কবির কথা

কবিতার মতো প্রকাশক্ষম, অঙ্গীকারবদ্ধ

ভাষায় প্রেম ও মুক্তিকে ভালোবেসে,

নিরেট বিশ^স্ততায় বলতে চেয়েছি, সামান্য

পাথেয় সঞ্চয় রাখা কবিকে দোষারোপ করা –

নিপীড়নমূলক সমাজ সভ্যতার অভ্যাস।

মানুষ সত্যকে লুকোছাপা করে,

কত কৌশল করে বলে,

শাশ্বত সত্যকে ভান করে না বোঝার!

কবিকে বঞ্চনা করা অবিসংবাদিত শাসন ও

শোষণের নামান্তর। দুঃশাসন কাউকে কোথাও

একবিন্দু ছাড় দেয় না। আশ্চর্য তাচ্ছিল্যের স্বভাবে

ভিক্ষুকের অ্যানামেল বাটিকেও সন্দেহ করে।

একান্ত জনগণের মালিকানাধীন রাজ-কোষাগার

তাতে লোভের লালা জড়ায় রাজার রসনার।

কবি নির্লোভ যিনি, ছলনাহীন, সব চাতুরীকে

আড়চোখে শনাক্ত করে রাখেন। বন্ধুকেও

তার সতর্ক সন্দেহ, বিস্তর বেইমান যখন

রঙ-বদলের খেলায় নেমে একাকার।

মিথ্যার বুজুর্গি ও সত্যের আলো পাশাপাশি

যুদ্ধের শামিল, তাই বড় কঠিন এ যাত্রাপথে

ভয় ও ভরসার মেঘ অহর্নিশ।

জগৎসমূহের অদৃশ্য মালিক যিনি, চাক্ষুষ

দেখতে পান, তিনি কথাও বলেন, অবমুক্ত করেন

নিজেকে বক্রতাহীন বিশুদ্ধ কিতাবের পৃষ্ঠায়,

ভূপৃষ্ঠে ও শূন্যে সকল সক্ষমতা যার, তুচ্ছ

কানাকড়ি মূল্যের তারই করুণার পাত্র হয়ে

কবির প্রণয় ও প্রেম, সুস্থতা ও দুস্থতাকে

সঁপে দিয়েছি সর্বোত্তম করতলে তোমার।