2004

  • হিমচন্দ্রাতপে

    হিমচন্দ্রাতপে

    বারো ঘর এক উঠানের গল্প জানা আছে। উঠানের চারপাশে বারোটি ঘর, সেখানে বারোরকমের জীবন। কাঠ-পাতা কী কয়লার ধোঁয়ায় উঠান ঢাকা পড়ে, শলার ঝাড়ু হাতে যে যে যার যার অংশের পাতাকুটো পরিষ্কার করে যখন, তখনো ধূলিরাশিতে ঢাকা পড়ে। কিন্তু যা জানা নেই তা হচ্ছে, কখনো এই বারো ঘর থাকে না, এক উঠানও নয়। থাকে না ধোঁয়ার, কী ধূলিকণার রাশি। কালকাসুন্দির ঝোপ কী দণ্ডকলমের ঝাড়, থাকে না বেরাটির বেড়া কী তাতে ঝুলে থাকা তেলাকুচার লতা। সব, এইসব মোহনীয় চাঁদোয়ায় ঢাকা পড়ে, ছলকাতে থাকে হালকা ঢেউয়ের ডগায় রুপালি আলোয়, কোনো এক দিন। উঠানের একপাশে স্নানাগারটি, শৌচাগারও। বারোয়ারি। দেয়াল দিয়ে ঘেরা। তরল বর্জ্য দেয়ালের নিচের সরু পথে বেরিয়ে আসে, নালা দিয়ে বয়ে যায়, ক্রমে সেটি প্রসারিত হয়ে নরম মাটির উঠানের শেষ প্রান্তে এসে একটি ছোট জলাধারই হয় যেন। গাঢ় ছাইয়ের রং ও শ্যাওলার সবুজ জলাধারের মধ্যে মেশে এবং সেখানে বাড়িওলার আফ্রিকী মাগুর মাছটি ক্রমে হাঙরের চেহারা পায়। তবে ওই মাগুরটিও সেদিন থাকে না। চন্দ্রালোকে সে-ও হয় ছায়াহীন এবং ছায়াহীন হয় ঘর এবং উঠানও, কেবল গৃহশীর্ষ ছাড়া। দুই বড় রাস্তার দুপাশে শহরের চেহারা। শহরতলিই প্রায়। তবুও মূল শহরতলি ছাড়িয়ে, বিস্তীর্ণ মাঠ কী ইটভাটার সহস্র চিমনি পেরুলেই জনপদটি পড়ে। সবরকমের দোকানপাট, শহুরে জীবনের চেহারা দেখা যায়। জাতীয় সড়কের পাশেই নানা ব্যবসায়। সোয়েটার কী পোশাক তৈরির কারখানাও বেশ কটি। স্থানীয় কাঠের আসবাবপত্রের দোকানও আছে, ঢালাই লোহার আলমারি কী তারে ছাওয়া তৈজসপত্র রাখবার দেয়ালদানিসহ। অজস্র যানবাহন – দূরপাল্লার বাস, ছোট দৌড়ের মিনিবাস। শিল্পোপকরণ টানবার ট্রাক কী স্বল্পবিত্তের মাল টানাটানির ভ্যানগাড়িতে বাজারে ঢোকার মুখ সর্বদা বন্ধ যেন। সেটি পেরুলে, বাজারের মধ্য দিয়ে যাওয়া রাস্তার দুপাশে দাঁড়ানো থাকে রিকশার দল, এবং তারপর গ্রাম্য-পসারির অস্থায়ী দোকানপাট। কিছু এলোমেলো, অগোছালো স্থাপনার শেষে বাঁয়ে মোড় নিলে মনে হয় যেন জনপদের শেষ Ñ ফলা না-ফলা আম, জাম, কী পীতরাজের বাগান পার হয়ে। আছে বুঝি কয়েকটি কৃষ্ণচূড়া কী দু-একটি শিমুলও; অসমান ভূমি, কিছু লালমাটির ঢিপি এবং শেষে পরিত্যক্ত ইটখোলার চৌবাচ্চা কী পরিখা। বারো উঠানের কেউ কেউ সেটিকে পুষ্করিণীও ঠাউরে নেয় কখনো। উঠানে যাওয়ার পথ আমবাগানের মধ্য দিয়ে। সরকারি পথ নয়, বেসরকারিও নয়। পায়ে চলার দাগই বলে সেটি পথ। পথের শেষে ইটের দেয়াল টিনের চালের বসতি। সেখানে ডাইনে মোড় নিলে পড়বে ঐ মৎস্যাধার। উলটোদিক থেকে আরেকটি নালা এসে ওই আধারে পড়ে বলে পারাপারের জন্যে ছোট একটি বাঁশের মাচা। সেটি পার হয়ে বাঁয়ে গেলে আবার কিছু ইট-টিনের ছাউনি এবং ঠিক সামনেই সেই চারপাশে বারোঘরের উঠান। উঠানের বাঁয়ে ইট-টিনের নতুন ছাউনি। ইটের দেয়াল দিয়ে ভাগ করা পাঁচটি খোপ, এক একটি ঘর। ঘরের ভেতরে ঢুকলে দেখা যায় দোচালার টিন। সিলিং নেই Ñ বাঁশের মাচারও। ঘরকটির বাইরে টানা বারান্দা এখনো মাটির। ঘরের মেঝে মাজা সিমেন্টের হলেও, বারান্দা মাটিরই। টিনের চালা দিয়ে ঢেকে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও আছে। বারান্দার দূর-মাথায় এক-দুধাপ নামলেই উঠানের শেষ Ñ সেখানে সাজানো পাঁচটি উনুন, মাটিতে গর্ত করে কাদা লেপে বানানো। কাঠকুটো, পাতা কী শুকনো ঘাস জ্বলে সেখানে, যখন যে জ্বালায়। উঠানের শেষ সীমানা বরাবর বাঁশ-কাঠের দোচালা Ñ বাড়িওলার রান্নাঘর। বাঁয়ে সামান্য তফাৎ করে আরো তিনটি বাঁশের বেড়া Ñ টিনের চালের ঘর। কাঠের জানালা বসানো। দিনমজুরের ঘর নয়, বোঝা যায়। বাড়িওলা ও তার দুই ভাই, প্রত্যেকেরই দুটি করে ঘর বলে শৌচাগারের পেছন দিকে ঘুরে এসেছে স্থাপনা। উঠানের বাঁপাশে একটি বেলগাছ, তার নিচে বাঁশের মাচা। রন্ধনক্লান্ত গৃহিণী শরীরের তাপ-নিবারণ কী সতীর্থদের সঙ্গে দিনের সংবাদ-বিনিময়কালে সেখানে বিশ্রাম করেন। কখনো কখনো চাঁদ-তারার রাত্রিতে দীর্ঘকাল ভিড় জমে যেন মাচার ওপরে এবং চারপাশে। উঠানের প্রায় মাঝখানে আছে একটি বাতাবিলেবুর গাছ। আকারে খুবই ছোট তার ফল, তবুও যখন ফলে তেল-মরিচের বাটি নিয়ে অনেকেই যায় তার নিচে। ঘরকটির পেছনে কিছু গাছ আছে। আম-কাঁঠাল হতে পারে। হতে পারে নিষ্ফল পীতরাজ এবং এই গাছের শ্রেণি পেরুলে শুধুই উঁচু-নিচু জমি। পতিত। ফসলের ক্ষেত নয়। ইটখোলার মাটিকাটা খানাখন্দে ভরা। দূরে একটি বাঁশবন। তারপরে ইতস্তত ছড়ানো ইটভাটার চিমনি কখনো আকাশে চোখ তুলতে দেয় না। নীলকালো ধোঁয়ার জন্যে। এই। এই হচ্ছে বারোঘরের উঠান। তিন…

  • গড়শ্রীখণ্ড ও অমিয়ভূষণ

    ক. প্রাক-প্রসঙ্গ মহামানবদের কিছু কিছু উক্তি কখনো কখনো ভুলে যাওয়াই ভালো। যেমন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের দুজন মহামানব গড় শ্রীখণ্ড সম্পর্কে যে-দুটি মন্তব্য করেছিলেন, সে-দুটি পাশাপাশি রাখলে গড় শ্রীখণ্ড না-পড়া পাঠক হকচকিয়ে যাবেন। উক্তিদুটি তুলে ধরা যাক। প্রথম উক্তি রাজশেখর বসুর। তিনি গড় শ্রীখণ্ড-প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘কি ভাষা! পড়া যায় না।’ অন্যদিকে পূর্বাশা-সম্পাদক সঞ্জয় ভট্টাচার্য ১৩৬০ বঙ্গাব্দের জ্যৈষ্ঠ সংখ্যায় সার্টিফিকেট দিচ্ছেন এই বলে, ‘তরুণ কথাসাহিত্যিকদের মধ্যে অমিয়ভূষণ মজুমদারই এমন একজন লেখক যিনি বহুবিধ কোণ থেকে জীবনকে দেখতে জানেন।… গড় শ্রীখণ্ড তাঁর প্রথম উপন্যাস। আমাদের আশা আছে এ-রচনাটি তাঁকে বাংলা উপন্যাসের আসরে সম্মানের আসন দান করবে।’ অতএব আমাদের আপাতত দেরিদাপন্থি হওয়াই ভালো। কে লিখেছেন, সেই লেখা সম্পর্কে কে কী বলেছেন Ñ এসব নিয়ে না ভেবে সরাসরি টেক্সটে প্রবেশের যে-প্রস্তাবনা জাক দেরিদা করেছিলেন, সেটি মেনে চলতে পারলে মনে হয় ভালোই হতো। কিন্তু পুরোপুরি মেনে চলা কোনো পাঠকের পক্ষেই সম্ভব নয়। আরেকটি জরুরি কথা। বলা হয়ে থাকে যে, অমিয়ভূষণ ছিলেন প্রচারবিমুখ, নিভৃতচারী। হয়তো তাঁর প্রথম জীবন সম্পর্কে কথাগুলো খাটে। কিন্তু শেষ জীবনে তিনি এসেছিলেন আলোকবৃত্তের একেবারে কেন্দ্রে। নিজের সম্পর্কে কথাবার্তা বলেছেন ও লিখেছেন প্রচুর। কাজেই অমিয়ভূষণের জবানি দিয়েই কিংবা তাঁর উদ্ধৃতি ব্যবহার করেই ধাপে ধাপে তাঁর রচনাকে ব্যাখ্যা করা সম্ভব। গড় শ্রীখণ্ড-প্রসঙ্গেও এ-কথা সমভাবে প্রযোজ্য।সাম্প্রতিক সময়ে একটি প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অমিয়ভূষণের উপন্যাস, গল্প তথা অমিয়ভূষণ-লিখিত যে-কোনো রচনাকেই ক্লাসিক বলে প্রতিপন্ন করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। একশ্রেণির সমালোচক এবং আকাশে নাক বেঁধে রাখা বোদ্ধাপাঠক (!) অমিয়ভূষণের লেখায় যে-অসংগতি থাকতে পারে, তা মেনে নিতে রাজি নন। কোন কোন গুণের সন্নিবেশ ঘটলে কোনো রচনা ক্লাসিকত্বপ্রাপ্ত হয়, তা এই নিবন্ধকারের কাছে পরিষ্কার নয় বিধায় এই রচনাটিতে ‘উক্ত’ শব্দ প্রযোজ্য হবে না। মনে রাখা দরকার, ক্লাসিক উপাধি ছাড়াই অনেক সাহিত্য ‘উৎকৃষ্ট সাহিত্য’ বলে পরিগণিত হতে পারে। ব্যক্তিগত সমীক্ষায় দেখা গেছে, অমিয়ভূষণের গুণমুগ্ধ ভক্তের সংখ্যা যতটা, অভিনিবেশী পাঠকের সংখ্যা তার চাইতে ঢের কম। তাঁর গুণমুগ্ধরা তাঁর রচনার চাইতে সাক্ষাৎকার, মন্তব্য ও সমালোচনা পড়েই অমিয়ভূষণের অন্ধ স্তাবকতা করে থাকেন। এই রকম কিছু স্তাবকের সংখ্যা বৃদ্ধি করা এই নিবন্ধের উদ্দেশ্য নয়। ধূর্জটিপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় আক্ষেপ করে বলেছিলেন যে, ‘আমাদের একপাশে সোশ্যাল রিয়ালিজম আর অন্যপাশে দার্শনিক, মনস্তাত্ত্বিক স্ট্রিম অব কনসাসনেসের চোরাপাহাড়। এই দুটি থেকে অব্যাহতি কামনা করেছিলেন তিনি। তাহলে অন্তত পাঠক হিসেবে রিলিফ পাওয়া যায়। অমিয়ভূষণে এই রিলিফ মিলবে না। বিশেষত স্ট্রিম অব কনশাসনেসের ব্যবহারে নিজের সিদ্ধি নিয়ে অত্যন্ত গর্বিত ছিলেন তিনি। সুতরাং চোরাপাহাড়ে পথ রুদ্ধ দেখলে পাঠকের হতবাক না হওয়াই উচিত।’ খ. উপন্যাস বলতে অমিয়ভূষণ নিজে কী বুঝতেন বা বোঝাতে চাইতেন পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর থেকে প্রকাশিত উত্তরাধিকার পত্রিকার অক্টোবর-ডিসেম্বর ১৯৯৪ সংখ্যায় প্রদত্ত সাক্ষাৎকারে অমিয়ভূষণ বলেছিলেন, ‘আমি শেষের কবিতাকে উপন্যাস মনে করি না। উপন্যাস ও-জিনিস নয়। গোরা, ঘরে বাইরে, চতুরঙ্গ Ñ এগুলোকে আমি উপন্যাস বলি। নৌকাডুবিকেও বলি। কিন্তু চোখের বালি Ñ তাকে উপন্যাস বলি না।’ তাহলে তিনি কাকে বলছেন উপন্যাস? এ-বিষয়ে তাঁর নিজেরই একটি প্রবন্ধ রয়েছে। নাম ‘উপন্যাস সম্বন্ধে’। আমরা যদি সেই প্রবন্ধের দ্বারস্থ হই, তাহলে কিছুটা সাহায্য পাওয়া যেতে পারে। তাঁর মতে, উপন্যাস সম্পর্কে ধারণা স্বচ্ছ হলে অনেক সমস্যা কেটে যায়। তবে মনে রাখা দরকার, কেউ কোনোদিন কোনো শিল্প সম্পর্কে জলবৎ তরলং স্বচ্ছ ধারণা দিতে পারেনি। পুরো প্রবন্ধ আদ্যোপান্ত পাঠ করার পরে স্বীকার করতে পাঠক বাধ্য হন যে, অমিয়ভূষণও ‘উপন্যাস সম্বন্ধে’ কোনো স্বচ্ছ ধারণা দিতে পারেননি। ওই প্রবন্ধে উপন্যাস কী Ñ তা না বলে তিনি মূলত বলতে চেয়েছেন কী কী আসলে উপন্যাস নয়। যেমন, সাধারণ প্রচলিত মত হচ্ছে, নরনারীর নামযুক্ত ঘটনাবলিকেই উপন্যাস বলা হয়ে থাকে। অমিয়ভূষণ এই সরলীকৃত সংজ্ঞাকে বিদ্রƒপ করেছেন তীক্ষèভাবে। প্রবন্ধে আরেকটি সরলীকৃত ধারণাকেও তিনি ব্যঙ্গ করেছেন। পূর্বসূরি একজন সাহিত্যতাত্ত্বিক উপন্যাসকে পোর্টম্যান্টোর সঙ্গে তুলনা করেছিলেন, অর্থাৎ এতে, পোর্টম্যান্টোতে যেমন, তোমার সবকিছু রাখতে পারো…

  • শেক্সপিয়র-সমালোচনা সাম্প্রতিকধারাএবংআমাদেরপরিপ্রেক্ষিত

    শেক্সপিয়র-সমালোচনা সাম্প্রতিকধারাএবংআমাদেরপরিপ্রেক্ষিত

    কাজী মোস্তাইন বিল্লাহ শেক্সপিয়র-বিষয়ে এই প্রবন্ধটির লক্ষ্য দুটি : এক. শেক্সপিয়রের সাম্প্রতিক সমালোচনার প্রতি আলোকপাত করা; দুই. তারই আলোকে আমাদের শেক্সপিয়র-চর্চার সম্ভাবনা সম্পর্কে মন্তব্য করা। সাহিত্য-রুচিতে ডানপন্থি আমেরিকান সাহিত্য-সমালোচক হ্যারল্ড ব্লুম (Harold Bloom) সম্প্রতি শেক্সপিয়র-বিষয়ে Shakespeare : The Invention of the Human নামে একটি গ্রন্থ প্রকাশ করেছেন। ব্লুম-প্রভাবের আশংকা (anxiety of influence) শীর্ষক সাহিত্যতত্ত্বের প্রবর্তক। মাত্র কয়েক বছর আগে পশ্চিমা-সাহিত্যের সূচক (western literary canon) নির্মাণে তিনি যে-বিচারবোধ প্রয়োগ করেন তাতে রক্ষণশীলতার ছাপ স্পষ্ট। শেক্সপিয়র গ্রন্থেও তিনি সাহিত্যতত্ত্বের ‘চলতি হাওয়ার  বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। সাহিত্যতত্ত্বের জন্য তাঁর তেমন কোনো সহানুভূতি নেই। শেক্সপিয়রকে তিনি মূল্যায়ন করতে চান ভিন্ন নিরিখে। সাহিত্যের প্রকৃতি, উদ্দেশ্য, ইত্যাদি প্রশ্ন সাহিত্য-সমালোচনার মূল লক্ষ্য হলেও ‘সাহিত্যতত্ত্ব’ শীর্ষক একটি স্বতন্ত্র শাখা সৃজনশীল রচনার পাশাপাশি বিকাশলাভ করেছে। সাধারণ দোষ-গুণের হিসাবের পর ক্রমান্বয়ে সাহিত্য-আলোচনা স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি তত্ত্বের (লিটারেরি থিয়োরি) রূপ নিয়েছে। সাহিত্য-বিচারে এর গুরুত্ব এখন এত বেশি যে বর্তমান সময়কে তত্ত্বের কাল বললে অত্যুক্তি করা হবে না। সাহিত্যতত্ত্ব বেশ জটিল, অনেক সময়ে দুরূহ জগৎ-সভ্যতা-মনন ইত্যাদি যেভাবে বিবর্তিত হচ্ছে তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে সাহিত্য-বিচারের লেন্স পালটাতে হচ্ছে; নতুন করে দেখতে, শিখতে হচ্ছে। নতুন নতুন টার্মস, বৈপ্লবিক সব ধারণা দ্রুত এবং এত ব্যাপকভাবে চলে এসেছে যে, অনেক সময় এর সঙ্গে তাল মেলানো যায় না। তত্ত্বের এই অগ্রগতিকে সবাই যে স্বাগত জানিয়েছেন, তেমনও নয়। সাহিত্যতত্ত্ব-বিষয়ে ডান ও বামপন্থিদের স্বাভাবিক মতপার্থক্যের কথা বাদ দিলেও তাত্ত্বিকদের অনেকেই স্বতন্ত্রভাবে অপছন্দের লক্ষ্য বাছাই করে সেটিকে আক্রমণ করেছেন। যেমন, টেরি ইগলটন (ঞবৎৎু ঊধমষবঃড়হ) নিজে একজন মার্কসীয় সাহিত্যতাত্ত্বিক, কিন্তু মানব-চিন্তার বিবর্তনের ধারাক্রমে বিকশিত উত্তর-আধুনিকতার (ঢ়ড়ংঃ-সড়ফবৎহরংস) প্রতি তিনি অপ্রসন্ন। তত্ত্বের জগতে উত্তর-আধুনিকতা নিয়ে যে-চাঞ্চল্য চলছে তার সঙ্গে দ্রুত পা না চালিয়ে চেতনায় বিকশিত গতিতে হ্রাস টেনে উত্তর-আধুনিকতার আঁধারকেই আলোকিত করতে চেয়েছেন বেশি করে এবং এজন্যই বোধহয় উত্তর-আধুনিকতা-বিষয়ে তাঁর গ্রন্থের নাম রেখেছেন The Illusion of Post Modernism। উত্তর-আধুনিকতা-বিষয়ে ইগলটনের বড় আপত্তি হলো এটি রাজনীতিতে বিপ্লবী, কিন্তু আর্থিক-বিষয়ে শোষণের সহযোগী (radical in politics, but complicit…

  • রবীন্দ্রনাথের মরণদর্শন

    রবীন্দ্রনাথের মরণদর্শন

    আবদুশ শাকুর মৃত্যুদর্শনকে মরণদর্শন লিখলাম, বিষয়টা জীবনদর্শনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত বিধায়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের (১৮৬১-১৯৪১) মরণদর্শন গড়ে ওঠে তাঁর প্রায়-তেইশ বছর বয়সে লোকান্তরিতা নতুন বউঠাকুরাণী কাদম্বরী দেবীর মৃত্যু (১৮৮৪) থেকে, কবির তেরো বছর দশ মাস বয়সে প্রয়াতা মাতা সারদা দেবীর মৃত্যু (১৮৭৫) থেকে নয়। রবীন্দ্রনাথ তাঁর জীবনস্মৃতির ‘মৃত্যুশোক’ অধ্যায়ে লিখেছেন, ‘আমার চব্বিশ বছর (আসলে বাইশ বছর এগারো মাস তেরো দিন) বয়সের সময় মৃত্যুর সঙ্গে যে-পরিচয় হইল তাহা স্থায়ী পরিচয়। তাহা তাহার পরবর্তী প্রত্যেক বিচ্ছেদশোকের সঙ্গে মিলিয়া অশ্রুর মালা দীর্ঘ করিয়া গাঁথিয়া চলিয়াছে। শিশুবয়সের লঘু জীবন বড়ো বড়ো মুত্যৃকেও অনায়াসেই পাশ কাটাইয়া ছুটিয়া যায়Ñকিন্তু অধিক বয়সে মৃত্যুকে অত সহজে ফাঁকি দিয়া এড়াইয়া চলিবার পথ নাই।’ রবীন্দ্র-রচনাবলী, খ ১৭, পৃ ৪২৩। তাছাড়া তেতালায় মাতার মৃত্যুর সময় রবীন্দ্রনাথ ছিলেন নিচের তালায় নিদ্রিত, বড়ো বউঠাকুরাণী সর্বসুন্দরী দেবীর মৃত্যুর (১৮৭৮) সময় কবি আমেদাবাদে অবস্থান করছিলেন, শিলাইদহে জ্যেষ্ঠ ভগ্নীপতি সারদাপ্রসাদের মৃত্যুর (১৮৮৩) সময় রবীন্দ্রনাথ কলকাতায় নিজের বিবাহবাসরে। কিন্তু বিয়েটির মাত্র চার মাস দশ দিন পর প্রায়-দুদিনের করুণ সংগ্রামে পরাজিতা (কবি যাঁকে ‘জীবনের ধ্রুবতারা’ বলে সম্বোধন করেছিলেন, সেই) নতুন বৌঠানের মৃত্যু ঘটল, বলতে গেলে, তাঁর চোখের সামনে। রবিজীবনীকার প্রশান্তকুমার পাল লিখেছেন, ‘কাদম্বরী দেবীর চিকিৎসা বিষয়ে যে ব্যাপক ও বিস্তৃত বিবরণ পাওয়া যায় তাতে মনে হয়, সুনয়নী দেবীর বর্ণনা-মতো আফিম-সেবনের ফলে মৃত অবস্থায় তাঁর দেহ আবি®কৃত হয়নি, তাঁর জীবনরক্ষার জন্য বহু ডাক্তার প্রাণপণ চেষ্টা করার সুযোগ পেয়েছেন … ৮ ও ৯ বৈশাখ দুদিন ডাক্তাররা তাঁর জীবন রক্ষার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু সম্ভবত ৯ বৈশাখ [রবি ২০ Apr] রাত্রে বা ১০ বৈশাখ [সোম ২১ অঢ়ৎ] প্রভাতে তাঁর জীবনাবসান ঘটে।’ রবিজীবনী, খ ২, পৃ ২০৬। অর্থাৎ রবীন্দ্রজীবনীকার প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় বর্ণিত ও বহুলপ্রচলিত ৮ বৈশাখ ১২৯১ বা ১৯ এপ্রিল ১৮৮৪ তারিখটি তথ্যসমর্থিত নয়। মৃত্যু-তারিখটি নিয়ে বিভ্রান্তির অন্যতম কারণ এই যে আত্মহত্যাকারিণীর মৃত্যুসংবাদটি কোনো সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়নি। সেটা না-হওয়ার কারণ হয়তো ‘নূতন বধূঠাকুরাণীর মৃত্যু হওয়ায় খবরের কাগজে উক্ত সম্বাদ নিবারণ করার জন্য ব্যয় বিঃ ১ বৌচর … ৫২’ (প্রাগুক্ত, পৃ ২০৭)। যাহোক, কাদম্বরী দেবীর  অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সময়ে সোমেন্দ্রনাথ, দ্বিপেন্দ্রনাথ এবং অরুণেন্দ্রনাথের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথও শ্মশানে উপস্থিত ছিলেন। রবীন্দ্রনাথের সবিস্তার প্রত্যক্ষ করা এবং তাঁর সর্বসত্তাকে নাড়া দেওয়া এই মৃত্যুটি থেকে পাওয়া প্রথম শোক অপরিশ্রুত রূপ পরিগ্রহ করে ‘পুষ্পাঞ্জলি’ শীর্ষক সমসাময়িক রচনায় (র-র, খ ১৭, পৃ ৪৮৬-৯৬)। কাদম্বরী দেবীর স্মৃতি-সুরভিত এই সব অনুচ্ছেদ,…

  • পাঠকের চিঠি

    অধ্যাপক অমিয়কুমার দাশগুপ্ত কালি ও কলমে অধ্যাপক অমিয়কুমার দাশগুপ্ত : শতবার্ষিকী শ্রদ্ধার্ঘ্য নামে স্মারকগ্রন্থটির ওপর অনবদ্য একটি রচনার জন্য সনৎকুমার সাহাকে ধন্যবাদ। প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ অশোক মিত্রের প্রকাশনায় কলকাতা থেকে ছাপানো এই বইটি, সত্যিকথা বলতে গেলে, পুস্তকপ্রেমিকদের কাছে একটি সংগ্রহের বস্তু (collector’s item) বলে বিবেচিত হতে পারে। অমিয়বাবুর বেশ কয়েকজন ছাত্রছাত্রী, পরিবারের সদস্য, অনুরাগী এবং অধ্যাপক অমিয়কুমার দাশগুপ্তের নিজের কয়েকটি রচনা-সমৃদ্ধ এই বইটি সম্পর্কে বেশ বড় এবং বিশদ একটি আলোচনা করে সনৎবাবু সকলের কৃতজ্ঞতা অর্জন করেছেন। সনৎকুমার সাহার লেখাটি পড়লেই বাংলাদেশের তথা সমগ্র উপমহাদেশের অর্থনীতিশাস্ত্রের গুরুস্থানীয় এক মহত্তম শিক্ষক সম্পর্কে সম্যক ধারণা হবে। এই পত্রলেখকের সৌভাগ্য হয়েছিল এই মহৎ শিক্ষক এবং অসাধারণ মানুষটিকে কয়েকদিনের জন্যে বেশ কাছে থেকে দেখার।  সেটা সম্ভবত ১৯৭৪ সাল। আমি তখন বিশ্ববিদ্যালয়-মঞ্জুরি কমিশনের সচিব। একদিন চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ চৌধুরী, সংক্ষেপে ‘ম্যাক’ স্যার, আমাকে ডেকে বললেন, ‘বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে অধ্যাপক অমিয় দাশগুপ্ত ঢাকায় আসছেন কয়েকদিনের জন্য। আমরা গ্র্যান্ট্স কমিশন থেকে ওঁর দেখাশোনা করব। আপনি রাজ্জাক স্যারের কাছে চলে যান, স্যারের কাছ থেকে কী করতে হবে সব জেনে আসুন।’ বলাবাহুল্য, আমি অর্থনীতির ছাত্র ছিলাম না এবং তখনো অমিয়বাবুর নাম শুনিনি। রাজ্জাক স্যারের কাছে গেলাম। তিনি যেভাবে অধ্যাপক অমিয়কুমার দাশগুপ্তের বর্ণনা দিলেন তাতে অবাক হয়ে গেলাম। এতদিন আমি ‘স্যার’কেই গুরুদের গুরু বলে জানতাম। কিন্তু সেদিন জানতে পারলাম ‘স্যারে’রও একজন স্যার আছেন। এর কয়েকদিন পর অমিয়বাবু সপরিবারে এলেন এবং মঞ্জুরি কমিশনের অতিথি ভবনে না থেকে রাজ্জাক স্যারের বাসাতেই উঠলেন। আমাকে মাঝে মধ্যে একাজে-সেকাজে ফুলার রোডের সেই বাড়িতে যেতে হতো। সেখানে এই একদা-গুরুশিষ্য এবং পরবর্তীকালে একদা-সহকর্মীর মধ্যে যে-অপূর্ব সম্পর্ক দেখেছি, তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। একদিন দুপুরে স্যার তাঁদের বাড়িতে আমাকে তাঁদের সঙ্গে খেতে ডেকেছিলেন। আরো অনেকে ছিলেন। ওঁরা যেসব কথাবার্তা বলছিলেন মুগ্ধ হয়ে শোনা ছাড়া আমার কিছু করার ছিল না। মনে আছে ‘স্যার’ নিজে ঢাকার বাজার থেকে এতবড় কৈ মাছ এনেছিলেন, যা এর আগে আমি কোনোদিন খাওয়া তো দূরের কথা, দেখিইনি। ওঁরা চলে যাওয়ার পর স্যারের কাছে অমিয়বাবুর সম্বন্ধে আরো অনেক গল্প শুনেছি। দিনে দিনে অমিয়বাবু সম্পর্কে আমার কৌতূহল বেড়েছে। অবশেষে অশোক মিত্রের আপিলা চাপিলা পড়ে এই মহান শিক্ষক সম্পর্কে আরো অনেক কিছু জানার সৌভাগ্য হয়েছে। জানতে পেরেছি যে, অর্থনীতির এই বিশিষ্ট শিক্ষককে কীভাবে কলকাতার বিদ্যোৎসাহী মহলে, বিশেষ করে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে, প্রায় অবহেলাই করা হয়েছে। অবাক হয়ে যাই যখন দেখি যে, কলকাতা থেকে প্রকাশিত সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান বইটিতে অমিয়বাবু সম্পর্কে (সংসদ বাঙালি অভিধান, দ্বিতীয় খণ্ড, জানুয়ারি ১৯৯৬) যে-ভুক্তিটি আছে তাতে তিনি পৃথিবীর কোন কোন জায়গায় পড়িয়েছেন, গবেষণা করেছেন এবং কাজ করেছেন সব সন-তারিখসহ দেওয়া আছে। শুধু নেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম এবং তিনি যে ১৯২৬ থেকে ৪৬ সাল পর্যন্ত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এ-বিষয়ে বিন্দুমাত্র উল্লেখ। সনৎবাবুর লেখাটিতে ওই বইয়ের বিভিন্ন লেখকের স্মৃতিচারণ থেকে এই একনিষ্ঠ শিক্ষক এবং অত্যন্ত বড়মাপের অর্থনীতিবিদের ব্যক্তিগত জীবন এবং অর্থনীতিচর্চার অনেক কিছুই জানতে পারলাম।  সবগুলো লেখাই তথ্য-সমৃদ্ধ। তবে   অম্লান দত্ত, এস আর সেন, অনির্বাণ চট্টোপাধ্যায় এবং জামাতা আই জি প্যাটেল Ñ এঁদের লেখায় একজন অর্থনীতিবিদের    তত্ত্বচিন্তাগুলোও কীভাবে ধীরে ধীরে তাঁর পড়াশোনা, গবেষণা এবং শিক্ষকতার মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠে তা বেশ ভালোভাবেই বোঝাগিয়েছে। যদিও পুত্র পার্থ দাশগুপ্ত পিতা সম্পর্কে লিখেছেন, ‘ঞযব ঃবধপযবৎ রহ যরস ড়িহ ড়াবৎ ঃযব ংপরবহঃরংঃ. টহষরশব ধহু ড়ঃযবৎ ংপরবহঃরংঃ ও যধাব শহড়হি, বাবহ ঢ়ৎড়ভবংংরড়হধষষু যব ৎিড়ঃব ঃড় বীঢ়ষধরহ, হড়ঃ ঃড় পৎবধঃব.’ তবু অম্লান দত্ত, এস আর সেন এবং অনির্বাণ চট্টোপাধ্যায়ের লেখাগুলো পড়ে মনে হয়েছে ছাত্রদের মধ্যে অর্থনীতির নানান তত্ত্ব ব্যাখ্যা করার মধ্য দিয়ে অমিয়কুমার দাশগুপ্ত বোধহয় কিছু তত্ত্বকে নবরূপে সৃষ্টিও করে গেছেন। যদিও নিজে অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে ‘কবুহবংরধহ ঊপড়হড়সরপং ধহফ টহফবৎফবাবষড়ঢ়বফ ঈড়ঁহঃৎরবং’ (বক্তৃতা, লক্ষেèৗ বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৪৯ এবং পরে ইকনমিক উইকলিতে ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত) লেখাটির জন্য কোনো বিশেষ কৃতিত্ব দাবি করেননি, তবু ওই লেখাটি যে শুধুমাত্র রিকার্ডোর তত্ত্বের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ তা বিশ্বাস করা কঠিন। মনে হয়, নোবেল কমিটিও তা মানেনি। তা নাহলে আর্থার লুইসকে ১৯৭৯ সালে প্রায় একই তত্ত্বের জন্য, বোধহয়,…

  • কম্পোজিশন

    কম্পোজিশন

    দেবদাস চক্রবর্তী বাংলাদেশের চিত্রকলা-আন্দোলনের প্রথম প্রজন্মের শিল্পী। ১৯৪৮-৪৯ সালে তিনি কলকাতা আর্ট কলেজে চিত্রচর্চায় প্রাথমিক শিক্ষা   গ্রহণ করেন। বামপন্থি ছাত্র-আন্দোলনে সংশ্লিষ্টতার কারণে তিনি কলকাতা আর্ট কলেজ থেকে বহিষ্কৃত হন। ১৯৪৮ সালে তিনি ঢাকায় চলে আসেন ও আচার্য জয়নুল আবেদিনের আনুকূল্যে ঢাকা চারু ও কারুকলা ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন। ১৯৫৬ সালে তিনি এই কলেজ থেকে øাতক হন। ১৯৭৮-৭৯ সালে তিনি পোল্যান্ডের ওয়ারশ থেকে গ্রাফিক্সে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন। শিল্পী দেবদাস চক্রবর্তীর সৃষ্টির বর্ণময় উদ্যানে মানুষ ও প্রকৃতির ছন্দোময় রূপ নবীন আলোকে উন্মোচিত হয়েছে। তিনি আধা বিমূর্ত ও বাস্তবধর্মী এ-দুধরনের কাজেই যথেষ্ট পারদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন। বিশেষত বিষয়ের অন্তর্নিহিত সৌন্দর্যকে তিনি নানা আকার দিয়ে মনোমুগ্ধকর এক অভিব্যক্তিতে প্রস্ফুটিত করেন।তিনি সমাজসচেতন ও প্রকৃতিবাদী বলে তাঁর সৃষ্টির উল্লেখযোগ্য অংশ জুড়ে আছে যন্ত্রণাহত মানুষের আবেগ-অনুভূতি; এদেশের নিসর্গ, জল, মেঘ ও বৃষ্টি। তাঁর শিল্পসত্তায় প্রকৃতি ও মানুষের এই উপস্থিতি তাঁকে বিশিষ্ট করে রেখেছে। মুক্তিযুদ্ধকে বিষয় করেও তিনি বেশ কয়েকটি চিত্র রচনা করেছেন। এইসব সৃষ্টিতে ধরা পড়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের অসম সাহস, আর্তি ও বেদনা। তাঁর জন্ম ফরিদপুরে ২৫ ডিসে¤¦র ১৯৩৩ সালে।

  • একটি অভিধানের জন্ম

    The Professor and the Madman : a tale of murder, insanity, and the making of the Oxford English Dictionary Simon Winchester HarperPerennial      Nwe York, 1999 Price: US $ 13.00 ১৯১৫ সালের জুলাই মাসে একদিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডি সি শহরের সানডে স্টার পত্রিকায় আট কলাম হেডলাইনের একটি খবর সবাইকে, বিশেষ করে আমেরিকার বিদ্বৎসমাজকে, চমকে দিয়েছিল। খবরটি…

  • নজরুল-মূল্যায়নে ভিন্নমাত্রা

    নজরুল বিষয়ক দশটি প্রবন্ধ সুব্রত কুমার দাস নতুন ধারা ঢাকা, ২০০৪ দাম : ৮০ টাকা বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের (১৮৯৯-১৯৭৬) জীবনাবসানের প্রায় তিনদশক অতিক্রান্ত হয়েছে। এই সময়-পরিসরে এবং জীবদ্দশায় তাঁর সৃষ্টিসম্ভার-মূল্যায়নে উৎসাহী ও মনোযোগী গবেষকদের ভূমিকা কিংবা অবদান নেহায়েত কম নয়। ‘বিদ্রোহী কবি’ হিসেবে বিশেষভাবে খ্যাত এই বিরল প্রতিভার সাহিত্যকর্ম-মূল্যায়নের বিচিত্র চিন্তনক্ষেত্র ইতোমধ্যেই…

  • বিরামপুরে অবিরাম এগিয়ে চলা

    বিরামপুরের যাত্রী আল মাহমুদ ঐতিহ্য, ঢাকা, ২০০৪ দাম : ৫০ টাকাপরিশুদ্ধ বাসনাহীন জীবন আমার তবে কেন আমার গতিরোধ করিতেছ? ভিক্ষুণী শুভা (থেরীগাথা) দিনেমার সাহেব কিয়ের্কেগার্দ (Kierkegaard) জানিয়েছেন, ‘A poet is an unhappy being whose heart is torn by secret suffering, but whose lips are so strangely formed that when the sighs and the cries escape…

  • বাংলা হাইকু

    কিওতো হাইকু হাসনাত আবদুল হাই নাসরীন হাই ঢাকা, ১৯৯৭ দাম : ১৫০ টাকা হাসনাত আবদুল হাইয়ের কিওতো হাইকু বইটি পেয়ে আমি একটু অবাকই হয়েছি। তিনি আমাদের একজন প্রধান লেখক। তাঁর গল্প, উপন্যাস, জার্নাল, ভ্রমণকাহিনী – এমনকি প্রবন্ধও অনেকদিন থেকে দেখে আসছি। তাঁর জার্নাল এবং ভ্রমণকাহিনী আমার বেশি ভালো লাগে। বাংলায় যাঁরা ভ্রমণকাহিনী লিখেছেন তাঁদের মধ্যে…

  • অধ্যাপক অমিয়কুমার দাশগুপ্ত

    অধ্যাপক অমিয়কুমার দাশগুপ্ত : শতবার্ষিকী শ্রদ্ধার্ঘ্য অশোক মিত্র কলকাতা, ২০০৩ বইটি ভাগ্যক্রমে হাতে পাই। নাম অধ্যাপক অমিয়কুমার দাশগুপ্ত : শতবার্ষিকী শ্রদ্ধার্ঘ্য। কালি ও কলম-সম্পাদক আবুল হাসনাত অনুগ্রহ করে পড়তে দেন। তা নইলে এ-বইয়ের হদিস আমার পাবার কথা নয়। আগ্রহ বা প্রত্যাশা কোনোটিই ছিল না। কারণ এমন উদ্যোগের বিষয় কিছুই জানতাম না। অবশ্য জানার সুযোগও কিছু মেলেনি।…

  • প্রাচ্যনাটের গণ্ডার বাংলাদেশে অ্যাবসার্ড নাট্যচর্চায় আশার আলো

    প্রাচ্যনাটের গণ্ডার বাংলাদেশে অ্যাবসার্ড নাট্যচর্চায় আশার আলো

    বুদ্ধিজীবীর অনুমান-বাক্য – ‘সব বেড়ালই মরে। সক্রেটিস মরে গেছে। সুতরাং সক্রেটিস একটা বেড়াল।’ বুদ্ধিজীবীদের যুক্তিশাস্ত্র অনেককিছুই প্রমাণ করে দিতে পারে, কিন্তু হৃদয়বৃত্তিতে কতটুকু আবেদন রাখতে পারে? মানুষের মাঝ থেকে মানবিক ব্যাপারগুলো যখন লোপ পেতে থাকে, তখন তাকে যুক্তি দিয়ে প্রতিরোধ করা যায় না, হৃদয়বৃত্তি দিয়েই করতে হয়। হৃদয় যার মরে যায় তার বেঁচে থাকাটা পশুর…