লাইক ফতেহ্আলীর সঙ্গে কল্পসংলাপ

ভারতের উদ্যানশিল্পী লাইক ফতেহ্আলীর সঙ্গে সাক্ষাতের বাসনা অনেকদিনের, তিনি সেদেশের অনেকগুলি পার্ক ও উদ্যানের নির্মাতা, সালিম আলীর সঙ্গে পাখিবিষয়ক একটি বই এবং এককভাবে Gardens I Gardening নামের দুটি বই লিখেছেন। তাঁর কোনো বাগান দেখার সুযোগ আমার ঘটেনি, সাক্ষাৎ তো নয়ই, যদিও এমন আকাক্সক্ষা অনেকদিনের। তাই ঢাকার আজিজ মার্কেটে তাঁর গার্ডেন্স্ বইটির বঙ্গানুবাদ (অনুঃ দেবীপ্রসাদ চক্রবর্তী, ন্যাশনাল বুক ট্রাস্ট, ইন্ডিয়া, ২০০১) বাগান দেখামাত্র লুফে নিলাম, পাছে হাতছাড়া হয়ে যায়। বাড়ি ফেরার তর সইল না, রমনা পার্কে বসেই পড়তে শুরু করি এবং মনে হতে থাকে যেন কতদিনের চেনা কোনো সতীর্থের সঙ্গে কথা বলছি, যার সঙ্গে আমার ভাবনার কতই মৌলিক মিল, আর ব্যর্থতা ও দুঃখভোগের কত অভিন্ন অভিজ্ঞতা। এভাবেই জন্ম নিল এই কল্পসংলাপ, যা নিশ্চিত জানি লাইক ফতেহ্আলী কোনোদিন পড়বেন না। তা না পড়ুন, আমার আনন্দের ভাগটুকু তো ফেলনা নয়।

মাননীয়া আলী, তাহলে বাগানের বেড়া নিয়েই আলাপটি শুরু করা যাক, কেননা বইয়ের শুরুতেই আপনি বাগানের শক্ত বেড়ার ওপর যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছেন। আপনি ইউরোপ ঘুরেছেন এবং সেখানকার বেড়াহীন বাগানগুলির কথা ভালোই জানেন, যেগুলি আশপাশের প্রকৃতির সঙ্গে মিলেমিশে একটি পূর্ণাঙ্গ ঐকতান গড়ে তোলে। এটি ভারত বা বাংলাদেশে কেন সম্ভব নয়, আমরা সকলেই তা জানি। আপনি ওগুলি গাছগাছালি দিয়ে ঢেকে দেওয়ার কথা বলেছেন, যাতে বেড়ার রুক্ষতা চক্ষুপীড়ার হেতু না হয়ে ওঠে। কয়েক বছর আগে আমি আমাদের শহরের প্রধান পার্কের কর্মকর্তাদের কথাটি বলি, কিন্তু তারা আমার সুপারিশ এই বলে নাকচ করে দেন যে, পার্ককে অনুক্ষণ পথচারীদের নজরদারিতে না রাখলে এখানে নানা অসামাজিক কুকর্মের অবাঞ্ছিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। কথাটি মিথ্যা নয়, কিন্তু আমি বা আপনি কেউ কি তা ভাবতে পেরেছি? শিল্পের বিচারে এই যুক্তি অচল হলেও বাস্তবতার নিরিখে তো অপ্রয়োজনীয় নয়। তাই পার্কটিতে উদ্যানশিল্পের একটি প্রধান অনুষঙ্গ – নির্জনতা আর যোগ করা গেল না।

আজকাল আমাদের গ্রামাঞ্চলেও বিত্তবানরা পর্দা ও নিরাপত্তার জন্য বাড়ির চারদিকে ইটের দেয়াল তুলছেন। কিন্তু তাতে গ্রামের নিসর্গশোভা লোপ পেতে বসেছে, গ্রাম হয়ে উঠছে শহরের ছোটখাটো মহল্লার মতো। এসব দেয়াল হেজ দিয়ে ঢাকার রেওয়াজ আমাদের নেই। কাঁটাতারের বেড়ার সঙ্গে হেজ লাগানো অনেক সস্তা আর সুন্দর হলেও এটি তেমন টেকসই নয় বলে চালু করা কঠিন। আমাদের দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে একটি বিশ্ববিদ্যালয়-চত্বর-সৌন্দর্যায়নে সাহায্যের জন্য আমন্ত্রিত হয়েছিলাম। বিশাল এলাকা, এক চক্কর ঘুরতে অর্ধেক দিন লাগে। কোথাও কোনো বেড়া নেই। লোকজন, গরু-বাছুরের অবাধ চলাচল। দেয়াল তোলার মতো অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলে নেই। আপনার বইটি পড়া থাকলে একটি বিকল্প-ব্যবস্থার কথা বলতে পারতাম। আপনি বলেছেন : ‘আঠারো শতকের শ্রেষ্ঠ উদ্যানপালকরা লক্ষ করেছিলেন যে, বাগানের প্রসারতা বাড়ানোর সবচেয়ে প্রকৃষ্ট উপায় হচ্ছে বাগানে কোনো প্রাচীর না রাখা। তাদের তৈরি বাগানগুলি পল্লী-অঞ্চলের ভেতর প্রবেশ করে যেত। সীমানা নির্দেশ করার জন্য সুকৌশলে বাগানের চারদিকে একটি প্রচ্ছন্ন পরিখা তৈরি করা হতো… নিরাপত্তার জন্য ব্যবস্থাটি খুবই ভালো, যার জন্য প্রতিরোধ-ব্যবস্থা নি®প্রয়োজন।’ আমিও পরিখার কথা বলতে পারতাম, বিশেষত যাতায়াতের পথগুলি আটকানোর জন্য। অন্যত্র কাঁটাওয়ালা গাছগাছালি লাগানো যেত।

ব্যক্তিগত বাগান বা কোনো প্রতিষ্ঠানের সীমিত অঙ্গনে গাছপালা লাগানোর ব্যাপারে এমন ঝামেলা থাকে না। ঢাকার বাংলা একাডেমীর উত্তর দেয়াল ঘেঁষে আমরা একসার দেবদারু লাগাই, যাতে ওগুলি বড় হলে পাশের পার্কের গাছগাছালির সঙ্গে মিশে যায়, দেয়ালের কাঠিন্য ও সঙ্গের সড়কটির ফারাকটুকু ঢাকা পড়ে বাগানের বিস্তার ঘটে। এখন হয়েছেও তা-ই। পার্কের সঙ্গে একাডেমী চত্বর মিশে গেছে, বেশ বড় একখণ্ড সবুজের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। আমরা এই মিলনকে একটি প্রতীক হিসেবেও ভাবতে পারি – এ-যেন বাংলা সংস্কৃতিকে বিশ্বসংস্কৃতিতে মিলিয়ে দেওয়ার রূপকল্প।

আপনি বড় বাগানের কিনারে রেইনট্রি বা পেল্টোফোরাম লাগাতে বলেছেন। ষাটের দশকে আমরা ঢাকার নটরডেম কলেজ ও সেন্ট্রাল উইমেন্স্ কলেজের দেয়াল ঘেঁষে যথাক্রমে রেইনট্রি ও পেল্টোফোরাম লাগাই। এখন গাছগুলি বড় হয়েছে, কলেজ-চত্বরের খানিকটা ও পাশের সড়কের উপর নিবিড় ছায়া বিছিয়েছে, পাতার সবুজ ও প্রস্ফুটনের শোভা নগরনিসর্গেও বিস্তৃত হয়েছে, উত্তপ্ত গ্রীষ্মে পথচারীরা তাতে শরীর জুড়ান, রিকশাচালক ও ঠেলাওয়ালারা বিশ্রাম করেন, কেউ কেউ ঘুমানও। ব্যক্তিগত ও সামাজিক কল্যাণের এই স্বস্তিকর মেলবন্ধন একটি আদর্শও বটে।

বাগানকে যথার্থ আয়তনের চেয়ে যাতে আরো বড় দেখায় সেজন্য নানা সুপারিশ করেছেন : পাশে গাছ লাগিয়ে মাঝখানটা খালি রাখা, বিশৃঙ্খল সারি এড়িয়ে পরিচ্ছন্ন সারি ও বাঁক রাখা, বড় গাছের নিচের ডালগুলি কেটে দৃষ্টি সীমানা পর্যন্ত প্রসারিত করা, পাশের জমিতে গাছগাছালি থাকলে সেগুলির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া ইত্যাদি। প্রসঙ্গত ফ্রান্সের ভার্সাই উদ্যান ও সেই উদ্যানের স্থপতি আন্দ্রে লে নতরের কথাও বলেছেন। আমি ভার্সাই গেছি এবং গোটা একটি দিন সেখানে কাটিয়েছি। আয়তন এতই বিশাল যে, সাইকেল বা গাড়ি না থাকলে পুরো বাগানটি দেখা প্রায় অসম্ভব। বাগানকে আরো বড় দেখানোর জন্য নতর সেটিকে পাশের গ্রামাঞ্চলের সঙ্গে মিলিয়ে দিয়েছেন, কোথাও মনে হয় যেন-বা দিগন্তের সঙ্গেও মিশে গেছে। ভার্সাই তৎকালীন রীতিমাফিক ফরমাল অর্থাৎ রীতিবদ্ধ, গাছের সারি, লন, খাল – সবই সরলরেখার জ্যামিতিতে বন্দি। কিন্তু লক্ষণীয়, বিশাল আয়তনের জন্য এই ফরমাল উদ্যানটিকে হঠাৎ করে ইনফরমালও মনে হয়। এ-এক অনন্য উপলব্ধি।

অন্তত আমার তেমনটিই মনে হয়েছে। রিডার্স ডাইজেস্ট পত্রিকায় পড়েছিলাম সম্রাট চতুর্দশ লুই লে নতরকে বাগানে বসবাসের দুর্লভ সুযোগ দেন, যাতে ইচ্ছেমতো তাঁর সঙ্গে সেখানে ঘুরে বেড়াতে, গল্প করতে পারেন। নতর চলৎশক্তিহীন হয়ে পড়লে

তাঁকে গাড়িতে বসিয়ে সম্রাট স্বয়ং সেই গাড়ি ঠেলতেন – এক অকল্পনীয় দৃশ্য। আরেকটি তথ্যও উল্লেখ্য – নতর নিজের বাড়িতে কোনো বাগান করেননি, লাগান শুধুই কয়েকটি কমলাগাছ।

আপনি ও আমি দুজনই লন্ডনের সেন্ট জেম্স্ পার্ক দেখেছি। ইংল্যান্ডের রাজা দ্বিতীয় চার্লসের আমন্ত্রণে লে নতর এদেশে আসেন এবং পার্কটি তৈরি করেন। যথারীতি সতেরো শতকী এই উদ্যান ছিল ফরমাল। আঠারো শতকে ইংল্যান্ডের উদ্যাননির্মাণশিল্পে রোমান্টিক রীতির উদ্ভব ঘটলে ইংরেজ উদ্যানবিদ হ্যাম্প্রে রেপটন পার্কটি নবরীতিতে ঢেলে সাজান, সোজা পথ ও গাছের সারি এঁকেবেঁকে দীর্ঘায়িত হয়, পুকুরগুলিকে জোড়া দিয়ে বানানো হয় সর্পিল লেক, দর্শকের দৃষ্টি মুক্তি পায় রীতিবদ্ধতার আড়ষ্টতা থেকে ছন্দহীন ছন্দের এক নতুন নিসর্গে। অনেক সময় ভাবি, এই পুনর্গঠনে রেপটন কি পুরানো গাছপালা কেটে ফেলে নতুন গাছ লাগান? সঠিক তথ্য জানা নেই। কিন্তু প্যারিসের বিখ্যাত সাজেঁ লিজেঁ সরণি ও ভার্সাই উদ্যানে বড় বড় গাছ লাগানো হয়েছিল বন থেকে বয়স্ক গাছ তুলে এনে। চতুর্দশ লুই চারাগাছের বড় হওয়া দেখার জন্য অপেক্ষা করতে নারাজ ছিলেন।

মাননীয়া আলী, আপনার দেশে কি কোনো পার্ক এভাবে পুনর্গঠিত হয়েছে? লক্ষেèৗর সিকান্দারবাগ বাটিপু সুলতানের শাহারানপুর বাগান? একাত্তর সালে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় কলকাতার হর্টিকালচারাল সোসাইটির বাগানটি দেখে মুগ্ধ হই। এমন সুন্দর ল্যান্ডস্কেপ গার্ডেন আপনাদের দেশেও বেশি নেই। কিন্তু পরবর্তীকালের কিছু পরিবর্তন, বিশেষত

লিলিপুলগুলি দেখে হতাশ হয়েছি, মনে হয়েছে বাগানের ছন্দটি সংস্কারকরা সঠিক উপলব্ধি করতে পারেননি। আমাদের রাজধানীর সবচেয়ে নামী পার্কটির প্রতিষ্ঠা কলকাতার ইডেন উদ্যানের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক ফজলুল করিমের হাতে পঞ্চাশের দশকে। কাঠামোটি ইনফরমাল, রাস্তাগুলো আঁকাবাঁকা, লনগুলিও জ্যামিতিক ছাঁদের নয়। পথপাশের গাছপালার নির্বাচনও দৃষ্টিনন্দন – কৃষ্ণচূড়া, বকুল, নাগেশ্বর, মিলেশিয়া ইত্যাদি। একসারি কুসুমবৃক্ষও আছে, সম্ভবত রমনার পরিকল্পক প্রাউডলকের লাগানো। ফজলুল করিমের পরবর্তীদের পার্কনির্মাণের অভিজ্ঞতা না থাকায় সেখানে অশিল্প ও নৈরাজ্যের অনুপ্রবেশ ঘটেছে এবং তা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের এই পার্কটি গণপূর্ত বিভাগের অধীন আর কর্মকর্তারা বাস্তুস্থাপত্য যতটা জানেন, ল্যান্ডস্কেপিং ততটা জানেন না। বৃক্ষরোপণ মরসুমে সেখানে মেহগিনির সঙ্গে নানা ঔষধি গাছও অধিক সংখ্যায় লাগানো হচ্ছে, যা কোনো পার্কের জন্যই কাম্য নয়।

আপনারই উক্তি : ‘জড়বস্তু নিয়ে কাজ করার একটি সুবিধা এই যে সেটি বাড়ে না। কিন্তু জীবন্ত গাছপালা যা সবসময়েই বেড়ে চলেছে, সেগুলি খানিকটা সমস্যা নিয়ে আসে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এগুলির রূপের পরিবর্তন হয়, বাগানের সামগ্রিক শোভারও যথেষ্ট হেরফের ঘটে… গাছের বৃদ্ধি বাগানের পক্ষে একটি বড় সমস্যা।’ দালানকোঠা মেরামতের জন্য, সেগুলির সৌন্দর্য অটুট রাখা বা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় লোকবলের অভাব হয় না, কিন্তু বাগানকে আয়ত্তে রাখার দক্ষ কারিগর, অন্তত আমাদের দেশে, যথেষ্ট নেই। একটি কলেজ-চত্বরে বাগান করেছিলাম। চার-পাঁচ বছরে বাগানটি নজরকাড়া হয়ে ওঠে। তারপর আমি বিদেশে চলে যাই, ফিরি সাত বছর পর, বাগানটি ততদিনে একটি বন হয়ে উঠেছে। অধ্যক্ষা আমার প্রতি স্নেহবশত মালীদের কোনো গাছের একটি ডালও ছাঁটতে দেননি। কাজটি শেষে আমাকেই করতে হয়। আরো দশ বছর বিদেশে কাটিয়ে কলেজে এসে দেখি অধ্যক্ষা কয়েক বছর আগে বিদায় নিয়েছেন, পুরানো মালীরাও নেই, বাগানটিও প্রায় লোপ পেয়েছে, অনেকগুলি গাছ মরে গেছে, এখানে-ওখানে জঙ্গল কিংবা লাউকুমড়ার মাচা, শবজিখেত। কিছু অংশ অবশ্য টিকে আছে, তবে বড়ই এলোমেলো, শ্রীহীন। আমাদের লাগানো একটি মাধবীলতা (Hiptage benghalensis) এতটাই ছড়িয়েছে যে তাতে অন্যান্য গাছপালা ঢাকা পড়ে গেছে।

আপনি বলেন, ‘আকাশ যে-কোনো প্রাকৃতিক দৃশ্যের অঙ্গ, সেজন্য বাগানেরও। আমার জন্মভূমি সিলেট জেলায় অনেকগুলি চা-বাগান আছে। সেইসব বাগানে হালকা ছায়ার জন্য আছে চাকুয়া করইগাছ (অষনরুরধ পযরহবহংরং)। উঁচু পাহাড়ের গায়ে এসব গাছের আড়ালে সূর্যোদয় বা সূর্যাস্তের আকাশে যে-আশ্চর্য সৌন্দর্য ফোটে তাকে স্বর্গীয় ছাড়া আর কিই-বা বলা যায়! ছেলেবেলায় দেখা এই দৃশ্য আমার মনে চিরদিনের জন্য গেঁথে আছে, তাই আজ কোথাও কোনো বাগান বা পার্ক সম্পর্কে পরামর্শ দিতে গেলে পূর্ব ও পশ্চিম আকাশের কথা ভাবি, ওইসব সীমানায় চাকুয়া করই থেকে আরো সুন্দর গগনশিরীষ লাগাতে বলি। রবীন্দ্রনাথের একটি গানের কলিও মনে পড়ে – ‘প্রফুল্ল কদম্ববন নীলাঞ্জন ছায়া’। এই কবি আমাদের উদ্যানশিল্পেও অনুপ্রেরণা যোগান।

আমাদের দেশের পার্ক ও বাগানগুলি সবই সমতল। বাগানের উচ্চাবচ ঢেউখেলানো হলে তাতে যে-সৌন্দর্য ফোটে সমতল বাংলার মানুষ সেদিকে নজর দেন না। ছোটখাটো বাগানের লন বা তৃণাঙ্গন পৃথিবীর প্রায় সর্বত্রই সমতল। আমি প্লেটের মতো অবতল লনের কথা ভেবেছিলাম। ১৯৮৫ সালে লিভারপুলের আন্তর্জাতিক উদ্যানমেলায় গিয়ে তেমন লন দেখে অবাক হই। এটি যেন একটি অগভীর পুকুর, তলায় গোলাকার সবুজ ঘাসের লন, চারদিকে সুরকির সরু হাঁটাপথ আর পার থেকে নিচ অবধি ঢাল চারভাগে বিভক্ত, প্রত্যেকটি পরস্পর বিপরীতে লাল ও সাদা রঙের ফুলের জিরানিয়ামে ঢাকা, পাড়ে প্রস্ফুটিত রডোডেনড্রন ও অ্যাজালিয়ার ঝোপ। অপূর্ব!

আপনি বলেন, ‘বড় বাগানে লনের হিসাবে ফুট অচল, প্রয়োজন একরের।’ আমাদের শহরের প্রধান পার্কটিও যথেষ্ট বড় – স্থলভাগ ও জলভাগ যথাক্রমে প্রায় ৭০ ও ৯ একর। মূল পরিকল্পক লনগুলি হয়তো একরের হিসাবেই মেপেছিলেন, কিন্তু এখন সেগুলি মিটার বা ফুটের হিসাবে পৌঁছেছে। ভবিষ্যতে আদৌ কোনো লন থাকবে কিনা তেমন দুশ্চিন্তাও করি। কেন এমনটি হচ্ছে? সম্ভবত পার্ক যারা দেখাশোনা করেন তারা এ-ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ নন, হতে পারে আগ্রহীও নন, তাই মালীরা যদৃচ্ছা গাছ লাগায়। পার্কের জন্য অর্থবরাদ্দেও ঘাটতি থাকতে পারে।

বাঙালি-ঐতিহ্যে, সম্ভবত ষড়ঋতুর দেশ বলেই, বাগানের প্রয়োজন কোনোদিনই প্রবলভাবে অনুভূত হয়নি। তাই আমরা মোগলদের বাগান, ইংরেজদের বাগান কোনোটিই ধরে রাখিনি, বিকশিত করিনি। ইংরেজ-আমলে জমিদাররা কিছু বাগান করেছিলেন, সবই পশ্চিমা ধাঁচের, সেগুলি কোনোদিন তাদের চৌহদ্দি পেরিয়ে মধ্যবিত্তের অঙ্গনে ঠাঁই করতে পারেনি। অথচ শিল্প, সাহিত্য, স্থাপত্য, চিত্রকলার ক্ষেত্রে এমনটি ঘটেনি। জমিদারি উচ্ছেদের পর তাদের বাগানগুলি অযত্ন-অবহেলায় প্রায় সবই লোপ পেয়েছে, আর এখন জনবহুল শহরগুলিতে একক বাড়ির জায়গা দখল করে নিচ্ছে বহুতল ফ্ল্যাট, পরিবেশ-চেতনা বাড়লেও গাছগাছড়া লাগানোর স্থানাভাব প্রকট, তাই ফ্লাটবাড়ির বারান্দা বা ছাদে টবে-লাগানো ফুলের বাগান হচ্ছে। কিন্তু তাতে কি উদ্যানের চাহিদা মিটবে? একটি আশা অবশ্য আছে আর সেটি হলো, আমাদের শোণিতপ্রবাহে, বহুযুগলালিত প্রকৃতির যে-স্পন্দ আছে, তা এই চাপের মুখে আত্মবিকাশের নতুন পথ খুঁজবে, পার্ক ও রাজপথগুলিকে সুরম্য উদ্যানে রূপান্তরিত করে হয়তো একদিন সার্বজনীন সৌন্দর্যক্ষুধা মেটাবে।

মিসেস আলী, বাগানের বর্ণপরিকল্পের একটি সার্থক দৃষ্টান্ত হিসেবে আপনি ইংল্যান্ডের সিসিংহার্স্ট (ঝরংংযরহমযঁৎংঃ) হোয়াইট গার্ডেনের কথা উল্লেখ করেছেন। আমি জায়গাটি দেখিনি, কিন্তু এ-সম্পর্কে পড়েছি। হ্যারল্ড নিকলসন ও তাঁর স্ত্রী ভিতা স্যাকভিলি-ওয়েস্ট ১৯৩০ সালে সেখানকার ছয় একর লনসহ বিধ্বস্ত এলিজাবেতীয় ম্যানসনটি কেনেন। প্রাসাদের গোলাপি ইটের দেয়াল ও স্বচ্ছ জলের পরিখা দেখে ভিতার মনে হয়েছিল যেন এটি স্লিপিং বিউটির বাগান, যা কেঁদে তাকে বাঁচাতে বলছে। এই পড়োবাড়ির আবর্জনা সরাতে তাদের লাগে তিন বছর আর সাত বছর কাটে পরিকল্পনা করতে ও গাছপালা লাগাতে। বাগানটি ব্রিটেনের একটি দর্শনীয় স্থান – ‘আধুনিক ক্লাসিক’ হয়ে ওঠে। ভিতা লিখেছেন : ‘পুরোপুরি ইংলিশ ও ক্যান্টিস হলেও তাতে আছে বিদেশী আঁচ, সম্ভবত নরম্যান জমিদারবাড়ির, আরো দক্ষিণের একটি অস্পষ্ট প্রতিধ্বনি, আর সেজন্যই ডুমুর, আঙুরলতা ও গোলাপকে এতটা সঠিক ও অপরিহার্য মনে হয়েছে। আমি বেপরোয়া হয়ে ওগুলি লাগাই।’ স্বামী-স্ত্রী একটি ঐকতান খুঁজছিলেন – গাছপালা লাগানোর ব্যাপারে সর্বাধিক রীতিবিরুদ্ধতার সঙ্গে নকশার কঠোরতম রীতিনিষ্ঠতা।

এই বাগান কয়েকটি কক্ষে বিভক্ত – কিছু কক্ষে নির্দিষ্ট ঋতুর ফুল, বাকিগুলিতে রঙের বিন্যাস। শেষোক্তদেরই একটি ‘হোয়াইট গার্ডেন’, দালানের লাল-গোলাপি দেয়াল বাদ দিলে গোটাটিই সাদা। এটিই সর্বশ্রেষ্ঠ। জুন মাসের তপ্ত দিনে পুষ্পপাগল Rosa longicupsis গোলাপ-লতার সাদা সুগন্ধি ফুলের উচ্ছ্রয় দর্শকদের ওপর শীতলতার আবেশ ছড়ায়। আরো আছে সুগন্ধি সাদা লিলি (খরষরঁস ৎবমধষব), সাদা রঙের সব ডেলফিনিয়াম, স্কচ-থিসিল ও জিপ্সোফিলা।

আপনি বলেন ভারতীয় বাগানে ইচ্ছেমতো বর্ণবিন্যাস ঘটানো বড়ই কঠিন। শীতের দেশে বসন্ত ও গ্রীষ্মেই সবগুলি ফুল ফোটে, সেজন্য কাজটি অনেক সহজ। আমাদের দেশে একমাত্র শীতের মরসুমি ফুল ছাড়া অন্যান্য ফুল, বিশেষত গুল্মরাজিতে ফুল ফোটে বিভিন্ন ঋতুতে, বিভিন্ন সময়ে, তাই সেগুলির সন্নিবেশে অনেক ভাবনাচিন্তা লাগে। এক্ষেত্রে আপনার মতামত শিক্ষণীয় : ‘কয়েক রঙের ফুলের এলোমেলো সজ্জার চেয়ে অনেকটা জায়গা জুড়ে এক রঙের ফুল অধিকতর দৃষ্টিনন্দন। বিভিন্ন রঙের ফুলের সন্নিবেশের সবচেয়ে সহজ পথ – একটি প্রধান রং এবং সেইসঙ্গে দুটি সহযোগী রং নির্বাচন। গাঢ় রঙের পাশে ছোট ছোট ফুলের সাদা রং বড়ই নজরকাড়া।’ আমি মস্কোয় আমার বাগানে লাল স্যালভিয়ার পর ক্রমান্বয়ে হলুদ ও কমলা রঙের হলুদ সিঙল গাঁদা (Tagetes tenuifolia), নীল লবেলিয়া ও সাদা সুগন্ধি অ্যালিসাম লাগাই। সামনে ছিল দুমিটার চওড়া একটি সবুজ লনের ফালি। ভারি সুন্দর দেখাত বাগানটি।

আমি অনেক বছর রাশিয়ায় ছিলাম। সেখানে বৃক্ষে আমাদের কৃষ্ণচূড়া বা জারুলের মতো রঙিন ফুল ফোটে না। হর্সচেস্টনাট ও লাইম আছে, কিন্তু প্রস্ফুটন চোখজুড়ানো নয়। ইংল্যান্ড গেছি অনেকবার, সর্বদাই জুন-জুলাই মাসে। সেখানেও ব্যতিক্রম দেখিনি। আমার একটি ভ্রান্ত ধারণা জন্মেছিল যে, গোটা ইউরোপেই বুঝি-বা বৃক্ষ রঙিন পুষ্পহীন। গতবার এপ্রিল মাসে লন্ডন গিয়ে ভুলটি ভাঙল। গোটা শহর তখন রঙবেরঙের ফুলে ঝলমল করছে। চেরি, লাইলাক, লেবারনাম, নানান আপেলপ্রজাতি, ম্যাগনোলিয়া, রডোডেনড্রন বৃক্ষে সাদা, গোলাপি, হলুদ, বেগুনি ইত্যাকার রঙের ঝরনা। কিপলিং তাই যথার্থই বলেছিলেন, ‘আমাদের ইংল্যান্ড একটি বাগান আর এইসব বাগান মানুষের হাতে তৈরি নয়।’

আপনার আরেকটি মন্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ : ‘চিরন্তন সবুজের পটভূমিতেই গড়ে তুলতে হয় বাগানের আসল শোভার ভিত, বাগানের রঙবেরঙের পরিকল্পনা… এই ধরনের পরিবেশে ছোট জায়গাও পরিস্ফুট হয়ে ওঠে নিজস্ব শোভা নিয়ে… এক্ষেত্রে প্রত্যেকটি ফুলের সৌন্দর্যও পরিপূর্ণভাবে বিকশিত হয়।’ ইংল্যান্ডে লোকেদের বাড়ির সামনের বাগানগুলি দেখলে আপনার বক্তব্যের যাথার্থ্য উপলব্ধি করা যায়। সাধারণ বাড়ির বাগানটি ছোট, একচিলতে সবুজ লন,

একটি কি দুটি মাঝারি আকারের গাছ, চারপাশে গুল্মের ঘের, এসব ঝোপের সঙ্গে গোলাপ ও হাইড্রেনজিয়া, সামনে মরসুমি ফুলের কেয়ারি, যেন একটি ল্যান্ডস্কেপ চিত্র। প্রত্যেকটি বাড়ির বাগান

কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন ধরনের, তাতে গড়ন ও ফুলের বর্ণবিন্যাসের পার্থক্য থাকবেই।

আপনি বাগানে পাখি ও প্রজাপতি আনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন এবং বলেছেন, ‘পাখির কলরব বাগানের গতিশীলতা বাড়ায়।’ নিজ অভিজ্ঞতা থেকে জানি, আমাদের পার্কে এজন্য শিমুল, পলাশ, মান্দার, পাকুড়, বুনো-জাম ইত্যাদি লাগানো যায়, কিন্তু বাড়ির ছোট বাগানে এদের স্থানসংকুলান হওয়ার নয়। এজন্য উপযোগী হলো কামিনী, রক্তকাঞ্চন ও বাস্টার্ড চেরি (গঁহঃরহমধ পধষধনঁৎধ) এবং প্রজাপতির জন্য রঙ্গন ও ল্যান্টানা।

আপনি বিদেশী গাছপালা লাগানোর তেমন পক্ষপাতী নন। অবশ্যই আপনি হালআমলের বিদেশী গাছের কথা বলেছেন, কেননা ভারতে মোগল ও ইউরোপীয়রা প্রচুর বিদেশী গাছ ও ফুল আমদানি করেছিলেন, যেগুলি এখন আমাদের দেশী হয়ে গেছে। বাগানের ফুলের ৬০ শতাংশই তো বিদেশী। কিউ উদ্যানের কর্মী প্রাউডলক বিশ শতকের শুরুতে ঢাকার রমনায় সৌন্দর্যায়নের জন্য বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে গাছগাছালি লাগান, তাতে দেশীর সঙ্গে অনেক বিদেশী প্রজাতিও স্থান পেয়েছে এবং কোনো সমস্যাও সৃষ্টি করেনি। বিগত কয়েক দশকে ইউক্যালিপটাস ও সোনাঝুরি গাছের ব্যাপক আবাদ আমাদের দেশে ক্ষতিকর প্রমাণিত হচ্ছে। অবশ্য বাগানের গাছ ও খামারের গাছের মধ্যে বিবেচনাগত পার্থক্য থাকা আবশ্যক। আমাদের বাগানে অরোকেরিয়া খুবই জনপ্রিয়, কিন্তু পাতার ভারে এগুলি শেষ পর্যন্ত বাঁকা হয়ে যায়, মহার্ঘ বলে একত্রে একাধিক লাগানো হয় না, হলে হয়তো তা ঘটত না। বাংলাদেশের বাগানে এখনো টেবেবুইয়া, লিগনাম ভিটি, গুলগুল, কলুভিল নেই – এগুলি লাগানো আবশ্যক মনে করি। তাছাড়া আমাদের পাহাড়-জঙ্গলে আছে ডুলিচাঁপা, রামডালু, পুন্নাগ, গুলাল, উদাল, নাগকেশর (Ochrocarpus longiflorus), পালাম – এগুলি বাগানে লাগানো শুধু সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্যের জন্যই নয়, ওদের বিলুপ্তি ঠেকানোর জন্যও আবশ্যক।

পাম-জাতীয় গাছ যে অন্য গাছপালার সঙ্গে খাপ খায় না – এটি আমারও অভিজ্ঞতা। আপনি বলেছেন যে, সমুদ্রকূল বা নদীতীরে পামের সারি, খোলা মাঠে পামঝোপ বড়ই দৃষ্টিনন্দন, কিন্তু বাগানে এজন্য প্রয়োজন ওদের নিজস্ব খোলা এলাকা বা কোণ। যদৃচ্ছা পাম লাগালে বাগানের কতটা সৌন্দর্যহানি ঘটে সেটি বোঝার জন্য আমাদের রমনা পার্ক একটি ভালো দৃষ্টান্তস্থল হতে পারে। আপনি বলেছেন, গোলসাগু (ঈধৎুড়ঃধ ঁৎবহং) অন্য গাছপালার জন্য ক্ষতিকর, কিন্তু কারণটি উল্লেখ করেননি। এই পাম অল্পবয়সে সুশ্রী দেখালেও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সমতল বাংলায় ন্যাড়ান্যাড়া ও শ্রীহীন হয়ে পড়ে।

বাগানে বাঁশ লাগানো সম্পর্কিত আপনার ধারণাটি চমৎকার। বাঁশ আমাদের অরণ্য-জীবনের স্মৃতিবহ, তাই বাঁশঝাড়ে হাওয়ার স্বনন আমাদের নির্জনতার এক অদ্ভুত অনুভূতিতে আবিষ্ট করে। ঢাকা শহরে কোনো বাড়িতে দৈবাৎ বাঁশঝাড় দেখা যায় আর তখনই থমকে দাঁড়াই, মনে পড়ে এখানে একসময় একটি গ্রাম ছিল, অন্যরকমের জীবন ছিল। অথচ আমরা পার্কে, প্রশস্ত চত্বরে, পথদ্বীপে কখনো বাঁশ লাগাই না। আপনার কথা : ‘বাঁশঝাড় হয়তো ছায়া দেয় না, কিন্তু একটি সুন্দর পরিবেশ তৈরি করতে পারে। বাগানের এককোণে বাঁশের স্থান হওয়া উচিত। এতে মনে হবে ওগুলি আপনা থেকেই গজিয়েছে। ছোট করে ছাঁটা ঘাসের জমিতে বাঁশের ঝাড় বেমানান লাগে। কারণ বলা শক্ত। অন্যান্য গাছপালা থেকে বাঁশের ঝাড় আলাদা।’ কাঠগোলাপ-সম্পর্কিত আপনার প্রশান্তিও লক্ষণীয়। আপনি বলেছেন : ‘বাগানে এ-গাছ থাকলে মনে হবে কোনো পাহাড় বা পরিত্যক্ত দুর্গের পরিবেশে এসে পড়েছি। গাঁটযুক্ত পুরানো এই গাছ বাগানের অনন্য সম্পদ। এদের ফুল ও পাতা চীনা রঙিন ছবির কথা মনে করিয়ে দেয়।’

মিসেস আলী, আপনার স্বামী, বিশিষ্ট সংরক্ষণকর্মী জাফর ফতেহ্আলী আপনাকে এমন উদ্যান নির্মাণ করতে বলেছেন যাতে অর্থসহ প্রচুর দু®প্রাপ্য সামগ্রী লাগে না এবং একটি জায়গাকে সুন্দর করে গড়ে তুলতে পরিবেশের ওপর জবরদস্তি ঘটে না। এতে দ্বিমত-পোষণের অবকাশ নেই। কিন্তু আমাদের রাজধানী শহরে কিছু পার্ক আছে যেখানে এমনভাবে গাছপালা লাগানো হয়েছে যাতে সেগুলো না-বন না-বাগান হয়ে উঠেছে। জানি না পরিবেশের ওপর কিছু চাপ ছাড়া কীভাবে ওগুলি দৃষ্টিনন্দন করা যাবে। মাননীয়া আলী, আপনার সঙ্গে অনেক কথা হলো, উপকৃত হলাম অনেকখানি, এবার আপনার একটি কথা দিয়েই লেখাটি শেষ করতে চাই যা আমাদের তরুণ উদ্যানীদের কাজে গভীরতর বোধ ও বুদ্ধি যোগাবে। ‘একটি বাগান সাফল্যের দোরগোড়ায় তখনই আসে যখন দেখে মনে হয় যে বাগানটি আপনা-আপনিই এই জমিতে নিজের জায়গা করে নিয়েছে, দর্শকদের কাছে মনে হবে এ-বাগান থেকে আর কোনো ভালো বাগান জায়গাটিতে হতে পারে না। তাদের কাছে এ-বাগানের কোনো পরিবর্তনের কথা মনে আসবে না… তাদের আরো মনে হবে যে, বাগানটি যেন খোদ প্রকৃতিই এখানে বসিয়ে দিয়েছে, অর্থাৎ এ-বাগান-তৈরিতে কোনো প্রচেষ্টারই প্রয়োজন হয়নি। এরকম একটি ছবির আভাস পাওয়া গেলেই বাগান-তৈরি সার্থক বা সফল।’ তাই আমি আমার ছাত্রদের বাগানের নকশা সম্পর্কে নতুন নতুন ধারণা খোঁজার জন্য বারবার প্রকৃতির কাছে যেতে বলি, বিশেষত শীতের দিনে কোনো পাহাড়ি নদী উজিয়ে অনেকদূর উজানে যেতে, তাতে তারা এমন সব দৃশ্য দেখার সুযোগ পাবে যা মানুষের পক্ষে সৃষ্টি করা অসম্ভব, পারে শুধু অনুকরণ করতে।