তোমার অদেখার প্রিয় মুহূর্ত এবং উদ্ভবের প্রহর
কোনো কোনো দিন যেন পরাবাস্তব কবিতার মতো
এই চোখ ফাঁকি দিয়ে কখনো কবিতা হয়ে ওঠে
আর আমি তরঙ্গায়িত মৌচাকের আঁধার চুরি করে
যখন একটি করে শব্দের সুষমা আবিষ্কার করি
যেন একটু-একটু করে রহস্যের জট খুলে যায়
দক্ষ কারিগর যেমন ছেনি-হাতুড়ির কায়িক-শ্রমে
প্রতিধ্বনিত শব্দের পাথর কেটে উন্মোচিত করে
তার ভাস্কর্য তেমনি বিনির্মাণ অভিনিবেশ তোমার
বুকের উষ্ঞ উপকূল ঘেঁষে জেগে ওঠে নতুন চরাচর
আমি প্রতিটি শব্দ চিরে যখন পঙ্ক্তির মিনার গড়ি
যেন চতুর্দশপদী দ্রাক্ষারসে ভাসমান তোমার উপমা
যেন দীর্ঘ পয়ারে কবিতার পারিজাতময় সাতকাহন
শিল্পের অবকাঠামো নেই বৃত্ত নেই ব্যাস নেই
সৃষ্টির যা-কিছু আমি দিই শিল্পের শতভাগ কৃতিত্ব
প্রতিটি শিল্পই নূহের ওজনহীন অলৌকিক নৌকায়
আশ্রিত হবার পর নিশ্চিত ধ্বংস থেকে রক্ষা-প্রাপ্ত
শিল্প মাত্রই অলক্ষ্যের এক রোদনময় অঙ্কুরোদ্গম
শস্য বীজ যেমন ধীরে ধীরে পরিপূর্ণতায় বেড়ে ওঠে
নারী যেমন শ্রেষ্ঠ শিল্প সুষমার তরলিত আধার
আমি তেমন নারী আর তেমন একটি কবিতার
আজন্মকাল কোমলতর সান্নিধ্যই চেয়েছি মাত্র
সৃষ্টির নিগূঢ় রহস্য বলেইতো কবিতাও কুজ্ঝটিকা
শিশুর জন্ম যেমন তরল বৃত্ত ছিঁড়ে এক শিল্প থেকে আরেক শিল্পে প্রতিভাত হবার স্থানান্তর মাত্র

Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.