ইয়াসুকু, আমার জাপান

তোমার ঈষৎ-এলানো স্তনের

কামোদ্দীপ্ত বর্ণের উল্লাসে

যখন উদ্ভাসিত হয় এ-পৃথিবী,

আমরা ভাবি সূর্য উঠেছে।

বলি, জাপান সূর্যোদয়ের দেশ।

কিন্তু তোমাকে দেখার পর…,

ইয়াসুকু, আমি নিশ্চিত হয়েছি,

আমরা যাকে সূর্য বলে ভাবি…

সে তোমার স্তনযুগলের বিভা।

তোমার উৎপলশুভ্র ঊরুদ্বয়

ঐক্যবদ্ধ হয়ে

যে-দৃশ্য নির্মাণ করে…,

সেই হচ্ছে অনন্ত আকাশ।

অথচ তোমাকে দেখার আগে

এই আকাশ-সম্পর্কে আমাদের

কী ভুল ধারণাই না ছিল।

“নেই, তোমার তো মুক্তি নেই কিছুতেই”,

কে যেন প্রগাঢ় কণ্ঠস্বরে বলে গেলো।

            মুখচ্ছবি তার শত চেষ্টাতেও পড়লো না ধরা।

            দৃষ্টিতে আমার পড়ে তিনজন রূপবতী দূরে

            একটি হ্রদের তীরে এসে বসে, তাদের পেলব

            গানের সুষমা হৃদয়ের তন্ত্রীকে স্বর্গীয় করে।

৩.

অবশেষে বৃক্ষতলে এসে বসি, এখন আমার

পাশে বসে নেই কোনও পুরুষ কি নারী।

অকস্মাৎ প্রায় মাথা ঘেঁষে কালো এক পাখি

উড়ে যায়। অগণিত বুটের আওয়াজে

শান্তিপ্রিয় জনসাধারণদের মগজ ভীষণ

আলোড়িত, কেমন কুঞ্চিত হতে থাকে। রাইফেল

গর্জন করেনি, তবু লেফ্ট রাইট,

লেফ্ট রাইট ধ্বনি এক ঝাঁক পায়রা এবং

অজস্র রঙিন হাঁস দূরবর্তী মেঘমালা ছুঁয়ে

দূরে, বহুদূরে উড়ে চলে যায়। বারুদের গন্ধে

কী ভীষণ ভারী হতে থাকে

চতুর্দিক। মানবিক আর্তনাদ ক্রমাগত প্রসারিত হয়।

১৮/৫/২০০৪