2004
-

প্রাচ্যনাটের গণ্ডার বাংলাদেশে অ্যাবসার্ড নাট্যচর্চায় আশার আলো
বুদ্ধিজীবীর অনুমান-বাক্য – ‘সব বেড়ালই মরে। সক্রেটিস মরে গেছে। সুতরাং সক্রেটিস একটা বেড়াল।’ বুদ্ধিজীবীদের যুক্তিশাস্ত্র অনেককিছুই প্রমাণ করে দিতে পারে, কিন্তু হৃদয়বৃত্তিতে কতটুকু আবেদন রাখতে পারে? মানুষের মাঝ থেকে মানবিক ব্যাপারগুলো যখন লোপ পেতে থাকে, তখন তাকে যুক্তি দিয়ে প্রতিরোধ করা যায় না, হৃদয়বৃত্তি দিয়েই করতে হয়। হৃদয় যার মরে যায় তার বেঁচে থাকাটা পশুর…
-

টোকিও থেকে জাপানি ঐতিহ্যের নোহ নাটক
১৩৩৩ সাল থেকে শুরু করে আড়াইশ বছরের কিছু কম সময় ধরে বিস্তৃতকাল জাপানের ইতিহাসে ‘মুরোমাচি-জিদাই’ বা ‘মুরোমাচি যুগ’ নামে পরিচিত। আশিগাকা শোগুন-পরিবার সেই সময় রাজধানী কিয়োতো থেকে দেশের বিস্তৃত অঞ্চলজুড়ে সর্বময় কর্তৃত্ব বজায় রেখেছিল। আশিগাকা-পরিবার শুরুতে কিয়োতোর যে-জায়গায় তাদের মূল দপ্তর প্রতিষ্ঠা করে, সেই মুরোমাচি পরগনা থেকে যুগের নামের উৎপত্তি। জাপানের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে…
-

পর
আট মুক্তিযুদ্ধ যখন তুঙ্গে, অক্টোবরের ৬ তারিখ, সকালবেলা এক কাণ্ড ঘটল। সেই কানাগলির ভেতরকার আমাদের বন্ধ গেটে হঠাৎ ধামাধাম করে লাথি মারতে লাগল কেউ। আব্বা কিংবা আজাদ কেউ বাড়িতে নেই। আমি জানালার সামনে গিয়ে উঁকি দিলাম। বাইরে তিনজন মিলিশিয়া নিয়ে দাঁড়িয়ে সেই কাবলিঅলাটা। আমাকে দেখেই উর্দু-বাংলা মিশিয়ে প্রথমে দরজা খুলতে বলল, তারপর জিজ্ঞেস করল আব্বার…
-

মানুষ, মানুষ !
॥ ৮ ॥ দিল্লি থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের এক মুখপাত্র টেলিফোন করলেন সকালবেলা। অতি আকর্ষণীয় প্রস্তাব। বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন হবে পরের সপ্তাহেই। সেজন্য বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যবেক্ষকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সার্ক-অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর একটা কোটা আছে। ভারত থেকে পাঠানো হবে দশজনকে। আমি সেই দশের অন্যতম হতে রাজি আছি কিনা। অরাজি হবার তো কোনো প্রশ্নই ওঠে না। বাংলাদেশে…
-

চামড়া
অনুবাদ : সালেহা চৌধুরী ১৯৪৬ সালে দীর্ঘদিন শীত ছিল। এপ্রিল মাসে বড় রাস্তায় হিম ঝড়ো বাতাস বয়ে গেল। বাতাস বইলো প্রবল ও কঠিন গতিতে। বরফের মেঘ মাথার উপর। ইতস্তত বিক্ষিপ্ত। ড্রিওলি নামের একজন মানুষ আস্তে আস্তে রুডি বিভলির রাস্তা ধরে এগিয়ে আসছে। করুণ শীতার্ত অস্তিত্ব¡। শজারুর মতো লাগছে তার লম্বা কোট। কলার তোলা কোটের ফাঁকে…
-
গুরু, আমার উপায় করো না পিপাসার্ত এক যোগ্যতাহীনের কথা
সঙ্গীতের বিষয়ে আমার প্রায় কারো সঙ্গেই মেলে না। আমি গীত-রচক নই, মেলে না ওদের সঙ্গে। নই সুরকার, তাদের মতো হতে পারি না, যতই না চাই তাদের কীর্তির পেছনের মানুষটিকে ধরতে। এবং নই রবীন্দ্রনাথ-আদি পঞ্চকবি, যাঁরা বাংলা গানের একটি ধ্রুপদী যুগ, ধ্রুপদী একটি শৈলীই নির্মাণ করেছেন নিজেদের লেখা গানে নিজেরা সুর করে, তাঁদেরও কোনো অক্ষম পদাঙ্ক-অনুসারী।…
-
আমরা কি একা?
এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে মানুষ ছাড়াও অন্য কোনো বুদ্ধিমান প্রাণী আছে কিনা – এই বিষয়টি থেকে অনেক অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে নিউট্রিনোর ভর আছে কিনা এবং যদি থেকে থকে সেটি কত। কিন্তু আমি বাজি ধরে বলতে পারি, নিউট্রিনোর ভর-বিষয়ক আলোচনা হলে সাধারণ মানুষ হাই তুলে অন্য একটি বিষয়ে চলে যাবেন, কিন্তু এই সৃষ্টিজগতে মানুষ ছাড়া অন্য…
-

নদীর পাড়-ভাঙা অবয়বের মধ্যেই প্রথম ভাস্কর্য গড়ার অনুপ্রেরণা খুঁজে পাই – আবদুর রাজ্জাক
সাক্ষাৎকার গ্রহণ : রশীদ আমিন শিল্পী আবদুর রাজ্জাক একজন বহুমাত্রিক শিল্পী। তিনি একাধারে যেমন ভাস্কর্য গড়েছেন, তেমনি ছবি এঁকেছেন প্রচুর – কী জলরঙে, কী তেলরঙে অথবা ড্রইংয়ের বলিষ্ঠ রেখার টানে উদ্ভাসিত করেছেন নানা অবয়ব। এই বহুমাত্রিকতাই যেন তাঁর প্রধান বৈশিষ্ট্য। চারুকলা ইনস্টিটিউটের দ্বিতীয় ব্যাচের ছাত্র, যুক্ত ছিলেন প্রতিষ্ঠালগ্নের শিল্প-আন্দোলনে, অতঃপর শিক্ষক হিসেবে কাটিয়ে দিয়েছেন কয়েক…
-
সাঈদা কামালের কাছে-দূরে
শিল্পী সাঈদা কামালের জলরং-প্রদর্শনী শুরু হয় ধানমন্ডি চিত্রক আর্ট গ্যালারিতে ২০ আগস্ট ২০০৪। উদ্বোধন করেন প্রখ্যাত শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী। সাঈদার প্রথম একক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের বস্টন শহরে ১৯৯৩ সালে। ১৯৯৪ সালে ঢাকায় দৃক পিকচার লাইব্রেরিতে এবং ১৯৯৯ সালে জার্মানির হামবুর্গ শহরে। আলোচিত তাঁর চতুর্থ একক প্রদর্শনীতে মোট ৭৬টি জলরঙের ছবি স্থান পেয়েছে। শিল্পী এই…
-

লাইক ফতেহ্আলীর সঙ্গে কল্পসংলাপ
ভারতের উদ্যানশিল্পী লাইক ফতেহ্আলীর সঙ্গে সাক্ষাতের বাসনা অনেকদিনের, তিনি সেদেশের অনেকগুলি পার্ক ও উদ্যানের নির্মাতা, সালিম আলীর সঙ্গে পাখিবিষয়ক একটি বই এবং এককভাবে Gardens I Gardening নামের দুটি বই লিখেছেন। তাঁর কোনো বাগান দেখার সুযোগ আমার ঘটেনি, সাক্ষাৎ তো নয়ই, যদিও এমন আকাক্সক্ষা অনেকদিনের। তাই ঢাকার আজিজ মার্কেটে তাঁর গার্ডেন্স্ বইটির বঙ্গানুবাদ (অনুঃ দেবীপ্রসাদ চক্রবর্তী,…
-
হচ্ছে-হবে
বিষে বিষক্ষয়গল্পটা ফরাসি দেশীয়। বছর চল্লিশ আগের খুশবন্ত সিংহ-সম্পাদিত বিশালাকার ইলাস্ট্রেটেড উইকলি অফ ইন্ডিয়াতে পড়েছিলাম (পাঠক-পাঠিকা জেনে আশ্বস্ত হবেন যে আমার বিদ্যের দৌড় ওই পর্যন্তই)। সে যা হোক, আমার যা নীতি, ‘যদ্দৃষ্টং তল্লিখিতং’ অর্থাৎ যা দেখি তাই লিখি, সেই নীতি-অনুসারে গল্পটা বাংলায় লিখে ফেললাম তখনকার বাগবাজারের যুগান্তর-গোষ্ঠির অমৃত সাপ্তাহিকে আমার ‘কথায়-কথায়’ কলমে। গল্পটা স্বামী-স্ত্রীর বাঁকাচোরা…
-
বাখতিনের সাহিত্যতত্ত্বডায়ালজিজম ও কার্নিভালাইজেশন
এ-কালের সাহিত্য-সমালোচনা ও জ্ঞানচর্চায় মিখাইল বাখতিন এক অনিবার্য প্রভাবক ব্যক্তিত্ব। ভাষার বহুমাত্রিক আর্থ-বিস্তার সম্পর্কে তাঁর তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা – ডায়ালজিজম, কার্নিভাল, স্পিচ জেন্র প্রভৃতি ধারণা ও পরিভাষা বিভিন্ন দেশে, বিশেষত পশ্চিমে, অত্যন্ত আলোচিত। সাহিত্য-সমালোচনায় বাখতিন-ঘরানা এখন প্রতিষ্ঠিত, বহু বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্যবিষয়। ভাষা, উপন্যাস ও বয়ান (ঘধৎৎধঃরাব) বিশ্লেষণে বাখতিনের উপস্থাপিত তত্ত্বকে গত তিন দশক ধরে ইউরোপ ও আমেরিকার…
