সাঁওতালি

লেখক:

আফরোজা পারভীন

বনে-বনে ফুল ফুটেছে বেশুমার। কোকিলও গাইছে গলা ফাটিয়ে। গন্ধে চারদিক ম-ম। কাউকে আর বলে দিতে হচ্ছে না, বসমত্ম এসে গেছে। আর এ-বসমত্মই তো ‘বাহা পরবে’র সময়। এবার বাহা পরব হবে অন্য বছরের তুলনায় জাঁকজমক করে। বছরটা ভালো গেছে। সাঁওতালিদের পেটে চারটে ভাত পড়েছে নিয়মিত। তাই এবার পরবে বলি দিয়ে নেচে-গেয়ে মাত করে দেবে সাঁওতালিরা। এমন উৎসব করবে যে, মারাং বুড়ো আর চাঁদ বুড়ো প্রসন্ন হবে। দরিদ্র সাঁওতালিদের আগামী বছরটা যাবে সুখে-শামিত্মতে। পেটভরে চারটে ভাত খাওয়ার মতো শামিত্ম তো আর কিছুতেই নেই।

এই অঞ্চলকে বলা হয় লাল মাটির খিয়ারা এলাকা। ইউনিয়নের নাম রাজাহার। এই এলাকাতেই বাবা জগমোহন কিসকুকে নিয়ে থাকে মুন্নী কিসকু। মা মারা গেছে বছর পাঁচেক। লোকে বলে, পানির দোষেই নাকি সে মারা গেছে। না টিউবওয়েল, না চাপকল। উঠোনের পাশের খোলা কুঞ্জ থেকে থালাবাসন মেজে আবার সেই কুঞ্জেরই পানি খেয়ে মার সেই যে পেট নামল, তা আর ভালো হলো না। আশপাশে কোনো ডাক্তার নেই। সরকারি হাসপাতাল নেই। মাকে শহরে নিয়ে ডাক্তার দেখানোর সামর্থ্য জগমোহনের ছিল না। তাছাড়া রাসত্মা এত খারাপ যে, এই রাসত্মায় গরম্নগাড়িতে করে মাকে নিতে হলে পথেই মারা যেত। তা সে-পথে মরে সবাইকে অসুবিধায় ফেলার কষ্ট মা দেয়নি। বাড়িতেই মরেছে। আর তার মৃতদেহ জড়িয়ে মুন্নীর সে কী উথালপাথাল কান্না। ওর সঙ্গে কেঁদেছে সারা গ্রামের লোক। জগমোহনের চোখে একফোঁটা পানি ছিল না। পড়শিরা আলোচনা করছিল, ও বুঝি পাথর হয়ে গেছে। আসলেই পাথর হয়ে বসে ছিল জগমোহন। তারপর কখন যেন পাথরে প্রাণ সঞ্চার হয়েছিল। আর সেই প্রাণের আর্তিতে আকাশ কেঁপেছিল, বাতাস কেঁপেছিল। কাঁদছিল আর বলছিল, মেয়েটাকে ছেড়ে যেতে চায়নি চান্দা। মেয়ের বিয়ে দেবে, জামাই হবে, নাতিপুতি হবে, তার কত আশা, কত স্বপ্ন। মারাং বুড়ো এ-সময়ে তুমি ওকে কেন নিলে, এ তোমার কেমন বিচার!

একই প্রশ্ন তো মুন্নীরও। মা যে তাকে ছেড়ে কোথাও যেতে চায়নি, এটা তো সবার বড় সত্য। মায়ের সারাক্ষণ চিমত্মা ছিল মুন্নীকে নিয়ে। ছেলেবেলায় মুন্নীকে লেখাপড়া শেখানোর তার বড় ইচ্ছা ছিল। বাবাকে বলেছিলও সে-কথা।

: শোনো, আমরা তো মূর্খই রয়ে গেলাম। পেটে যদি বিদ্যে

থাকত, তাহলে আমাদের এমন গরিবি হালে জীবন কাটাতে হতো না। আমাকেও সড়কে মাটি কাটতে হতো না। আর তোমাকেও পরের জমিতে ধানের কাজ করতে হতো না। তাই ঠিক করেছি মেয়েটাকে লেখাপড়া শেখাব।

: কিন্তু কীভাবে? এখানে তো সামত্মাল ভাষার কোনো স্কুল নেই। মুন্নী পড়বে কী করে। ও তো বাংলা স্কুলে পড়তে পারবে না।

: তাই তো, তাহলে উপায়!

উপায় কিছুই হয়নি। মুন্নীর স্কুলে পড়া হয়নি। সাঁওতাল পরিবারের অন্য দশটা মেয়ের মতো সে বিনা লেখাপড়াতেই বেড়ে উঠেছে। তারপর একসময় মায়ের সঙ্গে সড়কে মাটিকাটার কাজ নিয়েছে। আর সেখানেও কি কম অশামিত্ম! ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের মজুরি বিশ টাকা কম। এ-নিয়ে কেউ কথা বলে না। কিন্তু মুন্নী মা চান্দা কিসকুর কোনো বারণই শোনেনি। মজুরির টাকা হাতে নিয়ে মহাজনের চোখে চোখ রেখে প্রশ্ন করেছিল –

: টাকা বিশটা কম কেন। পরেশ তো অনেক টাকা পেয়েছে।

মহাজন অবাক-চোখে তাকায়। তার যেন বিশ্বাস হয় না, এই মেয়েটা তাকে জেরা করছে। কিন্তু তাকে চিমত্মার সুযোগ না দিয়ে আবারো কথা বলে মুন্নী –

: আরো বিশ টাকা দাও।

এবার বিস্ফারিত হয় মহাজন।

: তোর সাহস তো কম না। আমাকে জেরা করিস। আরে পরেশ তো ব্যাটাছেলে। ব্যাটাছেলে আর মেয়েছেলের কি একই মজুরি হয়? তোদের যে কাজ দিই এই তো বেশি।

: কাজ না দাও না দিলে। তাই বলে আমাদের মজুরি কম হবে কেন। আমরা কাজ তো ওদের সমানই করি। বরং কিছু বেশিই করি। ওরা বিড়ি ফুঁকে, খোশগল্প করে যে-সময়টা পার করে তা আমরা করি না।

মহাজনের চোখে আগুন যত জ্বলে, পরেশের কৌতূহল তত বাড়ে। সে চোখে আনন্দ নিয়ে মহাজন আর মুন্নীর এই বাকযুদ্ধ শোনে। বড় মজা পায় সে। এই মেয়েটাকে তার খুব পছন্দ। যেমন দেখতে ছিলা ছাড়ানো ধনুকের মতো, তেমনি কথায় ধার। এই না হলে মেয়ে।

মহাজন আর মুন্নীর ঝগড়া ততক্ষণে বেশ জমে উঠেছে। মুন্নী আশা করেছিল অন্য মেয়েরা তার কথায় সায় দেবে। কিন্তু তা তো দিলোই না, বরং তাদের চোখে স্পষ্ট বিরক্তি দেখতে পেল মুন্নী। মুন্নী তখনো একরোখা। হাতের ষাট টাকা ফেলে দিলো সে।

: নেব না, এই টাকা নেব না। এই বিভেদ দূর না করলে আমি কাজ করব না।

: কাজ না করিস করবি না। তোকে কাজ করতে দিব্যি দিয়েছে কে?

মহাজন বলে বটে, তবে মনে তার বিপরীত চিমত্মা। এই মেয়েটা অন্য মেয়েদের তুলনায় অনেক বেশি কাজ করে। একাই দুজনের কাজ করে বলা চলে। তাই বলে তো তার বেতন বাড়ানো যায় না। তাকে বেশি দিলে অন্যরাও চাইবে। তাছাড়া এ-মেয়ে তো সোজা নয়। হয়তো বলে বসবে – সবাইকে দিতে হবে, আমি একা নেব না। উঁহু, ও-পথে আমি যাব না। কাজেই গলার জোর বাড়ে মহাজনের। সে তারস্বরে চেঁচায়। এগিয়ে আসে পরেশ।

: ও তো সত্যি কথাই বলেছে মহাজন। সমান কাজ করে বিশ

টাকা মজুরি ও কম নেবে কেন?

: তুই আবার এসেছিস ওকালতি করতে। একজনকেই সামলাতে পারিনে। সঙ্গে একজন এসে ফোড়ন দিচ্ছে।

একই কথা বলে চান্দা। তুমি যাও তো বাবা। আমি মেয়েটাকে সামলাই। পরেশ চলে যায়। মা চান্দা মেয়ের ফেলে-দেওয়া টাকা তুলে নেয়। তারপর টেনে নিয়ে যায় একপাশে।

: আরে বেটি, তুই যে আজ বিশ টাকার জন্য ঝগড়া করছিস কাল কাজ বন্ধ করে দিলে খাবি কী?

: কিন্তু সবাই একযোগে প্রতিবাদ করলে ওরা বাধ্য হতো সমান টাকা দিতে। ওদের তো কাজ করানোর জন্য লোক লাগবে নাকি; কিন্তু কেউ কোনো কথা বলল না।

: বলল না এটাই স্বাভাবিক। কেউ চায় না তার পেটে লাথি পড়ুক। সবারই কাজ বন্ধ হওয়ার ভয় আছে।

: কিন্তু সবাই একজোট হলে আমরাই জিততাম।

মেয়ে মুন্নীকে নিয়ে মা চান্দার চিমত্মার অবধি ছিল না। এই জেদি-একরোখা মেয়েকে সামলাবে কী করে। মা তাই মেয়েকে সর্বদা চোখে-চোখে রাখত। মেয়ে হয়েছেও অপ্সরী। এই সাঁওতালপলিস্নতে এমন মেয়ে আর দুটি নেই। শুধু তাদের এ-পলিস্ন কেন, আশপাশের কাটাবাড়ি, কামদিয়া, সাখাহার, গুমানীগঞ্জ, সাপমারা ইউনিয়নেও তার মেয়ের জুড়ি দ্বিতীয়টি নেই। মেয়েকে নিয়ে তাই চান্দার বড় চিমত্মা। গরিবের ঘরে এমন রূপসী মেয়ে। মেয়েকে কোনো ভালো ঘরে ভালো বরে বিয়ে দেওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা তার। অভাবের সংসারেও মেয়ের বিয়ের চিমত্মা করে

দু-চারটি করে টাকা সে জমায়। বড় সাধ তার মেয়ের বিয়ে দেবে। নাতি-নাতনি হবে। মেয়েটাকে স্বামীর বাড়ি পাঠাবে না সে। নিজের বাড়িতেই রেখে দেবে। বড় জেদি মেয়ে তার। শ্বশুরবাড়ি পাঠালে যদি কোনো জেদের কাজ করে, তাতে স্বামী-শ্বশুর-শাশুড়ি বেজার হতে পারে। তার চেয়ে নিজের কাছে রেখে দেবে মেয়েকে। কোনো সমস্যা হলে নিজেই যাতে সামলে নিতে পারে।

কিন্তু মেয়েকে নিয়ে সমসত্ম ভাবনা-পরিকল্পনার অবসান ঘটিয়ে নিজেই চলে গেল চান্দা। তারপর দিন গড়িয়ে গেল। দেখতে-দেখতে পাঁচটা বছর যেন এক ফুৎকারে উড়ে গেল। ষোলো বছরের মুন্নীর বিয়ের চিমত্মা করত চান্দা। এখন মুন্নীর বয়স একুশ। বাপ জগমোহন জানে না কীভাবে সে মেয়েকে পাত্রস্থ করবে। দু-চারজনকে বলেছে; কিন্তু ওই পর্যমত্ম।

সাঁওতালপলিস্নর প্রধান মাঝি আরাং। তার ছেলে সাঝি আরাং। শহরে গিয়ে লম্বা বাবরি চুল রেখেছে। দোতলা সিগারেট খায়। আই লাভ ইউ লেখা গেঞ্জি পরে। দামি সেন্টের গন্ধে ম-ম করে বাতাস। ইদানীং বাড়ি এলেই জগমোহনের বাড়ির চারপাশ দিয়ে ঘুরঘুর করে। আর আজকাল তার বাড়ি আসাটা নিয়মিত। এখন যেন সে বাড়িতেই থাকে, শহরে বেড়াতে যায়। আগে ছিল উল্টো। শহরে নাকি তার কিছু ব্যবসাপাতি ছিল। শোনা যায়, ঘনঘন বাড়ি আসায় তার ব্যবসাপাতি লাটে উঠেছে। বাতাসে ভেসে আরো খবর আসে। সাঝির স্বভাব নাকি ভালো না। নানান উল্টাপাল্টা কাজ নাকি করে। এক সহজ-সরল মেয়েকে বিয়ে করবে বলে তার সঙ্গে শরীর মিলিয়েছে বহুবার। তারপর সে-মেয়ে যখন গর্ভবতী হলো, তখনই দেখা গেল সাঝির আসল চেহারা। প্রথমে সরাসরি অস্বীকার করল। তারপর শহর ছেড়ে রাতারাতি লাপাত্তা। মেয়েও উপায়ামত্মর না দেখে চলে এলো এই গ্রামে। মাঝি আরাংয়ের পায়ে ধরে কেঁদে পড়ল। ব্যবস্থাপাতি কিছু হয়েছিল বলে মনে হয় না। ব্যবস্থা মানেই তো বিয়ে। সেটা হয়নি। আর সেটা হয়নি বলে ওই সহজ-সরল মেয়েটাকে আত্মাহুতি দিতে হয়েছিল। মেয়ের বাপ-মা নাকি সাঝির নামে মামলা করতে চেয়েছিল; কিন্তু করবে কী করে। প্রমাণ যে কিছু নেই। সাঝি এখন আর শহরে যায় না। গ্রামই যেন বড় পছন্দের জায়গা এখন তার এমন ভাবসাব।

এর মধ্যে বসমত্ম এলো। বাহা পরব। শালপাতার পাতায় পাকা মহুয়া আর লাল জবা ফুল নিয়ে পুরোহিতের মাধ্যমে ম-পে দেবতা মারাং বুড়ো ও চাঁদ বুড়োর উদ্দেশে উৎসর্গ করা হলো। কবুতর, মুরগি, শূকর বলি দিয়ে মন্ত্রপাঠ করা হলো। একটু পরেই হবে বলির মাংসের মহাভোজ।  সঙ্গে মহুয়ার রসে তৈরি চুয়ানি মদ। মুন্নী

রঙিন শাড়ি পরে, চুলে বাহারি খোঁপায় লাল জবা ফুল গুঁজে

ঢাক-ঢোল-মাদলের বাজনার সঙ্গে বান্ধবীদের নিয়ে নাচে-গানে

মত্ত হয়ে উঠল।  নাচছে আর একে অপরের গায়ে পানি ছিটাচ্ছে। হাসছে হা-হা হি-হি। নাচের পরই বলির মাংস খাবে তারা, তারপর খাবে মহুয়ার রসে বানানো চুয়ানি। কিন্তু চুয়ানি খাওয়ার আগেই যেন মাতাল হয়ে উঠেছে তারা। ঢাক-ঢোল-মাদলের বাজনা যত বাড়ছে, ওরাও হয়ে উঠছে উন্মাতাল। নাচতে-নাচতে উন্মাতাল মুন্নী হঠাৎ দেখে, তার হাত ধরেছে সাঝি ওরাং। ঝটিতি হাত সরিয়ে নেয় মুন্নী। এই লোকটার চালচলন-কথাবার্তা কিছুই তার ভালো লাগে না। ধনীর ছেলে বলে যেন ভাবে দুনিয়াটা তার একার, তার হাতের মুঠোয়। একদিন রাসত্মায় মুন্নীর হাত চেপে ধরেছিল সাঝি। সেদিনও ছিটকে সরে এসেছিল মুন্নী। প্রচ- রাগে কণ্ঠে আক্রোশ নিয়ে বলেছিল :

: তোর সাহস তো কম না। বেগানা আওরাতের হাত চেপে ধরিস।

: তুই বেগানা না, তুই আমার চেনা। তোর জন্যই আমি শহরের কাজকাম ফেলে ছুটে-ছুটে আসি।

: কেন, কেন? আমি গরিবের মেয়ে। গরিবদেরই আমার পছন্দ।

: শোন, আমার মতো একটা ছেলে যে তোকে পছন্দ করেছে, এটা তোর ভাগ্যের কথা। চল, ওই ঝোপের আড়ালে কিছু কথা বলি তোর সঙ্গে।

কথা বলেই ক্ষামত্ম হয়নি সাঝি। মুন্নীর হাত ধরে টানতে শুরম্ন করেছিল। চেঁচিয়ে উঠেছিল মুন্নী। তার সেই চিৎকারে ছুটে এসেছিল জগমোহন। তা দেখে দাঁত কিড়মিড় করতে-করতে হাত ছেড়ে দিয়ে চলে গিয়েছিল সাঝি। সেই বজ্জাত সাঝিটা নাচের জন্য তার হাত ধরেছে। কত বড় স্পর্ধা। মুন্নী ঝটকা দিয়ে হাত সরিয়ে অন্যদিকে চলে। সেখানে জোড়ে-জোড়ে নাচছে মেয়েরা। শুধু মুন্নীই একা। পাশে পরেশ হাসদাকে নাচতে দেখে একা। কেন পরেশ একা নাচছে, কেন? পরেশ দেখতে-শুনতে নায়কের মতো। সে চাইলে যে-কোনো মেয়ে তার সঙ্গে নাচবে। শুধু নাচ কেন, পরেশের বউ হওয়ার জন্যও অনেক মেয়ের আকাঙ্ক্ষা। ঘাটে, পথে, কলপাড়ে, ক্ষেতে, সড়কে কাজ করতে-করতে দু-একজন বান্ধবী এসব কথা বলেছে মুন্নীকে। আর ওদের কথাতেই পরেশকে ভালো করে দেখেছে মুন্নী। আসলেই দেখতে বেশ। এমন আর এ-গাঁয়ে নেই। মুন্নীকে একা দেখে

নাচতে-নাচতে পরেশ এগিয়ে আসে। মুন্নীকে বলে :

: আয় একসঙ্গে নাচি।

মুন্নীর মনে তীব্র ইচ্ছা। কিন্তু কী এক দুর্বার লজ্জা যেন তাকে পেয়ে বসে। লজ্জায় সিঁদুরে মেঘ ধরে মুখে। মুখে কিছু বলে না। দ্রম্নত নাচতে-নাচতে সরে যায় অন্যদিকে। তা দেখে পরেশ কিছুটা হতাশ হলেও প্রশ্রয়ের হাসি হাসে। আর মুন্নীও যেন আগের মতো নাচতে পারে না। তার পায়ে পা জড়িয়ে যায়। সে পরেশের কথাই ভাবতে থাকে। পরেশের মজুরিকে উপলক্ষ করে ঝগড়া করলেও পরেশকে মুন্নীর খুব পছন্দ। বড়  সাহসী পরেশ। শিকারে তার জুড়ি কেউ নেই। তীর, ধনুক, বর্শা দিয়ে ঝোপ-জঙ্গল থেকে খরগোশ, বাঘসেইলস্না, ডাঙার কাছিম, বানর, মেঠোইঁদুর, সাপ-পাখি শিকারে তার সমান কেউ নেই। আর পরেশ গরিবের ছেলে হলেও তার মনটা বড়। যখন সে শিকার করে, শিকার-করা মাংসের খুব কমই সে নিজের জন্য রাখে। সারা পাড়ার লোকদের বিলায়। মনে-মনে তাই পরেশকে খুবই পছন্দ মুন্নীর। কারণে-অকারণে পরেশদের বাড়িতে মাঝে-মাঝে যায় মুন্নী। পরেশের দিদি বাসমত্মী আর মা চিমত্মামণিও খুব পছন্দ করে মুন্নীকে। একবার তো চিমত্মামণি বলেই ফেলেছিল :

: মুন্নী, তোকে আমাদের খুব পছন্দ পরেশের জন্য।

মুন্নীর ইচ্ছা হয়েছিল বলে, তা এ-কথা আমাকে বলা কেন। আমার বাবাকে বললেই তো হয়। খুবই ইচ্ছা হয়েছিল বলার। কিন্তু লজ্জায় বলতে পারেনি। আর ঠিক তখনই ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছিল পরেশ। মুন্নীর দিকে চেয়ে নির্লজ্জের মতো বলেছিল :

: গ্রামের সবচেয়ে সুন্দর মেয়ে আমাদের উঠোনে। আজ কি চাঁদ নেমে এসেছে এ-বাড়িতে!

: তাই রে পরেশ, এবার চাঁদটাকে একেবারে ঘরে বন্দি করার ব্যবস্থা কর।

লজ্জা পেয়ে ছুটে চলে এসেছিল মুন্নী। আর দুই ভাইবোন পেছনে হেসে উঠেছিল খিলখিল করে। অনেকদিন পর্যমত্ম বাতাসে ভেসে-ভেসে সে-হাসি মুন্নীর কানে এসেছিল। কিন্তু ওই হাসি পর্যমত্ম। বাতাস পর্যমত্ম। মুন্নীর বাবার কাছে কোনো প্রসত্মাব আসেনি। ছেলেটা এমন কেন। একদিন মাটি কাটতে-কাটতে শুনেছিল পরেশ নাকি বলেছে, সে গাঁয়ের সবচেয়ে সুন্দর মেয়েটাকে বিয়ে করবে। আর সে-বিয়ে হবে পরেশের মাটির ঘর ভেঙে টিনের ঘর বাঁধার পর। কবে পরেশ টিনের ঘর বাঁধবে আর কবে সে সুন্দরী মেয়েটাকে বিয়ের

প্রসত্মাব পাঠাবে কে জানে। উন্মাতাল নাচ নাচে আর ভাবে মুন্নী। নাচতে-নাচতে! কাছে এগিয়ে এসেছে পরেশ। পরেশ আলগোছে মুন্নীর হাত চেপে ধরে। মুন্নীও সজোরে সে-হাত চেপে ধরে। সে যে এই হাতের প্রতীক্ষাতেই ছিল এতদিন। এরপর মাদলের তালে উন্মাতাল হয়ে ওঠে দুজন। নাচের ফাঁকে-ফাঁকেই চলছে বলির মাংস খাওয়া আর চুয়ানি গলায় ঢালা। চুয়ানি যতই পেটে পড়ে, ততই ওদের নাচের গতি বাড়ে। কিছুটা যেন স্খলিতও। নাচতে-নাচতে হঠাৎ চোখ যায় পাশে। সাঝি আরাংয়ের দুটো চোখ যেন অঙ্গারের মতো জ্বলছে। রাগে এখন যে নাচ থামিয়ে দিয়েছে। কিছুক্ষণ তাকিয়ে-তাকিয়ে  দেখে মুন্নী-পরেশের নাচ। তারপর গজরাতে-গজরাতে চলে গেল হনহন করে বড়-বড় পা ফেলে। নাচ থামিয়ে তার চলে-যাওয়া দেখল অনেকেই।

এ এক উৎপাত হলো মুন্নীর জন্য। মুন্নীর কি স্বাধীনভাবে বাঁচার কোনো উপায় নেই, কয়েক মাস আগে পৌষ মাসে সোহরাহ উৎসবে বান্ধবীদের সঙ্গে নাচছিল মুন্নী। সেদিনও ঝড়ের মতো সেই নাচের মধ্যে ঢুকে পড়েছিল সাঝি। ঝটিতি মুন্নীর হাত ধরে নিজের দিকে আকর্ষণ করে নাচার চেষ্টা করেছিল। আর সাঝি বড়লোকের ছেলে হওয়ায় কেউ তাকে কিছু বলে না। দরিদ্র মাত্রই তো দুর্বল। ধনীর সঙ্গে লেগে বিপদ কে ডেকে আনতে চায়।

তা বাহা পরবের দিন সাঝি রাগ করে চলে গেলে রাগের কারণটা অনেকেই বোঝেনি। বুঝেছিল মুন্নী। পরেশ অনেক রাত পর্যমত্ম মুন্নীর সঙ্গে নেচে তাকে বাড়ি অবধি পৌঁছে দিয়েছিল। চুয়ানির নেশায় দুজনই তখন টলছে। টলতে-টলতে হাত ধরাধরি করে দুজনে এসেছিল মুন্নীর বাড়ি অবধি। টলছিল আর হাসছিল। আর সেদিকে তাকিয়ে পরেশের দিদি বাসমত্মী বলেছিল, দুটিতে মানিয়েছে বেশ।

পরদিনই শিকারে গিয়েছিল পরেশ। এবার শিকারে গেছে বেশ দূরের জঙ্গলে। পরেশ বলে গেছে, এবার অনেক শিকার করবে সে। আর সেই শিকারের মাংস পাড়াপড়শিকে বিলিয়ে বাকিটা সারা বছরের জন্য জমিয়ে রাখবে নুন মাখিয়ে। পরেশ গেল আর তার দুদিন পরেই মাঝি আরাং এলো জগমোহনের বাড়িতে। জগমোহন তো অবাক। হাতে যেন আকাশের চাঁদ পেল। কোথায় বসাবে মাঝি আরাংকে, কীভাবে আপ্যায়ন করবে বুঝে উঠতে পারছিল না যেন সে। পিঁড়ি পেতে ঘরের দাওয়ায় বসতে দিলো। পিঁড়ি ছাড়া আর যে কিছু নেই বসতে দেওয়ার মতো। করম্নণার চোখে জগমোহনের ঘরদোর দেখল মাঝি আরাং।

: তোরা দুজনই তো মানুষ। দুজনেই কাজ করিস। তা ঘরদোরের চেহারা একটু ভালো করতে পারিসনে?

: কী করে করব। জিনিসপত্রের দাম বাড়তি। যা পাই তা

বাপ-বেটির খেতেই চলে যায়। আগে উঠোনের ওধারে কিছু সবজি হতো। এখন তাও হয় না।

: আমার তো কিছু জমিজমা আছে। সেখানে খানিকটা বর্গাচাষও তো করতে পারিস।

প্রসত্মাবটা অবিশ্বাস্য মনে হয় জগমোহনের কাছে। এমন প্রসত্মাব পাবে কখনো ভাবেনি। মাঝি আরাংও তো কিছু বলেনি। আজ হঠাৎ এমন লোভনীয় প্রসত্মাব।

: তুমি তো কখনো বলোনি সে-কথা।

: কী অবাক কা-! তুই বর্গাচাষ করবি আমার জমিতে। তা তুই আমার কাছে কাজ চাইবি নাকি আমি তোকে খুঁজে পেতে ডেকে নেব!

কথা সত্যি। তাই জগমোহন আর কথা বাড়ায় না। এবার নড়েচড়ে বসে মাঝি আরাং। একটু গলা খাঁকারি দেয়।

: শোন জগমোহন, তুই নিশ্চয়ই খুব অবাক হয়েছিস তোর বাড়িতে আমাকে আসতে দেখে। অবাক হওয়ারই কথা। আমি তোকে ডেকে পাঠাতে পারতাম; কিন্তু ভাবলাম আত্মীয় হচ্ছিস যখন তখন নিজেই আসি।

: তোমার কথা আমি ঠিক বুঝতে পারলাম না।

সরাসরি বলে ফেলি। আমার ছেলে সাঝি তোর মেয়ে মুন্নীকে পছন্দ করেছে। আমি বিয়ের প্রসত্মাব নিয়ে এসেছি।

মাঝি আরাংয়ের কথাগুলো জগমোহনের বিশ্বাস হতে চায় না। গ্রামের সবচেয়ে ধনী ঘরে বিয়ে হবে তার মেয়ের। শুধু গ্রামই বা বলা কেন, আশপাশের দুই-চার গ্রামের সাঁওতালদের মধ্যে মাঝি আরাংয়ের মতো ধনী কেউ নেই। এ তো সৌভাগ্য তার মেয়ের!

: কিরে বোবা হয়ে গেলি নাকি?

: বোবা হওয়ার মতোই অবস্থহা। যা কখনো ভাবিনি, তা যদি কখনো হয় তখন তো মানুষ বোবাই হয়। মানুষ যেমন আনন্দে বোবা হয়, তেমনই দুঃখেও বোবা হয়।

: তাহলে তোর মত আছে। তাহলে আর দেরি কেন। এ-সপ্তাহেই বিয়ে হোক।

: তাই হবে।

কিন্তু বেঁকে বসল মুন্নী। বাবাকে সাফ জানিয়ে দিলো সাঝি আরাংকে সে কিছুতেই বিয়ে করবে না। সাঝি একটা চরিত্রহীন; খারাপ ছেলে। অনেক মেয়ের সর্বনাশ করেছে।

: পুরম্নষের অমন একটু-আধটু দোষ থাকে। বিয়ের পর ঠিক হয়ে যায়।

: একটু-আধটু একে বলে না। ওর জন্য শহরের সেই মেয়েটা আত্মঘাতী হলো। বিয়ের কথা বলে মেয়েটার সর্বনাশ করল। আর মেয়েটা কুমারী মা হওয়ার লজ্জায় আত্মাহুতি দিলো। আমি শুনেছি বাবা, শহরে ও আরো অনেক মেয়ের সর্বনাশ করেছে।

: কিন্তু মা, ওরা বড়লোক। আমি কথা দিয়ে ফেলেছি। বিয়ে দেব না জানলে ওরা অনেক অত্যাচার করবে। হয়তো গ্রামছাড়া করবে।

: তোর জন্য কষ্ট হয় বাবা। তোর বয়স হয়েছে। এ বয়সে যদি তোর ওপরে কোনো অত্যাচার করে অথবা তোকে গ্রাম ছাড়তে হয় সেটা হবে খুব কষ্টের। ক্ষণিক ভাবে মুন্নী। তারপর যেন ঝটিতি সিদ্ধামত্ম নেয়।

: ঠিক আছে বাবা। আমি রাজি।

এবার বেঁকে বসে জগমোহন।

: আমার কষ্টের কথা ভেবে তুই নিজের জীবন নষ্ট করবি, তা হবে না। আরে, আমার কষ্ট-আনন্দ সবই তো তোকে নিয়ে। ভাগ্যে যা আছে আমরা মেনে নেব। আমি আজই মাঝি আরাংকে জানিয়ে দেব, এ-বিয়েতে আমাদের মত নেই।

জগমোহনের কথা শুনে সত্মম্ভিত হয়ে গেল মাঝি আরাং। চোখ রক্তবর্ণ হলো। হাত-পা ছুড়তে লাগল আপন মনে । কিন্তু মুখে কিছুই বলল না। আর বক্তব্য জানিয়েই দ্রম্নত চলে এলো জগমোহন।

পরদিন কাজ করতে গিয়ে বাপ-মেয়ে দুজনেই দেখল তাদের কাজ নেই। মহাজন বলল :

: মাঝি আরাংয়ের সঙ্গে কী ঝামেলা করেছিস? সে এসে তোদের কাজ দিতে বারণ করে দিয়ে গেল। আমার বুকে এত জোর নেই যে, তার কথা উপেক্ষা করে তোদের কাজ দেব। আমাকে তো এখানে কাজ তুলতে হবে। মাঝিকে রাগালে এখানে টিকতে পারব না। তুই বরং মাঝির সঙ্গে ঝামেলাটা মিটিয়ে ফেল। আমি তোদের জায়গায় অন্য কোনো লোক নিচ্ছি না।

লোকটাকে বরাবর খারাপ লেগেছে। আজ অত খারাপ মনে হয় না। মুখ চুন করে বাপ-মেয়ে ফিরে আসে। সামান্য যা দু-চার টাকা সঞ্চয় ছিল তাই দিয়ে সামান্য চাল আর আলু নিয়ে আসে। মুন্নীর কিছুই ভালো লাগে না। বাড়িতে এমন কিছু কাজ নেই যা সারতে সময় লাগে। অল্পক্ষণের মধ্যেই ঘরের কাজ সেরে অলস হয়ে পড়ে মুন্নী। দাওয়ার খুঁটিতে ঠেস দিয়ে অলসভাবে দুপুরটা পার করে মুন্নী। কাজ হারাল তারা। এবার কীভাবে চলবে তাদের জীবন। কী খেয়ে বাঁচবে তারা। বাবা গেছে বেশ দূরে যদি কোনো বাড়িতে কৃষাণ নেয় কিংবা যদি জমি-জিরেতের কোনো কাজ পাওয়া যায়। যে-কোনো কাজ। মুন্নী দুপুর পার করে ভাত ফোটাতে বসে। ঠিক তখনই তীরবেগে ওদের উঠোনে ঢুকতে দেখে সাঝি আরাংকে। কোনো কথা বলার আগেই মুন্নীকে কাঁধে করে নিজের বাড়ির দিকে ছুটতে থাকে সাঝি আরাং। মুন্নী বুঝতে পারে, তাকে অপহরণ করে বিয়ে করতে চাচ্ছে সাঝি। যার নাম অর বাপলা। মুন্নী হাত-পা ছোড়ে, চেঁচায় কিন্তু কোনো কথাই কানে নেয় না সাঝি আরাং। সে মুন্নীকে কাঁধে করে এনে নিজের বাড়ির উঠোনে ঝপ করে নামিয়ে দেয়। আর সাঝির মা বড় একটা কাঁসার থালায় পানি ভরে রেখে দেয় দোরগোড়ায়। মুন্নীকে বলে, ওই থালার পানিতে পা ডুবিয়ে ঘরে ঢুকতে। মুন্নী লাথি দিয়ে থালার পানি ফেলে দিয়ে ছুটতে থাকে। ছুটতে থাকে নিজের বাড়ির দিকে। আর ঠিক তখনই ঢোলের শব্দ ভেসে আসে। পরেশ তাহলে শিকার থেকে ফিরল। মুন্নী রাসত্মা বদলে ছুটতে থাকে পরেশের বাড়ির দিকে। রাসত্মার মাঝখানে দেখা হয়ে যায় পরেশের সঙ্গে। পরেশের বুকের ওপর আছড়ে পড়ে মুন্নী। পরেশকে জড়িয়ে ধরে মুন্নী। পরেশের হাতে থাকা খরগোশ আর বুনো শুয়োর ঝপ করে পড়ে মাটিতে।

: টিনের ঘরের চিমত্মা বাদ দে। তোর মাটির ঘরই আমার কাছে স্বর্গ।

তারপর সেদিন সন্ধ্যায় বেজে ওঠে মাদল-ঢাক-ঢোল। পরেশের সঙ্গে মুন্নীর দাউরা বাপলা হয়। বিয়ের দং গাইতে থাকে ছেলেমেয়েরা। আর ঢাক-ঢোল-মাদলের সঙ্গে চলতে থাকে রাতভর নাচ-গান। এরই মাঝে পরেশ-মুন্নীকে হলুদ দিয়ে সণান করিয়ে হলুদ-মাখানো মার্কিন কাপড় পরানো হয়। মুন্নীকে বিশালাকার নকশি অাঁকা ডালিতে বসিয়ে পরেশের ছয়জন বন্ধু উঁচুতে তুলে ধরে আর পরেশ তার জামাইবাবুর কাঁধে চড়ে শালপাতার পাতায় সিঁদুর নিয়ে মুন্নীর সিঁথিতে পরিয়ে দেয়। তারপর চলে শিকার করা মাংসের ভোজ।

এরপর রাত বাড়ে। একসময় নাচতে-নাচতে আর চুয়ানি

খেতে-খেতে অনেকেই উঠোনে ঢলে পড়ে। কেউ-কেউ চলে যায় নিজ বাড়ির দিকে। গভীর রাতে মুন্নী আর পরেশকে ঘরে ঢুকিয়ে দেয় কেউ। ঘরে ঢোকামাত্র যেন এতক্ষণের ঘোর কেটে যায় মুন্নীর।  ভয়ার্ত কণ্ঠে বলে –

: সাঝি আরাং আমাদের কাজ কেড়ে নিয়েছে। তোর কাজও কেড়ে নেবে। ও নিশ্চয় অনেক ক্ষতি করবে আমাদের। হয়তো গ্রামছাড়া করবে।

: পারবে না। আমাদের সঙ্গের লোকেরা নিশ্চয়ই আমাদের পাশে দাঁড়াবে।

: দাঁড়াবে না। তোকে যখন বেশি মজুরি দিত আর আমাকে কম দিত, তখন আমি প্রতিবাদ করায় কেউ আমার পাশে দাঁড়ায়নি।

: তাও ঠিক। ওরা যে বড় গরিব। তাই বড় ভীরম্ন। কাজ হারানোর ঝুঁকি নিতে চায় না। ওদের কোনো দোষ দেওয়া যায় না। তুই ভয় পাসনে।

শেষরাতে হামলা হয় পরেশের বাড়িতে। পরেশ তখন গভীর আবেগে বউকে কেবল দ্বিতীয়বারের মতো কাছে টেনে নিয়েছে। তখন দরজায় লাথি পড়ে। হুড়মুড় করে খুলে পড়ে বাঁশের দরজা। পরেশ একলাফে উঠে গিয়ে বর্শা নেয়। কয়টাকে এফোঁড়-ওফোঁড় করেছে জানে না পরেশ। তবে জানে, একটাও অক্ষত ফিরতে পারেনি। তারপর দেখা যায় হলুদ কাপড়, গায়ে লেপ্টে থাকা ফুলের মালা, হলুদ আর সিঁদুরে মাখামাখি একজোড়া দম্পতি ছুটছে রাত শেষের নির্জন রাসত্মা দিয়ে। ওরা ছুটছে সাঁওতাল পরগনা ছেড়ে শহরের উদ্দেশে। কিন্তু গমত্মব্য ওদের অজানা। ওরা শুধু জানে, ভালো মানুষের কাছে যেতে চায় ওরা। কিন্তু ভালো মানুষ কোথায় পাওয়া যায়, পাওয়া যায় কিনা তা ওদের অজানা।