মাছ’ হিসেবে এটি পরিচিতি লাভ করে। পেল্লি সেই সময় জাপানের টোকিওতে ইউনাইটেড স্টেটস এমবাসি ভবনেরও নকশা করেন। তিনি স্থাপত্যবিদ্যার শিক্ষক হিসেবেও নিজেকে ব্যস্ত রাখেন স্থাপত্যপেশা চর্চার পাশাপাশি লস অ্যাঞ্জেলেসের ইউনিভার্সিটি ইউসিএলএতে।
সিজার পেল্লি ১৯৭৭ থেকে ১৯৮৯-এর মধ্যে নিজেকে বহু স্থাপত্য প্রকল্পের পেশা চর্চায় ব্যস্ত রাখেন, সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষক হিসেবেও। এই সময়ে বেশ কয়েকটি বিখ্যাত স্থাপত্য প্রকল্পের উলেস্নখ করা যায়।
কানেকটিকাটের নিউ হ্যাভেনে অবস্থিত ইয়েল স্কুল অব আর্কিটেকচারের তিনি ১৯৭৭ সালে ডিন হিসেবে নির্বাচিত হন এবং ১৯৮৪ পর্যন্ত সে-দায়িত্ব পালন করেন। ইয়েলে আসার পর সিজার পেল্লি নিউইয়র্কের মিউজিয়াম অব মডার্ন আর্ট ভবনের সম্প্রসারণ এবং সংরক্ষণ-সংযোজনের দায়িত্ব লাভ করেন এবং তখনই তিনি তাঁর নিজের স্থাপত্য উপদেষ্টা কার্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন সিজার পেল্লি অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস নামে। ১৯৮৪ সালে তখন মিউজিয়াম অব মডার্ন আর্ট রেসিডেনসিয়াল টাওয়ার শেষ হয় সংযোজন ও বিনির্মাণের সঙ্গে। ১৯৮৮-তে নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ফাইন্যান্সিয়াল সেন্টারের উইন্টার গার্ডেনের প্রসারিত বিশাল গণপরিসর বাস্তবায়িত হয়। এর আগে ১৯৮৪ সালে হয় ওহাইওর ক্লিভল্যান্ডে ক্রাইল ক্লিনিক বিল্ডিং, একই বছরে টেক্সাসের হিউস্টনে রাইস ইউনিভার্সিটির হেরিং হল। ১৯৮৮ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার ওয়েস্ট হলিউডে প্যাসিফিক ডিজাইন সেন্টারের গ্রিন বিল্ডিং এবং ১৯৮৯-এ মিনেসোটায় মিন্নিয়াপলিসের ওয়েলস ফারগো সেন্টার প্রকল্পের স্থাপত্য নির্মাণ শেষ হয়। সিজার পেল্লি ১৯৯০ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে অনেক উলেস্নখযোগ্য অবদান রাখেন শিক্ষকতা এবং স্থাপত্যচর্চায়। এ সময়ে তিনি বেশ কয়েকটি পুরস্কারে ভূষিত হন। ১৯৯১ সালে আমেরিকান ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেকটস তাঁকে দশজন মেধাবী স্থপতির মধ্যে অন্যতম প্রধান প্রাধান্য বিস্তারকারী আমেরিকান স্থপতি হিসেবে নির্বাচিত করে। একই প্রতিষ্ঠান তাঁকে ১৯৯৫ সালে স্বর্ণপদক প্রদান করে সম্মান দেখায়। ২০০৪ সালে পেল্লি ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটা দুলুথ থেকে ওয়েবার মিউজিক হল নকশা করার জন্য একটি সম্মানসূচক ডক্টর অব হিউম্যান লেটার্স ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর ২০০৫-এ কানেকটিকাট আর্কিটেকচার ফাউন্ডেশনের সম্মানিত নেতৃত্ব প্রদানকারী পুরস্কার লাভ করেন।
এই সময়কালে সিজার পেল্লি তাঁর বিভিন্ন স্থাপত্য প্রকল্পের নকশায় নানামুখী পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও যাচাই-বাছাই শুরু করেন, বিশেষ করে ভবনে ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীকে কেন্দ্র করে। বহুতল ভবনের স্টেইনলেস স্টিল তার মধ্যে অন্যতম। তখন, ১৯৯১ সালে, লন্ডনের ক্যানারি হোয়ার্ফে ওয়ান ক্যানাডা স্কয়ার, একই সালে নির্মিত ক্যালিফোর্নিয়ার কস্তা মেসায় প্লাজা টাওয়ার এবং ১৯৯৫ সালে সমাপ্ত হয় টোকিওর এনটিটি হেডকোয়ার্টার্স বহুতল ভবন। আসলে এগুলো পেল্লির মালয়েশিয়ার বাণিজ্যিক রাজধানী কুয়ালালামপুরে নির্মিত পেট্রোনাস দ্বৈত বহুতল ভবন নকশার প্রাথমিক স্থাপত্যকর্ম হিসেবে চিহ্নিত। ১৯৯৭ সালে সমাপ্ত হওয়া এই ভবনে ব্যবহৃত স্টেইনলেস স্টিলের পাত দ্বারা পরিকল্পিত ইসলামি নকশার নানা অনুষঙ্গমিশ্রিত হয়ে বাস্তবে রূপ নেয় এবং ২০০৪ সাল পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন হিসেবে পরিচিত ছিল। এটি সেই বছরেই আগা খান স্থাপত্য পুরস্কার লাভ করে।
২০০৫ সালে জাপানের ওসাকায় ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব আর্ট প্রকল্প শেষ হয় এবং ওই সময়ে পেল্লির উপদেষ্টা স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান পেল্লি ক্লার্ক পেল্লি আর্কিটেকটস নামে নতুনভাবে তাঁর পার্টনার ফ্রেড ডবিস্নউ ক্লার্ক আর পুত্র রাফায়েল পেল্লি দ্বারা গঠিত হয়।
২০০৬ থেকে ২০০৯ সালে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভবন সৃষ্টিতে নিমগ্ন ছিলেন তিনি। স্কুইল কিল নদীর তীরে সিরা সেন্টারের নকশা করেন এবং এটি ২০০৬ সালে শেষ হয়। আমেরিকার ছাত্রাবাস নির্মাণে নিয়োজিত হন মাস্টারপস্ন্যান-প্রস্তাবিত বহুতলবিশিষ্ট সিরা সেন্টার সাউথে এবং ভবনটি উৎসর্গিত হয় ছাত্রদের আবাসিক ব্যবস্থার প্রতি। পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ছাত্রাবাস ভবন এই সময়ের পরে ২০১৪ সালে শেষ হয়। সিরা সেন্টার সাউথ ডেভেলপমেন্টের আওতাধীন ৭৩০ ফুট উঁচু যৌগ ব্যবহারের বহুতল বিলাসবহুল দালানেরও স্থপতি ছিলেন পেল্লি।
আগে তিনি বেশ কয়েকটি সাংস্কৃতিক ও গণভবনের নকশা বাস্তবে রূপ দেন। এর মধ্যে ২০০৬ সালে উদ্বোধিত ফ্লোরিডার মিয়ামিতে অবস্থিত পারফর্মিং আর্টস ও মিনেপলিস সেন্ট্রাল লাইব্রেরি ভবন উলেস্নখ্য। রেনি হেনরির সিগারস্ট্রম কনসার্ট যেটি ক্যালিফোর্নিয়ার কস্তা মেসাতে স্যামুয়েলি থিয়েটার ভবনের সঙ্গে সেই সময়ে নির্মিত হয়।
পেল্লি গত দশকে এশিয়া ও দক্ষক্ষণ আমেরিকায় অনেক বহুতল ভবনের নকশা করেন। ২০১২ সালে তাঁর ৪০ বছর আগের নকশা করা যখন গ্রম্নয়েন অ্যাসোসিয়েটসে কর্মরত ছিলেন, সেই সময়ের প্যাসিফিক ডিজাইন সেন্টারের তিনটি ভবন একটি রেড বিল্ডিংসহ শেষ হয়।
২০০৮ সালে সিজার পেল্লি ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টর অব আর্টস ডিগ্রি লাভ করেন। একই সময় তিনি কাউন্সিল অন টল বিল্ডিংস অ্যান্ড আরবান হ্যাবিট্যাট (সিটিবিইউএইচ) কর্তৃক দ্য লিন এসবিডল লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট সম্মানে ভূষিত হন। ২০১২ সালে পেল্লি দ্য প্লাটিনাম কোনেক্স অ্যাওয়ার্ড এবং দৃশ্যমান শিল্পের জন্য লাভ করেন দ্য ডায়মন্ড কোনেক্স অ্যাওয়ার্ড। তিনি ২০১০ সালে আবুধাবিতে দ্য ল্যান্ডমার্ক টাওয়ার ও স্পেনের সেভিলে সেভিল টাওয়ার শেষ করেন এবং সেই সময়ে শেষ হয় সানফ্রান্সিসকোর ট্রান্সবে ট্রানজিট সেন্টারের প্রথম পর্যায়ও। ২০১৯ সালে আরো উলেস্নখযোগ্য সম্মানে ভূষিত হন। তা হলো পেল্লির নকশা করা সেলসফোর্স টাওয়ারটি সিটিবিইউএইচ কর্তৃক বিশ্বের শ্রেষ্ঠ উঁচু বা বহুতলবিশিষ্ট ভবন হিসেবে আখ্যায়িত হয়।
সিজার পেল্লি বর্ণাঢ্য স্থাপত্যশিল্পের সৃজনশীল ৯৩ বছরের জীবনে বহুরকম ভবন নকশা করলেও বিশ্বের বিভিন্ন শহরে সুউচ্চ আকাশছোঁয়া কিছু দালানের জন্য তিনি তাঁর নিজস্বতা নিয়ে পরিচিত হয়ে থাকবেন। এর মধ্যে কিছু ভবন সম্বন্ধে আলোচনা করা যেতে পারে। এ কথা নিশ্চিত যে, আধুনিক নগরায়ণের অন্যতম দিকচিহ্ন হচ্ছে আকাশস্পর্শী বহুতলবিশিষ্ট অট্টালিকাসমূহ। বর্তমানে সব শহর বা নগরে এসব দৃশ্যমান। বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় আবিষ্কৃত বিদ্যুৎশক্তি, ভারবহন যন্ত্র বা লিফট, উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রসহ নির্মাণপদ্ধতি বিশেষ করে কংক্রিট, ধাতু বা ইস্পাত, নিদাগ ইস্পাত কাঠামো, ভিত্তি নির্মাণে ভূমিকম্পনিরোধ ক্ষমতার ব্যবস্থা – এগুলোর সুচারু ব্যবহার বহুতল ভবন সারাবিশ্বে বিকাশ লাভ করে।
একটি শহরের ভবনগুলো হয়ে ওঠে এক-একটি প্রতীক-নিদর্শন, নিগমবদ্ধ করপোরেট শক্তির প্রতিভূ এবং গর্বের বস্ত্ত।
১৮৮০ সাল থেকে এর শুরু শিকাগোর ১৮০ ফুট উঁচু হোম ইন্স্যুরেন্স ভবন থেকে। স্থপতি জেন্নি, যিনি লুই সুলিভান, বার্নহাম, হোলাবার্ড ও মার্টিন রসসহ শিকাগো স্কুল ধারায় বাণিজ্যিক ভবনের গোড়াপত্তন করেন, যা আজো বহমান, যদিও ১৯৩১ সালে ভেঙে ফেলা হয়।
বহুতল ভবন চিহ্নিত হয় সুদৃশ্যভাবে আমেরিকান একটি শিল্পগঠন রূপে এবং নিউইয়র্ক ও শিকাগো শহর দুটো এসবের পরীক্ষাগার।
আমাদের ঢাকা শহরেও বহুতল ভবনের ছোঁয়া সেই সত্তরের দশকেই দেখা গেছে, এবং ফরিদপুরের ফজলুর রহমান খান (এফ আর খান) বহু বহুতল ভবনের নির্মাতা সেই শিকাগোর সিয়ার্স টাওয়ার, ১৪৫৪ ফুট উঁচু, ১৯৭৪ সালের নির্মাণ ধারায় নতুন পদ্ধতি টিউব-ইন-টিউব শৈলী, যাতে নির্মাণ ব্যয়ের সাশ্রয় ঘটিয়ে এক যুগান্তকারী বহুতল ভবন সৃষ্টিকর্ম শুরু করেন। বহুতল ভবনের এই কর্মশালা বিকাশের জন্য আমরা অবশ্যই বাঙালি হিসেবে গর্ব বোধ করি।
এফ আর খানের কোনো নির্মাণ নিদর্শন আমাদের বাংলাদেশে নেই, যদিও তাঁকে স্বাধীনতার পর ঢাকা শহরের সার্বিক নগর পরিকল্পনার জন্য আহবান করা হয়েছিল রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের একটি বিজ্ঞাপনে, কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় তা সফলতার মুখ দেখেনি। সিজার পেল্লি ১৯৯১ সালে গ্রেট ব্রিটেনের সেই সময়ে প্রথম বহুতল ভবন লন্ডনের ৮০০ ফুট উঁচু ক্যানারি হোয়ার্ফ টাওয়ার নির্মাণ-নকশা করেন। ভবনটি খুব সমালোচিত হয়। ১৯৮৯ সালে প্রিন্স চার্লস বলেন, ভবনটি ১৯৬০ সালের ভুল ভাবনায় নির্মিত, যেটি ১৯৮০ সালের চিহ্ন বহন করে। পেল্লি বলেন, এই ভবনটি একটি যোগসূত্র তৈরি করেছে ভবিষ্যতের সঙ্গে এবং একবিংশ শতাব্দীর নিদর্শন। এটি একটি চতুষ্কোণ স্তম্ভ বা অবেলিস্কের মতো, যার ওপরে পিরামিড আকার স্থাপিত, যেটি সব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের পরিচয় বহন করে।
১৯৯৭ সালে মালয়েশিয়ার বাণিজ্যিক রাজধানী কুয়ালালামপুরে ১৪৭৬ ফুট উঁচু পেট্রোনাস টাওয়ার্স নির্মিত হয় কংক্রিট, ইস্পাত ও গস্নাস দ্বারা। দুটো টাওয়ার পাশাপাশি ৪২ তলায় একটি সংযোগ সেতু দিয়ে যুক্ত। পেল্লি বলেছেন, ভবনদুটির নকশার মধ্য দিয়ে সেই দেশের জলবায়ু, বিদ্যমান ইসলামি ঐতিহ্য এবং সাংস্কৃতিক উপাদান নিয়ে কাজ করেছি। একটি পানপাত্র, উপাসনার ঘর, হাঁটু গেড়ে পবিত্র মক্কার দিকে মেঝেতে সিজদা – এরকম দৃশ্যমানতা ভবনের আঙ্গিকে প্রতিফলনের চেষ্টা করা হয়েছে। সবমিলে একটি স্বচ্ছ আনুভূমিক কাচের জানালা ভারমুক্ত অবয়ব এবং ভবনের মাঝখানটি ফাঁকা যা রহস্যময় এক অনুভূতির সৃষ্টি করে সবাইকে গভীরভাবে ভাবনার জগতে নিয়ে যায়। সেই সময়ে প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের একটি শহরের মধ্যে আর একটি শহর – এই নতুন চিন্তার প্রতিমূর্তি বাস্তবায়িত হয় এই টুইন টাওয়ারের মাধ্যমে।
সিজার পেল্লি একজন কীর্তিমান ও সৃষ্টিশীল স্থপতি হিসেবে এইসব স্থাপনার মধ্যে বেঁচে রইবেন।

সহায়ক গ্রন্থ ও নিবন্ধন
১. স্কাইস্ক্রেপার্স, জুডিথ ডুপ্রে।
২. উইকিপেডিয়া।

Leave a Reply

%d bloggers like this: