রামবিলাসের একেকটি দিন

লেখক: সাত্যকি হালদার

সকাল দশটা বা সাড়ে দশটা হবে। ধু-ধু লাল মাটি। ডানদিকে ফসল উঠে যাওয়া মাঠ। বাঁদিকেও তাই। মাঝখানে টানটান রেললাইন। স্টেশন ছাড়িয়ে রেলপথ চলে গেছে চোখের শেষ সীমা পর্যন্ত। এ-পথের দুধারেই খানিক খানিক জুড়ে ছোটমাথা ঝাঁকড়া গাছ। মহুয়া, নিম, বনসৃজনের ইউক্যালিপ্টাস। রেলপথের সে-জায়গাগুলো ছায়া-ছায়া। রোদ আর ছায়ার মাখামাখি। এর বাইরে গাছ ছাড়িয়ে লাইন কোথাও একেবারেই ফাঁকা। তখন দুপাশে রোদের মাঠ আর মাঝে রেললাইন। কংক্রিটে শুয়ে থাকা দুসারি ইস্পাত।

এ-ইস্পাত ধরে প্রতিদিন একটি ছাতা আসে। প্রায় একই সময়ে।

বিষ্ণুপুরের দিক থেকে সে হেঁটে আসে। সিø­পারের পর সিøপারে পা রেখে রেখে।

টায়ারের চপ্পলে তার চলার ভঙ্গিটি ধীর নয়। আবার দ্রুতও নয়। একটি নির্দিষ্ট গতিতেই এগিয়ে যায় ছাতা। ছাতা কখনো বাঁকে না। পাশে তাকায় না। ওপরে নয়, অকারণে দূরেও নয়। যেন শুধু পায়ের কাছেই চোখ। কখনো কখনো ছাতাটি দাঁড়িয়ে যায়। নিরীক্ষণ। তখন কংক্রিট আর রেলপাতের লোহার গোঁজে ভারী হাতুড়ির বাড়ি পড়ে কবার। ঘটাং ঘট ঘটাং। লোহা থেকে ধুলো উড়ে যায়। লাল ধুলো, খয়েরি ধুলো। তারপর আবার ছাতা চলতে শুরু করে দিগন্তের দিকে।

মোটামুটি নির্দিষ্ট সময়ে হেঁটে যাওয়া এই ছাতা, অনেকের তাই চেনা। স্টেশনে, নিচু প্ল্যাটফর্মে, মাঠে কাজ করে যারা। কিন্তু ছাতা চেনে খুবই কম। বিষ্ণুপুর থেকে ওন্দাগ্রাম – এই চোদ্দো কিমি পথে তার তো মুখ তোলা হয় না, থামা হয় কয়েকটি মাত্র জায়গায়। ফলে সে পথ চেনে। দুধার খুবই কম।

যেমন মাঝখানের স্টেশন রামসাগর, সে দাঁড়ায় না। দুপুরের প্যাসেঞ্জার ট্রেন ধরার জন্য যারা আগেভাগে এসে প্ল্যাটফর্মের বাঁধানো শালগাছের গোড়ায় ঝিমোয়, বা স্টেশন চত্বরের ভবঘুরে, তারা ছাতার চলে যাওয়াই দেখে। স্টেশন পার করে গিয়ে যে-লেভেলক্রসিং, প্রায় মাঠের মাঝে, সেখানে ছাতা থামে কিছুক্ষণ। লেভেলক্রসিং-লাগোয়া ঘুপচিঘরে বউ নিয়ে থাকে বিষেণলাল। বিষেণলাল রেলের খবরমতো গেট নামায় আর ওঠায়। তার ঘরের সামনে এসে রংচটা কালো ছাতাটি প্রতিদিন একবার ভাঁজ হয়। ছাতার তলা থেকে বেরিয়ে আসে রেলের খাকি প্যান্ট আর ঢোলা গেরুয়া জামার মানুষ। কথা শুরু হয় দুয়ারে। রাম রাম … বিষেণলালের বয়সও ছাতা ভেঙে বেরিয়ে আসা লোকটিরই মতো। বুড়োটে চেহারা, পাকা গোঁফ। লম্বা ঘোমটা দিয়ে থাকা তার বউ এক ঘটি ঠান্ডা জল আগেই রেখে দেয় দরজার মুখে। মুখে জল ছিটিয়ে, বাকি জল খেয়ে কোনো এক শীতকালে কথা শুরু হয় দুজনের।

– জাড় বহুত হঁয় না অজ …

– রামজি দেতা হঁয় জ্যায়সে …

– দেশো কা ইধারউধার পর খবর …

– মালুম নাহি। খবরো সে কেয়া জরুরত!

– হঁয়। খবর নেহি হোনাই তো অচ্ছা হঁয় …

বুড়োটে দুই রেল-মানুষের সংক্ষিপ্ত কিছু কথা। প্রতিদিন প্রায় একরকম। বিষেণলালের বাইরের সঙ্গে কোনো যোগ নেই। তার ঘরে টুলের ওপর একটি পুরনো কালো ভারী ফোন। তাতে শুধু ট্রেন পাস হওয়ার নির্দেশ আসে। এছাড়া পৃথিবীর সঙ্গে তার কথা নেই। ফলে সে বাইরে থেকে হেঁটে আসা ছাতামাথায় লাইন্সম্যান রামবিলাসের জন্য অপেক্ষা করে। বাইরের দু-একটি কথা শোনা যায় রামবিলাসের মুখে। শীত-গ্রীষ্মের খবর। বিষ্ণুপুরে সার্কাস। যদিও প্রতিদিন লাইন ধরে হেঁটে যাওয়া রামবিলাসেরই বা জানা থাকে কতটুকু! জীবনের বিশ বছর তো সে মাথা নামিয়ে এই চোদ্দো কিলোমিটারই হেঁটেছে।

ছাপরা ডিসটিক থেকে রেলে কাজ পেয়ে যখন সে হাঁটতে শুরু করেছিল সে-সময় রেলের পুরোটাই প্রায় কাঠের সিøপার। কাঠের সিøপারে হাতুড়ির কাজ কম। ভারী রেঞ্জের কাজ বেশি। ফলে সেই সময় সে হপ্তায় চারদিন বেরোত বড়সড় একটি রেঞ্জ কাঁধের ওপর ফেলে। অন্য দুদিন হাতুড়ি। একদিন ছুটি। এখন কাঠের সিøপার আর নেই। সবটাই কংক্রিট। বয়স হয়ে যাওয়া রামবিলাসের কাঁধে এখন ছ-দিনই হাতুড়ি।

কংক্রিট কাঠ হলো যেমন, রেঞ্জের বদলে হাতুড়ি, তেমনি কুড়ি বছরে আরো কত বদলাল চারপাশ। বিষ্ণুপুর স্টেশনের বড় কাঁঠালগাছটা কেটে অ্যাসবেস্টসের শেড হলো, স্টলের মাটির ভাঁড় বদলে কাগজ আর প্লাস্টিকের কাপ। আগে সকাল-বিকেল দুটি মাত্র এক্সপ্রেস আসত কলকাতা আর আদ্রা-আসানসোল লাইনে, এখন ছটি। কত মানুষ প্রতিদিন কলকাতা যায়। শহরে যাওয়ার দরকার কত বেড়ে উঠল লোকজনের। আগে পরব দেখা মানে ছিল বিষ্টুপুরে রাস, উলটোরথ আর পাশের গাঁ কুচিয়াকোলের রথ। এখন মানুষ পরব বুঝতে কলকাতায় ঠাকুর দেখতে যায়। কালীপুজোয় আরামবাগ ছোটে। আর সেসবের অনেকটাই হয় এই রেলপথ আর কংক্রিটের সিø­পার বরাবর। রামবিলাস যা ঠুকেঠুকে ঠিক রাখে।

বিষেণলাল একেকদিন বলে, ‘আউরো কিতনে সাল নোকরি হঁয় আপকো!’

‘উঅ জানতা হঁয় খড়গপুর টিশন কো ক্লার্কবাবু …’ রামবিলাস কাঁধে হাতুড়ি ফেলে ছাতা খুলে হাঁটতে শুরু করে দেয়। পেছনে পড়ে থাকে উত্তর।

আবার ও-ও একেকদিন এমন প্রশ্ন করে। বিষেণলাল একই ধাঁচের জবাব দেয়। আসলে এদের কাজে ঢোকার কাগজেই জন্ম-বয়সের ঠিকানা ছিল না। তাই চাকরি ফুরানোরও পাথরগাছ নেই।

তারপর আবার রোদে বা শীতের বাতাসে হাঁটা শুরু করে রামবিলাস। লেভেলক্রসিংয়ের গেট পেছনে ছেড়ে এগিয়ে যায় ছাতা আর টায়ারের চপ্পল। বিষেণলাল তাকে দূরের বাঁকে হারিয়ে যেতে দেখে।

রামবিলাস কাজে ঢুকল যে-বছর, সে-বছর ওর মনে আছে পুরো এলাকায় খরা হলো। বৃষ্টির টাইমে বৃষ্টি হয়নি, ফলে খরায় পুড়ে গেল ধান। চাষ হয়নি যেখানে, সেসব জায়গায় লাইনধারের জমি রোদে ফেটে ফাঁক-ফাঁক। কোনো আশা নেই, তবু রেলপথের ধারের গাছতলায় এসে সারাদিন বসে থাকত মানুষ। দূরগাঁয়ের মানুষ। রামবিলাস যখন পার হয়ে যেত, তখন কারা যেন কথা বলত পাশ থেকে। বউরা বলত, পরে একসময় বাচ্চারাও। ‘… রিলিফের গাড়ি উদিকের টাউনে আঁইছে কি? তুমি তো রোজ রেতে বিষ্টুপুর ফের, মোদের কথাগুলাটুকু জানাই দিও সরকারকে …।’ রামবিলাস ওদের চোখে একমাত্র সরকারি লোক। আর্জি জানানোর জায়গা। কিন্তু তার তো কাঠের সিøপারে চোখ। সে কানে শুনত আর নির্বিকার হেঁটে পার হয়ে যেত।

তারপর দিল্লি থেকে নেতা এলো একদিন। ওন্দা ইস্টিশানের পাশের মাঠটায়। রামবিলাস মাথা নামিয়ে যেতে যেতে বক্তৃতা শুনেছিল। ‘… মেরে ভাইয়ো অউর বহিনো …।’ খরা হোক, বন্যা হোক যুদ্ধ কিংবা ভোট, সারা ভারতবর্ষের বক্তৃতার শুরুয়াত একটাই – ‘ভাইয়ো অউর বহিনো।’ রামবিলাস মুলুকেও শুনেছে। সেদিন সে দূরে যেতে যেতে শুনল, ‘কৃষিঋণ মুকুব করা হবে’, ‘ঘর ঘর মে সিকি পয়সা কিলো চাল’, তারপর আরো কত কী, রামবিলাস তখন অনেক দূরে, ওর কানে অস্পষ্ট। ‘কাম মিলেগা ভাই কাম … হর হাত মে। ভোট হোনে কা বাদ।’

আবার রামবিলাস রেলপথে অবরোধও দেখেছে। সরাসরি তার পথজুড়ে বসে থাকা মানুষ। সেদিন তো না দেখে উপায় নেই। তার গতি থমকে গিয়েছে ভিড়ে। পথ ঢেকে গেছে ঝাণ্ডায়। মাইকে গলার রগ ফোলানো চিৎকার। ‘… এ-রাজ্যের মানুষ, এ-রাজ্যের খেটে খাওয়া মানুষ, আমার শ্রমিক কৃষক ভাইবোন, তাদের স্বার্থে আজ এই বারো ঘণ্টার রেল অবরোধ। আমাদের তিন দফা দাবি না মানা হলে ভবিষ্যতে দেশজুড়ে চব্বিশ ঘণ্টার অবরোধে নামব আমরা। এবং আগামী বিধানসভা ভোটে আপনাদের বুঝিয়ে দিতে হবে …’ রামবিলাস দিশেহারা। কী করে সে। ভিড়টা পাশ কাটিয়ে চলে যাওয়া যায়। তারপর বাকি পথ চেকিং। কিন্তু তাতে যে বিশ-তিরিশ হাত জায়গা বাকি রয়ে যায়!

রামবিলাস সেদিন জনতায় মিশে গিয়েছিল। রেলের গেরুয়া জামা ব্যাগে পুরে ঢুকে গিয়েছিল ভিড়ের ভেতর। হাতুড়ি রেখে এসেছিল সামনে। তারপর ঘুরল নেতা আর অবরোধ করা লোকদের গায়ে-গায়ে। এলোমেলো দেখে নিল সিø­পার আর রেলপাত। তার চারপাশে তখন কান-ফাটানো চিৎকার। ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ। আমাদের সংগ্রাম…’ রামবিলাস উবু হয়ে বসে সিøপারের গোঁজ টেনে টেনে দেখছে। নড়বড়ে মনে হলে সেদিনের মতো হাতের চাপে ঠেসে দিয়ে যাচ্ছে। তিরিশ হাত জায়গা বাকি রয়ে গেলে রাতভর ঘুম হবে না তার। মাঝরাতে চক্রধরপুর প্যাসেঞ্জার তো টেনে বেরিয়ে যায়!

সেই জায়গাটায় এলে এখনো রামবিলাসের বহু বছর আগের অবরোধের ছবিটা মনে হয়। ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ। আমাদের সংগ্রাম …।’ কোথায় গেল তারা সবাই! নতুন উঠে আসা দলে মিশে গেল নাকি! বেলা পড়ে আসে। নির্জন রেলপথ টায়ারের চটির ছপর ছপর শব্দে পার হয়ে যায়।

ওন্দা ইস্টিশান আসতে যখন দেড় কিলোমিটার, রোদ ঘুরে গেছে, রামবিলাস দেখতে পায় ডিউটি প্রায় শেষ। এরপর সন্ধের প্যাসেঞ্জার ট্রেন ধরে বিষ্টুপুর ফিরে যাওয়া। ও শেষবারের মতো থামে ফুলডাঙ গ্রামটা ছাড়িয়ে, যেখানে দ্বারকেশ্বর নদী রেললাইনের কাছে চলে এসেছে। সেখানে রেলের কোনো ক্রসিং নেই, ছোট অফিস বা কিছু নেই, শুধু লাইন আর নদীর মাঝে কয়েকটি মাটির ঘর। তার একটি ঘর গুলাবির। রামবিলাস নেমে গুলাবির মাটির দাওয়াটিতে বসে।

তার চেহারায় তখন খানিকটা ক্লান্তি। একটু ঝিমোনো ভাব। সকালবেলা যে-হাতুড়িটা কাঁধে গদার মতো থাকত সেটাই যেন বেশ ভার। সেভাবেই সেটাকে কাঁধ থেকে নামায়। ছাতাখানা ভাঁজ করে রাখে হাতুড়ির পাশে। তখন সে আরেকবার বলে, রাম রাম, বল রে গুলাবি!

নদীর ধারের ছোট্ট এই গ্রামের লোকেরা নানা কাজে ঘুরে বেড়ায়। কেউ নিচু জমিতে কুমড়ো আর বরবটি লাগায়। কেউ তিনটে কাঁড়া নিয়ে চরাতে চলে যায় দূরে, যেখানে লম্বা ঘাস হয় সেদিকে। কেউ সাইকেল হাঁটিয়ে শীতের নদী পার হয়ে চলে যায় বাঁকুড়া শহরের কেঁদুয়াডিহিতে, হকারি করবে বলে। গাঁয়ে থাকে যারা তারা সবাই চেনে রামবিলাসকে। কুড়ি বছর ধরে তাদের গাঁয়ের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া, শেষ বিকেলে একটু বসে যাওয়া গুলাবির দাওয়ায়, সবার জানা। তারাও দেখা হলে তারই অনুকরণে বলে, রাম রাম।

গুলাবি প্রথমে এক গ্লাস জল দেয়। দুটে বাতাসা। শেষে রওনা হওয়ার আগে এক পাত্তর মহুয়া। ওটুকু দু-তিন টানে খেয়ে বুড়োটে মানুষটা কিছুক্ষণ বুকে চিবুক ছুঁইয়ে চুপ থাকে, এলোমেলো দু-একটা কথা বলে। শেষে ছাতা আর হাতুড়ি তুলে নিয়ে রওনা হয়ে যায়।

গুলাবির মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে বছর তিন-চার। মেয়ের ঘরে নাতি। তবু আঠারো বা বিশ বছর বয়সে বিয়ে হওয়া গুলাবির চেহারায় সেরকম বয়স আসেনি। রামবিলাসের সঙ্গে তো তার প্রায় ততদিনেরই আলাপ সেই যবে থেকে রামবিলাস এই পথে হাঁটছে। তখন বিহার থেকে আসা কেমন পেটা চেহারা ছিল মানুষটার। রেললাইনের ধারে গাছতলায় একটুখানি বসত। কথা বলত কম কম। সেই তখন গুলাবির সঙ্গে চেনাজানা। গুলাবি দিনরাত্তির মাতাল হয়ে থাকা স্বামীর মহুয়ার চোঙা বোতল থেকে খানিকটা করে সরাতে শুরু করেছিল। একদিন দিলো রামবিলাসকে। রামবিলাস দেখল। ওর নেশার সেই শুরু। মহুয়া আর গুলাবির দাওয়ার টানে এখনো রামবিলাসের বিকেল শেষ হয়।

‘নোকরি সে রিটায়ার বাদ কেয়া করেগা!’ বুড়োটে মানুষটা উঠতে থাকলে গুলাবি কোনো কোনো দিন করে ফেলে প্রশ্নটা।

‘মুলুক। ছাপরা ডিসটিক। গঙ্গা মাইয়া কী পাশ।’ রামবিলাস টলোমলো পায়ে উঠে দাঁড়ায়।

‘হাম কো ভি লেনা চাইয়ে …।’ গুলাবি বলে। তার এখন মেয়ে-জামাই ছাড়া জীবনে আর পিছু টান নেই। কপালের পাশে চুল সবে দুটি পেকেছে।

‘পাগলা চিড়িয়া …।’ রামবিলাস রেললাইনে উঠে যায়।

গুলাবি পেছনে বলে, ‘গঙ্গার দেশে না লিবে তো ক্যানে ইখনও মউল খাওয়াই তুমায়! তখন খাওয়াইছি এক কারণে, ইখন কারণ অইন্য। ইখন মোর গঙ্গার দেশে মইরবার বড় শখ …।’

রামবিলাস শেষ দেড় মাইলের দিকে অদৃশ্য হয়ে যায়। ফিরে আসে পরদিন বিকেলে। সেই ক্লান্তি টেনেটেনে আসা। তখন বলে যে, রিটায়ার পর্যন্ত যদি বাঁচে তো গুলাবিকে গঙ্গার মুলুকে নেবে ও। যেভাবে হোক নিয়ে যাবে। ছাপরা ডিসটিক। রামজি ভরওসা …

এভাবে কথার ভাঙাগড়ায় আবার একটা বিকেল শেষ হয়ে যায়।

ওন্দা ইস্টিশানে প্যাসেঞ্জার ট্রেন আসে সন্ধের পর। রামবিলাস তার আগে জল খায়, ছাতু খায়, নেশা কাটাতে মুখে-চোখে জল দেয়। কিন্তু মহুয়ার নেশা কি সহজে কাটে! তাছাড়া রামবিলাসও কি জীবনের ওই বিষটুকু থেকে বাইরে যেতে চায়!

প্যাসেঞ্জার ট্রেনে কম আলো। ফাঁকা সিট। রামবিলাস ঝিমোতে ঝিমোতে বিষ্টুপুরের এক কামরার রেল-কোয়ার্টারে ফিরে আসে। টিভি সিরিয়ালের ঝাঁজালো শব্দের ভেতর থেকে ওর ভারী চেহারার বউ উঠে এসে তখন ছিটকিনি খুলে দেয়।

Leave a Reply

%d bloggers like this: