থিয়েটার গোষ্ঠী ভেঙে দু-ভাগ হলেও সদর্পে পঞ্চাশ বছর টিকে আছে কবীর চৌধুরী, আবদুল্লাহ আল-মামুন, ফেরদৌসী মজুমদার, রামেন্দু মজুমদারের মূল থিয়েটার গোষ্ঠীর মুখপত্র নাট্যত্রৈমাসিক পত্রিকা থিয়েটার। ১৯৭২-এ যে তরুণ নাট্যকর্মীর সম্পাদনায় প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল এই পত্রিকা, আজ আশির ঘরে পা দিয়েও সেই তরুণসম রামেন্দু মজুমদারের নিপুণ হাতেই সম্পাদিত হয়েছে থিয়েটারের পঞ্চাশ বছর পূর্তি সংখ্যা (ডিসেম্বর ২০২১)। বাংলাদেশের নাট্যপত্রিকার ইতিহাসে এ এক বিরল দৃষ্টান্ত।

থিয়েটারের প্রথম বর্ষ প্রথম সংখ্যা থেকে পঞ্চাশ বর্ষ পূর্তি সংখ্যা পর্যন্ত সব সংখ্যাই আমার প্রিয় সাথি হয়ে আছে। মাঝে ১৯৯৯ ও ২০০১ খ্রিষ্টাব্দে কোনো থিয়েটার প্রকাশিত হয়নি। সম্পাদক হিসেবে রামেন্দু মজুমদার লেখা সংগ্রহ ও নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভীষণ সচেতন। ঢাকা এবং ঢাকার বাইরের প্রতিষ্ঠিত কিংবা নবীন লেখকদের কাছে তিনি লেখা চাইতেন সাক্ষাতে, চিঠি বা ফোনের মাধ্যমে। মঞ্চায়িত কোনো ভালো নাটক দেখলে তিনি সেই নাটকের পাণ্ডুলিপি নিয়ে থিয়েটারে প্রকাশ করতেন। ফলে শক্তিমান নাট্যকার সৈয়দ শামসুল হক, সেলিম আল দীনের পাশাপাশি রাজশাহীর প্রতিভাবান মলয় ভৌমিক, দিনাজপুরের শাহজাহান শাহের মতো বহু নাট্যকারের নাটক মুদ্রিত হয়েছে এ-পত্রিকায়।

যুদ্ধ করে স্বাধীন হয় বাংলাদেশ। স্বাধীন দেশে নাটক আসে নতুন বেশে। ঢাকা-চট্টগ্রামসহ জেলায় জেলায় নাট্যচর্চার জোয়ার জাগে। মঞ্চায়নের জন্যে প্রয়োজন হয় নাটকের। সে-নাটকের অধিকাংশই জোগান দেয় থিয়েটার পত্রিকা। প্রথম পর্যায়ে আবদুল্লাহ আল-মামুনের সুবচন নির্বাসনে, এখন দুঃসময়, মমতাজউদ্দীন আহমদের স্পার্টাকাস বিষয়ক জটিলতা, মামুনুর রশীদের ওরা কদম আলী বহুল-অভিনীত ও দর্শকপ্রিয় নাটক। পরবর্তীকালে নিরীক্ষাধর্মী নাটক রচনা, প্রকাশ ও মঞ্চায়ন বৃদ্ধি পায়। পঞ্চাশ বর্ষপূর্তি সংখ্যায় থিয়েটারের সম্পাদকমণ্ডলী পাঁচটি মঞ্চসফল ও পাঠকনন্দিত নাটক পুনর্মুদ্রণ করেন। নাটকগুলো – সৈয়দ শামসুল হকের পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়, আবদুল্লাহ আল-মামুনের সুবচন নির্বাসনে, মামুনুর রশীদের জয়জয়ন্ত্রী, সেলিম আল দীনের কিত্তনখোলা এবং এস এম সোলায়মানের এই দেশে এই বেশে।

মফস্বলের নাট্যচর্চার প্রতি থিয়েটার গোষ্ঠীর বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। তাই জেলাভিত্তিক থিয়েটার প্রতিনিধি নির্ধারণ করা হয়, তাঁরাই নিজ নিজ অঞ্চলের নাট্যসংবাদ থিয়েটারের জন্যে প্রেরণ করেন। ব্যবস্থা রাখেন নাট্যগ্রন্থ এবং মঞ্চায়িত নাটকের আলোচনা-সমালোচনার। নাট্যউৎসব, গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন, থিয়েটার ওয়ার্কশপ এবং আইটিআই-এর কার্যবিবরণ-সম্পর্কিত প্রতিবেদনও থিয়েটারে গুরুত্বসহকারে মুদ্রিত হয়। শুদ্ধ নাট্যচর্চার ক্ষেত্রে যেসব সমস্যা বিরাজমান, তা নিরসনের লক্ষ্যে থিয়েটার বরাবরই সোচ্চার।

থিয়েটার পত্রিকার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ কখনোই আত্মশ্লাঘায় ভোগেন না বলেই মনে হয়। নিজেদের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে সহযাত্রী নাট্যপত্রিকা প্রকাশনাকে স্বাগত জানান। তির্যক, থিয়েটারওয়ালা, দুই বাংলার থিয়েটার, থিয়েটার স্টাডিজ, আনর্ত প্রভৃতি নাট্যপত্রিকা সাময়িকভাবে প্রশংসা কুড়ালেও কেউ থিয়েটারের সমবয়সী হতে পারেনি।

থিয়েটার পত্রিকায় মাঝেমধ্যে গোষ্ঠীর অভিনেতা, নেপথ্যকর্মী ও মঞ্চায়িত নাটকের অভিনয়দৃশ্যের ছবিও ছাপা হতো। দূরবাসী নাট্যপ্রেমিকদের জন্য এটি ছিল বাড়তি পাওনা।

গুরুত্ববহ ও দৃষ্টিনন্দন প্রচ্ছদের জন্যেও থিয়েটার পত্রিকা ভিন্নমাত্রিক মর্যাদা পেয়েছে। প্রথিতযশা শিল্পী নিতুন কুন্ডু, কামরুল হাসান, কাইয়ুম চৌধুরী, রফিকুন নবী, মুর্তজা বশীর, হাশেম খান, সৈয়দ ইকবাল, আবুল বারক আলভী প্রমুখের হাতে তৈরি হয় এসব নিপুণ প্রচ্ছদপট।

আমাদের দেশে মৌলিক কিংবা অনূদিত-রূপান্তরিত নাটকপাঠের প্রবণতা কবিতা-কথাশিল্পের তুলনায় কম এবং প্রকাশকদের নাট্যপ্রকাশে অনীহাও প্রচুর। কারণ অবশ্যই ব্যবসায়িক। তবে স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে নাট্যমঞ্চায়নের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়, মুক্তিযুদ্ধকে উপজীব্য করে একদল প্রতিভাদীপ্ত নবীন-তরুণ-মাঝবয়সী নাট্যকারের আবির্ভাব ঘটে। মহিলা সমিতির মঞ্চে দর্শনীর বিনিময়ে নাটক, পথনাটকের দায়বদ্ধ প্রদর্শনী, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর এক্সপেরিমেন্টাল মঞ্চে নিরীক্ষাধর্মী নাটক, সারাদেশে ছড়িয়ে পড়া সীমিত বা বর্ধিত পরিসরে মঞ্চায়িত নাটক, এমনকি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে জনতা-যোদ্ধাকে জাগ্রত রাখার জন্যে যে নাটক – সব নাটকেরই সিংহভাগ মুদ্রিত হয় থিয়েটার পত্রিকায়। এ-যাবৎ দেড় শতাধিক নাটক এ-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। স্মরণে আনি কয়েকজন উল্লেখযোগ্য নাট্যকারের নাটক : কল্যাণ মিত্রের জল্লাদের দরবার, আল মুনসুরের হে-জনতা আর একবার, আলাউদ্দিন আল আজাদের জোয়ার থেকে বলছি, আবদুল্লাহ আল মামুনের সুবচন নির্বাসনে, কোকিলারা, সেলিম আল দীনের মুনতাসীর ফ্যান্টাসী, কিত্তনখোলা, মমতাজউদ্দীন আহমদের কি চাহ শঙ্খচিল, মামুনুর রশীদের ওরা কদম আলী, রাঢ়াঙ, সৈয়দ শামসুল হকের পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়, এসএম সোলায়মানের এই দেশে এই বেশে, মান্নান হীরার এবং বিদ্যাসাগর প্রভৃতি। আর বিদেশি নাটকের অনুবাদ কিংবা রূপান্তরও এ-পত্রিকায় কম প্রকাশিত হয়নি। সৈয়দ শামসুল হক-কৃত শেক্সপিয়রের হ্যামলেট, টেম্পেস্ট, কবীর চৌধুরী-অনূদিত স্যামুয়েল বেকেটের ওয়েটিং ফর গোডো, আসাদুজ্জামান নূর-রূপান্তরিত বের্টোল্ট ব্রেশটের অনুসরণে দেওয়ান গাজীর কিসসা ইত্যাদি আমাদের নাট্যাঙ্গনকে সমৃদ্ধ করেছে। এরূপ প্রকাশিত নাটকের সংখ্যাও অর্ধশতাধিক। তাছাড়া ষষ্ঠবর্ষ প্রথম সংখ্যা (১৯৭৮) থিয়েটার তো অনুবাদ-রূপান্তর সংখ্যা হিসেবেই প্রকাশিত। বাংলাদেশের নাটকের সমৃদ্ধিসাধনের জন্যে এসব অনূদিত নাটক প্রভূত ভূমিকা রাখে। নাটক অভিনয়ের জন্যে হলেও সাহিত্য হিসেবে তার জায়গা অপ্রতুল নয়। তাই নাটক মঞ্চায়নের জন্যে, পাঠের জন্যে, গবেষণার জন্যে আমাদের গত পঞ্চাশ বছরের থিয়েটার পত্রিকার আনুকূল্য নিতে হয় বারবার।

নাটক ছাড়াও মানসম্পন্ন নাট্যবিষয়ক অনেক প্রবন্ধ, নিবন্ধ, আলোচনা, সমালোচনা, নাট্যসংবাদ প্রকাশিত হয়ে আসছে থিয়েটার পত্রিকায় – যা নাট্যকলার শিক্ষার্থী, শিক্ষক, গবেষক ও নাট্যানুরাগীদের জ্ঞানচর্চায় সহায়ক অবদান রাখছে। দু-চারটি প্রবন্ধের শিরোনাম – মমতাজউদ্দীন আহমদের ‘বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নাট্যচর্চার ইতিবৃত্ত’, আবদুল্লাহ আল মামুনের ‘মুক্তিযুদ্ধের উত্তরাধিকার ও আমাদের নাটক’, আফসার আহমদের ‘সেলিম আল দীন : মহাকালের মৃৎপাত্রে অঙ্কিত কালের কুমোর’, আবু হেনা মোস্তফা কামালের ‘মুনীর চৌধুরীর নাটক’, পবিত্র সরকারের ‘নতুন নাট্যভাষা : রবীন্দ্রনাথ, বাদল সরকার, সেলিম আল দীন’, আবদুস সেলিমের ‘আমার গ্যালিলিও : বাংলার গ্যালিলিও’ প্রভৃতি। পঞ্চাশ বর্ষপূর্তি সংখ্যায় মূল্যায়নভিত্তিক ও অভিনন্দনজ্ঞাপক উনিশটি নতুন নিবন্ধ সংযুক্ত হয়েছে, যা সামগ্রিক থিয়েটার পত্রিকার চালচিত্রের নির্ণায়ক।

বাংলাদেশের নাট্যচর্চা ছাড়াও ভিনদেশি নাট্যক্রিয়ার বহু প্রামাণ্যচিত্রও পাওয়া যায় এই নাট্যপত্রিকার প্রবন্ধ-নিবন্ধ-প্রতিবেদনে। যেমন – রামেন্দু মজুমদারের ‘সোভিয়েত দেশে নাটক’ (৩ বর্ষ ১ সংখ্যা, ১৯৭৫), অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘বের্টোল্ট ব্রেখট প্রসঙ্গে’ (৫ বর্ষ ১ সংখ্যা, ১৯৭৭), নাজমুল আহসানের ‘ইউরোপীয়ান থিয়েটার বনাম এশিয়ান থিয়েটার’ (১৬ বর্ষ ৩-৪ সংখ্যা, ১৯৯১), দিলদার হোসেনের ‘জাপানের নোহ্ থিয়েটার’ (৩৯ বর্ষ ২ সংখ্যা, ২০১০) ইত্যাদি। নাটকের ক্লাস, নাট্যসংগঠন কিংবা মঞ্চে গিয়ে থিয়েটারের পাঠ নেওয়া যায়; কিন্তু জ্ঞানভাণ্ডারকে অধিক সমৃদ্ধ করার জন্যে প্রয়োজন পঞ্চাশ বছরের থিয়েটার-অধ্যয়ন।

বিশিষ্ট নাট্যকার, নাট্যাভিনেতা ও নাট্যবিশেষজ্ঞদের প্রতি থিয়েটার-গোষ্ঠী বরাবরই শ্রদ্ধাশীল। তাঁদের প্রয়াণে কিংবা স্মরণে থিয়েটার পত্রিকা প্রকাশ করে বিশেষ স্মরণসংখ্যা অথবা ক্রোড়পত্র। এসব নাট্যজনের নাট্যচর্চা ও জীবনকর্মের মূল্যায়ন কিংবা শ্রদ্ধাজ্ঞাপন কেবল তাঁদেরই সম্মানিত করে না, বরং উত্তরসূরিদের জন্যে হয়ে ওঠে প্রেরণার উৎস। থিয়েটার গোষ্ঠীর প্রথম সংখ্যাই ছিল (নভেম্বর ১৯৭২) ‘মুনীর চৌধুরীর স্মারক সংখ্যা’। সংখ্যাটি বিষয়গুণে ও গুরুত্বে সুধীমহলে প্রশংসা অর্জন করে। অতঃপর পর্যায়ক্রমে প্রকাশিত হয় অমলেন্দু বিশ্বাস, তৃপ্তি মিত্র, শম্ভু মিত্র, সফদর হাসমি, মোহাম্মদ জাকারিয়া, গোলাম মোস্তফা, তাপস সেন, নিতুন কুন্ডু, সেলিম আল দীন, আবদুল্লাহ আল মামুন, সাঈদ আহমদ, কুমার রায়, কবীর চৌধুরী, মমতাজউদ্দীন আহমদ, সৈয়দ শামসুল হক ও আলী যাকের-সম্পর্কিত ক্রোড়পত্র কিংবা স্মারকসংখ্যা।

এছাড়া প্রকাশিত হয়েছে বাংলা সাধারণ রঙ্গালয়ের শতবর্ষপূর্তি সংখ্যা, একাঙ্ক সংখ্যা, পথনাটক সংখ্যা, দশম বর্ষপূর্তি বিশেষ সংখ্যা, বিশ বছর পূর্তিসংখ্যা ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সার্ধশত জন্মবার্ষিকী সংখ্যা।

থিয়েটার পত্রিকার সম্পাদকীয় কম গুরুত্ববহ নয়। সম্পাদক রামেন্দু মজুমদার নাট্যিক-সাংস্কৃতিক প্রসঙ্গ ছাড়াও আর্থসামাজিক-রাজনৈতিক-দৈশিক-বৈশ্বিক বিষয়ও প্রাসঙ্গিক বিবেচনায় সংযুক্ত করেন যৌক্তিক ও তেজদীপ্ত ভঙ্গিতে, যা সচেতন বিবেককে নাড়া দেয়। যেমন –

১. মুক্তবুদ্ধি ও সংস্কৃতির চর্চা যাঁরা করেন, তাঁরাই মৌলবাদী জঙ্গিদের প্রধান শত্রু। কারণ এঁরা জীবনের জয়গান গান,

সত্য ও সুন্দরের কথা বলেন। সকল প্রতিকূলতার মধ্যেও আমাদের সংস্কৃতিকর্মীদের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে মুক্তবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষদের সাথে নিয়ে – এ-বিশ্বাস আমাদের রয়েছে। (৩৪ বর্ষ ২য় সংখ্যা, ২০০৫)

২. সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগেও আয়োজিত নাট্যোৎসবে বিদেশি দলকে আমন্ত্রণ জানানো সহজ হয় যদি সরকার বিদেশি সাংস্কৃতিক দল আনার ব্যাপারে বিদ্যমান বিধিনিষেধ তুলে নেন। আমরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছি যে, বিদেশি সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিদলকে আমন্ত্রণ জানানোর ক্ষেত্রে সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্তের পর অনাপত্তি প্রদানের যে অবমাননাকর প্রথাটি আছে তা প্রত্যাহার করা হোক। অন্য কোনো ক্ষেত্রের প্রতিনিধিদের জন্যে যদি পূর্বানুমতি প্রয়োজন না হয় তবে সাংস্কৃতিক দলের জন্যে কেন হবে? সুষ্ঠু সাংস্কৃতিক বিনিময় ও বিকাশের স্বার্থে আশা করি সরকার এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন। (৩৮ বর্ষ ১ম সংখ্যা, ২০০৯)

৩. বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তীর পথ বেয়েই বাংলাদেশের প্রথম নাটকের পত্রিকা থিয়েটারের পঞ্চাশ বছর পূর্তি হচ্ছে – এটা আমাদের জন্যে বিশেষ আনন্দের। … থিয়েটার পত্রিকার পঞ্চাশ বছর নিয়ে কয়েকজন গুণী মানুষ তাঁদের অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন। আমরা কেবল প্রবীণদের এ সংখ্যায় লেখার জন্যে আমন্ত্রণ জানাই নি, নতুন প্রজন্মের নাট্যকর্মীদের কথাই বেশি শুনতে চেয়েছি। সেখানে যদিও পত্রিকার কাছ থেকে না-পাওয়ার কথা তেমন নেই, আমরা কিন্তু আমাদের ব্যর্থতা-সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সম্পূর্ণ সজাগ। চেষ্টা করব আগামীতে সে সব সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করতে। (৫০ বছর পূর্তি সংখ্যা, ডিসেম্বর ২০২১) নাট্যত্রৈমাসিক থিয়েটার রাজধানী ঢাকা থেকে প্রকাশিত হলেও গত পঞ্চাশ বছরে তা গোটা বাংলাদেশের নাট্যচর্চার ক্ষেত্রে প্রামাণিক দলিল হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশের পূর্বাপর নাট্যচর্চার ইতিহাস জানার জন্যে থিয়েটার একটি অপরিহার্য পত্রিকা। রামেন্দু মজুমদার নির্মোহ, নিরপেক্ষ ও দক্ষ সম্পাদক। তিনি নাট্যকার ও নাট্যবিষয়ক অনেক প্রাবন্ধিক-গবেষক তৈরি করে প্রকৃত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। নাটককে ভালোবেসে তিনি যে মহৎ কাজ করে চলেছেন, তাঁর এই কর্মসাধনা নিয়েও মানুষ কাজ করছে এবং করবে। পশ্চিম বাংলার নিষ্ঠাবান নাট্যগবেষক প্রভাতকুমার দাস থিয়েটার পত্রিকার চল্লিশ বছর শিরোনামে ২৭০ পৃষ্ঠার একটি মূল্যবান গ্রন্থ রচনা করেন (সাহিত্য প্রকাশ, ২০১৪, ঢাকা)। বাংলাদেশের নাট্যচর্চা, গ্রুপ থিয়েটার, নাট্যনিরীক্ষা, মঞ্চ-দর্শক – এককথায় বাংলাদেশের নাটক ও থিয়েটার নাট্যপত্রিকার স্বরূপসন্ধানে গ্রন্থটির ভূমিকা প্রভূত। আশা করি, এমন গ্রন্থ আরো রচিত হবে। থিয়েটার দীর্ঘজীবন পাক, আমাদের নাট্যাঙ্গনে হীরকদ্যুতি ছড়াক।

Leave a Reply