2004
-
কৃষ্ণবিবর
অপরূপ তুমি নও, ছিলে না কখনও, তবু ছিল রূপ এখন ভেতর থেকে বেরিয়ে এসেছে কঙ্কাল স্যাঁতসেঁতে অন্ধকার উগরে দিচ্ছে আধিভৌতিক ভীতি দেখ, ধরিত্রী তাকিয়ে আছে তার সন্ততির দিকে শূন্যমেঘ আকাশের নির্জনতা বড় বেশি বাক্সময় সময় স্তব্ধ নয়, তবু স্তব্ধতার কাছে নতজানু জলার ওপার থেকে মৃত্যু ভেসে আসে ফড়িঙের ডানায় কালাকাল জেগে থাকে – আলো খোঁজে,…
-
ঘরপোড়া
পুড়ে গেছে বাড়িঘর, উড়ে গেছে মেঘের পালক ফেনা ফেনা লোনাজলে ডোবে ভাসে রাত জাগা খেয়া কখনো কি মনে পড়ে গুঁজে রাখা ময়ূর ঝালর কীভাবে সামলে থাকা দারুণ হিসেবি দেয়ানেয়া হিসেবের খাতা জুড়ে বেশ কিছু বেহিসেবি দিন শুকনো ফলের মতো মায়াময় কালো, পচা লাশ সহজে যায় না ফেলা, ক্রমাগত বেড়ে চলে ঋণ উঁচু মাথা নিচু হয়,…
-
হিসেব
বহুবার অন্ধকার পেরিয়েছো তুমি কিন্তু আলোর দিকে যে সেতুটা গড়ার কথা ছিল, তার কী হলো? এই প্রশ্নটার ওপরেই এক দীর্ঘ ছলাকলার বিমূর্ত শিল্প দাঁড়িয়ে গেলো অনেক বছর; অনেক বছর জুড়ে শুধু ঘাম, রক্ত আর অপেক্ষার ক্লান্তি বেয়ে নামে নোনা জল; তারপর দেখো এক হ্রদ, ওপরে ঝুলন্তসেতু তীরে বিনোদনকেন্দ্র; কত পর্যটক এখন আমাদের খবর নেয়, সংবাদ…
-
সাহস
তুমি লিখেছ গোলাপ আর ভালোবাসার আখ্যান মৃত আর অনন্ত-প্রাণতার গল্প তুমি বেছে নিয়েছ ঠিক মধ্যাহ্ন, যেন রূপকথা; অথচ তখনো এ-নগরে ঈষৎ শীত, দেয়ালে প্রজাপতি জলাশয়ের ওপরে জমাট কুয়াশা ঘাসে নিবিড় শিশির তখনো রাতগুলোই সবচেয়ে বিভ্রান্তিকর, রহস্যময় এবং মধুর আমাকে চমকে দিয়েছে তোমার সাহস যা দুর্লভ আর তারচেয়ে বেশি আতঙ্ক-সঞ্চারক কিন্তু এ তো আমার জানাই ছিল…
-
হাসপাতালে লেখা
একটা ফড়িং উড়তে উড়তে বসল এসে শেষে গোরস্তানের সবুজ ঘাসের ডগায় রুপোর শিশির কাঁপতে কাঁপতে গড়িয়ে পড়ে পাতা থেকে পাতায় ঝরল যখন পচা গলা লাশের চোখের গর্ত ঘেঁষে মাথার ঝড়ের ভিতর থেকে বেরিয়ে এসে একটা স্বপ্ন তখন ঘুরে বেড়াচ্ছিল একা বগলে ক্রাচ দিয়ে হাসপাতালের বেডে বেডে বন্ধ কেবিনে ঘড়ির কাঁটা ঘুরতে ঘুরতে পেরিয়ে গেল শীতের…
-
দরখাস্তের কী হবে বয়ান
লেখো, কবে জন্ম হয়েছিলো, লেখো তুমি কোন্খানে জন্ম নিয়েছিলে; লিঙ্গের উল্লেখ করো, বলো তুমি জন্মসূত্রে সে-কোন্ দেশের; মুক্তির দশকে তুমি কোন্খানে ছিলে – রাস্তায়, জঙ্গলে, নাকি গূঢ় ভূমিতলে, নাকি মুচলেকা দিয়ে ফুর্তি ক’রে বাইরেই ছিলে; সম্ভাব্য মৃত্যুর দিন লেখার অবশ্য কোনো প্রয়োজন নেই আপাতত যদি-বা আদপে তুমি না-ই জানো সত্যি জন্ম নিয়েছিলে কি না…
-
পাড়া
কুকুরেরা হল্লা করে গলিজুড়ে মানুষের মতো। দুইপাশে দুই রিকশ দাঁড়িয়ে রয়েছে মুখোমুখি, কাউকে ছাড়ছে না পথ। মানুষ অপেক্ষা করে আছে পথ চলবে বলে। ধীরে ক্ষোভ জমে উঠছে ক্রমশ। আশা কমছে ধীরে ধীরে। মানুষ হচ্ছে আশাহত। এরই মধ্যে মাঝখানে ঢুকে গিয়ে মোটর গাড়িও আটকে দিচ্ছে রিকশ’র সারিবদ্ধ বিশাল মিছিল; এইভাবে এইপাড়া মাঝেমাঝে স্তব্ধ হয়ে পড়ে। মানুষ…
-
সোনার নূপুর বেজে যায়
এখন তো বৃষ্টিতে ভেজার বয়স আমার নেই, সাহসও তো নেই – আষাঢ় মাসের এসময়ে অঝোর ধারায় শুনি সোনার নূপুর বেজে যায়, বাজে – অনাদি ঘুঙুর; আনন্দে আপ্লুত গাছগাছালির পল্লব-পত্রালি আন্দোলিত হতে দেখি – যেন পুনঃ কালিদাস-কাল সমাগত! – পত্রেপুষ্পে সুশোভিত প্রিয় বৃক্ষরাজি অপার আহ্লাদে ভিজছে – শুনি ফুল্ল আনন্দ-ভৈরবী! বাঙ্গালার নরনারীগণ বুঝি সুখে…
-
গ্রাস
যে-কোনো পথেই চলি সেসবই তোমার গ্রাস, জানি। যে-কোনো মধুর শব্দ তোমার চর্বণধ্বনি শুধু। সমস্ত রক্তের ধারা সব হাহাকার সে তোমার হাঁ-ভূমিতে জাগানো বিকট বিশ্বরূপ। তারই মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে পাক খেতে খেতে নির্বাক কুণ্ডলী হতে হতে এই পরিক্রমাশেষে আবার পৌঁছতে থাকি নতুন ভ্রƒণের দিকে আরো এক গ্রাস প্রতীক্ষায় কেননা তোমার পিণ্ড থেকে আমার কোনোই ত্রাণ নেই।
-
রক্তগোলাপের মতো প্রস্ফুটিত
কী-যে হলো, কিছুদিন থেকে আমার পড়ার ঘরে আজগুবি সব দৃশ্য জন্ম নেয় চারদেয়ালে এবং বইয়ের শেল্ফে, এলোমেলো, প্রিয় লেখার টেবিলে। কতবার গোছাই টেবিল সযত্নে, অথচ ফের কেন যেন হিজিবিজি অক্ষরের মতো কেমন বেঢপ রূপ হয়ে আমাকে সোৎসাহে ভ্যাঙচায় লেখার সময়। ওরা কি আমার রচনার পরিণাম বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে কলম থামাতে চায় এই অধমের?…
-
কোয়ান্টাম মেকানিক্স
একটি কাল্পনিক পরীক্ষা করা যাক। ধরা যাক, আমি একটি ঘরে বসে আছি এবং এই ঘরের আলো আস্তে আস্তে কমিয়ে আনা হচ্ছে, তাহলে শেষ পর্যন্ত কী হবে? উত্তরটি খুব সহজ, আমাদের চোখ কতটুকু আলো দেখতে পারে তার একটি হিসাব আছে, যখন ঘরের আলো তার থেকে কমে আসবে তখন আমি আর কিছু দেখতে পারব না। মনে হবে,…
-

নিবেদন
বড় মনের মানুষ যিনি তিনি সবসময় সহজ হতে জানেন। আরোপিত সম্মান-শ্রদ্ধা যে আলোর বলয় তৈরি করে তার ভেতর চুপচাপ স্মিতমুখে বসে থাকতে এঁরা কখনো চান না। আমি যখন বাংলাদেশে গিয়ে ঢাকার ঢাকা ক্লাবে ছিলাম তখন খুব কম লোকই আমার লেখা পড়েছেন। বন্ধুরা চলে যাওয়ার পর খাওয়া শেষ করে ঘুমাতে যেতাম রাত দুটোর পর। ঘুম ভাঙত…
